Tag: KMC

KMC

  • Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে কলকাতায় বন্ধ হতে পারে ৯১৯টি গেস্ট হাউস! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গেস্ট হাউসগুলি (Kolkata Guest Houses) পরিদর্শনে গিয়ে হতচকিত হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুরনিগমের প্রতিনিধি দল। কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নেই। কোথাও গেস্ট হাউস চালানোর বৈধ লাইসেন্সই নেই। এর পরেই পুর কমিশনারকে এই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ করার সুপারিশ (KMC Send Notice) করেছে দলটি। মাপকাঠি পূরণ করলে তবেই আবার গেস্ট হাউস খোলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পুরসভার পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ৪১টি গেস্ট হাউস। কলকাতায় মোট ৩ হাজার ৭০০ গেস্ট হাউস রয়েছে।

    কেন নোটিস গেস্টহাউসগুলিকে

    বীরভূমের তারাপীঠ এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৯৬০টি গেস্ট হাউসে এখনও পর্যন্ত পরিদর্শনে গিয়েছে পুরনিগম, দমকল, সিইএসসি-র যৌথ দল। ৯৬০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউজকে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। ৪১টি গেস্ট হাউস ঠিক আছে বলে মনে করছে কলকাতা পুরনিগম। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু হোটেল বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। সেই বাড়িগুলির অবস্থা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, আবাসিরকদের থাকার ঘরের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রবেশ-প্রস্থানের পথ, বিদ্যুতের সংযোগ খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকেরা। তবে, সামনে উৎসবের মরশুম। তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পৌরনিগম বার্তা দিয়েছে, শর্তাবলী মেনে এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত করে আবেদন জানালে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।

    অগ্নি নির্বাপণ দফতরের সচিব বদল

    রাজ্যে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিব বদল করেছে নবান্ন। অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের পদ থেকে খলিল আহমেদকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় ওঙ্কার সিং মীনাকে অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ওঙ্কার সিং মীনা। দেবীপ্রসাদ করণমকে কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরপর অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের আবহে দমকল দফতরের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এই বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিউ মার্কেট এলাকায় ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগার পরে ওই এলাকা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কেন হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করে শনিবারের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে।

  • KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনাপর্ব থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান। ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চালায়। তাতেই সামনে এল চরম সত্য। ইএম বাইপাসের ধারে সিমলা বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নাগেরবাজারের আরসালান- কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ-হোটেলের লাইসেন্স (KMC Suspend Licenses) বাতিল করল কলকাতা পুরসভা। তার মধ্যে রয়েছে বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকানও। কেবল বলরাম মল্লিক নয়, একাধিক মিষ্টির দোকানেরও লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরনিগম। কোথাও পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, কোথাও আবার খাবারে বিষাক্ত রং। মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে তৈরি হত মিষ্টি। বাঙালির প্রিয় মিষ্টিতে ব্যবহৃত দুধেও ছিল ভেজাল।

    কী জানাল কলকাতা পুরসভা

    কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানালেন, বিধিভঙ্গের অভিযোগে ৪০টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স (Trade License Suspend For Food Safety) সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্মিতা মঙ্গলবার ডন জিওভানি’স, করিম’স, গিরিশচন্দ্র দে, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা ফুড-সহ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যবিপণির নাম করেছেন। তবে পুরসভার তরফে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পুর কমিশনার উল্লিখিত কয়েকটি নাম অনুপস্থিত। অর্থাৎ লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্মিতার কথা, ‘‘সরাসরি স্থায়ী ভাবে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণিগুলি খাদ্যসুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে যত দ্রুত পদক্ষেপ এবং আবেদন করবে, তাঁরাও তত দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে লাইসেন্স পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

    ফ্রিজের মধ্যে আরশোলা

    ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে পচা ও বাসি মাছ-মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা ও মিষ্টি, খাবারে নিষিদ্ধ রঙের ব্যবহারের মতো ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে বলে জানান পুর কমিশনার। বিভিন্ন রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, বেকারি এমনকি বিভিন্ন নামী শপিং মলের ফুড কোর্টে মিলিয়ে ৫৯২টি ঠিকানায় অভিযানে ১,২২৪ কেজি নিম্নমানের খাবার নষ্ট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ফ্রিজের মধ্যে আরশোলাও পেয়েছি।’’ পুরসভা সূত্রের খবর, হোটেল-রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি।

    লাইসেন্স সাসপেন্ড হল কাদের

    কলকাতা পুরসভার তালিকা থেকে জানা যাচ্ছে, যে সব রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সরণির রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেড, লেক ভিউ রোডের এশিয়া হাউস, গোল্ডেন গেট, রামমোহন সরণির দাদা বৌদি হোটেল, পার্ক স্ট্রিটের ডন জিওভিনি’স, মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস, সল্ট লেকের চৌরাসিয়া চাট, বেনিয়াপুকুরের ‘মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’, জেপটো লিমিটেড, শ্রী ব্রজরাজ, এশিয়া হাউস, এফ অ্যান্ড বি মার্কেটিং লিমিটেড (চায়গ্রাম), ডেনজং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, ডায়মন্ড পার্কের গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, মিস্ট অ্যান্ড মরসেলস প্রভৃতি। পুরসভার কোপে পড়া মিষ্টির দোকানের তালিকায় রয়েছে গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং, কালীপুর রোডের শ্রী কৃষ্ণ সুইটস, বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, ধাপা রোডের মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, ক্রিস্টোফার রোডের শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার, শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার ইত্যাদি।

    মিষ্টির দোকানে কোথায় সমস্যা

    খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশনকারীদের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রতিষেধক টিকাদানের নথি পাওয়া যায়নি। রেফ্রিজারেটরে রাখা কোনও প্রস্তুত বা অর্ধ-প্রস্তুত খাবারে প্রস্তুতের তারিখের ট্যাগ (Date tag) পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ভোজ্যতেল ফেলার বা নষ্ট করার বিষয়ে কোনও কাগজপত্র বা নথি পাওয়া যায়নি। ঢাকনাবিহীন আবর্জনার পাত্র (ডাস্টবিন) পাওয়া গেছে। তাপমাত্রা সঠিকভাবে দেখা যায় এমন কোনও ফ্রিজার পাওয়া যায়নি। খাবার প্রস্তুতকারী বা পরিবেশনকারীরা কোনো ধরনের টুপি বা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন না। বেশিরভাগ খাবারই খোলা বা ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রেক বা ফ্রিজারে রাখা ছিল। রান্নাঘরের বাইরে আলুর সবজি তৈরি হচ্ছিল এবং নিচু জলজ/জলাভূমির সংলগ্ন জায়গায় বস্তায় আলু রাখা ছিল।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি। আরশোলা, ইঁদুর, পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে। পচা খাবার রাখা থাকতে দেখা গিয়েছে, ছত্রাকযুক্ত পনির, মাছ-মাংসও পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন জায়গায় কালারিং এজেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। দেওয়াল রং করতে ব্যবহৃত কার্সিনোজেনিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে মিষ্টির দোকান থেকে বিরিয়ানির রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলগুলিতে। এই কার্সিনোজেনিক থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর কথায়, “বিগত দিনের সরকার এসব দেখত না। আমাদের সরকার, জনগণের সরকার। জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সব বিভাগকে বলা রয়েছে, সব হোটেল, রেস্তরাঁর খাবারের গুণমান যাচাই করতে হবে। পানীয় জলের মানদণ্ডও দেখা হবে। যাঁদের উতরোতে পারবেন, থাকবেন। যাঁরা পারবেন না তুলে দেওয়া হবে।”

    কীভাবে পুনরায় মিলবে লাইসেন্স

    গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল, শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলছিল। অভিযান চালাচ্ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর, পুরসভাগুলি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত সাত দিনে ১৬৭টি রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৩০০ কেজি খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে, যেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ৪০টি রেস্তরাঁ এবং খাবারারে দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই তালিকায় একাধিক নামী রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে এই লাইসেন্স সাসপেনশন সাময়িক বলে জানা যাচ্ছে। আগামী কাল একটি কর্মশালা হবে। সেখানে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সকলকে। তার পর আবার নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। তাতে যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে ফুড লাইসেন্স দেওয়া হবে আবার।

  • Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ি মাপল কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেকের ওই বাড়ির সামনে পুরসভার একটি দল পৌঁছে ফিতে দিয়ে বিভিন্ন অংশ পরিমাপ করতে শুরু করে। এদিন সকালেই ডিজে মামলায় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন দফতরে, তখনই ১২১ নম্বর কালীঘাটে এসে পৌঁছলেন কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা। পুরসভা সূত্রে খবর, বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেন , ফুটপাত ঠিকমতো ছাড় দেওয়া হয়েছে কিনা, ফুটপাতের কোনও অংশ দখল করা রয়েছে কিনা , সেইসব মাপ নিচ্ছেন আধিকারিকরা।

    কেন অভিষেকের বাড়িতে পুর আধিকারিকরা

    আগেই কলকাতা পৌরনিগমের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচ-সহ এলিভিশন কপি জমা দিতে হবে। অভিষেকের সম্পত্তিতে নির্মাণ নকশা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বাড়ির ভিতরে নতুন করে কী কী অংশ তৈরি হয়েছে, সেটা এলিভিশন কপিতে এঁকে জমা করতে হবে, সে নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত মাপ করে একটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে শান্তিনিকেতনে মাপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। অভিষেকের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। সেই বিষয়টিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না

    তবে পুরসভার এই পরিদর্শনের সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। একদিকে যখন ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি, অন্যদিকে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে শুরু হয় পুরসভার এই মাপজোক। অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেছেন, ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মিত হয়েছে।

  • Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। এর ফলে বিধাননগরের পর এবার ভাঙল কলকাতা পুরসভাও (KMC)। পালাবদলের রাজ্যে পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র। তিনি এও বলেন, ‘অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল’।

    কেন ইস্তফা ফিরহাদের

    ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।” ইস্তফায় দলনেত্রী অনুমোদন দিয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “দলের তরফে আমি অনুমতি চেয়েছিলাম। সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি (মমতা) বলেছেন ঠিক আছে।” রাজ্যের নতুন সরকার ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে আবেদনও করেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বললেন, “নতুন সরকারের কাছে ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য। আমরা সকলের এখানে মানুষের জন্য রয়েছি। আমরা মানুষকে সহায়তা করব। মানুষের জন্য কাজ করব। আর যে সর্বতকৃষ্ট কাজ করবে, মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবে। তাই শুভেচ্ছা দিয়ে আমি এই চেয়ার আজ খালি করলাম।”

    মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা

    ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পুরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। ফিরহাদের ইস্তফার সঙ্গেই ছোট লালবাড়িতে (কলকাতার পুরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারের পর সোমবারেও রাজ্য সরকারের (BJP Government) বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। কোন্নগরে সরকারি জমি দখল করে গজিয়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের কমপক্ষে ৬ জায়গায় বুলডোজার দিয়ে রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং জাভেদ খানের বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতলের ইমারত আগাম নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি, জবর দখল, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূল (Illegal Construction) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিও রয়েছে। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

    প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction)

    হুগলি জেলার কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে চালানো হয়েছে বুলডোজার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (Illegal Construction) খোকন পালের সেই বেআইনি নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত সরকারি জায়গা দখল করে তৎকালীন শাসক দলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার সরকার বদলে যেতেই চরম বিপাকে তৃণমূলের অবৈধ দখলদারিরা। অপরদিকে, রবিবার কলকাতার কসবা, তিলজলা এবং বেলেঘাটা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারের (BJP Government) এই অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণগুলি সগৌরবে টিকে ছিল? তৃণমূলের শাসনকালে কলকাতা পুরসভা কেন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি? রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল খোদ এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন। দিকে দিকে তৃণমূলের অবৈধ দখলকারী নেতা-নেত্রীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে।

    স্থানীয়দের চোখের সামনেই একটু একটু করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল বিশালাকার সব বহুতল। যার প্রতিটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নির্মিত। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণ করতে দেওয়া হয়েছে। এই খবর কি তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে ছিল না? ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলবল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁরা বড় বড় কথা বলতেন, তাঁরা কি কিছুই জানতেন না? আমরা মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় এসেই যদি সব জানতে পারি, তবে তাঁরা কেন জানতেন না? আসলে অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হবে।”

    পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশন

    রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই কলকাতা পুরসভা পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশনে নামে। তিলজলা এলাকার দুটি বহুতলে ইতিমধ্যেই বুলডোজার চালানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দুটি বহুতলই তৃণমূল বিধায়ক (Illegal Construction) জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এমনকি খোদ জাভেদ খানের কার্যালয়েও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ আবাসন ও নির্মাণ। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি কাজ কি সত্যিই প্রশাসনের অলক্ষ্যে ঘটছিল, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার যে এই অবৈধ নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট।

    কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট অবৈধ

    সোমবার তৃণমূল নেতা (Illegal Constructইওন) তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মাণ বেআইনি বহুতলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার চালানো হয়। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরসভার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন দুটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, পুর কর্তৃপক্ষ আবাসন দুটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে এবং সোমবারই ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক সহযোগীকে স্কুটার চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি আদতে একজন দালাল, যিনি রাজু নস্করের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এদিন এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

    বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ

    রাজুর বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP Government) অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং তা গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছিল। বুকিংয়ের সময় সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত তাঁদের কোনও ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা ‘অ্যাগগ্রিমেন্ট পেপার’ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পূর্ণ টাকা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটের মুখে ক্রেতারা বারবার রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (BJP Government), পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেছেন। কোথাও সরু গলির মধ্যে ৬-৭ তলা বিল্ডিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে ৩ ফুটও জায়গা নেই। বিল্ডিং ভাঙার জন্য সেখানে বুলডোজার পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হাতুড়ি দিয়ে ম্যানুয়ালি বিল্ডিং ভাঙার কাজ করছেন পুরসভার কর্মীরা। ২৩ তারিখ বেআইনি বিল্ডিং ভাঙতে নোটিস দিয়েছিল পুরসভা। এরপরেই রবিবার সকাল থেকে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা।

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

LinkedIn
Share