Tag: KK last Performance

KK last Performance

  • KK Demise: “আলবিদা..!” গানই  শেষ সঙ্গী, দর্শকই বন্ধু, সুরলোকে কে কে

    KK Demise: “আলবিদা..!” গানই শেষ সঙ্গী, দর্শকই বন্ধু, সুরলোকে কে কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ‘অলবিদা…’। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ সিনেমায় তাঁর গাওয়া বিখ্যাত গান। সুরের শহর কলকাতাকে সেই কথাই হয়তো জানাতে এসেছিলেন কেকে (K K Demise)। 

    পুরো নাম কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ (Krishnakumar Kunnath), তবে পরিচিত ছিলেন কেকে (K K) নামেই। দিল্লিতে ১৯৬৮ সালের ২৩ অগাস্ট তাঁর জন্ম। ছোটবেলায় ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরিমল কলেজে পড়াশোনা করেছেন কে কে। বাণিজ্যে স্নাতক। পরে একটি হোটেলে কাজ করতেন। তবে আট মাস পর হোটেলের সেই চাকরি ছেড়ে দেন ভবিষ্যতের তারকা।

    ‘মাচিস’ ছবির  বিখ্যাত গান ‘ছোড় আয়ে হাম ও গলিয়া…’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন কেকে। সেই গানে তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন  হরিহরণ। এরপর এক এক করে বলিউডে কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন।হিন্দি ছাড়াও বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়লাম, মারাঠি, ভাষায় প্লেব্যাক করেছেন। ২০০৫ সালে তামিল ভাষায় সেরা নেপথ্যশিল্পী নির্বাচিত হন।

    ২০১০ সালে কন্নড় ভাষায় দক্ষিণের ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান। অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কেকে। প্রেম, বন্ধুত্ব বা বিরহ সব ধরনের গান সমানতালে চালিয়ে গেছেন তিনি। মঙ্গলবার কলকাতায় একটি লাইভ কনসার্টে এসেছিলেন জনপ্রিয় এই শিল্পী। তাঁর এই আসা যে শেষ যাত্রায় পরিণত হবে এ কথা কে জানত! মাত্র ৫৩ বছর বয়সে থেমে গেল কণ্ঠ। না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন কেকে।

    জীবনের শেষ দিনেও গানই ছিল তাঁর সঙ্গী। অগণিত শ্রোতা ছিল তাঁর বন্ধু। একের পর এক গান করে চলেছেন প্রিয় গায়ক। পরনে টি শার্ট। কেকে-কে মঞ্চে দেখে উন্মাদনার শেষ নেই ভক্তদের মধ্যে। তাঁরাও গলা মেলাচ্ছিলেন প্রিয় গায়কের সঙ্গে। পর মুহূর্তে কী ভয়ানক সংবাদ অপেক্ষা করে রয়েছে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ। ৩১ তারিখ শ্রী গুরুদাস মহাবিদ্যালয়ের জন্য শো করতে নজরুল মঞ্চে (Nazrul Manch) ওঠেন তিনি। এদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি মঞ্চে ওঠেন। এরপর একের পর এক গানে মঞ্চ মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি। শিল্পীকে চোখের সামনে দেখে উল্লাসে, আনন্দে ফেটে পড়ছিলেন ভক্তরা। 

    [tw]


    [/tw]

    কণ্ঠে সুরের ঝাঁপি আর হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করছিলেন তিনি। হাততালিতে ফেটে পড়ছিল হল। গান শুরু হতেই উৎসাহ-উত্তেজনায় দর্শকদের গলা ফাটিয়ে চিৎকার। হবে না-ই বা কেন! মঞ্চে যিনি গান গাইতে উঠেছেন, তিনি তো আর সাধারণ কেউ না। বলিউডের তারকা নেপথ্যগায়ক কেকে। নজরুল মঞ্চে হাজির দর্শক-শ্রোতারা দেখলেন, ৫৩ বছর বয়সি এক জন গায়ক কতটা তরতাজা।

    গান গাইতে গাইতে মঞ্চের এ পাশ থেকে অন্য পাশে দাপিয়ে বেড়াতেও দেখা গেল কেকে-কে। কখনও দর্শকদের উদ্দেশে ‘ফ্লাইং কিস’ ছুড়ে দিচ্ছেন, তো কখনও আবার গান গাইতে গাইতে নিজের মনেই লাফাচ্ছেন। তবে অনুষ্ঠানের শেষের দিকে বেশ ক্লান্ত লাগছিল। স্পটলাইট নিভিয়ে দিতে বলেন। যাঁর গানের সুরে ভারতের আপামর শ্রোতা মুগ্ধ, তাঁর আবার স্পটলাইটের দরকারই কী! স্পটলাইট নেভাতেই শতাধিক ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি গানের পরিবেশে অন্য এক মাত্রা যোগ করে দিল।

    গান গাইতে গাইতে গায়ককে দরদর দরদর করে ঘামছিলেন। মাঝে মাঝে সাদা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিচ্ছিলেন। তবে চোখে মুখে বিরক্তির লেশমাত্র ছিল না। অনুষ্ঠান শেষ হতেই চলে যান ধর্মতলার বিলাসবহুল হোটেলে। সেখানে পৌঁছে শারীরিক অবস্থার অবনতি। সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, মৃত্যু হয়েছে কেকে-র (K K)।

    প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু। শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করেই কি অনুষ্ঠান করেছিলেন কেকে? উঠছে প্রশ্ন? তবে নিজে বুঝে থাকলেও, শারীরিক অসুবিধার কথা বুঝতে দেননি দর্শকদের। দক্ষ জাদুকরের মতো সুরের জাদু দেখিয়েছেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। 

    “হাম রহে ইয়া না রহে কাল… ইয়াদ আয়েগি ইয়ে পল” 

LinkedIn
Share