Tag: Kashmir Unrest

  • POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন (POK Elections 2026) আসলে একটা প্রহসন। গায়ের জোরে অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট করাচ্ছে পাক সরকার। শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। ভোটের প্রথম দফায় সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ইসলামাবাদকে তোপ দাগল নয়াদিল্লি। তারা জানিয়েছে, এই নির্বাচন দখলদারি আড়ালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নির্বাচন শুধুই লোক দেখানো। ইতিমধ্যেই, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

    দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র

    অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। একাধিক জায়গায় ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ হল পাক সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্খন এবং দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষ পরিণতি।” ভারত সরকার এই নির্বাচনকে “Cosmetic Electoral Exercise” বা লোক দেখানো নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পিওকের জনগণের মৌলিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরে খর্ব করা হয়েছে বলেই সেখানে ব্যাপক জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সেখানে যে লোকদেখানো নির্বাচন হচ্ছে, তা আসলে দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র। সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি ঘটছে, সেগুলিও গোপন করার প্রচেষ্টা।” রণধীর স্পষ্ট করেছেন, “বর্তমানে পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলি-সহ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।”

    কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র রাওয়ালকোট

    ভোটের দিন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় রাওয়ালকোট, কোটলির মতো এলাকাগুলি। গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। এই বিক্ষোভ দমনে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে উপর অতর্কিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে পুলিশ। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বহুমানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংগঠনটির দীর্ঘ মিছিল মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরই পাকিস্তানি বাহিনী আরও কঠোর দমন অভিযান চালায় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পিওকের মিরপুরের একটি ব্যস্ত বাজারে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নিহত হন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন সাধারণ মানুষ। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে, একটি দোকান থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।

    ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন

    পিওকের নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সংগঠনটির ৩৮ দফা দাবির অন্যতম ছিল তথাকথিত আইনসভায় পাকিস্তানের প্রভাবাধীন ১২টি আসন বাতিল করা। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনার পথে না গিয়ে ইসলামাবাদ বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে।

    ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    পিওকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এবং পাকিস্তান তেহরক-ই ইনসাফ (PTI)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, প্রথম দফার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)।

    পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই

    এদিকে ফ্রান্সে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপর পাকিস্তানের রাষ্ট্রসংঘে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি (Maleeha Lodhi) প্রশ্ন তোলেন, পিওকে-তে নিহত সাধারণ মানুষের জন্য একই ধরনের সহানুভূতি কেন দেখানো হচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় “পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই” স্লোগানও শোনা গেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে “অবৈধ দখলদার” বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

    শুধু পিওকে নয়, কেপিতেও চাপ বাড়ছে

    পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট কেবল পিওকেই সীমাবদ্ধ নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ায় কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-এর বোন আলীমা খান (Aleema Khan) তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি ইমরান খানের কথিত একাকী বন্দিত্বের অবসান এবং দ্রুত চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছেন।

    বাড়ছে চাপ

    বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পিওকের নির্বাচন কি শুধুই আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর চেষ্টা, নাকি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল? একইসঙ্গে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের জেরে পাকিস্তান আরও চাপে পড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

  • POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) রাওয়ালাকোটে (Rawalakot) ইসলামাবাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ মঙ্গলবার পড়ল ২২তম দিনে। ঈদগাহ গ্রাউন্ডে (Eidgah Ground) অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে বক্তারা (Pakistan Protesters) দাবি করেন, এই অঞ্চলকে আর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, এবং প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পথ খোঁজার কথাও বলেন।

    অব্যাহত আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন (POK)

    আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের অভাব, অর্থনৈতিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গত ৫ জুন থেকে গোটা অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের খবর বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনসংযোগ সীমিত থাকে। স্থানীয় নাগরিক অধিকার-কর্মী সর্দার আমান খানের নেতৃত্বে আন্দোলন আরও জোরদার হয়, যখন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দু’সপ্তাহের জন্য খাদ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অবরোধ জারি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদকে

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমান বলেন, “পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়, এবং এই অঞ্চলের পাকিস্তানকে যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রয়োজন পাকিস্তানেরই।” তাঁর দাবি, ৯ জুন থেকে নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) কাছে আলাদা একটি অবস্থান-বিক্ষোভও চলছে। একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে, তাহলে এখানকার মানুষ ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কথা ভাবতে পারে।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং ইসলামাবাদের ওপর চাপ বাড়বে।”

    স্বৈরাচার মানব না

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওয় দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পাক-শাসিত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে মানতে অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। সাফ জানিয়ে দেন কোনও ধরনের স্বৈরাচার মেনে নেওয়া হবে না। যদিও, এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি (POK)। এদিকে, এই আন্দোলন শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মানুষও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের নেতারা জানিয়েছেন, মুজাফফরাবাদ-সহ (Pakistan Protesters) সমগ্র অঞ্চল নিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে আন্দোলন (POK)।

     

  • Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এবার ওই এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। ফলে সাধারণ মানুষের (POK) দুর্ভোগ চরমে। নিদারুণ যন্ত্রণা সয়েই কোনওক্রমে দিন গুজরান করছেন পিওকের বাসিন্দারা।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান চলে বাধা (Pakistan)

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য, জ্বালানি তেল ও ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনকে পিওকেতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তার জেরে আগে থেকেই চলা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ঘোষিত অঞ্চলব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও, আন্দোলনকারীদের দাবি—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলছে। যদি পাক-প্রশাসন এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করছে।

    নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি

    এদিকে, আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলবে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিদেশে বসবাসকারী  কাশ্মীরিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাক নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে নিহত কয়েকজনের মরদেহও প্রশাসন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পিওকের এক বাসিন্দা জানান, নিরস্ত্র মানুষকে কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে (Pakistan)।

    অস্থিরতার সূত্রপাত

    মূলত ১২টি আইনসভা আসনকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। এসব আসন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে জঙ্গি সংগঠন বলে দেগে দেয়, এবং তাদের সমর্থকদের সন্ধানে অভিযান চালাতে শুরু করে। বিভিন্ন (POK) প্রতিবেদনে দাবি, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Pakistan)।

     

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

LinkedIn
Share