Tag: kartik

kartik

  • Lord Kartikeya: দক্ষিণ ভারতে কার্তিকের মন্দিরের কাছাকাছি শিবের মন্দির দেখা যায় কেন?

    Lord Kartikeya: দক্ষিণ ভারতে কার্তিকের মন্দিরের কাছাকাছি শিবের মন্দির দেখা যায় কেন?

    স্বামী অলোকেশানন্দ

    বিয়ের পর দেবসেনার সঙ্গে কৈলাসে বাস করছিলেন কার্তিক। কিন্তু মাঝে মাঝে ভাই গণেশের সঙ্গে একটু আধটু তর্ক-বিতর্ক ও বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে পড়তে হত। এরকমই একদিন তর্ক-বিতর্কে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঠিক হল, কে আগে সারা পৃথিবী ঘুরে এসে মা পার্বতীর থেকে পুরস্কার নিতে পারে? কার্তিক (Lord Kartikeya) শুনেই তাঁর বাহন ময়ূরকে নিয়ে পৃথিবী ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। ঘুরে এসে দেখেন, পার্বতী মায়ের পুরস্কার, মুক্তোর মালা নিয়ে গণেশ মায়ের কোলে বসে আছেন। কারণ মা পার্বতী হলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। তাঁকে ঘুরলেই সব ঘোরা হয়ে যায়। এই ঘটনা আমরা সকলেই জানি।

    দক্ষিণ ভারতে অন্য কাহিনী (Lord Kartikeya) 

    কিন্তু তামিলনাড়ুতে বা দক্ষিণ ভারতে এই বিষয়ে অন্য একটি কাহিনী শোনা যায়। যখন গণেশ ও কার্তিক তর্ক-বিতর্ক করছিলেন, সেই সময় কোথা থেকে নারদ আমের মত দেখতে একটি ফল নিয়ে উপস্থিত হলেন। দুই ভাই জানতে চাইলেন, এটা কী বস্তু? নারদ বললেন, এটা জ্ঞান ফল। খেলে বুদ্ধি বাড়বে আবার আত্মজ্ঞান বাড়বে। শুনে দু’জনেই দাবি করতে লাগলেন তাঁদের এটি দিতে হবে। বলা বাহুল্য, সেই জ্ঞান ফল নিয়ে দুই ভাইয়ের মধে তর্ক-বিতর্ক আরম্ভ হয়ে গেল। তখন নারদ বললেন, ঠিক আছে, যে সবার আগে ত্রিভুবন ঘুরে আসতে পারবে, তাকে এই ফলটা দেব। শুনেই কার্তিক (Lord Kartikeya) রাজি হয়ে তাঁর ময়ূরের পিঠে উঠে বেরিয়ে পড়লেন ত্রিভুবন ঘুরতে। গণেশ অনেক চিন্তাভাবনা করে মা পার্বতী ও পিতা মহাদেবকে ডেকে কাছে দাঁড় করালেন। মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা ত্রিভুবন পতি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। ব্যাস, গণেশ তাঁর ইদুরের পিঠে চেপে মা-বাবাকে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে তিন পাক ঘুরে নিলেন। এই ঘটনা নারদের সামনেই হল। তাই নারদ ফলটি গণেশকেই দিয়ে দিলেন। এরপর যখন কার্তিক ত্রিভুবন ঘুরে এলেন, দেখলেন যে ফলটি গণেশের হাতে। কার্তিক জিজ্ঞাসা করাতে বললেন, মা ও বাবা ত্রিভুবন পতি। তাঁদেরই তিন পাক ঘুরে ত্রিভুবন ঘুরে নিলাম। এই না দেখে ও শুনে খুব অভিমান সহকারে স্ত্রী দেবসেনা ও বাহন ময়ূরকে নিয়ে কার্তিক ঘুরতে ঘুরতে চলে আসেন দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ুর পালানিতে।

    কার্তিক (Lord Kartikeya) এখানে ছয়টি জায়গায় থাকতেন

    দক্ষিণ ভারতের তামিল রাজ্য কার্তিকের (Lord Kartikeya) বাসস্থান। কার্তিক এখানে ছয়টি জায়গায় থাকতেন বা আছেন বলে দক্ষিণ ভারতের মানুষ বিশ্বাস করেন। এই ছয়টি হল ১) স্বামীমালাই মুরুগান্‌ মন্দির  ২) পালানী মুরুগান্‌ মন্দির ৩) থিরুচেন্দুর মুরুগান্‌ মন্দির ৪) থিরুপ্‌পারান্‌কুন্ড্রাম্‌ মুরুগান্‌ মন্দির ৫) থিরুথানি মুরুগান্‌ মন্দির ও ৬) পাঝামুদিরচোলাই মুরুগান্‌ মন্দির। কার্তিকের দু’জন স্ত্রী বল্‌লী ও দৈবানৈ (দেবসেনা)। দেবসেনার সঙ্গে আগেই বিয়ে হয়েছেল। কিন্তু  ঘুরতে ঘুরতে যখন পাঝামুদিরচোলাই এলেন, জায়গাটা ট্রাইবাল এরিয়া ছিল। সেখানকার উপজাতি লোকেরা তাঁকে মুরুগন্‌ বলে শ্রদ্ধা জানায়, আদর-আপ্যায়ন শুরু করে। তাকে খুব শ্রদ্ধা ও ভালবাসে। 
    একদিন সেখানে স্থানীয় উপজাতি রাজার মেয়ে, যার গায়ের রঙ কালো, সেই বল্‌লীকে দেখে তাঁর রূপে আকৃষ্ট হন কার্তিক। কিন্তু কার্তিক কয়েক বার চেষ্টা করেও বল্‌লীর মন জয় করতে না পেরে ভাই গণেশকে ডেকে সব বলেন। গণেশ তখন হাতির রূপ ধরে বল্‌লীর কাছে যান। তখন সেখানে বৃদ্ধর রূপ ধরে কার্তিকও হাজির হয়ে যান। সামনে হাতি দেখে ভয়ে চোখ বুজে বল্‌লী বৃদ্ধরূপী কার্তিককে জড়িয়ে ধরে। কার্তিক বলেন, হাতি আমি তাড়িয়ে দেবো, কিন্তু আমাকে বিয়ে করতে হবে। তাতে বললী রাজি হয়। তারপর চোখ খুলে দেখে, হাতি চলে গেছে, সামনে সুদর্শন যুবক কার্তিক। তারপর বিয়ে হয় তার সাথে।

    কেন কার্তিকের (Lord Kartikeya) মন্দিরের কাছাকাছি শিবের মন্দির?

    সেই থেকে কার্তিক (Lord Kartikeya) এখানেই আছেন। বিবাহ করেছেন এখানে, লোকে তাই বলে তামিলনাডুর জামাই। তামিল রাজ্যে শিব ও কার্তিকের ভক্ত বেশি। তবে বর্তমানে শিবের থেকে মুরুগন অর্থাৎ কার্তিকের প্রভাব বেশি। কার্তিকের মন্দিরের কাছাকাছি শিবের মন্দির দেখা যায়। কারণ কার্তিক যখন তামিলনাডু চলে আসেন, তখন শিব ও পার্বতী তাঁকে এখানে নিতে আসেন। কিন্তু তামিলনাডুর লোকেরা এত ভালোবাসা, আদর-আপ্যায়ন করে রেখেছেন, যে কার্তিক এখান থেকে যেতে চাইলেন না। শিব তখন বললেন, কার্তিক না গেলে আমিও যাবো না। এরপর শিব কার্তিককে নিয়ে এখানে রয়ে গেলেন, আর পার্বতী গণেশকে নিয়ে কৈলাসে বাস করতে লাগলেন। দক্ষিণ ভারতে কার্তিকের মন্দিরের কাছাকাছি শিবের মন্দির দেখা যায় এই কারণেই।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Lord Kartikeya: দেবাদিদেব মহাদেব কেন দেব সেনাপতির পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন কার্তিককে?

    Lord Kartikeya: দেবাদিদেব মহাদেব কেন দেব সেনাপতির পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন কার্তিককে?

    স্বামী অলোকেশানন্দ

    আমি কিছুদিন তামিলনাড়ুতে ছিলাম। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোক থাকলেও মুরুগন্‌ অর্থাৎ কার্তিকের (Lord Kartikeya) পুজোর খুব প্রচলন আছে। কার্তিক সম্বন্ধে এখানকার মানুষের কাছ থেকে যা জেনেছি, তা সকলকে জানানোর জন্যই আমার এই ছোট একটি লেখা।

    পৌরানিক কাহিনী, কবি কালিদাসের কাব্য এবং এখানকার জনশ্রুতি অনুযায়ী কার্তিকের জন্ম কৃত্তিকা নক্ষত্র তিথিতে। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে তারকাসুর যখন স্বর্গের দেবতাদের খুব অত্যাচার করতে লাগল, তখন দেবতারা শিবের কাছে একটি পুত্রের জন্য প্রার্থনা করতে লাগলেন। কারণ তারকাসুর বধের জন্য শিবপুত্রের প্রয়োজন, তাও আবার তার বয়স হতে হবে সাতদিন। তারকাসুর সাধনা করে এইরূপ বর পেয়েছিলেন ব্রহ্মার কাছ থেকে।

    সংক্ষেপে কার্তিকের (Lord Kartikeya) জন্ম

    শিব ও পার্বতী সেই সময় গভীর তপস্যায় ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। দেবতারা শিবের ধ্যান ভাঙানোর জন্য রতি ও মদনদেবকে পাঠালেন। কিন্তু এদের কামনাময় নৃত্যে ধ্যান ভাঙল না। তখন কামদেব শিবের উপর কামবান ছুড়ে দিলেন। তাতে শিবের ধ্যান ভেঙে গেল। কিন্তু ক্রোধে তাঁর ত্রিনয়ন থেকে অগ্নি বেরিয়ে মদনদেবকে ভস্ম করে দিলেন। অন্যদিকে, কামের প্রভাবে পার্বতীর সঙ্গে মিলনে জন্ম হল কার্তিকের। জন্ম হয় শরবনে। তাই কার্তিকের আরেক নাম সারস্বত। ঘটনাচক্রে শিশু কার্তিক এসে পড়ে শরবনের সরোবরে। সেখানে তখন ছয়জন কৃত্তিকা স্নান করছিলেন। তাঁরা শিশুটিকে কোলে নিয়ে দেখেন, তাঁর ছয়টি মাথা। ক্ষুধার্থ শিশুটিকে ছয় কৃত্তিকা মিলে দুগ্ধ পান করালেন। ছয় মুখে ছয়জনের দুগ্ধ পান করেছেন, তাই নাম ষড়ানন।  তাঁরাই লালন-পালন করাতে তাঁর নাম হয়ে গেল কার্তিকেয় বা কার্তিক (Lord Kartikeya)।

    কীভাবে শুরু গৃহস্থের বাড়িতে পুজো (Lord Kartikeya)?

    এই কৃত্তিকারা ছিলেন ঋষি পত্নী। সেই ঋষিরা কার্তিককে মেনে নিতে পারেনি, এমনকি ভেবেছেন যে ওই ঋষি পত্নীদের অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক থেকেই কার্তিকের জন্ম। তাই তাঁদের তাড়িয়ে দেন। কার্তিক তাঁদের মায়ের সন্মান দিয়ে রেখে দেন। পরে তাঁদের সহায়তায় গৃহস্থ লোকেরা কার্তিকের পুজো শুরু করেন সন্তানের মঙ্গলের জন্য। এমনকি ওই ঋষি পত্নীরা এমন  প্রচার করেছেন, যার সন্তান নেই অর্থাৎ অপুত্রক সে যদি কার্তিকের পুজো করে, তা হলে সেই বিঘ্ন নাশ হবে। আরও প্রচার হল, যদি কার্তিকের পুজো না করে, তাহলে অপদেবতা গৃহস্থের ঘরে প্রবেশ করে অমঙ্গল ঘটাবে। সেই থেকেই গৃহস্থের বাড়িতে কার্তিকের (Lord Kartikeya) মূর্তি রেখে দিলেই পুজো করতে হয়, না হলে অমঙ্গল হবে। তাই সেই মূর্তি পুজো করে বিসর্জন দেবার রীতি।

    দক্ষিণ ভারতে কার্তিক (Lord Kartikeya) পুজোর প্রচলন ভালোই

    মহাভারতে তাঁকে স্কন্দ নামেও পাওয়া যায়। বাংলায় কার্তিক পুজো খুব বেশি না হলেও দক্ষিণ ভারতে কার্তিক পুজোর প্রচলন আছে ভালোই। তামিল ভাষায় কার্তিক এখানে মুরুগান্‌, মালয়ালম ভাষায় মায়ুরী কন্‌দস্বামী। আবার কন্নড় ও তেলেগুতে তিনি সুব্রহ্মণ্য নামে পরিচিত। তামিল দেশের সকল লোক খুব ভক্তি করেন এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন, তামিল দেশের রক্ষাকর্তা তিনি। যেখানে যেখানে তামিল সম্প্রদায়ের লোকের আধিক্য, সেখান সেখানে মুরুগান্‌ অর্থাৎ কার্তিকের (Lord Kartikeya) পুজোর প্রচলন আজও আছে। যেমন দক্ষিণ ভারত ছাড়াও সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কাতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ শ্রদ্ধা ও খুব ভক্তি করেন। তার জন্য শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ অংশে কার্তিকের উদ্দেশে কথারাগাম উৎসর্‌গিত করেছেন। সিঙ্ঘলি ভাষায় কথারাগম-এর অর্থ দেবালয়।

    কার্তিক (Lord Kartikeya) কি চিরকুমার?

    অনেকের ধারণা কার্তিক চিরকুমার। বিভিন্ন পৌরানিক কাহিনি ও তামিল রাজ্যে জনশ্রুতি–কার্তিকের দুটি বিয়ে। শিব ও পার্বতীর তপস্যা ও সংযম থেকে কার্তিকের জন্ম। জন্মের ছয় দিনের দিন কার্তিকের বিয়ে হয় দেবসেনার সঙ্গে। কেউ বলেন, তিনি ব্রহ্মার কন্যা আবার কেউ বলেন, ইন্দ্রর কন্যা। কেউ কেউ বলেন, দেবসেনাকে বিয়ে করে নাম হয় দেব সেনাপতি। আবার অনেকে বলেন তার জন্মের ছয়দিনের মধ্যে বড় হয়ে যাওয়া, তারকাসুর বধ, দেবতাদের যে কোনও যুদ্ধে কার্তিকের (Lord Kartikeya) বীরত্ব প্রকাশ-এই সব কারণে শিব দেবসেনার পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই তিনি দেব সেনাপতি।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share