মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে (Hindu Family Killed) পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বছর বারোর ছেলে। শনিবার রাতে রংপুর শহরের কামালকাছনা মাচুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে চারজনের দেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে কান্তি চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।
বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে দেহ উদ্ধার (Hindu Family Killed)
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের জানান, বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গণপতির দেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। প্রতিলতা ও তাঁর মেয়ের দেহ মেলে তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলের দেহ উদ্ধার হয় একটি খাটের নীচ থেকে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু সময় ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা না যাওয়া এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে, উদ্ধার করে দেহ।
বৃহস্পতিবার রাতে শেষ কথা হয় পরিবারের সঙ্গে
প্রতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট রাতে তিনি তাঁর দিদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেছিলেন।
তিনি জানান, শনিবার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে গণপতির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই সন্দেহ হওয়ায় পূজা বাংলাদেশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে পুলিশ আসে (Hindu Family Killed)।
অবসর নেওয়ার পরেও চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন গণপতি
গণপতি গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। এর পর তিনি রংপুর সমবায় বাজারে একটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন।
তাঁর মেয়ে কান্তি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল।
তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি
পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানতে বাড়ি থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় মূল ফটকটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্তারা ঘটনাস্থল থেকে নথি সংগ্রহ করছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আপাতত একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতি কিংবা পারিবারিক কোনও ঘটনা।
রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুমিত চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ডাকাতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হিন্দু পরিবারকে ঘিরে হামলার উদ্বেগের মধ্যেই ঘটনা
২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হিংসার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। সেই প্রেক্ষাপটে রংপুরের এই ঘটনা নতুন করে নজর কেড়েছে।
তবে এই ঘটনায় পরিবারের হিন্দু পরিচয়ের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে (Bangladesh) পারেননি। একইভাবে চারজনের মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণও এখনও স্পষ্ট নয় (Hindu Family Killed)।
