Tag: kylian mbappe

kylian mbappe

  • Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা বইল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল (Kylian Mbappe) থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক জয়ের ভিত গড়ে দিলেও, ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে পড়লেন (Golden Boot Race)।

    এমবাপে ঝড় (Kylian Mbappe)

    ম্যাচের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও, বিরতির পর আক্রমণের ঝড় তোলেন এমবাপে। ৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। এর ফলে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে মেসির সামনে এখনও রেকর্ড পুনর্দখলের সুযোগ রয়েছে। রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলে এমবাপেকে টপকে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে

    রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, বত্রিশ দলের পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই গোল করেছেন। শুধু সেমিফাইনালেই এখনও তাঁর গোলের খাতা খোলা হয়নি। তিনটি সেমিফাইনাল খেলেও, তিনি একবারও জালের দেখা পাননি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির রয়েছে ৮ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করতে পারলে সোনার বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপেকে (Kylian Mbappe) টপকে যেতে পারবেন মেসি।

    সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা

    বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন কিলিয়ান এমবাপে (১০ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), লিওনেল মেসি (৮ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), এরলিং হলান্ড, (৭ গোল, কোনও গোলে সহায়তা নেই), জুড বেলিংহ্যাম, (৭ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), হ্যারি কেন (৬ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), এবং উসমান দেম্বেলে, (৬ গোল, ২টি গোলে সহায়তা)। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সোনার বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নজর থাকবে ৩৯ বছর বয়সি মেসির। এদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতিহাস গড়ে (Golden Boot Race) আপাতত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ও সোনার বুটের দৌড়—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে (Kylian Mbappe)।

     

  • FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষোল বছর পর ফের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে স্পেন। গতবারের রানার্স ফ্রান্সকে প্রায় একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালরা। তাদের সামনে ইউরো জয়ের দু’বছর পরে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। যে ‘ডাবল’ স্পেন আগেও করেছে ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। আর আবারও শেষ হাসি স্পেনের। ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপেদের ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠল লা রোজা।

    ডিগনে-র ভুলের খেসারত

    বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স

    নজরবন্দি এমবাপে

    পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে। প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা! কুবারসি প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।

    স্পেনের রক্ষণে তাল কাটল ফ্রান্সের

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে যায় এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান। আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বলটা তো আমার, কাউকে দেব কেন— টিপিক্যাল স্প্যানিশ ফিলসফির এই চেনা ছবিটাই ডালাসের স্টেডিয়ামে প্রকট হয়ে ওঠে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপে–ওলিজে–দেম্বেলেরা মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন।

    জমাট রক্ষণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    গোটা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের মতো অ্যাটাক সামলাতে হয়নি স্পেনকে। আবার স্পেনের মতো ডিফেন্সের সামনেও পড়েনি ফ্রান্স। শেষ চারের এই টক্করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই দেখিয়ে দিল, কী ভাবে এমবাপে–ওলিজদের ডিফেন্ড করতে হয়। ফ্রান্সের ফ্লুইড গতি থামিয়ে দিল স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন। বিশ্বকাপের সেরা সেন্টারব্যাক জুটি কুবার্সি–লাপোর্তে এবং তাঁদের সামনে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বারবার রুখে দিচ্ছিলেন দেম্বেলে–ওলিজেদের। আর বলতেই হবে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার কথা। মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই যেন হাজির হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সে রকমই তৎপর ছিলেন কিপার উনাই সিমোন। কখনও বক্সের ভিতরে লাফিয়ে, কখনও বক্সের বাইরে বেরিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন ফরাসি আক্রমণ। সাত ম্যাচে এটি তাঁর ছয় নম্বর ক্লিনশিট। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন (Spain vs France)। ফাইনালে তাদের সামনে মেসিই থাকুন বা কেন-বেলিংহ্যাম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্পেন।

    স্পেনের সামনে কে?

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো দেশের অতীত ফুটবল ইতিহাসে গৌরব আর কলঙ্ক হাত ধরাধরি করে থাকলে কী হবে, এই সেমিফাইনালে এখন সেগুলো স্রেফ পুরোনো অলঙ্কার বিশেষ। স্বয়ং মেসি ইতিহাস না টেনে বলছেন, ‘সত্যিটা হলো, এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ, কারণ সব টিমের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমি কখনও খেলিনি। বিগ টিম, পাওয়ার হাউস। সেটা মাথায় আছে টিমের।’ আবার ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওরিলির বক্তব্য, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে জেতাতে মাঠে আসুন।’

    ইংল্যান্ডের সামনে মেসি-ফ্যাক্টর

    ২০০২ সালে যখন বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ড জিতেছিল, জুড বেলিংহ্যাম জন্মাননি, মেসির বয়স ছিল ১৫! মোট ২০৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনওদিন মেসিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামতে হয়নি। বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচে গোলের পরে নয় নম্বর ম্যাচে সুইসদের বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল আসেনি। মেসিকে সামান্য ক্লান্তও দেখিয়েছে। ওয়েন রুনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সে কথা, ‘মেসি ডিফেন্সকে সাহায্য করতে নীচে নেমে আসে না। মেসি মানে মুহূর্তের মনোসংযোগ ও কমিউনিকেশন। এমন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, যা কেউ ভাববে না। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’

    দুই কোচের স্বপ্ন

    ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এ বার বারবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে উঠেছে। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে টিম শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা ফ্লুকে অসম্ভব। গোটা টিম মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, গোটা টিম আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যাতে ফুটবল ঈশ্বরের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ যেন শেষ না হয়ে যায়। কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এই টিম কী করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে, আমি নিজেই বলতে পারব না। একটাই বোধহয় ব্যাখ্যা হয়। এরা জানে, জেতা ছাড়া আর্জেন্তিনার কোনও বিকল্প নেই।’ ১৯৬৬ সালের পরে ৬০ বছর পরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। সে দেশের মিডিয়াই মেনে নিচ্ছে, জুড বেলিংহ্যাম না থাকলে ইংল্যান্ড মোটেই সেমিফাইনালে যায় না। হ্যারি কেন নন, রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারই এ বার থ্রি লায়ন্সের আসল নায়ক। মেক্সিকো এবং নরওয়ে, পরপর দুটো ম্যাচে ব্রেস (জোড়া গোল), ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পরে একটা বিশ্বকাপে পরপর দুটো নক আউটে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের।

     

     

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বিশতম গোল এমবাপের! মরক্কোকে হারিয়ে টানা ৩ বার সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বিশতম গোল এমবাপের! মরক্কোকে হারিয়ে টানা ৩ বার সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফুটবলের (FIFA World Cup 2026) সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স। কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ বসাল এমবাপের ফ্রান্স। পেনাল্টি মিস করেও নায়ক সেই এমবাপে। বিশ্বকাপ ফুটবলে কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) এমন একটি নাম, যিনি প্রায় সব ম্যাচেই গোল করছেন। তাঁর পেনাল্টি বাঁচাও, তাঁকে ডিফেন্ডার দিয়ে ঘিরে রাখ, রাফ ফুটবল খেল, কিন্তু দিনের শেষে কীভাবে বলটা জালে জড়ানো যায়, তিনি ঠিক সেই পথ খুঁজে বের করবেনই। মরক্কোর বিরুদ্ধে (France vs Morocco) কোয়ার্টার ফাইনাল ম্য়াচেও তেমনটাই তো করলেন এমবাপে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি নিলেও গোল করতে পারলেন না। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের হয়ে প্রথম গোল তাঁর। প্রথমার্ধে লড়াই করলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের গতি, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কাছে পরাস্ত হল মরক্কো।

    ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও রেকর্ড বইয়ের পাতায় স্বস্তিতে নেই ব্রাজিল। মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওরা ছিটকে গেলেও এবার তাদের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক গর্বের রেকর্ডে ভাগ বসাল কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স। ফুটবল বিশ্বকাপে টানা তিনবার সেমিফাইনাল খেলার যে গৌরব এতকাল লাতিন আমেরিকার দলটির একচেটিয়া ছিল, বৃহস্পতিবার রাতে মরক্কোকে হারিয়ে সেই একই কীর্তি ছুঁয়ে ফেলল ফরাসিরা। ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলেছিল ব্রাজিল; আর এবার ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ফরাসিরা। তবে এই তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছে জার্মানি, যারা ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে।

    দুরন্ত ফ্রান্সকে আটকানো মুশকিল

    অঘটন না হলে, আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারে ফ্রান্স। তার জন্য অবশ্য সেমিফাইনালে স্পেনের মতো কঠিন বাধা পেরোতে হতে পারে। সেই বাধা টপকে গেলে ফ্রান্সকে ট্রফি জয় থেকে আটকানো মুশকিল। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলেছিল ফ্রান্স। সে বার জিতেছিল ২-০ গোলে। এ বারও ম্যাচের ফল ঠিক তাই। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলছিল দুই দলই। তবে মরক্কোর থেকে ফ্রান্সের আক্রমণের ঝাঁঝই ছিল বেশি। চার মিনিটের মাথায় দায়োত উপামেকানোর জোরালো হেড বাঁচিয়ে দেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের আক্রমণ বাড়তে থাকে। ২৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। নিজেদের অর্ধে মরক্কোর আশরফ হাকিমির থেকে বল কেড়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। তিনি পাস দেন এমবাপেকে। একাই অনেকটাই দৌড়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। সেখানে তাঁকে ফাউল করেন নৌসের মাজরাউই। এতটাই স্পষ্ট ছিল সেই ফাউল যে রেফারির সিদ্ধান্তে মাজরাউই নিজেই বিশেষ প্রতিবাদ জানাননি। তবে, সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে খারাপ পেনাল্টি এদিন মারলেন এমবাপে। মরক্কোর গোলকিপার বোনো এমনিতেই পেনাল্টি বাঁচানোর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। গোলকিপারের বাঁ দিকে এমবাপের নিচু শট এতটাই ধীরগতির ছিল যে বোনোর হাত থেকে বল বেরিয়ে পর্যন্ত যায়নি। সরাসরি তাঁর হাতে জমা পড়ে।

    এমবাপের ডান পা-এর ছোঁয়া

    দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী দেখায় ফ্রান্সকে। ৬০ মিনিটের মাথায় মরক্কোর বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়েছিলেন এমবাপে। আশেপাশে বেশ কয়েকজন মরক্কোর ফুটবলার ছিলেন। ডান দিকে সামান্য কাট করে চকিতে শট মারেন এমবাপে। বোনো উড়ে গিয়েও বাঁচাতে পারেননি। এমবাপের ডান পা-এর ছোঁয়া যেন শিল্প। তাঁর ডান পায়ের জাদুতেই মোহিত গোটা ফুটবলবিশ্ব। চার মিনিট পরে আবার গোল করে ফ্রান্স। এই গোলের ক্ষেত্রেও এমবাপের প্রশংসা প্রাপ্য। বল নিয়ন্ত্রণ করতে করতে মরক্কোর ফুটবলারদের নিজের দিকে টেনে এনেছিলেন এমবাপে। ফলে ফাঁকা হয়ে যান দেম্বেলে। তাঁকে পাস দেন এমবাপে। কিছুটা সময় নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে গোল করেন দেম্বেলে। বোনো আরও একটু চেষ্টা করতে পারতেন শটটি বাঁচানোর। তিনি কিছুটা এগিয়ে থাকায় শট বাঁচানো আরও সমস্যার হয়ে যায়। এই দুই গোলেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ফ্রান্স।

    মেসির সঙ্গে কঠিন লড়াই

    কাতারে চার বছর আগে আধুনিক ফুটবলের সম্রাট মেসির (Lionel Messi) বিশ্বজয়ের পথে সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমবাপে। চার বছর পরে ফের একবার মেসিদের পথের সবথেকে বড় কাঁটা মনে করা হচ্ছে তাঁকেই। শুধু তাই নয়, মেসির সম্ভবত একমাত্র অধরা বড় কৃতিত্ব, বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের পথেও তিনিই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, প্রতিনিয়ত ‘এলএম১০’-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। মেসির মতোই এমবাপেও এ বিশ্বকাপে আটটি গোল করে গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে। এই ম্য়াচের গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ ম্য়াচে ২০টি গোল করে ফেললেন এমবাপে, এর মধ্যে ১২টিই আবার নক আউটে।

    এমবাপের চোট!

    এদিন ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের চিন্তা দলের মহাতারকা এমবাপের পায়ের পাতার চোট। ম্যাচের শেষের দিকে তাঁর এক সময়ের ফরাসি বয়সভিত্তিক দলের সতীর্থ, কিন্তু এদিনের প্রতিপক্ষ ইসা ডিয়পের এক কড়া চ্যালেঞ্জে এমবাপেকে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করার পর তিনি মাঠ ছাড়েন, ডাগ আউটে পায়ের পাতায় বরফ লাগিয়েও বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।

    ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা

    দিয়েগো মারাদোনার জাদুতে আচ্ছন্ন ছিয়াশির মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। বেলজিয়ামের কাছে টাইব্রেকারে হেরে সেদিন স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল স্পেনের। চল্লিশ বছর পরে ফের বিশ্বকাপের শেষ আটের দ্বৈরথে মুখোমুখি দুই দল। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন (Spain vs Belgium) এবং রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়ামের এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের তরুণ ও প্রতিভাবান স্পেন, অন্যদিকে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া বেলজিয়াম। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়াম শেষ দুই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে আত্মবিশ্বাসী। তবে, মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের কণ্ঠে ঝরল আত্মবিশ্বাস। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে—স্পেন নাকি বেলজিয়াম, তা নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, সেমিফাইনালের মঞ্চে কোনো ম্যাচই সহজ হবে না, তাই প্রতিপক্ষ হিসেবে কে সামনে আসছে তা তার কাছে কোনো বিষয় নয়। ফরাসি শিবিরের লক্ষ্য কেবল সামনের ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পা রাখা।

     

     

     

     

     

  • FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নিখুঁত টোটাল ফুটবলের (FIFA World up 2026) সামনে দাঁড়াতে পারল না সুইডেন। এমবাপে, বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেল সুইডিশরা। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। সুইডেনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোয় জায়গা পাকা করে নিল দিদিয়ের দেঁশর ছেলেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে, একটি গোল করলেন বার্কোলা। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ৫ জুলাই রবিবার রাত আড়াইটের সময়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছোল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের দাপটে আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গেলো জয় পেল নরওয়ে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। রাউন্ড অফ ৩২-এর অপর ম্যাচে মেক্সিকো-ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়।

    ফ্রান্সের রেকর্ড

    ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। এ বার তারা ট্রফির জয়ের জন্য দুর্দান্ত ছন্দে ছুটে চলেছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক নজির গড়েছে গতবারের রানার্স আপরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি গোল যোগ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স। ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে তিন গোল করার পর চলতি বিশ্বকাপে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষেও তিন বা তার বেশি গোল করে তারা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল সুইডেনের বিপক্ষেও।

    বেগ পেতে হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকেও

    নকআউট পর্বের ফ্রান্স আলাদা। যে কোনও দলকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার দিদিয়ের দেশঁর দলকে হারাতে হলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। লিয়োনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই ফ্রান্সকে রুখতে পারবেন না। নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত ফুটবল খেলল ফ্রান্স। দেশঁ যেন কম্পিউটার পোগ্রামিং করে দল নামিয়ে ছিলেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ— ফুটবলের তিন বিভাগেই নিখুঁত ছিল ফ্রান্স। মাঠের সব প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছেন ফরাসি ফুটবলারেরা। নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় নিখুঁত পাস খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছেন। পায়ে অযথা বল রাখেননি। সবচেয়ে ভাল জায়গায় থাকা সতীর্থকে মুহূর্তে খুঁজে নিয়েছেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন।

    জোড়া গোল এম বাপের

    ফ্রান্সের প্রথম গোল সেটপিসের ফসল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে সুইডেনের দু’জন ফুটবলারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধথে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক দেখিয়েছে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তাঁর দুরন্ত ফিনিশিংও মনে রাখার মতো। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপে। এই গোলেও ওলিসের অবদান। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাস থেকে গোল না করে উপায় ছিল না এমবাপের! ছ’নম্বর গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা হল ১৮। শুধু নকআউটেই রেকর্ড ১০টি।

    নজির ওলিসের

    দিনটা ছিল আসলে ওলিসের। তিনিই সুইডেনকে সবচেয়ে বিব্রত করেন। খেলা তৈরি করলেন, গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ালেন, নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পেলেন না। তবে নজির গড়লেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। যা সর্বোচ্চ। ওলিসেই হলেন দেশঁর দলের ব্যান্ড মাস্টার। সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি।

    দাপট দেখিয়েই ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

    এদিন ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল নরওয়ের। একের পর আক্রম‌ণ তৈরি করেছেন হালান্ডেরা। যত আক্রমণ তৈরি হয়েছে, তত সুযোগও নষ্ট হয়েছে। হালান্ড একাই নষ্ট করেছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কখনও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কখনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মেরেছেন। নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রম‌ণে উঠে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দু’দলই। খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রেই হোক বা আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে, দু’দল পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতা উচিত ছিল তাদের। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েক বার দলের পতন আটকেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত।

    শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা পরে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ থাকে। ইউলিয়ান কুইনোনেনেস-রাউল খিনেমেস যুগলবন্দিতে ৩১ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে গেল মেক্সিকো। ২২ মিনিটে গোল করেন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান রাউল। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

  • Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মিরোস্লাভ ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের (Fifa World Cup 2026) সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি। তবুও নিরুত্তাপ-শান্ত। নিজের রেকর্ড নিয়ে খুব একটা হেলদোল নেই মেসির। তিনি বেশি খুশি হয়েছেন আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুলতে পেরে। তাঁর জোড়া গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা-এটা উপরি পাওনা। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর এমনই অভিমত লিও-র। আর্জেন্টিনা ছাড়া সোমবার নকআউটে গেল ফ্রান্সও। মেসির মতোই জোড়া গোল এমবাপের। ২৬-এর বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসিকে তাড়া করছেন কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাতে ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। কয়েক ঘণ্টা পর ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিও করে ফেললেন ১৬ গোল। ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে।

    আর্জেন্টিনার কাছে ২২ জুন ইতিহাস

    জোড়া গোলে আবার নায়ক লিয়োনেল মেসি। ঠিক ৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকে দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তুলে দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে। একই দিনে মেসি রচনা করলেন অন্য এক কীর্তি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য এদিন একটি গোল দরকার ছিল লিয়োর। সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে একসঙ্গে ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার-এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। পিছন থেকে ট্যাকল করাতেই সম্ভবত পেনাল্টি দেন তিনি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ সন্তুষ্ট নন। তবে নজর ছিল মেসির দিকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়কই পেনাল্টি মারতে এগিয়ে যান। গোটা স্টেডিয়াম তখন বিষ্ফোরণের অপেক্ষায়। কিন্তু গোল করতে পারলেন না মেসি! ডান পোস্টে শট মারেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না! আটকে দিলেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। মেসি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন ১৯ মিনিটেও। এ বার শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও তাঁর গায়ে মারেন! মেসি-ভক্তেরা যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মাহেন্দ্রক্ষণ এল ৩৮ মিনিটে। গোল করলেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের।

     দলকে জিতিয়েই খুশি

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে মেসি বলেন, “দল জেতায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। খুব দরকার ছিল এই জয়টা। কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। দল নকআউটে ওঠায় মানসিক শান্তি পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের সাহায্যে করবে। এই বিশ্বকাপে সব ম্যাচই টান টান হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। আমি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য তর সইছে না।” দু’গোলে জিতলেও অস্ট্রিয়া যথেষ্ট লড়াই করেছে বলে মনে করেন মেসি। জয় যে সহজে আসবে না, এটাও তিনি জানতেন। মেসি বলেন, “জিততে পেরে খুশি হয়েছি। কিন্তু কতটা কষ্ট করে জয় পেতে হয়েছে সেটা সকলেই দেখেছেন। ছ’পয়েন্ট পাওয়া খুব দরকার ছিল। আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলাম। তবে এটা জানতাম জয় সহজে আসবে না। এখনকার ফুটবলে কোনও দলই সহজে হাল ছেড়ে দেয় না। প্রতিটা ম্যাচই মনোযোগ দিয়ে খেলতে হয়।”

    সব ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য 

    মেসির সংযোজন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যোগ্যতা অর্জন করা। সব ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। দলের প্রত্যেকে খুশি। আসলে আমরা একসঙ্গে হলে খুব মজা করতে ভালবাসি। অনুশীলনেও রোজ হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়েই কেটে যায়। সে কারণেই মাঠে নেমে এত ভাল খেলি। আমরা ইতিমধ্যেই অনেককে আনন্দ দিয়েছি। আরও আনন্দ দিতে চাই। পেনাল্টি নষ্ট করার পর নিজের উপরেই খুব রেগে গিয়েছিলাম। দিনের শেষে সেটা অবশ্য মাথায় নেই।” অস্ট্রিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে নিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। যে কোনও পেশাদার কোচ তাই চাইবেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচও ব্যতিক্রম নন। সোমবার দলকে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো খেলে নীল-সাদা। এদিন বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোলও করেন মেসি। এ বারেই দু’ম্যাচে পাঁচটি।

    দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা

    অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই ইরাককে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। আরও এক বার জোড়া গোল করলেন এমবাপে। কিন্তু এই ম্যাচে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আমেরিকার আবহাওয়া। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে। ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে হল ১৩১ মিনিটের। ফলে যে খেলা ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত তা শেষ হল প্রায় সাড়ে ৬টায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দীর্ঘতম ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। দর্শকেরা গ্যালারির ভিতরের দিকে আশ্রয় নেন। প্রবল বৃষ্টি দেখে এক এক সময় মনে হচ্ছিল, আদৌ খেলা শুরু করা যাবে তো। আমেরিকায় এই দৃশ্য মাঝেমাঝেই দেখা যায়। ফলে সেখানকার ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা সে ভাবেই করা। বৃষ্টি থামলে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়।

    এমবাপের ঝড়

    ঝড়বৃষ্টির আগে ও পরে দু’বার ঝড় তুললেন এমবাপেও। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে টপকে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজ়েকে। পরের ম্যাচে একটি গোল করলে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে একই বিশ্বকাপে ক্লোজ়েকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হবেন দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে। এই জয়ের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দুই ম্যাচ ৬।

  • FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত হয়ে গেল ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের সব গ্রুপ। শুক্রবার আমেরিকার ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপবিন্যাস। এই প্রথমবারের মত ৪৮টি দলের টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ফ্রান্সের মতো দেশ জেনে গেল তাদের প্রতিপক্ষের নাম। চারটি দলের ১২টি গ্রুপ রয়েছে। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স একটু কঠিন গ্রুপে। গ্রুপ পর্বেই দেখা যাবে কিলিয়ান এমবাপে বনাম আর্লিং হালান্ডের লড়াই। পর্তুগালেরও লড়াই তেমন কঠিন নয়। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ।

    গ্রুপ অফ ডেথ নেই বললেই চলে

    পরের বছরই প্রথম বার ৪৮টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ড্র সহজ হতে পারে, এমন অনুমান আগেই করা হয়েছিল। আদপে হলও তাই। ১২টি গ্রুপের কোনওটিকেই সে ভাবে ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ বা মারণগ্রুপ বলা যায় না। তিনটি শক্তিশালী দেশ রয়েছে, এমন গ্রুপ হয়ইনি। গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে তিনটি পট থেকে প্রথম তিনটি বল তোলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোস্ট মেক্সিকো ‘এ’ গ্রুপে, কানাডা ‘বি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপে থাকবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। এদিনই প্রকাশ্যে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং ‘ডিজায়ার’। সেই গান পরিবেশন করেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং নিকোল শারজিঙ্গার।

    কোন গ্রুপে কোন দল রয়েছে

    গ্রুপ এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ডি জয়ী দল

    গ্রুপ বি : কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ এ জয়ী দল

    গ্রুপ সি : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড

    গ্রুপ ডি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ সি জয়ী দল

    গ্রুপ ই : জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর

    গ্রুপ এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিশিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ বি জয়ী দল

    গ্রুপ জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

    গ্রুপ এইচ : স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে

    গ্রুপ আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ফিফা প্লে-অফ ২ জয়ী দল

    গ্রুপ জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

    গ্রুপ কে : পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, ফিফা প্লে-অফ ১ জয়ী দল

    গ্রুপ এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা।

  • FIFA World Cup: মেসি বনাম এমবাপে! কাপ কার দখলে? ফাইনালের আগে দ্বিধাবিভক্ত ফুটবল বিশ্ব

    FIFA World Cup: মেসি বনাম এমবাপে! কাপ কার দখলে? ফাইনালের আগে দ্বিধাবিভক্ত ফুটবল বিশ্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফুটবলে বিশ্বজয়ের শেষ লড়াইয়ে নামতে চলেছে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স। ভারতীয় সময় রাত সাড়ে আটটায় লুসাইল স্টেডিয়ামে একে অপরের মুখোমুখি হবেন মেসি এবং এমবাপে। বলাই বাহুল্য, একটি হাইভোল্টেজ ফাইনাল দেখতে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। হতে চলেছে দুই মহাতারকার লড়াই। দুই ফুটবল প্রতিভার লড়াই। কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ (Qatar World Cup 2022)। কে জিতবেন গোল্ডেন বুট। কে টুর্নামেন্টের সেরা হবেন! ফাইনালের আগে সেই আলোচনায় উত্তাল ফুটবলবিশ্ব।

    কে পাবে গোল্ডেন বুট

    ২ ফুটবলারই এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট পাওয়ার অন্য়তম দাবিদার। চলতি টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ২ জনই পাঁচটি করে গোল করেছেন। ফাইনালে যদি কোনও প্লেয়ারই গোল করতে না পারেন, তবে কীভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়া হবে? সেক্ষেত্রে পেনাল্টি থেকে যে বেশি গোল করেছেন, তাঁকেই গোল্ডেন বুট দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত মেসি ৩টি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। সেখানে এমবাপের পাঁচটি গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে নয়। সেক্ষেত্রে মেসিই এগিয়ে এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি আউটফিল্ড গোল ও পেনাল্টি দুটোতেই সমান থাকেন দু জন। তবে অ্যাসিস্ট কার বেশি, সেই নিরিখে গোল্ডেন বুটের বিজয়ী বেছে নেওয়া হবে। অবশ্য ২ ফুটবলারই চাইবেন ফাইনালে গোল করে সংখ্যাটা বাড়িয়ে নিতে। 

    আরও পড়ুন: একমাসের আলোর ঝলকানি অতীত! বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই ভাঙা হাটে পরিণত কাতার

    দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার মেসির শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিয়েছে, তিনিই কেন সেরা। প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ডি মারিয়া ও ডিবালা। ফর্মে ছিলেন না লাউতারো মার্টিনেজের মতো ফুটবলার। তিন সেরা ফুটবলার রিজার্ভ বেঞ্চে। কিন্তু মেসি একাই খেলা তৈরি করেছেন। নিজে গোল করেছেন, করিয়েওছেন। মেসির হাত ধরে তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনার নতুন তারকা আলভারেজ, এঞ্জো ফার্নান্ডেজরা।অন্যদিকে এমবাপের কাছেও লড়াইটা সোজা ছিল না। গ্রিজম্য়ান ও তাঁর উপরেই অধিকাংশ ম্যাচে গোলের দায়িত্ব ছিল। ফরাসি সমর্থকরা চেয়েছেন, এমবাপে গোল করুন। ফাইনালে মেসির ফুটবল স্কিলের সঙ্গেই মূলত লড়াই তাঁর। ফুটবল বিশ্বের তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞরা এমবাপের উপরেই বাজি ধরছেন। মেসির শেষ ম্যাচে যদি এমবাপে গোল করে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন, সেটাই হবে ফরাসি ফুটবলারের সবথেকে বড় প্রাপ্তি।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • FIFA World Cup: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, জানুন ম্যাচের দিনক্ষণ

    FIFA World Cup: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, জানুন ম্যাচের দিনক্ষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমে উঠেছে কাতার বিশ্বকাপের লড়াই। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পোল্যান্ডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে সেনেগালকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টারে উঠেছে ইংল্যান্ড। এবার কোয়ার্টারে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই জায়ান্ট। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা ফুটবল দুনিয়া।

    কবে, কখন, কোথায় খেলা হবে?

    আগামী ১০ ডিসেম্বর, শনিবার হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল। কাতারের আল বায়েত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এই দুই জায়ান্ট দল। ভারতীয় সময় রাত ১২ টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে খেলা। অর্থাৎ ইংরেজি সময় অনুসারে খেলা হবে রবিবার গভীর রাতে।

    ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের ম্যাচ

    গতকাল, রবিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স বনাম পোল্যান্ড খেলা ৩-১ গোলে শেষ হয়৷ এই খেলা হয়েছিল কাতারের আল থুমামা স্টেডিয়ামে। সেদিন দুরন্ত ছিল ফ্রান্সের পারফরম্যান্স৷ গতকাল জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে (kylian mbappe)। একটি গোল অলিভিয়ের জিহুর (Olivier Giroud)। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মুখোমুখি সময়ে অর্থাৎ ম্যাচের ৪৪ মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন জিহু৷ আর দলের হয়ে ৭৪ মিনিটে প্রথম গোল করেন এমবাপে। এরপর খেলার অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে মোট ৫টি গোল করলেন এমবাপে। আর তাতেই গড়লেন রেকর্ড। ২৩ বছর বয়সী এমবাপে এখন পর্যন্ত ৬৩টি খেলায় ৩৩টি গোল করেছেন। অন্যদিকে ২৪ বছর বয়সের আগে পেলের বিশ্বকাপের মোট গোলের সংখ্যা ৭ টি। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে পোল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন রবার্ট লেয়নডস্কি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি।

    আরও পড়ুন: আজ খেলতে পারেন নেইমার! ব্রাজিলের সামনে দক্ষিণ কোরিয়া

    মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও সেনেগাল

    গতকাল, রবিবার অন্য একটি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সেনেগালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে কোয়ার্টারে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। তাদের হয়ে গোল করেছেন জর্ডন হেন্ডারসন, হ্যারি কেন ও বুকায়ো সাকা। গতকাল ম্যাচের ৩৮ মিনিটে প্রথম গোল করেন হেন্ডারসন। এরপরেই গোল করেন অধিনায়ক কেন। এ বারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে প্রথম গোল করলেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। আর ৬৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন নম্বর ও শেষ গোল করেন সাকা। পুরো ম্যাচে দাপট চলেছে শুধুই কেনদের।

    ফলে ফ্রান্স পোল্যান্ডকে ও ইংল্যান্ড সেনেগালকে হারিয়ে উঠে এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী রবিবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। হবে জোর টক্কর! কে শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকতে পারে, তারই অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।

LinkedIn
Share