Tag: Kenya

Kenya

  • William Ruto: ব্যাপক অশান্তি, কর বৃদ্ধির বিতর্কিত আর্থিক বিল প্রত্যাহার কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের

    William Ruto: ব্যাপক অশান্তি, কর বৃদ্ধির বিতর্কিত আর্থিক বিল প্রত্যাহার কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ পিছু হটলেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো (William Ruto)। দেশজুড়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ- সংঘর্ষের পর তিনি জানান, কর বৃদ্ধির বিতর্কিত আর্থিক বিল প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে এই বিলে কেনিয়দের কোনও সায় নেই। আমি বশ্যতা স্বীকার করে নিচ্ছি।” বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে তিনি আইনে পরিণত করবেন না বলেও জানান রুতো।

    কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত আর্থিক বিল (William Ruto)

    সম্প্রতি কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত আর্থিক বিল আনার কথা ঘোষণা করে কেনিয়া সরকার। তার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। মঙ্গলবার রাজধানী নাইরোবিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয় জনতা (William Ruto)। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের একাংশে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভয়ে সংসদ ভবন ছেড়ে পালিয়ে যান সাংসদরা। গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় সেনাও। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। আন্দোলনকারীদের মতে, এই বিল পাশ হলে দেশবাসীর দুর্দশা আরও বাড়বে। এদিকে, বুধবার সংসদের অধিবেশন বয়কট করেন বিরোধীরা।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    জানা গিয়েছে, নাইরোবিতে বিক্ষোভ শুরু হলেও, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। নাইরোবির পাশাপাশি বিক্ষোভ চলছে মোম্বাসা, এলডোরেটেও। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পিছু হটতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি। ঘোষণা করেন, কর বৃদ্ধির বিতর্কিত আর্থিক বিল প্রত্যাহারের কথা। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালেও এরকমই এক আইন পাশ করে বেতন ও বাড়িভাড়ার ওপর কর বসানো হয়েছিল। কেনিয়া সরকারের দাবি, এই কর বসানো হলে অতিরিক্ত ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আদায় সম্ভব হত।

    আর পড়ুন: কুখ্যাত গ্যাংস্টার গোল্ডির খোঁজে ১০ লাখি ইনাম ঘোষণা এনআইএ-র

    করোনা অতিমারী, ইউক্রেন যুদ্ধ, পর পর দুবছরর দেশে খরা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন-সহ নানা ধাক্কায় কার্যত বেসামাল কেনিয়ার অর্থনীতি। অর্থনীতির এই বেহাল দশা থেকে বেরতেই একের পর এক আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটছে কেনিয়া সরকার। তারই প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। অকালে প্রাণ হারান কেনিয়ার ২২ জন নাগরিক (William Ruto)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Kenya tax hike protests: মূল্যবৃদ্ধির জেরে অগ্নিগর্ভ কেনিয়া! ভারতীয়দের সতর্ক করল দূতাবাস

    Kenya tax hike protests: মূল্যবৃদ্ধির জেরে অগ্নিগর্ভ কেনিয়া! ভারতীয়দের সতর্ক করল দূতাবাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের জেরে জেরবার দেশবাসীর উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর প্রতিবাদে এবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল কেনিয়ায় (Kenya tax hike protests)। সরকারের প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে দিকে দিকে বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটছে সেদেশে৷ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই কেনিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা (Advisory for Indian Citizens) জারি করল দূতাবাস৷ খুব প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের বাইরে না-বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে৷  

    আগুন জ্বলল সংসদের একাংশে (Kenya tax hike protests)

    আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। সম্প্রতি সেদেশে রুটির উপর ১৬ শতাংশ ও মোটর গাড়ির উপর ২.৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে সরকার। প্রধান খাদ্য রুটির এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন প্রচুর মানুষ। কিন্তু মঙ্গলবার কার্যত বিস্ফোরণ ঘটে। জ্বলে ওঠে আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। রণক্ষেত্রের (Kenya tax hike protests) চেহারা নেয় কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। জানা গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় দল দেশের সংসদে ঢুকে, আগুন ধরিয়ে দেন সংসদের একাংশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভকারীদের আটকাতে জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের আটাকাতে পারেনি। এরপরেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিক্ষোভকারী পাঁচ জনের মৃত্যু ঘটে। পাশাপাশি আহতও হয়েছেন অনেকে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জানা গিয়েছে পুলিশের গুলি চালানোর পর পার্লামেন্ট থেকে বিক্ষোভকারীরা বেরিয়ে গেলেও রাস্তায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। 
    অন্যদিকে নাইরোবিতে বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাসের গোলা ছোঁড়ার সময় আহত হয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সৎ বোন আউমা ওবামাও। তিনি জানান, কাঁদানে গ্যাসের গোলার আঘাত লাগার পর থেকে উনি চোখ খুলতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে শুধুমাত্র পতাকা ও ব্যানর হাতে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল। সেই মিছিলে তিনিও সামিল হন। কিন্তু আচমকাই সেই মিছিলের উপর কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়। 

    ভারতীয়দের সতর্ক করল দূতাবাস (Advisory for Indian Citizens) 

    এমত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে (Kenya tax hike protests) কেনিয়ায় ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করা হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, “বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কেনিয়ার সমস্ত ভারতীয়কে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলা হচ্ছে৷ খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না-বেরনো এবং পরিস্থিতির উন্নতি না-হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ ও হিংসা কবলিত এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷” পাশাপাশি নিজের এলাকার পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, ওয়েবসাইটে ও সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে।

    আরও পড়ুন: সত্যি হল জল্পনা! লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন রাহুল গান্ধী

    মূল্যবৃদ্ধির কারন 

    করোনার পর থেকেই কেনিয়ার অর্থনীতি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ, টানা দুবছর খরা, মুদ্রার দাম পড়ে যাওয়া— এ রকম নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের অর্থনীতি। আর তার প্রভাব যেমন পড়েছে দেশের রাজকোষে, তেমনই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে হুহু করে। তার উপর মে মাসেই দেশে অতিবৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মারা যান অনেকেই। এ রকম অবস্থায় সরকারের কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Makhan Singh: ঘরে-বাইরে বিশ্ব মাঝে স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছিলেন পাঞ্জাবের মাখন সিং, চেনেন তাঁকে?

    Makhan Singh: ঘরে-বাইরে বিশ্ব মাঝে স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছিলেন পাঞ্জাবের মাখন সিং, চেনেন তাঁকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির” এই সংকল্পই ছিল তাঁর মন্ত্র। তিনি স্বাধীনতাকে নিজের দেশের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চানিনি। স্বাধীনতা মানে হল তাঁর কাছে স্বপ্ন, সমান অধিকারের দাবি। ঘরে-বাইরে বিশ্ব মাঝে স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছিলেন পাঞ্জাবের মাখন সিং। কেনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদানকারী এক বিরল ভারতীয় নেতা হলেন মাখন সিং। মাখন সিং, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের উদাসীনতা স্বীকার করে, তার জন্মভূমি এবং তার দত্তক বাড়ি উভয় ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরোধিতা করার জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ভারত এবং কেনিয়াতে আরও ন্যায়সঙ্গত রাজনীতির ভিত্তি স্থাপনের জন্য সিংয়ের সংকল্প অনুপ্রেরণাদায়ক।

    মাখন সিং-এর জন্ম

    মাখন সিং ১৯১৩ সালের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে বেশিরভাগ সময় তিনি অবিভক্ত পাঞ্জাবে কাটিয়েছিলেন। তার বয়স যখন ছয়, তার বাবা, কেনিয়ায় চলে যান। সেই সময় অনেক পাঞ্জাবি রেলওয়েতে কাজ করার জন্য কেনিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন। মাখন সিংও ১৪ বছর বয়সে তাঁর মা এবং বোনের সঙ্গে কেনিয়াতে বাবার কাছে চলে যান। তার আগেই দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক তাঁর মনে দাগ কেটেছিল। মাখনের বাবা রেলওয়ে ছেড়ে দিয়ে একটি ছাপাখানায় যোগ দেন।  স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বাবাকে প্রেসের কাজে সাহায্য করতে থাকেন মাখন। এই সময়েই তিনি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি আগ্রহী হন। এই সময়ে মুদ্রণ শিল্পে শ্রমিকদের নানা দাবি নিয়ে  শ্রমিক ধর্মঘট সংগঠিত করেছিলেন মাখন।

    শ্রমিকদের জন্য দাবি

    শ্রমিকদের কাছে একটি আবেগপ্রবণ ভাষণে মাখন সিং  ‘উহুরু সাসা’ দাবি করেছিলেন, যার কিসোয়াহিলি অর্থ ছিল ‘এখনই স্বাধীনতা’। এটি ছিল ব্রিটেনের কাছ থেকে কেনিয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রথম আহ্বান। বাবার ছাপাখানায় কাজ করতে করতে  শ্রমিকদের শোষণ এবং ঔপনিবেশিক অবিচার সম্পর্কে জানতে পারেন মাখন। এখানেই তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মিত্র, গদর [গদর নামেও লেখা] পার্টির সদস্যদের সাথে দেখা করেছিলেন। এই আন্দেলনে শ্রমিকদের স্বার্থে মাখন নিজের বাবার বিরুদ্ধেও দাঁড়ান। তিনি বলেছিলেন যে তাঁর ক্রিয়াকলাপ “পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গত”।

    বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই

    এক সময় পূর্ব আফ্রিকার উপনিবেশগুলিতে বসতি স্থাপনের জন্য ব্রিটিশরা ভারতীয়দের উৎসাহিত করত। এই ভারতীয়দের অধিকাংশই ছিল ব্যবসায়ী, কারিগর বা নিম্ন পেশাজীবী, যারা ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাসে কালো ও সাদাদের মধ্যবর্তী অবস্থান দখল করত। তাঁরা আফ্রিকান এবং ইংরেজ উভয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁদের নিজস্ব বৃহৎ সম্প্রদায়ে বাস করত। তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর ব্রিটিশ শাসনের অপরিহার্য হাতিয়ার ছিল এবং ব্রিটিশদের তুলনায় আফ্রিকানদের সাথে তাদের বেশি যোগাযোগ ছিল। এইভাবে, তাঁরা সেই দেশে আফ্রিকানদের থেকে বেশি সুযোগ সুবিধা পেলেও, কৃষ্ণাঙ্গরা তাঁদের প্রতি বিরক্ত হত। মাখনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল রঙের বাধা ভেঙে ভারতীয় ও আফ্রিকান জনগণকে এক করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের চ্যালেঞ্জ করা। ১৯৩৪ সালে লেবার ট্রেড ইউনিয়ন অফ কেনিয়ার সম্পাদক (LTUK) নির্বাচিত হন। এই সংগঠন সমস্ত বর্ণের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এদের উদ্দেশ্য ছিল নিপীড়িত সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করা।

    ভারতের সঙ্গে যোগ

    কেনিয়ায় আন্দোলন সংগঠিত করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের জন্মভূমি ভারতে ঘটে চলা নানা প্রতিবাদ সম্পর্কে অবগত ছিলেন মাখন। ১৯৩৯ সালে ভারতে আসেন তিনি। বম্বে এবং আমেদাবাদে ট্রেড ইউনিয়নিজমের কার্যকারিতা এবং শ্রমিক শ্রেণীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আসেন মাখন। তিনি তৎকালীন বোম্বেতে শ্রমিক ধর্মঘটকারীদের জনসভায় ভাষণ দেন। আফ্রিকান প্রতিনিধি হিসাবে রামগড়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনেও যোগ দিয়েছিলেন মাখন। তাঁর ঔপনিবেশিক বিরোধী সংবেদনশীলতা সমস্যায় ফেলতে পারে এই ভয়ে, ব্রিটিশরা তাঁকে গ্রেফতার করে। দুই বছর ধরে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় মাখনকে। আড়াই বছরের জন্য গুজরানওয়ালায় তাঁর নিজের গ্রামে তাঁকে নজরবন্দি করে  রাখে ব্রিটিশরা। অবশেষে ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিটিশরা তাঁকে মুক্তি দেয়। এরপর তিনি একটি বিপ্লবী সাপ্তাহিক জং-ই-আজাদির সাব-এডিটর হিসেবে কাজ পান। এরপরে ১৯৪৭ সালে ফের তিনি কেনিয়ায় ফিরে যান।

    আরও পড়ুুন: তৃতীয় দফায় কী প্রচার করবেন, কৌশল বাতলে এনডিএ প্রার্থীদের চিঠি মোদির

    কেনিয়ার স্বাধীনতা

    কেনিয়ায় ফিরে মাখন ফের ঔপনিবেশিক বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি কেনিয়া যুব সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। পূর্ব আফ্রিকান ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কাজে সক্রিয় হন মাখন। পূর্ব আফ্রিকান ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আফ্রিকান বিপ্লবী ফ্রেড কুবাই এর সভাপতি ছিলেন তিনি। মাখন ভারতীয়দের আফ্রিকানদের সাথে একত্রে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। পাঞ্জাবি, গুজরাটিদের জন্য কেনিয়ায় স্কুল স্থাপন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে ব্রিটিশ সরকার সিংকে শেষবারের মতো আটক করার পরেই মউ মউ বিদ্রোহ শুরু হয়। ১৯৬১ সালে ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়ায় জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। এরপর মাখন স্বাধীন কেনিয়ার প্রথম প্রধান জোমো কেনিয়াত্তার জন্য প্রচার শুরু করেন। মাখন বিশ্বাস করতেন যে স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের সাধনা আপনার জন্মের দেশ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। অবশেষে তিনি রাজনৈতিক লাইমলাইট থেকে দূরে সরে যান এবং ১৯৭৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাইরোবিতে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর জীবন ও আন্দোলন সারা পৃথিবীর মানচিত্রে দাগ কেটে যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Kelvin Kiptum: দুর্ঘটনায় প্রয়াত বিশ্বরেকর্ডকারী কেনিয়ার দৌড়বিদ কেলভিন কিপটাম

    Kelvin Kiptum: দুর্ঘটনায় প্রয়াত বিশ্বরেকর্ডকারী কেনিয়ার দৌড়বিদ কেলভিন কিপটাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ২৪ বছর বয়সেই শেষ হয়ে গেল কেনিয়ার ম্যারাথন দৌড়বিদ কেলভিন কিপটামের (Death of Kelvin Kiptum) দৌড়। গত বছর অক্টোবর মাসে ম্যারাথনে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন কেলভিন। রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় কেনিয়ার এলডোরেটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কেলভিনের অকালে চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ অ্যাথলিট মহল। 

    কী ঘটেছিল

    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় কিপটাম নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় গাড়িটিতে মোট তিন জন ছিলেন। ছিলেন তাঁর কোচ গারভাইস হাকিজিমানা। প্রচণ্ড গতিতে চলছিল গাড়িটি। আচমকাই তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিপটাম ও তাঁর কোচের। তৃতীয় জন গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অকাল প্রয়াণে ক্রীড়াজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কেলভিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সকলে।

    কেলভিনের কৃতিত্ব

    চার বছর আগে প্রথম বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন কেলভিন। পরিবারে আর্থিক অনটন থাকার কারণে সেই প্রতিযোগিতার জন্য অন্য খেলোয়াড়দের থেকে জুতো ধার করতে হয়েছিল তাঁকে। কেলভিনের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২৩ সালে এলিউড কিপছোগের বিরুদ্ধে।

    এর পরেই গত অক্টোবর মাসে তিনি কিপছোগের রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়েন। শিকাগো ম্যারাথনে ৪২ কিলোমিটার মাত্র ২ ঘন্টা ৩৫ সেকন্ডে সম্পুর্ণ করেন কেলভিন। ২৪ বছর বয়সী কিপটম তৃতীয়বার ম্যারাথনে অংশ নিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     

  • DCI: ‘উদ্বেগজনক’, কেনিয়ায় দুই ভারতীয় খুন নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

    DCI: ‘উদ্বেগজনক’, কেনিয়ায় দুই ভারতীয় খুন নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেনিয়ার (Kenya) নির্বাচনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করার কারণে খুন করা হয়েছে দুই ভারতীয় যুবককে। এবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাল দেশের বিদেশমন্ত্রক। সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি (Arindam Bagchi) বলেন, “গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারত। ইতিমধ্যেই কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন সেদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার। কেনিয়া সরকারের কাছে এই হত্যার ঘটনা নিয়ে বিশদ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেনিয়ায় দুই ভারতীয় যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও, কেনিয়া সরকারের তরফে এই বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

    আরও পড়ুন: কমল সিত্রাংয়ের দাপট! আজ সকাল থেকেই ঝলমলে আকাশ

    সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে অরিন্দম বাগচি বলেন, “কেনিয়া সরকারের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। দুই ভারতীয় যুবক আদৌ খুন হয়েছেন কিনা, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কেনিয়া সরকারকে। ভারতে নিযুক্ত কেনিয়ার হাই কমিশনারকেও ডেকে পাঠিয়ে এই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। জুলাই মাস থেকে দুই ভারতীয় যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে কেনিয়া সরকারের কাছে।” 

    বিষয়টিতে কেনিয়া সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। তিনি বলেন, “দুই যুবক এখন কোথায় রয়েছেন, আদৌ তাঁরা বেঁচে আছেন কিনা, সেই বিষয়ে কোনও তথ্য নেই কেনিয়া প্রশাসনের কাছে। কেনিয়া সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। ইতিমধ্যেই আমরা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর কাছে আমাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছি। ঘটনাটির তদন্ত করছে পুলিশ।”

    উল্লেখ্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় একটি সংস্থাকে প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি রুটো। ওই সংস্থায় কাজ করতেন জুলফিকার এবং মহম্মদ জইদ নামের দুই ভারতীয়। রাষ্ট্রপতির সহায়ক ইতুম্বি  জানিয়েছেন, গত জুলাইতে রোড এলাকা থেকে ট্যাক্সিচালক নিকোদেমাস মাওয়ানির সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। সেই ঘটনার চার মাস পর ওই দুই ভারতীয় খুন হয়েছেন জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ মহল। 

    যদিও এখনও ওই দুই ভারতীয়র খুনের ব্যাপারে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি কেনিয়া সরকার। তবে এই খুনের বিষয়ে কেনিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ডিসিআই-র একটি শাখা স্পেশাল সার্ভিস ইউনিট বা এসএসইউ-র দিকে আঙুল তুলেছেন রুটো সমর্থকরা। এসএসইউ-র বিরুদ্ধে এর আগেও বার বার বিনা বিচারে আটকে রাখা, অপহরণ এবং খুনের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনে রুটোর জয় আটকানোর সবরকম চেষ্টা চালিয়েছিল তাঁরা। সম্প্রতি এসএসইউ-র ২১ জন গোয়েন্দাকে রাজধানী নাইরোবিতে তলব করা হয়। এর পরই তদন্তকারী সংস্থা ডিসিআই-র ওই শাখাটিকে ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই খুন করা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share