Tag: Kerala BJP

  • ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি(ED)। তদন্তে হাতে লেখা খাতা ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিন নথি থেকে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য হাওলা কারবারের সূত্র মিলেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (FEMA Violations)।

    বড় দাবি ইডির (ED)

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করা হাতে লেখা খাতা এবং বৈদ্যুতিন নথিতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় তা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিতে মোট ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার দেশীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বীণার জানা ও বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় এই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বীণার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতিতে একটি ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্র এবং ভুয়ো পরিচয়ে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলা লেনদেনের সমন্বয় করতে অনুসরণ করা কঠিন এমন ইন্টারনেটভিত্তিক ফোনালাপের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হতে পারে।

    সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়

    তদন্তে ওই সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়ও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। কার্ডটি কোঝিকোড়ের ডিওয়াইএফআই নেতা নন্দুলালের নামে নথিভুক্ত ছিল। নন্দুলালের দাবি, বীণা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহম্মদ রিয়াসের অনুরোধেই তিনি সিমটি সংগ্রহ করেছিলেন। দু’জনের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে বলে স্বীকার করলেও, সিম কার্ডটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে বীণা ওই সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। হাওলা লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্যই এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের মতে, সিমটি একটি বেতার ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্রে ঢুকিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হত।

    বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত

    আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মহম্মদ রিয়াস কেরলের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দুলাল কোঝিকোড় জেলা পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের গন্তব্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি নন্দুলালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ডটি সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বীণার মালিকানাধীন এবং বর্তমানে বন্ধ তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সালজিক সলিউশন্সকে ঘিরে ওঠা একটি কর্পোরেট জালিয়াতির মামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত। গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দফতরের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রতি মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে বেআইনি অর্থ পেয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে সংস্থাটি কোনও প্রকৃত পরিষেবা দেয়নি।

    বীণার পরিবারের দাবি

    বীণার হাতে লেখা নথিতে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে কোঝিকোড়ে সাম্প্রতিক তল্লাশি চালানোর পর তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে ইডি। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। তদন্তের স্বার্থে বীণাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর (ED)। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযোগ ও তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপিআই(এম)-এর নেতারা এবং বীণার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে (FEMA Violations)। এদিকে বীণাকে ঘিরে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের অর্থপাচার তদন্তে ইডির নয়া তথ্য সামনে আসার পর পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ থেকে ইস্তফা দিন – এমন দাবি তুলেছে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য

    পদ্ম শিবিরের রাজ্য সহ-সভাপতি শোন জর্জ বলেন, পিনারাই বিজয়নের উচিত তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো—এটাই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পিনারাই বিজয়ন যে ভাষায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, তিনি সেই একই যুক্তি এবার বিজয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছেন। শোন জর্জ বলেন, “যদি তাঁর মধ্যে সামান্যও লজ্জাবোধ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে… যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে (FEMA Violations), তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা (ED)।”

     

  • Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজেপি (Cockroach Janata Party)-কে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এবার কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) সরাসরি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন। সমাজমাধ্যমে সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছেন, তাঁরা আসলে কারা?’’

    সৌরভের পুরনো পোস্টও তুলে ধরলেন

    শুধু ছবিই নয়, সৌরভ দাসের একটি পুরনো এক্স (X) পোস্টও শেয়ার করেন রাজীব (Rajeev Chandrasekhar)। সেই পোস্টে উমর খালিদের কারাবাসকে ‘‘ভারতের বিচারব্যবস্থার এক কলঙ্ক’’ বলে মন্তব্য করেছিলেন সৌরভ। এই পোস্ট সামনে এনে বিজেপি নেতার দাবি, সিজেপি-র নেতৃত্ব ও তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে দেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    ‘কার সঙ্গে আছেন জানুন’

    নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) বলেন, ‘‘অনেকেই হয়তো ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে এবং কোন শক্তি সেই আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।’’

    দেশের ঐক্য ভাঙতে চাইলে বিরোধিতা করুন

    নিজের পোস্টে রাজীব (Rajeev Chandrasekhar) লেখেন, ‘‘যারা ভারতকে ভাঙতে ও ধ্বংস করতে চায়, তারাই আবার তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছে। কিছু মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠী দেশের যুবসমাজকে ব্যবহার করে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যে নামেই তারা সামনে আসুক না কেন, তাদের বিরোধিতা করা প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।’’

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেরও উল্লেখ

    সিজেপি (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত হলে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নয়, পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সত্য সামনে আসতেই হবে।’’ একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দিলেও হিংসার অভিযোগে চলা তদন্তে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে অপরাধের প্রমাণ মিলবে, সেখানে দায় ঠিক করতেই হবে।

    উমর খালিদকে ঘিরে কী বলছে তদন্ত?

    দিল্লি পুলিশের দাবি, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, ঘটনাটি শুধু একটি বিক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা নয়; তদন্তকারী সংস্থার নথিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    সম্প্রতি দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এস. এন. শ্রীবাস্তব-সহ কয়েকজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মতে, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, তথ্যযুদ্ধ এবং সরকার অস্থির করার চেষ্টার দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই রাজীব চন্দ্রশেখরের (Rajeev Chandrasekhar) বার্তা, ‘‘ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা যেন আন্দোলনের মুখ নয়, আন্দোলনের নেতৃত্বকেও চিনে নেন।’’

LinkedIn
Share