Tag: Ladakh

Ladakh

  • OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন) গোষ্ঠীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসির (OIC) নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী প্রচারের মঞ্চ (Kashmir References) করে না দেওয়ার জন্যও ওআইসিকে পরামর্শ দিয়েছে ভারত।

    বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওআইসির জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় এবং তথ্যগত ভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও এখতিয়ারই নেই ওআইসির।”

    ভারত আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তা পরিবর্তনের চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না বলেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির বৈঠক (OIC)

    মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ওআইসি জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলে তারা যে বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে, তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যোগাযোগ গোষ্ঠী। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়।

    ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বারবার মন্তব্য করার কারণে ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যকে বারবার সমর্থন করা ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হল, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই।

    পাকিস্তানকে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ওআইসিকে

    ওআইসির বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ভারত যে বিষয়গুলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে, পাকিস্তান সেগুলিকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য ওআইসিকে ব্যবহার করছে (OIC)।

    বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “পাকিস্তানকে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর জন্য মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে, ওআইসির উচিত পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া।”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও মদত দেওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ রেকর্ড রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, ইসলামাবাদের উচিত প্রথমে সেই সমস্যার মোকাবিলা করা।

    ওআইসি বৈঠকে কী বললেন ইশাক দার?

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির সদস্য দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ২০১৯ সালের ৫ অগাস্টের পর ভারত যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানান দার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন (Kashmir References) তিনি।

    পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে আসছে। আর, ভারত বরাবরই এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর (OIC) দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল লাদাখের (Ladakh) পুগা উপত্যকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১,০০০ মিটার নিচে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর ভূ-তাপীয় (Geothermal) কূপ সফলভাবে কমিশন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre), যা ভারতের প্রথম ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জিওথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই গভীর কূপের উদ্বোধন করেন। বিশ্বের অন্যতম প্রতিকূল ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিবেশে এই ড্রিলিং সম্পন্ন হওয়ায় একে প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে সাফল্য!

    পুগা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ ভূ-তাপীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ভূ-তাপীয় কার্যকলাপের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে বহু আগে থেকেই। নতুন এই কূপগুলির মাধ্যমে এবার পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো আবহাওয়া-নির্ভর নয় জিওথার্মাল শক্তি। ফলে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন মোটেও সহজ ছিল না। ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতা, তীব্র শীত, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং কঠিন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যেও ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre) সফলভাবে দেশের গভীরতম ভূ-তাপীয় কূপ খনন করেছে। এই দুটি কূপ থেকেই ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্য লাদাখ!

    প্রকল্পটি একসময় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থমকে গিয়েছিল। লাদাখ প্রশাসন, লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (LAHDC), লে এবং ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre)-এর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি. কে. সাক্সেনার উদ্যোগে চলতি বছরের জুন মাসে চুক্তির মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এরপরই দ্রুত কাজ শেষ করে দুটি কূপ কমিশন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে লাদাখ শুধু সৌরশক্তির কেন্দ্র হিসেবেই নয়, ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ভূ-তাপীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথও সুগম করবে।

  • Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনার থেকে তামাম বিশ্বকে বড় বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় কূটনীতিক পূজা কুমারী ঝা (Pooja Kumari Jha)। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir India) ভুল উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রচারের আলোকে চলে এসেছেন তিনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এ আয়োজিত “আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতির নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন পূজা। সেখান থেকেই দৃঢ় গলায় জানিয়ে দেন জন্মু-কাশ্মীরের ভুল উপস্থাপন নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তির কথা।

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই (Jammu Kashmir India)

    জানা গিয়েছে, ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তিনি ২০০৯ থেকে ’১৪ পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের সময় তাঁর উপস্থাপনায় ভারতের একটি মানচিত্র দেখানো হয়। সেই ম্যাপে জম্মু- কাশ্মীরের সীমানা ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পূজা। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “এখানে ভারতের যে মানচিত্রটি দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিকঠাক নয়। জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তাঁর আপত্তির জবাবে আহমেদ তারিক করিম বলেন, “এই মানচিত্রটি কেবল উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়নি।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের সরকারি অবস্থান মনে করিয়ে দেন পূজা। বলেন, “আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানে সেটাই ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছি।”

    ঢোক গিলতে হল বাংলাদেশকে!

    এই সময় (Jammu Kashmir India) করিম জানতে চান, তিনি ভারতের প্রতিনিধি কি না। উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে পূজা জানান, তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। বাধ্য হয়ে করিম বলেন, “আপনার বক্তব্য নথিভুক্ত করা হল।” এই বলেই তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে করিম জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি আইনি সার্বভৌমত্ব অর্জন করলেও, তাদের পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসন শুধু সীমান্ত নির্ধারণ করেনি, বরং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে অনেক সময় সহযোগী নয়, সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

    দেশভাগের জের

    তিনি আরও জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের আগে দক্ষিণ এশিয়া কঠোরভাবে বিভক্ত ভূখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্য, দেশীয় রাজ্য, বাণিজ্যপথ, তীর্থযাত্রা, ভাষাগত ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশগত সংযোগের মাধ্যমে মানুষ অবাধে চলাচল করত, বাণিজ্য হত, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চলও ছিল। দেশভাগের ফলে পরিবার, বাজার, নদী, রেলপথ, বন্দর, স্মৃতি এবং (Jammu Kashmir India) পরিচয় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “দেশভাগ ছিল যেন একটি পরিবারের বাড়িকে ভাগ করে দেওয়ার মতো ঘটনা (Pooja Kumari Jha)।” সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

    কে এই পূজা?

    এদিকে, ভারতীয় কূটনীতিক পূজার এই প্রতিবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মানচিত্রে আপত্তি তুলে ধরে পূজা স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার ২০২২ ব্যাচের আধিকারিক। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের চেষ্টায়ই ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮২তম স্থান লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্রই ২৫ বছর। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব আর্থিক সঙ্কট ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। পরিবারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir India) প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান বরাবরই এক। নয়াদিল্লির দাবি, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ভারত বরাবরই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর খালি করার দাবি জানিয়ে এসেছে, এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে (Pooja Kumari Jha)।ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘটনায়ও ভারতীয় কূটনীতিক পূজা সরকারের সেই অবস্থানই আরও একবার জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বিআইআইএসএস। এর লক্ষ্য হল নানা আন্তর্জাতিক, নিরাপত্তা, কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করা। এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত (Jammu Kashmir India)।

     

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • ISRO: মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ইসরোর

    ISRO: মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ইসরোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখে মিশন চালুর ঘোষণা ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO)। এর লক্ষ্য হল উচ্চ-উচ্চতার পরিবেশে কাজ করা মহাকাশচারী (Astronauts) এবং গ্রাউন্ড টিমের শারীরবৃত্তীয়, মানসিক ও কার্যকরী গতিশীলতা পরীক্ষা করা। ক্রু-দের কর্মক্ষমতা ও মানব-সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক তথ্য সরাসরি গগনযান প্রোগ্রাম এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনে সাহায্য করবে।

    ‘মিশন মিত্র’ (ISRO)

    ‘মিশন মিত্র’ (Mission MITRA) নামে পরিচিত এই গবেষণাটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত লেহ শহরে প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় পরিচালিত হবে। এখানে হাইপোক্সিয়া (অক্সিজেনের ঘাটতি), নিম্ন তাপমাত্রা এবং বিচ্ছিন্নতার মতো পরিবেশগত অবস্থা তৈরি করা হবে, যা মহাকাশ অভিযানের একটি প্রাকৃতিক অনুকরণ হিসেবে কাজ করবে। শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬-এ ইসরোর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এই গবেষণার লক্ষ্য হল ক্রু (গগনযাত্রী) এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল টিমের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় এবং পরিবেশগত ও কার্যগত চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরি করা।”

    প্রোটোকলের দায়িত্বে যারা

    প্রসঙ্গত, এই মিশনটি ইসরো এবং ইনস্টিটিউট অফ অ্যারোস্পেস মেডিসিন যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছে, এবং বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ প্রোটোপ্ল্যানেটের পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও আনুষ্ঠানিক প্রোটোকলের দায়িত্বে রয়েছে (ISRO)। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, “মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে ক্রু-দের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর যোগাযোগ, চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং একে অপরকে সাহায্য করার ক্ষমতাই যে কোনও মিশনের সাফল্য ও নিরাপত্তা নির্ধারণ করে।” এতে আরও বলা হয়, “নিয়ন্ত্রিত কিন্তু বাস্তবসম্মত পরিবেশে পরিচালিত ‘অ্যানালগ মিশন’গুলির মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিতে (Astronauts) ক্রু-রা কেমন (ISRO) পারফর্ম করেন, তা বোঝা যায়।”

     

LinkedIn
Share