Tag: khabor

  • ISRO: মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ইসরোর

    ISRO: মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ইসরোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO)। এর লক্ষ্য হল উচ্চ-উচ্চতার পরিবেশে কাজ করা মহাকাশচারী (Astronauts) এবং গ্রাউন্ড টিমের শারীরবৃত্তীয়, মানসিক ও কার্যকরী গতিশীলতা পরীক্ষা করা। ক্রু-দের কর্মক্ষমতা ও মানব-সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক তথ্য সরাসরি গগনযান প্রোগ্রাম এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনে সাহায্য করবে।

    ‘মিশন মিত্র’ (ISRO)

    ‘মিশন মিত্র’ (Mission MITRA) নামে পরিচিত এই গবেষণাটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত লেহ শহরে প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় পরিচালিত হবে। এখানে হাইপোক্সিয়া (অক্সিজেনের ঘাটতি), নিম্ন তাপমাত্রা এবং বিচ্ছিন্নতার মতো পরিবেশগত অবস্থা তৈরি করা হবে, যা মহাকাশ অভিযানের একটি প্রাকৃতিক অনুকরণ হিসেবে কাজ করবে। শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬-এ ইসরোর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এই গবেষণার লক্ষ্য হল ক্রু (গগনযাত্রী) এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল টিমের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় এবং পরিবেশগত ও কার্যগত চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরি করা।”

    প্রোটোকলের দায়িত্বে যারা

    প্রসঙ্গত, এই মিশনটি ইসরো এবং ইনস্টিটিউট অফ অ্যারোস্পেস মেডিসিন যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছে, এবং বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ প্রোটোপ্ল্যানেটের পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও আনুষ্ঠানিক প্রোটোকলের দায়িত্বে রয়েছে (ISRO)। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, “মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে ক্রু-দের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর যোগাযোগ, চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং একে অপরকে সাহায্য করার ক্ষমতাই যে কোনও মিশনের সাফল্য ও নিরাপত্তা নির্ধারণ করে।” এতে আরও বলা হয়, “নিয়ন্ত্রিত কিন্তু বাস্তবসম্মত পরিবেশে পরিচালিত ‘অ্যানালগ মিশন’গুলির মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিতে (Astronauts) ক্রু-রা কেমন (ISRO) পারফর্ম করেন, তা বোঝা যায়।”

     

  • Hina Baloch: “পাকিস্তানের বহু মানুষই নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখে”,  বিস্ফোরক দাবি পাকিস্তানের হিনা বালোচের

    Hina Baloch: “পাকিস্তানের বহু মানুষই নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখে”, বিস্ফোরক দাবি পাকিস্তানের হিনা বালোচের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) অনেক মানুষই সামাজিক চাপ, ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার কারণে নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী হিনা বালোচ (Hina Baloch)। তাঁর একটি ভাইরাল ভিডিও অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ভিডিওতে পাকিস্তানে যৌনতা নিয়ে সাহসী মন্তব্য করেছেন তিনি। ১ এপ্রিল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বালোচ বলেন, “দেশের অনেক মানুষ সামাজিক চাপ, ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার কারণে নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখেন।”

    অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সমকামী (Hina Baloch)

    ওই সাক্ষাৎকারে বালোচ এমন এক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন, যা মানুষ প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় পাকিস্তানের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আসলে সমকামী। তারা এটা প্রকাশ্যে বলতে চায় না, কিন্তু আমি মনে করি ৮০ শতাংশ মানুষ সমকামী এবং বাকি ২০ শতাংশ উভকামী।” তিনি এও বলেন, “যৌনতার দিক থেকে পাকিস্তানে কেউই পুরোপুরি ‘স্ট্রেইট’ নয় বলে আমি মনে করি (Pakistan)।” তাঁর মতে, অনেক মানুষ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে নিজেদের পরিচয় দমন করে বা অস্বীকার করে। হিনা বলেন, “তারা এটা অস্বীকার করবে, ধর্মের কথা তুলবে, সংস্কৃতির কথা বলবে—কিন্তু এটা এক ওপেন-সিক্রেট বিষয়। পাকিস্তানে কেউই স্ট্রেইট নয়।”

    বালোচের নিজের মুখে ‘কিশোরী বেলা’র কথা

    বালোচ নিজের জীবনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বড় হওয়ার সময় তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল না যৌনতা, বরং নিজের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা। বালোচ (Hina Baloch) বলেন, “আমি ভাবতাম কীভাবে লিপস্টিক লাগাবো, অথচ পরিবারের কাছে গালাগাল খাবো না। কীভাবে মহিলাদের মতো পোশাক পরব, গয়না পরব, আর মারধরের শিকার হব না?” বালোচ পাকিস্তানের খাওয়াজা সরা (ট্রান্সজেন্ডার) সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুযোগের অভাবে অনেককে ভিক্ষা, নাচ বা যৌনকর্মের মতো সীমিত ও প্রায়ই শোষণমূলক কাজে ঠেলে দেওয়া হয় (Hina Baloch)। এই সীমাবদ্ধতা অস্বীকার করে তিনি আন্দোলনের পথ বেছে নেন এবং সিন্ধ মুরাত মার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন। তিনি পাকিস্তানের ‘আওরাত মার্চ’-এও অংশ নেন এবং ট্রান্সজেন্ডার ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন (Pakistan)।

    অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার বালোচ

    বালোচ আগে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর আন্দোলনের কারণে তিনি হিংসার শিকার হন—প্রাইড পতাকা উত্তোলনের পর তাঁকে আক্রমণ করা হয়, এমনকি অপহরণ ও নির্যাতনেরও শিকার হন তিনি। এসব ঘটনার ফলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য হতে হয় (Hina Baloch)। পরে তিনি চলে যান ব্রিটেনে। সেখানে তিনি এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে পড়াশোনা করেন, আবেদন করেন শরণার্থী মর্যাদার জন্য

     

  • CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ করল সিবিএসই (CBSE) বোর্ড। জাতীয় নীতির লক্ষ্যের সঙ্গে স্কুল শিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই চালু করা হচ্ছে এই ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে (Three Language Rule)।

    উল্লেখযোগ্য সংস্কার (CBSE)

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কারের মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে একটি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা চালু করা। ২০৩১ সালের মধ্যে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠবে এটি। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী, বহুভাষিকতা ও সাংস্কৃতিক সংহতি বাড়াতে তিন-ভাষা সূত্র প্রয়োগ করা হবে। নতুন পাঠক্রম কাঠামোর অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে যে দুটি ভাষা শেখানো হয়, তার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা পড়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি মাধ্যমিক স্তরে পূর্ণাঙ্গ তিন-ভাষা ব্যবস্থার দিকে ধাপে ধাপে রূপান্তরের সূচনা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ইংরেজি ও একটি ভারতীয় ভাষা পড়ে। তৃতীয় ভাষা (R3) যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই আরও বিস্তৃত ভাষাগত ভিত্তি লাভ করবে।

    তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক

    সিবিএসই আধিকরিকদের মতে, তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (NCERT)-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই উপকরণগুলি শীঘ্রই সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক পোর্টালে উপলব্ধ হবে। যদিও মধ্যম স্তরে তৃতীয় ভাষা চালু হয়েছে, তবে এটি অবিলম্বে বোর্ড পরীক্ষায় প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০৩১ সালে দশম শ্রেণিতে পৌঁছলে নীতিটি পুরোপুরি কার্যকর হবে (CBSE)। প্রসঙ্গত, ত্রি-ভাষা সূত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ রয়েছে। বাস্তবে, অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়ে। তবে এনইপি ২০২০ অনুযায়ী ইংরেজিকে প্রায়ই বিদেশি ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Three Language Rule)। তাই প্রশ্ন উঠছে, ইংরেজির পাশাপাশি কি শিক্ষার্থীদের আরও দুটি ভারতীয় ভাষা শিখতে হবে? এতে পড়াশোনার চাপ বাড়তে পারে।

    দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতেও একাধিক পরিবর্তন

    বিদেশে অবস্থিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোর্ড কিছুটা শিথিলতা দিয়েছে। ভারতের বাইরে অবস্থিত স্কুলগুলিতে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। তারা একটি ভারতীয় ভাষাকে বাধ্যতামূলক রেখে অন্যান্য ভাষা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে পারবে (CBSE)। ভাষা সংস্কারের পাশাপাশি সিবিএসই সামগ্রিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে শিল্প শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আপাতত শিল্প ও শারীরিক শিক্ষা স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না। তবে ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

    নয়া পাঠ্যক্রমের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নবম ও দশম শ্রেণিতে কম্পিউটেশনাল থিংকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাধ্যতামূলক করা। শুরুতে এগুলি মডিউল আকারে থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হবে। তবে ২০২৯ সালের মধ্যে এগুলি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পরীক্ষার বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Three Language Rule)। সিবিএসই নবম শ্রেণিতে গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য দুই-স্তরের ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড বা অ্যাডভান্সড স্তর বেছে নিতে পারবে। অ্যাডভান্সড স্তরের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক ঘণ্টার ২৫ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে, যেখানে সাধারণ সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন থাকবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই ফল অন্তর্ভুক্ত হবে মার্কশিটে।

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টরের বক্তব্য

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর প্রজ্ঞা সিংয়ের মতে, এনসিইআরটির সঙ্গে যৌথভাবে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একরূপ ও উচ্চমানের শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করবে (CBSE)। বিদেশে পরিচালিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির জন্য নমনীয়তা রাখা হয়েছে। যেখানে দেশের ভেতরের স্কুলগুলিকে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়াতে হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক স্কুলগুলিতে একটি ভারতীয় ভাষাই বাধ্যতামূলক থাকবে। গত বছরের সিবিএসই সার্কুলারের নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল প্রস্তুতিমূলক স্তর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত একটি ভারতীয় ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    ভাষাগত বৈচিত্র্য

    ভাষাগত বৈচিত্র্য বাড়াতে সিবিএসই ভাষার তালিকাও সম্প্রসারণ করেছে (Three Language Rule)। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন ডোগরি, মৈথিলি, কোকনি ও সাঁওতালি ভাষা পড়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষাই এখন এই বোর্ডের আওতায় এসেছে। এই সংস্কারগুলি সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, মডিউলার বিষয় এবং উন্নত স্তরের বিকল্প চালুর মাধ্যমে বোর্ড একমাত্রিক পদ্ধতি থেকে সরে এসে আরও নমনীয় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে (CBSE)।

     

  • POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে।” জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে এক বিবৃতিতে এই (POK) ঘোষণা করেন ইমাম উমের আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। সাংবাদিক সম্মেলনে ইলিয়াসি বলেন, “পিওকে, যেটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অবশ্যই ভারতের সঙ্গে ফের যুক্ত হবে, কারণ পিওকের মানুষ সেখানে গণভোট চায়।” তাঁর এহেন মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।

    ইলিয়াসির বক্তব্য (POK)

    তিনি বলেন, “এই পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং স্থানীয় মানুষের বাস্তব ইচ্ছের ওপর ভিত্তি করেই জানা গিয়েছে পুনর্মিলনের এই আকাঙ্খার কথা। আল্লার ইচ্ছেয় তাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ শিগগিরই হবে। এটি সেখানকার মানুষেরই ইচ্ছে।” জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর ভূস্বর্গে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার উল্লেখ করে ইলিয়াসি অঞ্চলটিকে “নয়া কাশ্মীর” বলে বর্ণনা করেন। এই নয়া কাশ্মীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির। তিনি বলেন, “উপত্যকার পরিবেশে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আজকের কাশ্মীর অসাধারণ হয়ে উঠেছে। সর্বত্র উন্নয়ন হয়েছে, হাল ফিরেছে পর্যটন শিল্পের।”

    শিশু-তরুণদের হাতে কলম

    অতীতের সঙ্গে তুলনা করে ইলিয়াসি বলেন, “এক সময় এখানে তরুণ ও শিশুরা পাথর ছুড়ত। আজ তাদের হাতে কলম, তারা পড়াশোনা করছে।” ইলিয়াসির মতে, এই পরিবর্তনগুলি পিওকের বাসিন্দারাও লক্ষ্য করছে। তারা নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণও করছে। তিনি মনে করেন, এই উন্নয়নই পিওকেতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি জোরলো করছে (POK)। ইলিয়াসের বক্তব্যে উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটনের পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থার প্রত্যাবর্তনের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ (Imam Umer Ahmed Ilyasi)।

    ভূস্বর্গে আসুন, আহ্বান ইলিয়াসির

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইলিয়াসি বলেন, “যদিও ওই ঘটনার ফলে পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব পড়েছিল, পরিস্থিতি এখন উন্নত হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলতে চাই, কাশ্মীর ভ্রমণ করুন। এখন আর ভয়ের পরিবেশ নেই।” তিনি দেশ-বিদেশের মানুষকে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি উপভোগ করার আহ্বানও জানান (POK)। ইলিয়াসির এই আহ্বান কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যস্থল হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকায় সহায়তা করছে (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। ইলিয়াসি এও বলেন, “পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান। বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান বজায় রেখেছে।” তিনি এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানুষের ইচ্ছে ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরেন।

    যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে

    এদিন ইলিয়াসি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়েও মন্তব্য করেন। তুলে ধরেন যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা। বলেন, “যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে। এটি ধ্বংসের প্রতীক।” তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান ইলিয়াসি। ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়েও আশাবাদী ইলিয়াসি। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির প্রতি আমার আস্থা আছে—আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মধ্যস্থতা করবেন এবং যুদ্ধ শেষ হবে… শান্তি ফিরে আসবে (POK)।” ইলিয়াসির বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা ভারতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান (Imam Umer Ahmed Ilyasi) দখল করে রয়েছে।

    ইলিয়াসির নয়া দৃষ্টিভঙ্গি

    কাশ্মীরের উন্নয়নের সঙ্গে পিওকের আকাঙ্ক্ষাকে যুক্ত করে ইলিয়াসি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন—যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও পিওকে-সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা জটিল, তবুও এই ধরনের বক্তব্য উন্নয়নকেন্দ্রিক বয়ানের গুরুত্বকেই তুলে ধরে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ইলিয়াসির এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থান, উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ এবং শান্তির আহ্বান—এই তিনটির সমন্বয় দেখা যায়। পিওকের ভারতের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং কাশ্মীরের উন্নয়নের প্রশংসা একটি অগ্রগতি-নির্ভর বিষয়কে আরও জোরালো করে (POK)। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তির আহ্বান এবং ভারতের নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক (Imam Umer Ahmed Ilyasi) পরিসরে স্থিতিশীলতার একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।

     

  • West Bengal Assembly Election: রাজ্যে বাড়ছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা, অনুমতি দিল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Assembly Election: রাজ্যে বাড়ছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা, অনুমতি দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বাড়ছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা। আরও ৪,৬৬০টি অতিরিক্ত বুথ (Auxiliary Polling Stations) তৈরির অনুমতি দিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার (West Bengal Assembly Election) আসনসংখ্যা ২৯৪টি, বুথের সংখ্যা ৮০৬৮১। অতিরিক্ত বুথ তৈরি হয়ে গেলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ৮৫৩৭৯। কিছু বুথের স্থান পরিবর্তন হবে বলেও কমিশন সূত্রে খবর।

    অতিরিক্ত সহায়ক বুথ (West Bengal Assembly Election)

    জানা গিয়েছে, যেসব বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-এর বেশি, সেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহায়ক বুথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ৪৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির অনুমতিও দিয়েছে কমিশন। ভোটদাতাদের সুবিধার্থে অন্যত্র সরানো হচ্ছে ৩২১টি বুথকে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করার অনুমতি দিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে শুক্রবারই চিঠি দিয়েছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, নতুন বুথ তৈরির ক্ষেত্রে কমিশনের যে সব নিয়মকানুন রয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ২০২০ সালের নিয়মাবলী মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যেসব ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা বদলাচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বুথের প্রত্যেক ভোটারকে এই পরিবর্তনের কথা ব্যক্তিগতভাবে জানাতে হবে কমিশনের আধিকারিকদের। কমিশনের নির্দেশ, একজনের ক্ষেত্রেও যেন এর অন্যথা না হয় (Auxiliary Polling Stations)।

    নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, অতিরিক্ত বুথ তৈরির কথা এবং বুথের ঠিকানা পরিবর্তন করার কথা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভালভাবে প্রচার করতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে লিখিতভাবে বুথ সংক্রান্ত নতুন তথ্য জানিয়ে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত করতে হবে সিইও দফতরকে (West Bengal Assembly Election)। প্রসঙ্গত, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল শনিবার থেকেই জেলা সফর শুরু করছেন। ভোটের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় ঘুরবেন তিনি। মনে রাখতে হবে, ভোটের নিয়ম এবার আগের চেয়েও কঠোর। কোনও ভোটকেন্দ্রেই মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও (West Bengal Assembly Election)।

     

  • LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি (LPG) বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার শনিবার সকালে পার হল হরমুজ প্রণালী। ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে পৌঁছবে বলেই আশা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের তরফে (Hormuz Strait) জানানো হয়েছে, এলপিজি বহনকারী জাহাজ গ্রিন সানভি বর্তমানে প্রণালী পার হয়ে গিয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের কর্তারা জানান, জাহাজটি ৪৬,৬৫৫ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে।

    ভারতীয় বন্দরে দুই জাহাজ (LPG)

    দিন কয়েক আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে জাগ বসন্ত (Jag Vasant) কাণ্ডলায় পৌঁছেছে ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি, আর পাইন গ্যাস (Pine Gas) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আরও দুটি এলপিজি জাহাজ গ্রিন আশা (Green Asha)  এবং জাগ বিক্রম (Jag Vikram) বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পদস্থ এক নৌ-আধিকারিক জানান, ওই অঞ্চলে আটকে থাকা সব জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    শিপিং কর্তার বক্তব্য

    এদিকে, বিডাব্লু টিওয়াইআর নামের এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। মুম্বই আউটার পোর্ট লিমিটসে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আর একটি জাহাজ বিডাব্লু ইএলএমকে এন্নোর বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভারতে পৌঁছানোর কথা এই জাহাজটির (Hormuz Strait)। শিপিং-কর্তা জানান, বর্তমানে ১৭টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে, ২টি ওমান উপসাগরে, ২টি এডেন উপসাগরে এবং ১টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

    ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য!

    পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০,৫০০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০৪ জন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত, এবং ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ১,১৩০ জন নাবিককে সরিয়ে নিয়েছে (LPG)। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সমন্বয় এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ ও সময় মতো চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় বন্দরে এলপিজির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)। এই ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, যাতে নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছতে পারে জ্বালানি ভর্তি ট্যাঙ্কার (LPG)।

     

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আগেই। তার পর বৃহস্পতিবার দুুপুরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন রাসবিহারী ও  বালিগঞ্জ কেন্দ্রের কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও। মনোনয়নপত্র (West Bengal Assembly Election) জমা দিয়েই শাহকে প্রণাম করে এই কেন্দ্রে জয়ের জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নেন শুভেন্দু৷

    হাজরা মোড় থেকে শুরু রোড-শো

    এদিন শুভেন্দুর মনোনয়নপত্র পেশ উপলক্ষে রোড-শো শুরু হয় হাজরা মোড় থেকে। রোড-শোয়ের গাড়িতে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ-ও। তার আগে, হাজরা মোড়ে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দেন শাহ। ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাতজোড় করে আপনাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।” বক্তৃতার পর হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিজেপির এই মেগা রোড শো৷

    বিজয় সংকল্প সভা

    শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বিজয় সংকল্প সভা৷ বিরাট ট্যাবলো গাড়ি করে তাতে সওয়ার হন শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর পাশে আগাগোড়া ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাঁরা গোলাপ ফুল ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে যান আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে৷ ট্যাবলোয় ছিলেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত এবং বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রর বিজেপি প্রার্থী শতরূপাও৷ শুভেন্দু অধিকারীর এই মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড়ে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ গেরুয়া ঝান্ডায় ছেয়ে যায় এলাকা৷ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান সহযোগে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রোড শো এগিয়ে যায়৷

    কালীঘাটে রোড-শো পৌঁছোতেই উত্তেজনা 

    শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আলিপুর ও ভবানীপুর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল র‍্যাফ ও প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী (West Bengal Assembly Election)। তা সত্ত্বেও, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপির মিছিল যাওয়ার সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। বিজেপির রোড শোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল পুলিশ৷

    প্রচারগাড়ি থেকে নেমে পড়েন অমিত শাহ

    বিজেপির দাবি, অমিত শাহ-শুভেন্দুর রোড-শো যে পথ দিয়ে এগোনোর কথা, কালীঘাটে সেই পথের ধারে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে জমায়েতও করেন তাঁরা। মুহুর্মুহু দেওয়া হয় স্লোগান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের  সঙ্গে বচসা, তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। হাতাহাতিও হয়। তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রোড শোয়ের প্রচারগাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে চেপে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন শাহ এবং শুভেন্দু। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এর পর সার্ভে  বিল্ডিংয়ের কাছে মাইক বাজানো নিয়েও শুরু হয় বিবাদ। জানা গিয়েছে, এদিন সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে জড়ো হওয়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আচমকাই হামলা চালায় বিজেপির মিছিলে। জখম হন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর চোখে আঘাত লেগেছে।  সেখানেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে এই কেন্দ্রে লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই (West Bengal Assembly Election) লড়ছেন শুভেন্দু। তিনি কি আরও একবার ‘জায়ান্ট কিলারে’র তকমা পাবেন? উঠছে প্রশ্ন।

  • Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভের নামে মালদার কালিয়াচকে গ্রামবাসীর হাতে তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের বন্দি হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। সাত বিচারককে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদার ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বিষয়টিকে ‘কর্তব্যে গাফিলতির চরম নির্দশন’ উল্লেখ করে সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে শোকজও করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

    ঠিক কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?

    এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি। কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদার কালিয়াচক। বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচকে দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রাখা হয়েছিল তিন মহিলা সহ সাত বিচারককে। বেলা যত গড়াতে থাকে (Kaliachak Incident), ততই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে এলাকা। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মধ্যরাতের পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই বিচারকদের। এমনকী, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। ঘটনাটি কমিশন কলকাতা হাইকোর্টকে জানালে, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করে।

    “নির্লজ্জ হামলা’, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

    আজ, বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনা হয় সুপ্রিম কোর্টের গোচরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চেই উত্থাপিত হয় এই বিষয়টি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ এবং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং বিচারাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দিতে এটি একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, “আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।” সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা ফৌজদারি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)

    কালিয়াচকের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। ঘেরাও শুরু হয়েছিল বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে।” ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন (Supreme Court), “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার—কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।”

    “সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ”

    প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এই ঘটনা কোনও অপরাধের থেকে কম নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের গাফিলতির প্রমাণ এতে রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগাযোগ করার পরেও কেন তারা কোনও পদক্ষেপ করলেন না সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে হবে।” শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কী ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না? আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। খুব খুব দুঃখজনক ঘটনা।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি 

    প্রধান বিচারপতি এও বলেন, “অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। পরে যখন তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখনও তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয়, ছোড়া হয় পাথরও।” নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ডিস্ট্রিক্ট জাজদের নির্দেশও দেন প্রধান বিচারপতি (Kaliachak Incident)। এদিন বিরক্ত প্রকাশ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।”  গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশনের ওপরই আস্থা রাখে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”  নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে শীর্ষ আদালতের পরামর্শ, রাজ্য প্রশাসনকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ যাতে মসৃণভাবে হয় তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে। আমরা প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে অত্যন্ত হতাশ (Supreme Court)।”

    রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে (Kaliachak Incident) নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদা পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকতে হবে এই চারজনকে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ— ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। যে সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য থাকবে। শুধু তাই নয়। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে, যেখানে বিচারকেরা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ করছেন।

  • Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও দমনে ফের মিলল বড় ধরনের সাফল্য। ওডিশার (Odisha) কন্ধমাল জেলায় একটি বড় মাওবাদী হামলার (Maoist Attack Plot) পরিকল্পনা ভেস্তে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। ডারিংবাড়ি থানার অধীনে একটি বনাঞ্চলের গোপন গুহা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক।

    নকশালবিরোধী অভিযান (Maoist Attack Plot)

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ফোর্স (DVF) যৌথভাবে পাকরি, বাবুটি, জামাবাড়ি এবং মাতাবাড়ি গ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় নকশালবিরোধী অভিযান শুরু করে। ৩০ মার্চ তল্লাশি অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে একটি গোপন গুহা আবিষ্কার করেন, যেখানে মাওবাদীরা অস্ত্র ও লজিস্টিক সামগ্রী মজুত করত।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র। এগুলি হল— একটি এসএলআর রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, দুটি ১২-বোর বন্দুক, দুটি এসবিজিএল (SBGL) রাইফেল এবং একটি দেশি অস্ত্র। এর সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭৯ রাউন্ড গুলিও। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১০টি এসবিজিএল গ্রেনেড, ৩০টি ইলেকট্রিক ডিটোনেটর এবং কিছু বিস্ফোরক পদার্থ (কোডেক্স)। এই মজুত ভান্ডারই ইঙ্গিত দেয় মাওবাদীরা বড় ধরনের কোনও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি ওয়াকি-টকি, তিনটি সোলার প্যানেল, দুটি টর্চলাইট, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, বাসনপত্র এবং মাওবাদী পুস্তিকা। পুলিশের সন্দেহ, এই মজুত করা সামগ্রী নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

    চলছে জোরদার তল্লাশি অভিযান

    বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর আশপাশের বনাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ন’জন মাওবাদী, যার মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং সাতজন মহিলা—এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মাওবাদী নেত্রী শীলা, যিনি (Odisha) এই অঞ্চলে সক্রিয় বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁর মাথার দাম ২৭ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে (Maoist Attack Plot)। কান্ধামালের পুলিশ সুপার হরিশ বিশি জানান, রাইকিয়া এবং ডারিংবাড়ির সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে বড় পরিসরে মাওবাদীবিরোধী অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “এই অভিযানে আমরা ২৮টি দল মোতায়েন করেছি। গোপন অস্ত্রভান্ডারের তথ্যের ভিত্তিতে এসওজি এবং ডিভিএফে যৌথ দল তল্লাশি চালিয়ে মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে বড়সড় মাওবাদী অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার করেছে।”

    পুলিশ কর্তার বক্তব্য

    পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানান, ওডিশা প্রায় মাওবাদী-মুক্ত অবস্থার দিকে এগোচ্ছে।  এডিজি (নকশালবিরোধী অভিযান) সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আটটি জেলাকে মাওবাদী-মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে পরিস্থিতির (Maoist Attack Plot)।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ২৭ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ১২০ জন আত্মসমর্পণ করেছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। তবে তিনি দীর্ঘদিনের এই সংঘর্ষের গুরুত্ব স্বীকার করে জানান, নকশালবিরোধী অভিযানে ২৩৯ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর মাওবাদী হিংসার বলি হয়েছেন ৩৫৯ জন সাধারণ মানুষ।

    লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা

    তিনি বলেন, “এই অগ্রগতি নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফল। আমরা লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি। এখন হাতেগোণা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে।” পুলিশের এই কর্তা ওই মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান (Odisha)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবশিষ্ট মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘন বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা ওডিশার দীর্ঘদিনের মাওবাদী বিদ্রোহ দমনে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে নির্দেশ করছে এবং রাজ্যকে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে (Maoist Attack Plot)।

     

LinkedIn
Share