Tag: Kolkata

Kolkata

  • Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা দেওয়া। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। অনুষ্ঠানে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার উপভোক্তারাও যোগ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনের আধার সংযুক্ত থাকায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Annapurna Yojana)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘না জাগিলে ললনা, এ বিশ্ব জাগে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আমরা বড় পদক্ষেপ করলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদনপত্র নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে অযোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা না পান (Annapurna Yojana)। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছানো হবে। এটি কারও ব্যক্তিগত অর্থ নয়। আমরা সব মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি, কোনও রাজনৈতিক বিভাজন করিনি। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের পুরানো। এই সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পত্রের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ বাতিল করা হয়েছে। বাকি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করা হবে না। এটি তাঁদের অধিকার।’’

    পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক অনিয়ম

    তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রকল্পগুলিতে মৃত ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি, এমনকি ভারতীয় নন, এমন অনেকের নামও ছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা সিএএর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সামাজিক ভাতা চালু থাকবে।’’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘৩ জুন আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে টাকা দেওয়া শুরু হবে। জুলাই ও অগাস্ট মাসেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্যদেরই দেওয়া হবে। আগামী দিনে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য গোলাপি কার্ড চালু করা হবে। অনেক মহিলা কর্মী নিজে টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের আমি (Suvendu Adhikari) সম্মান জানাই। এই পরিষেবার জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে (Annapurna Yojana)।’’

     

  • Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ শাম্‌স ইকবালকে। একাধিক জনসভা, কর্মসূচিতে একই মঞ্চে ফিরহাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, গার্ডেনরিচ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তুলেছেন এই নেতা। শাম্‌স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। যোগ দিবসেও মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরে দু’জনের পিছনেই বসে যোগ দিবস পালন করেছিলেন। নাম লিখিয়েছিলেন ঋতব্রত-শিবিরে। কিন্তু তা-ও রেহাই মিলল না। দোষীদের ক্ষমা করা হবে না আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতোই কাজ করছে তাঁর প্রশাসন।

    কী অভিযোগ ইকবালের বিরুদ্ধে

    শামস ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শাম্‌স এবং তাঁর ঘনিষ্ঠেরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে। মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা হয় তাঁর কাছ থেকে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন কাউন্সিলর। নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে সেই টাকা তখন দিয়ে দিয়েছিলেন অভিযোগকারী। দাবি, ভয়ে এত দিন পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও পিস্তল দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় আরও টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ।

    কে এই ইকবাল

    গার্ডেনরিচে পুলিশ কর্মী তাপস চৌধুরী খুনে অভিযুক্ত মুন্না ইকবালের ছেলে শামস ইকবাল। মুন্না ইকবাল, সে সময়কার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। যাঁর বিরুদ্ধেও ছিল সিরিজ অফ্ অভিযোগ। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গার্ডেন রিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর তাপস চৌধুরী। সে সময়ে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্নাকে। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে পরবর্তীতে পদাপর্ণ শামসের। ২০২১ সালের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী শামস ইকবাল, যিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন।

    বিলাসবহুল জীবনযাত্রা

    সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একাধিক বিদেশ যাত্রার ছবি রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। প্রোফাইল দেখা যাচ্ছে, বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গেও ছবি রয়েছে শামসের। কোনও রঙিন দুনিয়ার অভিনেতার থেকে কম নন। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। বছর কয়েক আগে কলকাতা পুরসভায় ফেরারি গাড়ি এনে বিতর্কে জড়িয়ে ছিল এই কাউন্সিলর। গাড়ির মূল্য সে সময়ে ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। ফিরহাদ হাকিমের ‘পুত্র’ বলা হয় এই কাউন্সিলরকে। কলকাতা বন্দর এলাকায় বিধানসভার যাবতীয় কাজ ইকবাল দেখেন। ২০২৪ সালে ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচে যে বহুতল ভেঙে পড়ে ১৫ জনের মতো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, তাতে নাম জড়িয়েছিল এই শামসের। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন এই ইকবালই নাম লিখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তালিকায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেলে যুক্ত হয়ে প্রতি বৈঠকে হাজির থেকেছেন। সম্প্রতি যোগা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রণাম করেছিল এই কাউন্সিলর। কিন্ত রেহাই পেলেন না।

  • Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (Swami Pradiptananda) বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে (Place Renaming) তিনি জানান, পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ) এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও রাস্তা, এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তন কিংবা নয়া নামকরণের প্রস্তাব থাকলে তা এই কমিটির কাছেই জমা দেওয়া যাবে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যা প্রস্তাব আছে সেখানে জমা দেবেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টানেন। সেই সূত্রেই তিনি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখতাম সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম থাকবে না।”

    কালামের প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীন ভারতে অত্যাচার, হিংসা বা ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম থাকা উচিত নয়। প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রনেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পক্ষেও সওয়াল (Swami Pradiptananda) করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যদি মনে করেন এপিজে আবদুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন আছে, তাহলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে (Place Renaming) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে (Swami Pradiptananda) বলেই অনুমান প্রশাসনিক মহলের।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বলিদান দিবসে’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’ শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২৩ জুন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

    শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শই পথ

    বদলের বাংলায় ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,‘‘ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।” যুব মোর্চা অনেক কষ্টে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ির সামনে বলিদান দিবস পালন করতেন বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালন

    ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। এ বারই প্রথম কলকাতা পুরসভা এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে বলিদান দিবস পালন করেছে বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি

    জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার জন্য ‘পারমিট প্রথা’-র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ। মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। বন্দি থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও বিজেপির তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি এক দেশ, এক নিশান (পতাকা), এক বিধান (সংবিধান)-এর দাবি করেছিলেন। তাই তাঁকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

    ‘বলিদান দিবস’-এর তাৎপর্য

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Shyama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেওয়া হয়নি

    হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু নতুন মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে তার কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তাঁর আবির্ভাব দিবসেই ভূমি পুজোর কাজ শুরু হবে।’  বঙ্গীয় আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, এই সরকার তাঁর আদর্শে চলবে।’

  • Gopal Patha: ৮০ বছরের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন! সুরাবর্দির নাম সরিয়ে কলকাতায় গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা

    Gopal Patha: ৮০ বছরের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন! সুরাবর্দির নাম সরিয়ে কলকাতায় গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার (KMC) সিদ্ধান্তে এবার নতুন নাম পেল পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ (Suhrawardy Name Removed)। ২০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাস্তার নতুন নাম হবে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Patha)। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের আবহে নেওয়া এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ-এর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জির নামে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার জন্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের গৃহীত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।’

    কার নামে ছিল সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ?

    কলকাতার এই রাস্তার নামকরণ হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। নামটি রাখা হয়েছিল বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যার হাসান সুরাবর্দির (Sir Hassan Suhrawardy) নামে। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন খ্যাতনামা সার্জন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছে এই নামটি যুক্ত হয়ে যায় তাঁর ভাইপো হুসেন সঈদ সুরাবর্দির (Huseyn Shaheed Suhrawardy) সঙ্গে, যিনি ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (Premier) ছিলেন এবং কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।

    কে ছিলেন গোপাল পাঁঠা?

    গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে বেশি পরিচিত, ছিলেন কলকাতার এক প্রভাবশালী স্থানীয় সংগঠক। ১৯৪৬ সালের ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day)-এর সময় তিনি হিন্দু মহল্লাগুলির আত্মরক্ষার জন্য স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে বহু ঐতিহাসিক ও সামাজিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দাঙ্গার সময় তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেন এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। এই কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘বউবাজারের সিংহ’ বা ‘কলকাতার রক্ষাকর্তা’ হিসেবেও পরিচিত।

    ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা ও সুরাবর্দি বিতর্ক

    ১৯৪৬ সাল, নেহরু তখন দিল্লিতে অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী। আর অখণ্ড বাংলার শাসনের দায়িত্ব পেয়েছিল মুসলিম লিগ এবং মুখ‍্যমন্ত্রী ছিলেন সুরাবর্দি। তাঁর নির্দেশেই ১৬ অগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র প্রেক্ষিতে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তী সময়ে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত হয়। কলকাতায় ছিল মহড়া, আর পুরো বিষয়টি কার্যকর করা হয় নোয়াখালিতে। ১৯৩১ সালে কলকাতায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ৩১.৭০ শতাংশ ছিল বাইরের রাজ‍্য থেকে আসা এবং ৩০ শতাংশ ছিল কলকাতার বাইরের জেলাগুলি থেকে আসা লোকজন। ৬০ লক্ষ মানুষের বাস কলকাতায় ছিল ১২০০ জনের পুলিশ বাহিনী, এর মধ্যে মুসলমান ৬৩ জন। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার ও একজন ও.সি ছিলেন মুসলমান। মুসলমান দাঙ্গাবাজদের বেশির ভাগ ছিল গ্রাম থেকে আসা লোক। এর মধ্যে ছিল মুসলমান শ্রমিক, কষাই, খালাসি, ছ‍্যাকড়া গাড়ির চালক।

    হিন্দুদের প্রতিরোধে নেতৃত্বে গোপাল

    মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজে ভূমিকা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবক, ছাত্র সমাজ ও মধ্যবিত্তদের। ১৯৪৬-এর ১৬ আগস্টের সকালে মুসলিম লিগ যখন অ্যাকশান শুরু করে, তখনও পর্যন্ত কলকাতার হিন্দুরা বিষয়টা বুঝে উঠতে পারেনি। কারণ, ওই দিন বিকেলে কলকাতার তথাকথিত প্রগতিশীল “ধর্মনিরপেক্ষ” হিন্দুরা ময়দানে মনুমেন্টের তলায় মুসলিম লিগ ও ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির যৌথ মিটিং শুনতে গিয়েছিল। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ শুরু হলে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ভারতীয় জাতীয় বাহিনী। মূলত একার হাতেই সেদিন কলকাতাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। প্রবাদ হয়ে গিয়েছে গোপাল ছিলেন বলে টালা ট্যাঙ্ক আছে, শিয়ালদহ স্টেশন আছে, আপনি, আমি রয়েছি। আর সেই প্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে এক চিলতে মাংসের দোকান। প্রসঙ্গত ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ রুখে ছিলেন যিনি সেই গোপাল মুখোপাধ্যায়েরও পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল। যে কারণে গোপাল পাঁঠা নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে স্মরণ করেই এবার থেকে বেনিয়াপুকুর এলাকার রাস্তার নাম সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ থেকে বদলে হল গোপাল মুখার্জি রোড।

    কেন বদলানো হল রাস্তার নাম?

    রাজ্য বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের মতে, গোপাল মুখোপাধ্যায়ের অবদান দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁদের দাবি, কলকাতার ইতিহাসে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ ইতিহাসের জটিল ঘটনাগুলিকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামটি মূলত স্যার হাসান সুরাবর্দির সম্মানে রাখা হয়েছিল, যাঁর পরিচয় তাঁর রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ভাইপোর থেকে আলাদা। এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে খুশি গোপাল মুখোপাধ্যায় তথা গোপাল পাঁঠার পরিবার। তারা বলছে, ‘এক ঐতিহাসিক দিনে, ঐতিহাসিক ভুলের, ঐতিহাসিক সংশোধন হল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আমরা খুশি। অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ পরিবারের দাবি, এমন উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিৎ ছিল। আবেগে ভাসছেন তাঁরা।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    পর্যবেক্ষকদের মতে, রাস্তার নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। একপক্ষ এটিকে ‘ঐতিহাসিক সংশোধন’ বলে মনে করছে, অন্যপক্ষের মতে এটি ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যার অংশ। ফলে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার বিভাজন-পূর্ব ইতিহাস, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা এবং স্বাধীনতার আগে-পরে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রকৃত নায়কদের’ স্মরণ এবং ইতিহাসের ‘ভুল সংশোধনের’ সময় এসে গিয়েছে।

  • BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই নির্বিষ হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই টলিউডের একছত্রাধিপতি ঘাসফুল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Biswas Brothers)। সেই স্বরূপ গ্রেফতার হতেই ক্ষোভের জ্বলন্ত লাভা উগরে দিল টলিউড নামক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি (BJP)! দাদা মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ব-কলমে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া চলত স্বরূপের অঙ্গুলিহেলনে। তৃণমূলের আশীর্বাদধন্য এহেন স্বরূপ গ্রেফতার হতেই তাঁর স্বরূপ প্রকাশ করে দিলেন টলিউডের কলাকুশলীরা। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। এদিন ছোট বিশ্বাসকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা।

    স্বরূপকে নিশানা লকেটের (BJP)

    পদ্ম-নেত্রী লকেট বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস, অরূপ বিশ্বাস দু’জনে মিলে যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করে দিয়েছেন, ১২ বছর আগের থেকে, আজ ২০২৬…শেষ করে দিয়েছেন। ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। শুধু স্বরূপ বিশ্বাস একা নন। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আরও অনেক লোক আছেন। যাঁরা তাঁকে পাত্তা দিতেন। তাঁর সঙ্গে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতেন, না-তে না মেলাতেন। এর জন্য প্রচুর টেকনিসিয়ান, প্রচুর আর্টিস্টের পেটের ভাত চলে গিয়েছে। আমার মনে হয়, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর বড় ভাই তো ওয়েট করে আছেন, বড় রাঘববোয়াল যারা আছেন, একজন বড় ভাই রয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি, কখন সেই রাঘববোয়াল অ্যারেস্ট হন। লজ্জার কথা! আমরা টালিগঞ্জে এরকম কখনও দেখিনি…এই পরিস্থিতি হতে পারে। যা দৃশ্য দেখেছি, তা আমাদের জন্য…একজন শিল্পী হিসাবে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এ জিনিস আপনারা যা দেখে নিয়েছেন, দেখে নিয়েছেন…আগামিদিনে অন্তত এই জিনিস আর আপনারা দেখবেন না।”

    আক্রমণ শানালেন সুকান্তও

    প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘গুণধর’ ভাইটিকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে তো বহু অভিযোগ। এর আগেও অভিযোগ ছিল। এতদিন পুলিশ সাহস করত না। কে কাজ পাবেন কোন গিল্ড থেকে, সেটা এই ভদ্রলোক ঠিক করে দিতেন। আপনি তাঁর বিরোধিতা করলে কাজ পাবেন না। আপনার বাড়িতে উনুনে হাঁড়ি চড়বে না। সেই ব্যবস্থা এই দুই ভাই মিলে করতেন। স্বরূপ আর অরূপ। দাদার নাম নিয়ে ভাই মস্তানি করতেন। এখন সব বিচার হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। প্রত্যেকটি অন্যায়ের হিসেব আমরা করব।” বৃহস্পতিবার রাতে (Biswas Brothers) নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাহাপুর কলোনির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপকে। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

    ধুয়ে দিলেন রুদ্রনীলও 

    স্বরূপকে নিশানা করেছেন হাওড়ার শিবপুরের পদ্ম-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই এক সময় দুর্বল করেছিল রাজ্যে আইনের শাসনকে। আর তাই প্রভাবশালী মহলের একাংশ নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে ভাবতে শুরু করেছিল। শুক্রবার হাওড়ার ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গণে পরিবেশ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রুদ্রনীল। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই (BJP) খুলে দেন স্বরূপের মুখোশ। রুদ্রনীল বলেন, “চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের দুষ্কৃতী ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস৷ তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে৷ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে নষ্ট করেছেন৷ ক্ষতি করে দিয়েছেন সিনেমা জগতের৷ আগে বছরে ১০০টা সিনেমা হত৷ এখন ৩০টা অর্থাৎ, ৭০ শতাংশ সিনেমা কমে গিয়েছে৷ তাই কাজ হারিয়েছেন টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট থেকে সবাই।” তিনি বলেন, “সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমারদের এই গৌরবান্বিত জায়গা ওঁরা কলুষিত করেছেন৷” স্বরূপের গ্রেফতারি যে (Biswas Brothers) রাজনৈতিক উদ্দেশে নয়, এদিন তা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শিবপুরের বিধায়ক। বলেন, “সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হয়েছে, এবং আইন নিজের পথেই চলেছে।”

    জনরোষ আছড়ে পড়ল সুরুচি সংঘে

    স্বরূপ গ্রেফতার হতেই জনরোষ আছড়ে পড়ে বিশ্বাস ব্রাদার্সের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত সুরুচি সংঘে। নিউ আলিপুরের এই ক্লাবে ছড়ি ঘোরাতেন অরূপ-স্বরূপ। তাই ক্লাবটিতে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। তালা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে তারা ঢুকে পড়ে ক্লাবঘরের ভেতরে (BJP)। তার পরেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। দেখা যায়, ক্লাবের ওপর তলায় রয়েছে আস্ত একটি কিং সাইজ বেড, বিলাসবহুল শৌচালয়, এসি এবং দামি ফ্যান। মজুত ছিল প্রচুর সরকারি ‘প্রাণধারা’ জলের বোতল ও ত্রাণের শাড়ি। বিজেপি নেত্রী প্রিয়া সরকার বলেন, “সংসার করতে হলে যেমনটা হয় আর কি! ক্লাবের ভেতরে ঢুকেও আমরা সেই ছবি দেখতে পেয়েছি। প্রচুর জামা-কাপড়, শাড়ি, ওই এলাকার ভোটার তালিকা। বিভিন্ন নথিপত্র থেকে শুরু করে সিডিও পাওয়া গিয়েছে।” তাঁর দাবি, “কেউ ক্লাব ভাঙচুর করেননি (BJP)।”

     

  • Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধ-দুপুরেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল (TMC)। তার রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে এল আরও একটি দুঃসংবাদ – কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। মিউনিসিপ্যাল আইন অনুযায়ী ফিরহাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরসভার চেয়ারপার্সন বা কমিশনারের কাছে গিয়ে জমা দিতে হবে পদত্যাগপত্র। সূত্রের খবর, ফিরহাদের ইস্তফায় সম্মতি দিয়েছেন মমতা।

    কুণালের বক্তব্য (Firhad Hakim)

    বিধায়ক তথা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম আমাদের দলনেত্রীর কাছে বারবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। শেষের দিন আমিও ছিলাম। কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, যা পরিস্থিতি তাতে কাজ করা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। জানিয়েছিলেন পদত্যাগের ইচ্ছের কথা। নেত্রী ওঁকে বারণ করেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ জানান, সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি চান তিনি। এর পরে মমতা সম্মতি দিয়েছেন।’’ কুণাল এমন মন্তব্য করলেও, এ নিয়ে ফিরহাদ এখনও কিছু বলেননি।

    ইঙ্গিত মিলেছিল মঙ্গলবারই

    ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী ফিরহাদকে বসানো হয় মেয়র পদে। বিরোধীদের মতে, নিজেকে মুসলমান দরদি প্রমাণ করতেই এমনটা করেছিলেন নেত্রী। ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার মেয়রের কুর্সিতে বসেন ফিরহাদ। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরহাদ প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলানোর পর বুধবার আচমকা করেন পদত্যাগ। মঙ্গলবারই (Firhad Hakim) কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদে ইস্তফা দেন তৃণমূলেরই তারক সিং। তিনি ফের নিশানা করেন ফিরহাদকে। তৃণমূলের প্রতীকে আর ভোটে না দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারক। বলেন, ‘‘কর্মী এবং সমর্থকদের কোনওভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন না দলীয় নেতৃত্ব। তাই ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার কোনও ইচ্ছে আমার নেই।” তারকের ইস্তফার পর ফিরহাদ বলেছিলেন, ‘‘আমরা একটা টিম হিসাবে কাজ করি। যা করব একসঙ্গেই করব।’’ তারপর (TMC) এদিন পদত্যাগ করেন ফিরহাদ।

    এদিকে, সিআইডির পর এবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ পাঠাল ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল (Firhad Hakim)!

     

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    দিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো অন্ধকার সময় ফিরে আসবে।” কথাগুলি বললেন বাংলাদেশের (Bangladesh) পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। প্রসঙ্গত, ওই সময় বাংলাদেশের রাশ ছিল বিএনপির হাতে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। আওয়ামি লিগের এই নেত্রী ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রয়েছেন ভারতে।

    জনকল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “ফিরে আসার বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভর করে না। আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এটি শুধু আমার ফিরে আসার জন্য নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।” তিনি বলেন, “আমি একটি বিষয় খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমার অনুপস্থিতি মানে আমার নীরবতা নয়। আমি প্রতিটি মুহূর্তে দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।” চলতি বছর সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তার পরেই দেশটিতে ভারতবিরোধী নানা মন্তব্য করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

    ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু

    এ প্রসঙ্গে হাসিনা জানান, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রতিবেশী (Sheikh Hasina)। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি বলেন, “অবশ্য আমাদের দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও আদর্শগতভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীগুলির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা প্রায়ই আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) ভারতের কাছে নতি স্বীকার করা এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করার অভিযোগ তুলত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসন কালে কিংবা বিএনপি—কেউই এমন একটি চুক্তিরও প্রমাণ দিতে পারেনি, যা জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

    ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে দুই দেশ

    বছর দেড়েকের অস্থিরতার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত ও বাংলাদেশ পুরো মাত্রায় ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে এগোচ্ছে (Bangladesh)। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সব ধরনের ক্যাটাগরিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করেছে। এদিকে, ভারতও ফের ধীরে ধীরে ভিসা কার্যকলাপ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরের এক মাস পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল। উল্লেখ্য, ভারতে থাকা বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লির হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগ (Bangladesh), এখন আগের মতোই কাজকর্ম শুরু করেছে (Sheikh Hasina)।

     

  • Sujit Bose: ইডি হেফাজতে তৃণমূলের সুজিত বসু, ‘রহস্যজনক’ লেনদেনে নজর ইডির

    Sujit Bose: ইডি হেফাজতে তৃণমূলের সুজিত বসু, ‘রহস্যজনক’ লেনদেনে নজর ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হয় তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Bose)। তদন্তকারী সংস্থা ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, সুজিত বসুকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জন্য (BKM Project) তাঁরা আবেদন করেছিলেন। আদালত সুজিতকে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

    ইডি গ্রেফতার করে সুজিতকে (Sujit Bose)

    পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রাতেই টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি গ্রেফতার করে সুজিতকে। মঙ্গলবার তোলা হয় আদালতে। ইডির আইনজীবী জানান, সুজিতের রহস্যজনক লেনদেনে নজর রাখছেন তাঁরা। ‘স্বভূমি প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেডে’র সঙ্গে লেনদেনের হদিশও মিলেছে। তাঁর দাবি, একাধিক ভুয়ো সংস্থা এবং জমিতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা হয়েছে। আদালতে ধীরাজ জানান, নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন সুজিত। বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থায় লগ্নিও করেছেন। করোনা অতিমারীর সময় লকডাউন চলাকালীন সুজিতের রেস্টুরেন্ট পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও সেখান থেকে তিনি রোজগার করেন কোটি টাকা। ধীরাজ বলেন, “লকডাউনের সময় সুজিতের রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা বন্ধ ছিল। তা সত্বেও সেখানে লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা।”

    দুর্নীতির টাকা

    আইনজীবী জানান, দুর্নীতির টাকা চাইনিজ কুইজিনের রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা এমনকি অন্য একটি রেস্টুরেন্টে ক্যাশ ডিপোজিটও করা হয়েছে। ইডির বক্তব্য, লকডাউনের সময় ১.১১ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে সুজিত বসুর রেস্টুরেন্টে! কোভিডের সময় রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। কর্মীরা ছুটিতে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও রোজগার বন্ধ হয়নি ওই রেস্টুরেন্ট থেকে। কোটি কোটি টাকার বিক্রি দেখানো হয়েছে। ইডির দাবি, এই গোটা বিষয়টিই মানি লন্ডারিংয়ের নজির। সওয়াল করতে গিয়ে আদালতে ধীরাজ বলেন, “করোনার সময় ধাবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সুজিতের (Sujit Bose) ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। সুজিতের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির লেনদেনের হদিশ মিলেছে। একাধিক সংস্থার সঙ্গেও লেনদেন করেছেন তিনি।”

    সুজিতের আইনজীবী বলেন, “ওঁরা যে নথির ওপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেফতার করেছেন, সেসব ২০২২-২৩ সালের নথি। তাহলে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে এখন কেন গ্রেফতার করা হল? ২০২২ সালে বয়ান নেওয়ার পর এখন গ্রেফতার করা হচ্ছে কেন?” যদিও তদন্তে মেলা একাধিক তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে (BKM Project) ইডির আইনজাবী বলেন, “সুজিত বসু প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি ছাড়া পেলে অন্যদের সতর্ক করে দেবেন। এতে তদন্ত ব্যাহত হবে (Sujit Bose)।”

     

     

LinkedIn
Share