Tag: Karachi

Karachi

  • Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট (Pakistan Electricity Crisis) আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ (Blackouts) ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস কিনতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু বাজারদর অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগও আপাতত থমকে গিয়েছে। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে।

    দরপত্রটি বাতিল (Pakistan Electricity Crisis)

    জানা গিয়েছে, পাকিস্তান একটি জরুরি চালানের জন্য মাত্র একটি প্রস্তাবই পেয়েছিল। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম সংস্থাটি প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের জন্য ২৭ ডলার দর দেয়। সংঘাত শুরুর আগের বাজারদরের তুলনায় এই দাম প্রায় তিন গুণ। ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড ৮ সেপ্টেম্বর সরবরাহের কথা থাকা জরুরি দরপত্রটি বাতিল করেছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সন্ধ্যার পর পাকিস্তানে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ কিছুটা ঘাটতি সামাল দিলেও, সূর্য ডোবার পর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গ্যাস ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থাই এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

    কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা

    ইরানকে ঘিরে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাকিস্তানের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী কাতার থেকে জ্বালানি আনা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

    কাতার চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনি সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য এই স্থগিতাদেশ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

    জুলাইয়ের শুরুতে কাতারের একটি এলএনজিবাহী জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ কার্যত ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে পাকিস্তানকে বিকল্প হিসেবে খোলা বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিন্তু সংঘাতের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সেই বিকল্পও এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে (Pakistan Electricity Crisis)।

    সন্ধ্যার পরই সবচেয়ে বড় সমস্যা

    পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি পুরোনো দুর্বলতাও এই সংকটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান পূরণে এলএনজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে এই নির্ভরতা আরও বাড়ে।

    সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে স্পষ্ট। করাচির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ১৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের কাজ, পড়াশোনা, দৈনন্দিন গৃহস্থালির কার্যক্রম এবং পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

    শুধু করাচি নয়, লাহোরসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকাতেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    বিদ্যুতের দামও বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর। পাকিস্তানের জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জুন মাসের জ্বালানি ব্যয় সমন্বয়ের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরও শূন্য দশমিক ৭৫ পাকিস্তানি রুপি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। ফলে একদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

    তেল আমদানি ও প্রবাসী আয় নিয়েও উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যা শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস প্রবাসী আয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    রাষ্ট্রসংঘের উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানে প্রায় ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রবাসী আয়) এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও এসেছে প্রায় ৭৮৩ কোটি মার্কিন ডলার।

    ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে পাকিস্তান একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার চাপের মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে (Blackouts) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Pakistan Electricity Crisis)।

     

  • Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের (Pakistani Military Convoy) মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে ভয়াল হামলা এবং পরবর্তী অতর্কিত হামলায় ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Army)।

    সংগঠনের মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ জানিয়েছেন, ২২ অগাস্ট রাতে মাস্তুং জেলার খাদকোচা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আর একটি সাঁজোয়া গাড়ি ও কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    জিয়েন্দ বালোচ বলেন, “এই ভয়াবহ হামলায় দখলদার বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি জখম হয়েছে।” তিনি জানান, এই অভিযানে সংগঠনটির বিশেষ কৌশলগত অভিযান দল অংশ নেয়।

    এর আগে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বালোচিস্তান পোস্টকে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস এবং আর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

    হামলার পর অনির্দিষ্টকালের কারফিউ (Baloch Liberation Army)

    হামলার পর ২৩ অগাস্ট সকাল ৭টা থেকে খাদকোচা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও বাজারে যাতায়াত করাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং এলাকায় চলমান অভিযানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Pakistani Military Convoy)।

    এদিকে ২৩ অগাস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় পৃথক একটি হামলায় তিন পাক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি তল্লাশি দলের ওপর হামলা হলেও তিন সদস্যই আহত হয়েছেন।

    কর্তাদের বক্তব্য, তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছ’জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পর গুলি চালায়। পরে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির আরও দাবি করেছে, নোশকি, কালাত, খারান, ওয়াশুক, জেহরি ও চাগাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আরও আটটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটির পরবর্তী সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে (Baloch Liberation Army)।

    সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস

    স্থানীয় সূত্রে খবর, খাদকোচায় সামরিক কনভয়ের অংশ হিসেবে চলাচলকারী একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য একটি সাঁজোয়া গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    আঞ্চলিক সূত্রগুলি জানিয়েছে, দুই সামরিক সদস্যের মরদেহ এবং আটজন আহত সেনাকে মাস্তুংয়ের নওয়াব গাউস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর (Pakistani Military Convoy)। তবে এই হামলায় হতাহতের বিষয়ে পাক কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু বলেননি।

    খাদকোচা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    খাদকোচায় সর্বশেষ হামলার আগে ১৭ জুলাই ওই একই এলাকায় বড় ধরনের আর একটি হামলা হয়েছিল। সেদিন কোয়েটা থেকে করাচির দিকে যাওয়া ১৮টিরও বেশি বাস ও নিরাপত্তাবাহিনীর যানবাহন নিয়ে গঠিত একটি কনভয়ে হামলা হয়। সেই হামলার দায়ও বালোচ লিবারেশন আর্মি স্বীকার করেছিল এবং বহু সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল সংগঠনটি।

    এদিকে ২২ অগাস্ট রাতেই মাস্তুং জেলার খাদকোচার কাছে আনজেরি ক্রস এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক এন-২৫-এর একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেতুটিতে হামলা চালায়। যদিও, হতাহতের খবর  মেলেনি।

    সেতুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মহাসড়কে যান চলাচলে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কর্তৃপক্ষ। বালোচিস্তানকে (Baloch Liberation Army) করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির একটি হল এই মহাসড়ক (Pakistani Military Convoy)।

    এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেতুতে তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ২১ অগাস্ট খুজদারের জিদি এলাকায় একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয় বলে খবর মিলেছে। এর আগে খারানের সোটাগান এলাকায় খারান-করাচি মহাসড়কের একটি সেতু ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া যায়।

    তবে সেতুগুলিতে চালানো এসব হামলার কোনওটির দায় স্বীকার করে সোমবার সন্ধে (Baloch Liberation Army) পর্যন্তও বিবৃতি দেয়নি কোনও সংগঠন (Pakistani Military Convoy)।

     

  • Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ফের মিলল পাক-যোগের প্রমাণ! তদন্তকারীরা জেনেছেন, জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের উৎস পাকিস্তান। ২০২১ সালে আমদানি করা একটি চালানের সঙ্গেই সেটি এসেছিল ভারতে। এই চালানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছিল করাচির একটি ব্যাঙ্ক। অতীতেও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের এই ব্যাঙ্কের নাম। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

    বাজেয়াপ্ত ২ ফোন (Karachi Bank)

    সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দু’টি Xiaomi Redmi সিরিজের ফোন ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে একটি ছিল Redmi 9T। ২০২১ সালে এটি আমদানি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। অন্য ফোনটি ছিল Redmi Note 12, আমদানি করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ফোন দু’টি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে মুলনার মহাদেব এলাকায়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় তিন জঙ্গি—ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানির কাছ থেকে। আরও জানা গিয়েছে, Redmi 9T ফোনটি পাকিস্তানের করাচির ক্লিফটন রোডের Tech Sirat Pvt Ltd নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানের অংশ ছিল। Xiaomi Global-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটি ১ জানুয়ারি ২০২১ সালে পাকিস্তানে পৌঁছেছিল।

    ফোন পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাতে

    এই চালানের লজিস্টিকস ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ফয়জল ব্যাঙ্ক লিমিটেড (Faysal Bank Ltd)। চালান ডেলিভারির ঠিকানায় লেখা ছিল: “ফয়জল হাউস, মেন ব্রাঞ্চ, সাহারা-ই-ফয়জল, করাচি।” তদন্তকারীদের অনুমান, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, যেমন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানিতে অর্থায়ন করা হয়েছিল। ফোনটি ওই চালান থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পরে পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গিদের হাতে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে একজন বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত ফোনটি সম্ভবত এই চালান থেকেই পাচার হয়ে লস্কর-ই-তৈবার হাতে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালে আমদানির পর থেকে ফোনটি চালুই করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার সময়ই সেটি প্রথম চালু হয়।”

    ফয়জল ব্যাঙ্কে জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট

    তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এখনও অব্দি ফয়জল ব্যাঙ্ককে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের ওই ব্যাঙ্কটির নাম। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফয়জল ব্যাঙ্কে লস্কর-ই-তৈবা এবং লাজনাত-আল-দাওয়া-সহ কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও ব্যাঙ্কটির হোল্ডিং কোম্পানি সেই সময় স্পষ্ট জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। এও জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই ফোন চালু

    তদন্তকারীরা ৯/১১ হামলার পর প্রকাশিত পুরানো কিছু রিপোর্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই দেশেরই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে, এর মধ্যে ফয়জল ব্যাঙ্কও ছিল।জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি পাকিস্তানেরই লাহোরভিত্তিক এয়ার লিঙ্ক কমিউনিকেশনস লিমিটেড আমদানি করেছিল।তদন্তকারীরা জেনেছেন, কেনার পর এই ফোনটিও কয়েক বছর চালু করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই প্রথম চালু করা হয়।

    ফোনে মিলল ছবি

    ফোন দু’টিতে নিয়মিত কল আসা-যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগের তথ্যও মেলেনি। কারণ জঙ্গিরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের বদলে দূর-পাল্লার রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। তাই তারা নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করতে পেরেছে এবং সাধারণ কল বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও ডিজিটাল ট্রেইল রেখে যায়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ওই ফোন দু’টি থেকে কিছু ছবি এবং মানচিত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোজ এবং আশপাশ এলাকার ছবিও। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জঙ্গিরা একটি তাঁবু পেতেছিল। এটি হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁবুটি এমন একটি উঁচু জায়গায় ফেলা হয়েছিল যেখান থেকে সহজেই নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

     

  • Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে হিংসার ঘটনায় পাকিস্তানে (Pakistan) অন্তত ৪৪ জন নিহত এবং ১৩৭ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। তার পরেই রবিবার পাকিস্তানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিক ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গিয়েছে হতাহতের এই সংখ্যা। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় গিলগিট-বালটিস্তানের স্কার্দু ও গিলগিটে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটির কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    ১৪৪ ধারা জারি (Iran)

    পাঞ্জাব, সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ১ মার্চ থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মিছিল এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে (Iran)। রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীরা সরকারি দফতর ও বিদেশি মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে প্রশাসন ‘রেড জোন’ ও কূটনৈতিক এনক্লেভের সব প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কার্দু ও গিলগিটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন শিয়া বিক্ষোভকারী নিহত হন। ইসলামাবাদে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে নিহত হন আরও ১২ জন। পেশাওয়ারে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালালে মার্কিন মেরিন প্রহরীরা গুলি চালায়। এতে ১১ জন নিহত হন বলে খবর।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত

    শিয়া বিক্ষোভকারীরা করাচি ও লাহোরে আমেরিকার কূটনৈতিক দফতরগুলিকেও টার্গেট করে এবং গিলগিট-বালটিস্তানে রাষ্ট্রসংঘ মিশনের কাছাকাছি সমাবেশ করে। ইসলামাবাদ, স্কার্দু ও করাচির হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, অন্তত ১৮ জন গুরুতর জখম বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন (Iran)। খামেইনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভের জেরে এই অস্থিরতা শুরু হয়। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দ্রুত সংঘর্ষের আকার নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বাঁধে জনতার। দক্ষিণের করাচি থেকে উত্তরের গিলগিট-বালটিস্তান পর্যন্ত পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গিয়েছে (Pakistan)। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে তাদের কনস্যুলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ২ মার্চ ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটগুলিতে সব ভিসা সাক্ষাৎকার ও আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে (Iran)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) (Lashkar E Taiba) শীর্ষ কমান্ডার আবদুল গফফারের। এর ফলে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হল। জানা গিয়েছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    আবদুল গফফার (Pakistan)

    আবদুল গফফারকে লস্কর-ই-তৈবার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এর আগে একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের ছেলের সঙ্গে। সেই ছবি গফফারের প্রভাব ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রবেশাধিকারকে স্পষ্ট করেছিল।গফফারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব জোর ধাক্কা খেয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি হাফিজ সইদও সম্পূর্ণভাবে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। আরও এক শীর্ষ জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী লালন-পালন করেছে, সেই গোটা জঙ্গি পরিকাঠামোর মধ্যেই ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। গফফারের মৃত্যু একটি সুস্পষ্ট ও ক্রমবর্ধমান ধারার মধ্যেই পড়ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩২ জন জঙ্গি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছে, যাদের বড় অংশই পাকিস্তানের ভেতরে মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তান-সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের উচ্চমূল্যের অপারেটিভরা রয়েছে, যারা ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী (Pakistan)।

    একের পর এক খতম

    বিভিন্ন সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাইফুল্লাহ খালিদ। লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি, সিন্ধে নিহত হন। বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে গুলি চালানো এবং রামপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি (Lashkar E Taiba)। আবু কাতাল। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ঝিলমে গুলিতে নিহত হন। মুফতি শাহ মীর। পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, কুলভূষণ যাদব অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত। খুন হয়েছেন বালুচিস্তানে। মাওলানা কাশিফ আলি। লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ও হাফিজ সইদের শ্যালক, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত। মুফতি ফয়্যাজ। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে মৃত্যু। আবদুল্লাহ শাহিন। লস্করের সিনিয়র (Pakistan) প্রশিক্ষক, রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হাজি উমর গুল। লস্করের অর্থদাতা,  সহযোগীদের সঙ্গে গুলিতে নিহত। হাবিবুল্লাহ। কুখ্যাত লস্কর রিক্রুটার,  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত। আদনান আহমেদ। ২০১৬ সালের পাম্পোর সিআরপিএফ গণহত্যার মূল চক্রী, করাচিতে নিহত। ইউনুস খান। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, বাজৌরে গুলিতে নিহত। মোহাম্মদ মুজাম্মিল ও নঈমুর রহমান। লস্করের ক্যাডার,  সিয়ালকোটে গুলিতে নিহত। মওলানা রহিম উল্লাহ তারিক। জইশ-ই-মহম্মদের নেতা, করাচিতে খতম। আক্রম খান ওরফে আক্রম গাজি। লস্করের প্রাক্তন নিয়োগ প্রধান, বাজৌরে নিহত। খাজা শাহিদ। সুনজওয়ান হামলার সঙ্গে যুক্ত,  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে শিরঃচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার দেহ। আমির সরফরাজ তাম্বা। সরবজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে যুক্ত, লাহোরে নিহত। আসিম জামিল। উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকের ছেলে, খানেওয়ালে নিহত। দাউদ মালিক। মওলানা মাসুদ আজহারের সহযোগী, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গুলিতে মৃত্যু (Lashkar E Taiba)।

    বিমান ছিনতাইয়ে যুক্ত

    এছাড়াও আইসি-৮১৪ বিমান (Pakistan) ছিনতাই, হিজবুল মুজাহিদিনের লজিস্টিক সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন চরমপন্থী সেলের সঙ্গে যুক্ত বহু জঙ্গি একইভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ভঙ্গুর ভিতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করা জঙ্গি নেতারা এখন একের পর এক হিংস্র পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ তদন্ত পাকিস্তান কোনওটিই করছে না। রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক গুলি চালানো এবং অজানা হামলা এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    দীর্ঘায়িত হচ্ছে তালিকা

    আবদুল গফফারের মৃত্যু আরও একবার এই ধারণাকে জোরালো করল যে, পাকিস্তান ক্রমশই সেই শক্তিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, যাদের একসময় সে নিজেই সৃষ্টি করেছিল ও আশ্রয় দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই বা নীরব ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’, কারণ যাই হোক না কেন, ফল একই- শীর্ষ জঙ্গিরা একে একে খতম হচ্ছে (Lashkar E Taiba)। মৃত চরমপন্থীদের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, বার্তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র এখন নিজের দিকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সংগঠনের কমান্ডাররাই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে বেশি অ-সুরক্ষিত। সেই তালিকায়ই সর্বশেষ সংযোজন, আবদুল গফফার (Pakistan)।

     

  • Karachi Violence: করাচিতে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, স্বাধীন সিন্ধুদেশের দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান

    Karachi Violence: করাচিতে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, স্বাধীন সিন্ধুদেশের দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিস্তার নেই পাকিস্তানের। বালুচদের পর এবার দাবি স্বাধীন সিন্ধুদেশের (Sindhudesh Demand)। পাকিস্তানেরই করাচি শহরের বুকে শোনা গেল ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ স্লোগানও (Karachi Violence)। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামী মানুষ। যার জেরে ছড়াল হিংসা। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। এদিন ‘সিন্ধি কালচার ডে’ উপলক্ষে রাস্তায় নেমেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তার পরেই শুরু হয় অশান্তি। পাথর ছোড়ার পাশাপাশি এলাকায় চলে ভাঙচুর। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও বেঁধে যায় আন্দোলনকারীদের। জিয়ে সিন্ধ মুতাহিদা মহাজ (JSSM)-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক সিন্ধি বিক্ষোভকারী ‘আজাদি’ এবং ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ স্লোগান দেন। তাঁরা সিন্ধের মুক্তির দাবি জানান, যা সিন্ধি জাতীয়তাবাদী দলগুলির দীর্ঘদিনের আবেগকে উসকে দেয়। সিন্ধু নদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলই হল সিন্ধ প্রদেশ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় এই প্রদেশ। মহাভারতে সিন্ধুদেশের উল্লেখ রয়েছে। এটিই ছিল বর্তমান সিন্ধ এলাকার প্রাচীন জনপদের নাম। বর্তমানে এটি পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতি (Karachi Violence)

    রবিবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন প্রশাসন আন্দোলনকারীদের মিছিলের পথ বদলে দেয়। এতেই বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সিন্ধদের সংগঠন জেএসএসএমের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়। করাচির জনবহুল রাস্তায় পাক সরকার ও প্রশাসনের মুণ্ডুপাত করা হয়। দাবি ওঠে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পদত্যাগেরও। এর পরেই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও সেনা। প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আন্দোলনকারীরাও। তাঁদের একাংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। শুরু হয় ভাঙচুর। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

    জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ

    স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে অন্তত ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘর্ষে পাঁচজন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। যারা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও পুলিশ এবং যানবাহন ভাঙচুরে জড়িত, অবিলম্বে তাদের শনাক্ত করে পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সিন্ধ প্রদেশের দাবিটি ফের জোরালো হয়ে উঠেছে, কারণ সিন্ধ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে এক পাক নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচারিত আলোচনায় এক সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, মুতাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) প্রধান আলতাফ হুসেইন এক সময় সিন্ধের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার মিরজাকে বলেছিলেন যে ১৮তম সংশোধনী পাস হওয়ার পর সিন্ধুদেশ কার্ড এখন আমাদের হাতে এসেছে (Karachi Violence)।

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য

    ভারতেও বিষয়টি আলোচনায় আসে, যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “একদিন সিন্ধ প্রদেশ আবারও ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। গত মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিন্ধি সমাজ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ বলেছিলেন, আমার প্রজন্মের বহু সিন্ধি হিন্দু ১৯৪৭ সালের সেই সিদ্ধান্তকে কখনওই সম্পূর্ণভাবে মেনে নিতে পারেননি। তা সত্ত্বেও সিন্ধ পাকিস্তানের অংশ হয়ে গিয়েছিল।” তিনি বলেন, “সিন্ধ বরাবরই সাংস্কৃতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত। আজ সিন্ধ ভারতের অংশ না হলেও, সভ্যতার দৃষ্টিতে সিন্ধ (Sindhudesh Demand) সর্বদা ভারতের অংশ হয়েই থাকবে। জমির ব্যাপারে বলতে গেলে, সীমান্ত বদলাতে পারে। কে জানে, ভবিষ্যতে হয়তো সিন্ধ আবারও ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।”

    পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া

    রাজনাথের এহেন মন্তব্যে বিরক্ত হয় পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মন্তব্যটিকে গভীর উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে ভারতকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তবে সিন্ধ প্রদেশের ভেতরে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে তেমন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নেই। এসব সংগঠনের দাবি মূলত পাকিস্তানের ভেতরেই স্বায়ত্তশাসন, অথবা একটি স্বাধীন ‘সিন্ধুদেশ’ গঠনের (Karachi Violence)। ঔপনিবেশিক আমলে সিন্ধ প্রদেশ ব্রিটিশ ভারতের একটি পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। পরে তাকে যুক্ত করা হয়। দেশভাগের পর এটি পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়।

    পৃথক সিন্ধুদেশের প্রথম দাবি

    পৃথক সিন্ধুদেশের প্রথম দাবি ওঠে ১৯৬৭ সালে জিএম সঈদ, যিনি দেশভাগেরও প্রথমদিকের সমর্থকদের একজন এবং পীর আলি মহম্মদ রাশদির নেতৃত্বে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর এই দাবি আরও গতি পায়। বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে সেই সম্প্রদায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং সিন্ধুর স্বতন্ত্র জাতিগত, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক পরিচয়, যা সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত, তাকে গুরুত্ব দিয়েছিল (Sindhudesh Demand)। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান প্রদেশে এমনিতেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে পৃথক দেশ গড়তে চেয়ে আন্দোলন করছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। তার মধ্যেই সিন্ধ প্রদেশ নিয়েও বাড়ছে অশান্তি। তাই বেশ চাপে পড়ে গিয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার (Karachi Violence)।

    এখন দেখার, কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় পাক সরকার।

     

  • Indias Drone Strikes: ভারতের ড্রোন হামলায় নড়ে গিয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতির ভিত!

    Indias Drone Strikes: ভারতের ড্রোন হামলায় নড়ে গিয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতির ভিত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ড্রোন হামলায় (Indias Drone Strikes) নড়ে গিয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতির ভিত! ভারত-পাক সংঘাতের (Pakistans Economy) আবহে এক সপ্তাহের নাটকীয় পতনের পর শুক্রবার করাচি স্টক এস্কচেঞ্জের ট্রেডিং সেশনে খানিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। পড়শি এই দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কেএসই- ১০০ সূচকটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও দিনের বেলায় এটি প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, পরে সূচকটি প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চারদিনের বিশৃঙ্খল পতনের পর সামান্য একটি প্রত্যাবর্তন।

    প্রচণ্ড ধাক্কা (Indias Drone Strikes)

    এই সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের বাজার পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কায় প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছিল। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। কেএসই-১০০ রকেটের গতিতে পড়ে যায়। এক সেশনেই এটি ৬ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায় এবং লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এটি ছিল স্টক এক্সচেঞ্জের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সব চেয়ে খারাপ মন্দার মধ্যে একটি, যেখানে বিনিয়োগকারীদের ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি হ্রাস পায়। টানা তিনটি লেনদেন দিনের মধ্যে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১.৩ লাখ কোটি, যা দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেঞ্চমার্ক সূচক তার সর্বোচ্চ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গিয়েছে। যার জেরে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

    ট্রেডিং সেশন

    করাচি ও লাহোর-সহ একাধিক শহরে ভারতীয় ড্রোন হামলার (Indias Drone Strikes) খবরের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার জেরেই পতন ঘটে বাজারের। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের ট্রেডিং সেশনটি তীব্র ওঠানামার জন্য চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এদিন সূচকটি ১০ হাজার পয়েন্টেরও বেশি ওঠানামা করে। কেএসই-১০০ সূচকটি সাময়িকভাবে ১ হাজার ৮৭২টি পয়েন্ট বেড়ে যায়। পরে ফের ৮ হাজার ৪১০ পয়েন্ট পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের ভয় এবং অনিশ্চয়তাই এর কারণ (Indias Drone Strikes) বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা (Pakistans Economy)। এই তীব্র পতনে সূচকটি ১ লাখ ৭ হাজার ০০৭ পয়েন্টে নেমে আসে।

  • Pakistani National: কোন কুমতলবে বাংলায় আসে পাক নাগরিক আজাদ? স্লিপার সেল হিসেবেই কি?

    Pakistani National: কোন কুমতলবে বাংলায় আসে পাক নাগরিক আজাদ? স্লিপার সেল হিসেবেই কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডি, এনআইএ-র পরে এবার কেন্দ্রীয় ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) আতস কাচের তলায় পাসপোর্ট জালিয়াতিকাণ্ডে ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক আজাদ মল্লিক (Pakistani National)। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পাক নাগরিক সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে আজাদের ২টি ভোটার কার্ড রয়েছে। একটি রয়েছে নৈহাটি, অপরটি রয়েছে মধ্যমগ্রামের ঠিকানায়। প্রসঙ্গত, পাসপোর্ট জালিয়াতিকাণ্ডের তদন্তে গত ১৫ এপ্রিল কলকাতা (West Bengal) থেকে জেলায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। রাজ্যে একসঙ্গে ৮ জায়গায় হানা দিয়েছিল ইডির অফিসাররা। বেকবাগান, বিরাটি, গেদেতে অভিযান চালানো হয়। সেদিনই উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি থেকে গ্রেফতার করা হয় আজাদ মল্লিককে। আজাদ কোনও কুমতলবেই এতদিন ধরে বাংলায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছিল কিনা , সে সন্দেহও দানা বাঁধছে।

    করাচির ঠিকানায় রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স (Pakistani National)

    আজাদের কাছে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভুয়ো ড্রাইভিং লাইসেন্স। আরও চাঞ্চল্য তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। ধৃতের মোবাইল ঘেঁটে তাতে বহু পাকিস্তানি নাম পেয়েছে ইডি। সেখানেই পাকিস্তানের করাচির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া গিয়েছে। সেখানে নাম রয়েছে আজাদ হুসেন। ১৯৯৭ সালের করাচির ঠিকানায় রয়েছে লাইসেন্স। এই সমস্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল আজাদ পাকিস্তানের নাগরিক। এতে কোনও সন্দেহ রইল না।

    স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছিল পাক নাগরিক আজাদ?

    তদন্তকারীরা মনে করছেন (Pakistani National), নিজের নাম-পরিচয় ভাঁড়িয়ে বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য নিয়েই আজাদ মল্লিক ওরফে আজাদ হুসেন পশ্চিমবঙ্গে থাকছিল। আজাদের বিরুদ্ধে মূল যে অভিযোগ, তা হল অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দেওয়া! তবে সন্দেহ করা হচ্ছে, এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য নেই তো? তাহলে কি স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছিল পাক নাগরিক আজাদ মল্লিক? এটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন এভাবেই বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে থাকত আজাদ। কোনও বিশেষ কুমতলব ছিল ওই পাকিস্তানি নাগরিকের। এমনটাই অনুমান তদন্তকারীদের।

    কী বলছেন ইডির আইনজীবী?

    প্রথমে তাকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Pakistani National) হিসেবে সন্দেহ করা হলেও, পরে জানা যায় সে আদতে পাকিস্তানি। গত মঙ্গলবার বিশেষ আদালতে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘তদন্তে জানা গিয়েছে, আজাদ মল্লিক বাংলাদেশি নয়, আসলে পাকিস্তানি নাগরিক। পরিচয় বদল করে এখানে ভিসার আবেদন করেছিল। এদেশে ঢুকে ২টি ভোটার কার্ড, ৪টি বার্থ সার্টিফিকেট ও একাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে ফেলেছিল সে। প্রায় ১৩ বছর আগে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢোকে।

    একেক দেশে একেক নামে পরিচিত আজাদ মল্লিক

    একেক দেশে একেক নামে পরিচিত আজাদ মল্লিক।’’ ইডির তরফ থেকে তখন আরও জানানো হয়, আজাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই টাকা দেশবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা! প্রসঙ্গত, ওইদিন অর্থাৎ গত মঙ্গলবার আদালতে ইডির আইনজীবী আরও বলেন, ‘‘এটা শুধু পাসপোর্ট জালিয়াতি নয়। জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন। এটা দেশের সুরক্ষার জন্য উদ্বেগজনক। শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়।’’ নতুন তথ‍্যের ভিত্তিতে ইডি ফের একটি মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। সেই মামলাতে আবার আজাদ মল্লিককে হেফাজতে (Pakistani National) নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    ১২ বছর ধরে এরাজ্যে রয়েছে, প্রথমেই বানায় রেশন কার্ড

    প্রথমে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গ্রেফতার করা হলেও পরে ইডির আধিকারিকরা জানতে পারেন, সে আসলে পাকিস্তানের নাগরিক। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করেছিল আজাদ মল্লিক। অন্তত ১২ বছর ধরে এরাজ্যে রয়েছে সে। তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলায় ঢুকে প্রথমেই রেশন কার্ড বানায় সে। এরপরে তার ভিত্তিতে পায় ভোটার কার্ড। এর পাশাপাশি আধার কার্ডও বানিয়ে ফেলে আজাদ। সেখান থেকে তৈরি করে ভুয়ো ড্রাইভিং লাইসেন্সও।

    হাওয়ালা যোগে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে

    কিন্তু একজন পাকিস্তানের নাগরিক বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে এত সহজে এত নথি বানিয়ে ফেলল কীভাবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তৃণমূল জমানায় প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে একজন পাক নাগরিক এভাবে থাকছিল বছরের পর বছর। অথচ কেউ জানতেই পারেনি। আজাদের বিরুদ্ধে একইসঙ্গে হাওয়ালা যোগে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে  ইডি। গত রবিবারই আজাদকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করেন তদন্তকারীরা। ইডির আইনজীবীরা জানান, পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডে দেশের জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

  • Hafiz Saeed: পাকিস্তানে ফের হানা অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজদের, এবার খতম হাফিজ ঘনিষ্ঠ জঙ্গিনেতা

    Hafiz Saeed: পাকিস্তানে ফের হানা অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজদের, এবার খতম হাফিজ ঘনিষ্ঠ জঙ্গিনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের করাচিতে ফের খতম ভারত-বিরোধী জঙ্গি। জানা গিয়েছে, হাফিজ সঈদের (Hafiz Saeed) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি কারি শাহজাদাকে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজরা গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে করাচিতে। ২৪ মার্চ সকালে করাচির খরিয়াবাদ এলাকাতে এই ঘটনা ঘটে। জমিয়ত-উলেমায়ে-হিন্দ বলে একটি সংগঠনের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এই শাহজাদা। তাঁকেই গুলি করে হত্যা করা হয়।

    মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফেরার পথেই গুলি (Hafiz Saeed)

    জানা গিয়েছে, সোমবার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফেরার পথেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত মাসে যেভাবে পাঁচজন জমিয়তে-উলেমায়ে-ইসলামের (Qari Shahzada) নেতাকে খুন করা হয়েছে, এক্ষেত্রেও একই কায়দা অনুসরণ করা হয়েছে। শাহজাদার এই হত্যাকাণ্ড এখন আর কোনও গোপন ঘটনা নেই। সর্বত্র চর্চা চলছে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে। এর ফলে বেশ চাপেও পড়েছে পাকিস্তানের সরকার। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার জন্য কোনও জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। প্রসঙ্গত, ভারত-বিরোধী জঙ্গিদের (Hafiz Saeed) গুলি করে হত্যা করার ঘটনা বেড়েই চলেছে পাকিস্তানে এবং এর সবটাই করছে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজরা। এর আগেও একাধিকবার এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই এই ঘটনা রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে পাক সরকার ও গোয়েন্দা বিভাগ।

    পাকিস্তানে ছড়িয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ

    প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং তাদের গোয়েন্দা দফতরের ওপরেও প্রশ্ন চিহ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামনে এসেছে তাদের ব্যর্থতা। ব্যাপক সমালোচনার শোনা গিয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডকে পাক গোয়েন্দারা কেন আগে থেকে রোধ করতে পারছে না, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কারি শাহজাদাকে খতম করার এই ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়িয়েছে। বিরোধী নেতারা দাবি তুলছেন যে, পাকিস্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা এই ধরনের ঘটনাকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তথা প্রশাসন এবং সরকারের ব্যর্থতা বলেই তোপ দাগছেন।

  • Dawood Ibrahim: দাউদের জন্মদিনে ভারতের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা! টার্গেট হিন্দু নেতারা

    Dawood Ibrahim: দাউদের জন্মদিনে ভারতের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা! টার্গেট হিন্দু নেতারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি করাচিতে নিজের জন্মদিন পালন করেছেন, পলাতক মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম (Dawood Ibrahim)। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ দাউদের উপস্থিতি অস্বীকার করলেও, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাঁকে সুরক্ষা প্রদান করছে। আইএসআই-এর অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল পদমর্যাদা পেয়েছিলেন দাউদ। গত ২৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, দাউদের ৬৯ তম জন্মদিনে করাচিতে অনেক ব্যবসায়ী, আইএসআই-র কর্মকর্তা, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য এবং শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের বিরুদ্ধে নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে, বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। ভারতের হিন্দু নেতাদের হত্যার চক্রান্তও হতে পারে বলে অনুমান।

    দাউদের জন্মদিন না নয়া পরিকল্পনা

    গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, দাউদ (Dawood at Karachi) এখনও পাকিস্তানে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ভারত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে দাউদ ও তাঁর দল ইসলামাবাদকে সম্পূর্ণ সাহায্য করে। এছাড়া, দাউদ এবং আইএসআই-এর মধ্যে একটি অঘোষিত চুক্তি রয়েছে, যেখানে দাউদ তাঁর মাদক পাচারের আয় থেকে ৪০ শতাংশ আইএসআই-কে দেয়। মুম্বই এবং অন্যান্য স্থানে দাউদের কর্মকাণ্ড কিছুটা কমে গিয়েছে, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, এটি একটি চক্রান্তের অংশ। ১৯৯৩ সালের মুম্বই সিরিয়াল বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড, সন্ত্রাসী সবার নজর থেকে দূরে থাকার জন্যই এই কৌশল নিয়েছেন। যদিও তাঁর সহযোগীরা এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় এবং তাঁদের প্রভাব যথেষ্ট। তাঁর শুটারদেরও যেকোনো সময় ভারতের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হতে পারে। 

    আরও পড়ুন: ঠিকাদারের আত্মহত্যা, কাঠগড়ায় কর্নাটকের মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, কী বলছেন মন্ত্রী?

    ভারতের হিন্দু নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা

    ২০১৫ সালে ভারতীয় হিন্দু নেতাদের হত্যার জন্য একটি মডিউল তৈরি করেছিলেন দাউদ ও তাঁর দল। পরিকল্পনাটি ছিল গুজরাটে হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং পরে তা ভারতজুড়ে বিস্তৃত করা। যদিও এই মডিউলটি ২০১৭ সালে ফাঁস হয়ে যায়। নতুন পরিকল্পনা অনুসারে তারা আবারও নতুন মডিউল গঠন করতে পারে। দাউদ এখনও আইএসআই-এর সুরক্ষায় পাকিস্তানে রয়েছেন। তাঁর বাসস্থান করাচির রাহিম ফাকি এলাকায়। তাঁর বাসভবন অত্যন্ত সুরক্ষিত। তাঁর পাসপোর্ট পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে জারি হয়েছে। দাউদ একেবারেই পাকিস্তানে সীমাবদ্ধ নন, তার পৃষ্ঠপোষকতা কারণে তিনি দুবাই, জেদ্দা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ব্যাংককসহ বিভিন্ন দেশে প্রায়শই সফর করেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share