মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন। প্রতি বছরের নিয়মে এই বছরও মহা সমারহের সঙ্গে পালিত হচ্ছে কল্পতরু উৎসব (Kalpataru Utsav)। আজকের দিনেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন। কাশীপুর উদ্যান বাটীতে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুর কল্পতরু হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু ঠাকুরের অন্যতম কর্মভূমি লীলাভূমি হল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে। এই মন্দিরেই তিনি থাকতেন। প্রচলিত প্রথা মেনে কল্পতরু তিথিকে কেন্দ্র করে আজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে জনস্রোত উপচে পড়েছে কাশীপুর উদ্যানবাটি, দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির, কামারপুকুর ও বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণে।
কাশীপুর উদ্যানবাটীতে কল্পতরু
সূর্য ওঠার আগেই রাস্তায় লম্বা লাইন। কারও হাতে প্রসাদ, কারও হাতে শীতের কম্বল, আর সকলের মুখে এক প্রার্থনা— “ঠাকুরের আশীর্বাদে মঙ্গলময় হোক নতুন বছর।” কাশীপুর উদ্যানবাটীই আজকের কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই স্মরণ করা হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের উদ্দেশে অনুগ্রহ বর্ষণ করে মানবকল্যাণের চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছিলেন। সকালে বিশেষ পুজো, পাঠ ও কীর্তন দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানপর্ব। কাশীপুর উদ্যানবাটীর সাংগঠনিক অনুষ্ঠান আজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভক্তিগীতি, প্রবচন, পাঠসভা—সব মিলিয়ে আবেগে পরিপূর্ণ পরিবেশ।
দক্ষিণেশ্বরে মানুষের ঢল
আজ ভোর সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। এরপর মঙ্গল আরতির মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় কল্পতরু উৎসবের। আজকের এই বিশেষ দিন মা ভবতারিনীকে সাজানো হয় নতুন বেশে। মায়ের সেই রূপ দেখতে এবং সর্বোপরি প্রার্থনা জানাতে ভোর থেকেই পুজোর ডালি হাতে লম্বা লাইন দিয়েছেন ভক্তরা। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়ছে মন্দির চত্বর। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের বন্দোবস্তও করা হয়েছে। যাতে তীক্ষ্ণ নজরদারির আওতায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে উৎসব
মঙ্গলারতি ও বিশেষ পুজোর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কল্পতরু উৎসব উদযাপন চলছে ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে ৷ চলছে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবন ও বাণীকে স্মরণ করে পাঠ, ভজন ও ধর্মসভা। কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে মঠ সেজেছে ফুল, আলো ও আলপনায়। কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকত্তরানন্দজী মহারাজ বলেন, বেলুড় মঠ ও কাশীপুরের মতো কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে ও এই কল্পতরু উৎসব পালন করা হয়। ঠাকুরের বাণী ‘যত মত তত পথ’ এর আদর্শে বিশ্বাসী হয়েই এই দিনটাকে পালন করা হয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যেই তাঁর শরণাপন্ন হবে সকলেই মুক্তি লাভ করবে। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ এই দিনে ভিড় জমান কামারপুকুরে। রীতি মেনে সকাল থেকেই মঙ্গল আরতি হোম যজ্ঞ এবং পূজা পাঠ সবকিছুই চলছে।
কল্পতরুর কথা
কথিত আছে, ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ আজকের দিনেই কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। সেদিনই ভক্তদের আশীর্বাদ করে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। এরপর থেকেই প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে পালিত হয়ে আসছে কল্পতরু উৎসব।
