Tag: Kalighat Temple

Kalighat Temple

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা পা দিয়েই দু’-দু’টি মউ স্বাক্ষর করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার রাজ্যে পা রাখেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাত সকালে কালীঘাটে পুজো দিয়ে নিউটাউনে দু’হাজার শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’র শিলান্যাস করতে ছোটেন আদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্বয়ং, তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, পুত্র করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন আদানি। ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে (Gautam Adani) বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার এবং অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ তৈরি হচ্ছে আদানি আরোগ্য মন্দির। প্রস্তাবিত এই হাসপাতাল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় সংযোজন হতে চলেছে। হাসপাতালটির জন্য চার হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দশ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অলাভজনক এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দু’হাজার শয্যার মধ্যে এক হাজার শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় থাকা যোগ্য রোগীরা সেই সুবিধা পাবেন।

    শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    হাসপাতালের শিলান্যাসের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন আদানি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথা। আদানি জানান, ভারতের অল্প কয়েকটি রাজ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ, যোগাযোগের সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় রয়েছে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বাংলাকে বেছে নিয়েছে তাঁর সংস্থা।

    শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা। বন্দর নির্মাণ ও উন্নয়ন, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বণ্টন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন শিল্পপতি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীর।

    আদানি মনে করেন, বৃহৎ পরিকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও নয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, “পরিকাঠামো লাখ লাখ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।” প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে (Suvendu Adhikari)।

    বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর

    এদিকে, আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গোটা আদানি পরিবার পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে রাজ্য। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলার শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে রাজ্যের হারানো শিল্পসমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে চায় (Writers Building Restoration)।

    নিজের বক্তব্যে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পায়নের পরিবর্তে ভাতা বিতরণ এবং তোষণের রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বন্দর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত জমির অভাবের কথা জানিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে (Gautam Adani) না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠী

    শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠীকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সংস্থাটির সঙ্গে দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কলকাতার ঐতিহাসিক মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার সংক্রান্ত। অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    শুভেন্দু বলেন, বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। এবার সেই উৎসবের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার নির্বাচিত আটটি দুর্গাপুজো কমিটিকে ২৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলার দুর্গাপুজোর শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পুজো পরিদর্শনের আয়োজনও করা হচ্ছে (Suvendu Adhikari)।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। একসময় রাজ্য প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র ছিল মহাকরণ। সেই ভবনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিল্প এবং পরিকাঠামোর পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও আদানি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রাজ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমের পরিধি বাড়াচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এদিন সকালে স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান তিনি। সেখানে মা কালীর পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শিল্পপতি। কলকাতায় বৃষ্টির মধ্যে কালীঘাটে পুজো দেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই জানান তিনি (Gautam Adani)। একই সঙ্গে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। তার পরেই (Suvendu Adhikari) দিনের অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।

     

  • Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় (Koushiki Amabasya) কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো শেষ হওয়ার পর মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদনের যে দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে, এদিনের পুজোয় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। মায়ের পুজোয় আমিষ গ্রহণ নিয়ে অকপট শুভেন্দু (Suvendu in Kalighat) বলেন, “সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিংবা কার্তিক মাসে আমি যেমন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার মেনে চলি, তেমনই এক জন বাঙালি হিসেবে মায়ের ভোগের মাছ কিংবা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণ করতেও আমার কোনও দ্বিধা নেই।”

    মাতৃকৃপায় তিনি জনকল্যাণে ব্রতী

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজোর ডালা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এদিন তিনি জানান, মাতৃকৃপা ও প্রাপ্ত ‘গুরুদায়িত্ব’ নিয়েই তিনি জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। পুজো নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখণ্ড ভারত গঠন, বাঙালি তথা সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিনাশই তাঁর মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু বলেন, “যেদিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা হয়েছিল, প্রথম মায়ের কাছে এসেছিলাম। মা পদধূলি দিয়ে বলেছিলেন, তোকে দায়িত্ব দিলাম।”

    বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই মায়ের ভোগ

    বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই এদিন কালীঘাটে দেবীর জন্য সাজানো হয় নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগের আয়োজন। সেখানে ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা-সহ মাছের বিভিন্ন পদ ছিল ভোগের তালিকায়। ছিল কাতলা মাছের মাথাও। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি পরিবেশন করা হয়। মায়ের ভোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পুরোহিতদের দেওয়া মাছ ভাজা, মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও-সহ বিভিন্ন পদ তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, সেই প্রসাদও তিনি গ্রহণ করেন। একইভাবে পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

    দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক, মন্দির থেকেই বার্তা

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্য দেখছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা স্পষ্ট করেছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে নিছক ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার, খাদ্যসংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রসঙ্গটি এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। কে সেই মত গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও কার্তিক মাস দামোদর মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি, আবার বাঙালি হিসেবে..পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি।”

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বার্তা

    বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ কারও উপরে চাপিয়ে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁকে সামনে রেখে ঘোলা জলে বিরোধীরা মাছও ধরতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘লিলুয়ায় একজন সাধু এসেছিলে‍‍ন। তিনি দেশপ্রেমের কথা, রাষ্ট্রবাদের কথা, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। যাঁরা সে সব গ্রহণ করতে চান, করবেন। যাঁরা চান না, করবেন না। তিনি কারও উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।’ এরপরে নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেন কংগ্রেসকে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ না–মানার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘আমি কতগুলি লোককে দেখলাম, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াচ্ছে। আমি এখান থেকে সিপিকে (কলকাতার সিপি অজয় নন্দ) বলছি, ওই লোকগুলিকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এ সব চলবে না।’ তাঁর এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, সাধু–সন্তদের অপমান বিজেপি–শাসিত বাংলায় কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার।

    গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে

    বাগেশ্বর বাবা আর বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে পদ্ম–নেতাদের গায়ে বাঙালি বিরোধী তকমা সাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিবিরের বিরোধীরা। যদিও বাগেশ্বর বাবার আমিষ–নিরামিষ সংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে যে বিজেপি কোনও ভাবেই সম্পৃক্ত নয়, সেটা ঘটনার দু’দিনের মাথায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। একই ভাবে নিজেদের আমিষপ্রীতির জানান দেন দি‍লীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতা–নেত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। এবার বিরোধীদের স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে শেষ পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে, কখনও নীচে নামবে না।” ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য মায়ের কাছে শক্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।

  • Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম কোন ধর্মীয় স্থানের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। বদলের বাংলায় কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) সুরক্ষায় বেনজির পদক্ষেপ। কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত লালবাজারের (Lalbazar)। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দ। শুধু মন্দির চত্বর এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি

    কথায় বলে , ‘কালী কলকাত্তাওয়ালি’। আর কলকাতাকে মা কালীর শহর করে তুলেছে কালীঘাট মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কালীঘাট। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কালীঘাট মন্দিরের অসামান্য মাহাত্ম্য রয়েছে। এই মন্দিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাইরে থেকে কলকাতায় এলে একবার অন্তত কালীঘাট মন্দির দর্শন প্রায় সবাই করেন। পীঠ মাহাত্ম্য অনুসারে কালীক্ষেত্র কলকাতার বারাণসীর সমতুল। ভক্তদের বিশ্বাস কলকাতার অভিভাবক রূপে কালীঘাটে বিরাজ করছেন মা কালী। সোম থেকে রবি, প্রতিদিনই এই মন্দিরে থাকে উপচে পড়া ভিড়। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতীতে কালীঘাট মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিরাপত্তাগত ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। সেকারণেই ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত। পুলিশকর্মীরা মন্দিরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছ্যন্দের দিকটাও দেখবেন।

    জঙ্গিদের নিশানায় কালীঘাট মন্দির!

    কলকাতা পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা মাথায় রেখে পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মন্দির চত্বরে নাশকতা এবং জঙ্গি হামলার আশঙ্কার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক বিদেশি জঙ্গির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কোনও জঙ্গি মডিউল কি তাহলে বাংলার ধর্মস্থানগুলিকে টার্গেট করছে? কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপে সেই প্রশ্নও জোরাল হচ্ছে।

    কতজন পুলিশকর্মী থাকবেন ফাঁড়িতে

    কলকাতা পুলিশের তরফে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে, একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে ২০ জন পুলিশকর্মী থাকবেন কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে। তার মধ্যে দু’জন সাব ইনস্পেক্টর (এসআই) বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার। তা ছাড়াও আট জন কনস্টেবল এবং পাঁচ জন মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। কালীঘাট থানার আওতায় থাকবে কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসিপি) পুলিশ ফাঁড়ির প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) বা ডিসি সাউথ সমস্ত দিকটা দেখভাল করবেন।

  • Kali Puja 2025: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠের কালী মন্দিরে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    Kali Puja 2025: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠের কালী মন্দিরে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja 2025) বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয়। আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজার পাশাপাশি কালীপুজোতেও বিভিন্ন আচার-নিয়ম (Rituals) থাকে। আর কালীপুজোর বিশেষ আকর্ষণই হল মায়ের ভোগ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ্যামামায়ের মন্দির। আর সেই এক এক মন্দিরের এক এক রকমের ভোগ মাকে (Maa Kali) নিবেদন করা হয়। কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত কালীমন্দিরটি হল কালীঘাট মন্দির। এটি একটি সতীপীঠ। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি ইত্যাদি কলকাতার বিখ্যাত কয়েকটি কালীমন্দির। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের সেভকেশ্বরী কালীমন্দিরও বেশ বিখ্যাত।

    কোন মন্দিরে মাকে (Maa Kali) কী কী ভোগ দেওয়া হয়?

    কালীপুজোর সময় মায়ের যে ভোগ হয়, তা অন্যান্য পুজোর থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। এক নজরে দেখে নিন, কোন মন্দিরে মাকে কী কী ভোগ দেওয়া হয়?

    কালীঘাট মন্দির: সতীর একান্নপীঠের অন্যতম এই কালীঘাট (Kalighat)। সকালে মা-কে আমিষ পদ ভোগে দেওয়া হয়। সেই ভোগের মধ্যে রয়েছে বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলা ভাজা, ঘিয়ের পোলাও, ঘি ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস ও চালের পায়েস। তবে রাতে মা-কে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, বেগুনভাজা, আলু ভাজা, দুধ, ছানার সন্দেশ আর রাজভোগ থাকে কালীঘাটের ভোগে।

    সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির: আনুমানিক ১৭০৩ সালে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ও ঘটে পুজো (Kali Puja 2025) শুরু করেন। কালীপুজোর রাতে ভোগ দেওয়া হয় লুচি, পটলভাজা, ধোঁকা বা আলুভাজা, আলুর দম ও মিষ্টি।

    দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির: ভোরে দেবী ভবতারিণীর বিশেষ আরতি দক্ষিণেশ্বরের পুজোর (Kali Puja 2025) বিশেষ আকর্ষণ। আর ভোগে নিবেদন করা হয় সাদাভাত, ঘি, পাঁচরকমের ভাজা, শুক্তো, তরকারি, পাঁচরকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।

    তারাপীঠ মন্দির: কালীপুজোর (Kali Puja 2025) দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগ। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ রকম বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। আমিষ ভোগের মূল উপাদান হল শোল মাছ। ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে ভোগ গ্রহণ করেন না মা তাঁরা। কালীপুজোর দিন তারা মা-এর ভোগ হিসেবে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচ মিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্বই হল পোড়া শোলমাছ মাখা।

    সেভকেশ্বরী কালী মন্দির: শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এই কালীমন্দির। কালীপুজোর (Kali Puja 2025) দিনগুলিতে এই সেভকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সেবক পাহাড়ের নির্জনতায় হয় কালী মায়ের আরাধনা। অনেকেরই বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা। এখানে মায়ের (Maa Kali) ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই, মিষ্টি। আর এখানে ভোগের আকর্ষণ হল বোয়াল মাছ। এদিন এই মাছ দেবীর ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।

LinkedIn
Share