Tag: khabor

  • Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি এবং ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (FMR) বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার (Manipur)। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ভুক্ত একাধিক জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সমর্থনকারী খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির নেপথ্যে রয়েছে গভীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ (Indian Passport)।

    জঙ্গি সংগঠনের জোটের শীর্ষ নেতা (Manipur)

    নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রের দাবি, বহু বছর ধরে খোলা ভারত-মায়ানমার সীমান্ত জঙ্গিদের অবাধ যাতায়াতের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকায় দুই দেশের জঙ্গিরা অনায়াসেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, মণিপুরে সক্রিয় ৮টি কুকি জঙ্গি সংগঠনের জোটের বর্তমান শীর্ষ নেতা মায়ানমারের নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, ভারতবিরোধী কার্যকলাপেও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি কীভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    পাসপোর্ট পেলেন কীভাবে

    সূত্রের খবর, থাংগালিয়ানপাউ গুইটে, যিনি জোমি রিইউনিফিকেশন অর্গানাইজেশন (ZRO) ও তার সশস্ত্র শাখা জোমি রেভল্যুশনারি আর্মি (ZRA)–এর সভাপতি, তিনি আদতে মায়ানমারের নাগরিক। এই সংগঠনটি বর্তমানে ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট (UPF)–এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ের মোট ৮টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলি বর্তমানে ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস (SoO)’ চুক্তির আওতায় রয়েছে (Manipur)। মণিপুরের মুখ্য সচিবকে পাঠানো এক নোটিশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানতে চেয়েছে, কীভাবে একজন মায়ানমারের নাগরিক ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, কীভাবেই বা তিনি বছরের পর বছর ভারতে বসবাস করছেন (Indian Passport)।

    মায়ানমারের চিন রাজ্যের বাসিন্দা

    নোটিশে বলা হয়েছে, “থাংগালিয়ানপাউ গুইটে মায়ানমারের চিন রাজ্যের টনজাং টাউনশিপের পাংমুয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯০ সালে তিনি জোমি ন্যাশনাল কংগ্রেস (ZNC) দলের প্রার্থী হিসেবে মায়ানমারের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে গ্রেফতারের আশঙ্কায় মায়ানমার থেকে পালিয়ে যান।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত–মায়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং এফএমআর বাতিল করা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে উত্তর–পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

    চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে ১৯৯৫ সাল থেকে মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন। এর পর তিনি আর জন্মভূমি মায়ানমারে যাননি। বর্তমানে তাঁর কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ভোটার আইডি রয়েছে (Manipur)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্য মণিপুরের ভোটার। এর অর্থ হল, তিনি শুধু দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসই করছেন না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ও অংশ নিয়েছেন (Indian Passport)। এদিকে, ভারত সরকার মায়ানমার সীমান্ত ঘিরে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মোট ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ‘নো কাট, নো ক্লাইম্ব’ ধরনের নিরাপত্তা বেড়া বসানো হবে (Manipur)।

    ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিক চিহ্নিত

    ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি ভারত-মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার বসানো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয়। এদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিককে চিহ্নিত করেছে। এদের অধিকাংশই বর্তমানে মিজোরাম এবং মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলিতে বসবাস করছেন বলে খবর (Indian Passport)। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই এই পদক্ষেপগুলি করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে (Manipur)।

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা (Roundup Week) ধীরে ধীরে সংঘটিত একপ্রকার গণহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। দশকের পর দশক ধরে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যের প্রকৃত ব্যাপ্তি আন্তর্জাতিক মহলের নজর এড়িয়ে গিয়েছে। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য, সব মিলিয়ে হিন্দু সমাজ আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে সংঘটিত এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    নীলগিরিতে অবৈধ প্রার্থনা সভা ও মন্দির ভাঙার হুমকি ঘিরে বিতর্ক। তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার কাণ্ডাল এলাকার কস্তুরীবাই কলোনিতে এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রার্থনা সভা আয়োজন এবং মন্দির ভাঙার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাটি মূলত তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দুদের বসবাসস্থল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনাকরণ নামে এক ব্যক্তি সেখানে বেআইনিভাবে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভা ও ধর্মান্তরের কার্যকলাপ চালাচ্ছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাওয়ের চিঠির পর অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার অমুসলিমদের মধ্যে খৎনা প্রচারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে খৎনার অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল (Roundup Week)।

    নির্মমভাবে খুন

    পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ায় ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জঙ্গিপুর ট্রায়াল কোর্ট। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দু’জনের নাম মহম্মদ ইমাম ও জাকির। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে (Hindus Under Attack)। তামিল চলচ্চিত্র সমালোচক কালিলুর রহমান সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তেলুগু ছবি অখণ্ডা ২: থান্ডবম রিভিউ করতে গিয়ে সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক রমিজউদ্দিন ওরফে নাইক পলাতক। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্নাটকের হুব্বলির নিকার নগর–শিবানগর এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িকে বেআইনিভাবে মসজিদে রূপান্তরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা ও সংগঠনগুলি অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার দাবি জানায় (Hindus Under Attack)। এই ঘটনাগুলি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলমান একটি বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের প্রতিফলন বলে মত বিশ্লেষকদের।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন

    বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এই নির্যাতনের লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করা, এমনই দাবি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায়। তাঁর মতে, চলমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একজন হিন্দুও অবশিষ্ট থাকবে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ এবং লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য, এই সব কৌশল ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে এবং দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    এহেন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় একটি নৃশংস ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২৫ বছর বয়সি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস, যিনি পেশায় পোশাক কর্মী ছিলেন, তাঁকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে খুন করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পরে তাঁর নিথর দেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জনসমক্ষে পোড়া দেহ ঝুলিয়ে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে (Roundup Week)।

    থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া 

    অন্যদিকে, ভারত ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করার একদিন পর থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাঠোমোটি কোনও রেজিস্ট্রি করা ধর্মীয় স্থান ছিল না। থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্তে থাই সেনার অভিযানের সময় মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালীন কপালে তিলক পরার কারণে এক হিন্দু সেনাকে দেশ থেকে বিতাড়নের হুমকি দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আইনি হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় (Hindus Under Attack)। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও একটি সূক্ষ্ম ও প্রাত্যহিক হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে।

    এই বিদ্বেষ অনেক সময় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে থেকে যায়, ফলে তা সহজে চোখে পড়ে না। দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধকরণ তার একটি বড় উদাহরণ। ওপরে ওপরে এটি পরিবেশ রক্ষার সিদ্ধান্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমালোচকদের মতে, এটি হিন্দু উৎসব ও সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ (Hindus Under Attack)।

  • TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। আরও অবৈধ নাম বাদ যাবে ভোটার তালিকা থেকে। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আর ভোটে লড়তে চাইবে না তৃণমূল (TMC)।” চাঁচলের কলমবাগানে জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ (TMC)

    এদিনের সভায় তাঁকে স্মৃতিচারণও করতে দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলে থাকাকালীন এখানে সভা করে গিয়েছি। তখন হেলিকপ্টার করে সভা করতে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী আমায় যা লিখে দিতেন, সেটাই আমায় বলতে হত। তিনি আমায় বলেছিলেন, আমি এখানে এসে যেন চাঁচল আর গাজোল পুরসভা হবে, সেকথা বলি। আমি সেকথা বলেওছিলাম। কিন্তু গত ১৫ বছরেও সেই পুরসভা হয়নি। এই দেউলিয়া সরকার সেটা করতেও পারবে না।”

    ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে যে এই এলাকা আমূল বদলে যাবে, সেকথাও বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচলে রেল যোগাযোগ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ধান থেকে শুরু করে মাখনা, বর্তমান সরকারি নায্যমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দরে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেবে বিজেপি সরকার।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মালতিপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বকশি যে এবার আর ভোটে জিততে (TMC) পারবেন না, তাও জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, মালতিপুরে বিজেপি জিততে না পারলেও, রহিম হারবেন। কারণ তার নীল নকশা তৈরি হয়ে গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

    তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগে বারংবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে চাঁচলের কলমবাগানে সভা করেন শুভেন্দু। বক্তৃতার শুরুতেই সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “চাঁচল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে বিহারে এবার সবাই সাফ হয়ে গিয়েছে। এবার বাংলায় তৃণমূল সমূলে উৎপাটিত হবে। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের মধ্যে আগে কলিঙ্গ, পরে অঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাব্বিশে স্বপ্নপূরণ হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। বঙ্গেও বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “এপ্রিলের পর তৃণমূল বিরোধী আসনে বসবে। সেদিন সব হিসেব হবে (Suvendu Adhikari)।”

    তৃণমূলের সমালোচনা

    শুভেন্দুর বক্তব্যের সিংহভাগজুড়েই ছিল তৃণমূলের সমালোচনা। যে এলাকায় তিনি সভা করছিলেন, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানেই দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “এ রাজ্যে শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয় (TMC)। সোহরাবর্দি আর জিন্নার স্বপ্নে এই সরকার লালিত-পালিত হচ্ছে। মোথাবাড়িতে যারা অশান্তি করেছে, তারা রাষ্ট্রবাদী হতে পারে না। সেই অশান্তির পর বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ আমাদের নেতৃত্বকে পুলিশ মোথাবাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। বিধ্বস্ত ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জেও আমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের অনুমতি পেয়ে আমি সেই সব জায়গায় যাই।” তিনি বলেন, “ময়মনসিংহে (বাংলাদেশ) দীপুচন্দ্র দাসের মতোই এখানে পশু কাটার অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে হরগোবিন্দ দাসের যুবক ছেলেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী আর ফিরহাদ হাকিমরা ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে মানুষকে উসকানি দিয়েছিলেন বলেই এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই আইন এখন কার্যকর হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড। স্বামীজি আমাদের নিজ ধর্মে আস্থা রাখতে শিখিয়েছেন। অন্য ধর্মকেও সম্মান জানাতে বলেছেন। আমরা তাঁর কথা মতোই কাজ করি।”

    তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা

    মালদা জেলায় তিনিই যে তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এদিন সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু (TMC)। বলেন, “১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত মালদা জেলায় সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। আমি তৃণমূলে থাকাকালীন পাঁচ বছরেরও (Suvendu Adhikari) বেশি সময় মালদার দায়িত্বে ছিলাম। দেখেছি, মালদার মানুষ তৃণমূলকে ঘৃণা করে। এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে কেবলমাত্র সাবিত্রী মিত্র আড়াইডাঙা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনে এই জেলার দু’টি আসন মিলিয়ে তৃণমূল মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কোনও কেন্দ্রেই জামানত ছিল না। ষোলোর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূল শূন্য। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও ওরা শূন্য। সেই ভোটে এই জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটিতেও তাদের লিড নেই। এখানকার মানুষ জানেন, তৃণমূল মানেই চোর। তাই তাঁরা তৃণমূলকে পছন্দ করেন না।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূলের নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা দেয়নি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ইন্দিরা আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছিল ৪৬৬৪ কোটি টাকা। আর ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি সরকার রাজ্যকে ৪০ লাখ বাড়ির জন্য দিয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা লাভলি খাতুনের মতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানরা লুট করেছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে ১২ হাজার টাকা করে এই রাজ্যে ৭২ লাখ শৌচাগার নির্মাণের টাকা দেয় মোদিজির সরকার (TMC)। সেই টাকাও এরা (Suvendu Adhikari) খেয়ে নিয়েছে। মনরেগা প্রকল্পে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্য পেয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পেয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা ১ কোটি ২৫ লাখ ভুয়ো জবকার্ডধারীরা লুটে নিয়ে গিয়েছে। বিহারের বাসিন্দা থেকে শুরু করে বাংলাদেশিরাও এখান থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ১০০ দিন নয়, বছরে ২০০ দিন কাজ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনায় দেওয়া হবে তিন লাখি বাড়ি। বিহারের মতো এখানেও, প্রতি ঘরে নলবাহিত জল পাওয়া যাবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচল পুরসভা হবেই। উত্তরবঙ্গে এইমস হবে। মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় কাজ পাবেন। প্রতি বছর এসএসসি হবে। ওএমআর কপি সবাই বাড়ি নিয়ে যাবেন। এসব আমাদের অঙ্গীকার।”

    শুভেন্দুর কটাক্ষ-বাণ

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকশির উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “ওর মুখে এখন বড় বড় কথা। ও নাকি আমার হাত-পা ভেঙে দেবে! আরএসপি করত। আইসিডিএসের চাকরি বিক্রি করত। তৃণমূলে থাকাকালীন আমি যখন মালদার অবজারভার ছিলাম, ও আমার গাড়ির দরজা খুলত (TMC)। ওকে কেউ দলে নিতে চায়নি। সবাই বলেছিল চোর। কিন্তু, দেড় বছর ধরে আমার গাড়ির দরজা খুলত আর বন্ধ করত। তাই বাম হাতে ওকে পতাকা ধরিয়েছিলাম। আমি লক্ষ্মণ শেঠ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারানো লোক। মালতিপুরে কে জিতবে জানি না। ওখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম। কিন্তু রহিমকে আমি জিততে দেব না। কথা দিয়ে গেলাম। তাজমুল আগে ভালো ছিল। এখন বদলে গিয়েছে। আসলে চোরের দলে গিয়ে সবাই বদলে যায়। আমরা আগে সেটা বুঝে পালিয়ে গিয়েছি।” শুভেন্দু বলেন, “উত্তর মালদা আর নন্দীগ্রামকে দেখে রাজ্যের সনাতনীরা একটু এগিয়ে এলে বিজেপি এবার রাজ্যে ২২০টি আসন পাবে। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদা উত্তর কেন্দ্রে ৮৫ শতাংশ সনাতনী-আদিবাসী বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামে সেই হার ৬৫ শতাংশ। রাজ্যের সনাতনীরা এটা দেখে এগিয়ে এলে ভালো। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূল বলবে, ভোটে লড়ব না। চব্বিশের ভোটে তৃণমূল আর বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল ৪০ লাখ। এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ নাম। আরও অবৈধ ও ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে তালিকা থেকে (TMC)।”

    শুভেন্দুর তোপ

    উত্তর মালদায় তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থী নিয়েও এদিন (Suvendu Adhikari) ঘাসফুল শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “ওরা উত্তর মালদায় স্থানীয় প্রার্থী পায় না। তাই চাঁচল কেন্দ্রে ইংরেজবাজার থেকে নীহাররঞ্জন ঘোষকে নিয়ে আসতে হয়। লোকসভা নির্বাচনে প্রসূন ব্যানার্জির মতো একজনকে প্রার্থী করে। প্রসূন একটা ডাকাত, চরিত্রহীন। ইয়াসিনকে নিয়ে ও ভোট লুট করতে গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী রুখে দিয়েছিল। ও এখনও সরকারি কোষাগার থেকে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মাইনে তোলে। ওই আবার উত্তর মালদায় তৃণমূলের দলীয় পদে বসে রয়েছে। বিচিত্র এই রাজ্য (TMC)!”

LinkedIn
Share