Tag: Larsen and Toubro

  • West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে একের পর এক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো বা এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠী রাজ্যে দু’টি নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে। পাশাপাশি, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি একটি বড় প্ল্যান্টের উদ্বোধনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির জন্য আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের নীতিগত সম্মতির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিউটাউনে এলঅ্যান্ডটির বড় পরিকাঠামো প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টায় নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠীর একটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক নিউটাউনে এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এর পর দুর্গাপুজোর সময় শিল্পশহর হলদিয়াতেও এলঅ্যান্ডটির আরও একটি বড় শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ পুজোর মরসুমের আগে ও চলাকালীন পরপর একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্ল্যান্ট

    পুজোর আবহে শিল্পশহর হলদিয়ায় এলঅ্যান্ডটি-র আরও একটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশাল প্ল্যান্ট আগামী ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই প্রকল্পের উদ্বোধনের সময়সূচি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুজোর মরসুম শুরু হওয়ার আগে শিল্পক্ষেত্রে একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধন বাংলার বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। প্রকল্পগুলি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।

    নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসা

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের লিখিত সম্মতির কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত হাসপাতালের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। মোট ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা আর্থিক ভাবে দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার শয্যায় বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাসপাতাল প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী আদানি গোষ্ঠী

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিও নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ আদানি গোষ্ঠী নিজেদের তহবিল থেকেই করবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। এই হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে নিউটাউন তথা কলকাতার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড় সংযোজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিকল্পনা কার্যকর হলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে।

    ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া, শিল্প বিনিয়োগের বিস্তার

    রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন শিল্প প্রকল্পগুলি শুধু কলকাতা ও হলদিয়াকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া—রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক বিনিয়োগ প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। শিল্প পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক শিল্পের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে রবিবার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে ওই ঘোষণা হওয়ায় রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনাকেও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর আগে বিনিয়োগের একাধিক বার্তা

    সব মিলিয়ে, পুজোর আগে পরপর শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন, হলদিয়ায় বড় বিনিয়োগ, নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রস্তাব এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প—এই একাধিক পদক্ষেপকে রাজ্যের শিল্পায়নের গতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে নবান্ন। রাজ্য সরকারের প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বাংলায় বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন সুযোগ। পুজোর মরসুমের আগে এই ধারাবাহিক ঘোষণার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে ‘বিনিয়োগবান্ধব বাংলা’র বার্তাই আরও জোরালো করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

  • PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক ছেড়ে নয়া কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) ছিল এখানেই। সেখান থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে যাচ্ছে পিএমও। জানা গিয়েছে, ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি)-র পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দফতর, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট নিয়ে নতুন সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে কাজ শুরু করতে পারেন।

     সেবা তীর্থ (PM Modi)

    রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দারা শিকো রোডে (পূর্বতন ডালহৌসি রোড) কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ বা সেবা তীর্থ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে যাবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট। সবশেষে, মকর সংক্রান্তির পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নতুন দফতরে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।  সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে পিএমও, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং এনএসসিএস—তিনটি আলাদা ভবন রয়েছে। আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গন থেকে কাজ করত, আর এনএসসিএসের দফতর ছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সর্দার প্যাটেল ভবনে (PM Modi)।

    নতুন সরকারি বাসভবন

    এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-১-এর কাছেই নির্মাণ কাজ চলছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবনের, যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-২ নামে পরিচিত (PMO)। সূত্রের দাবি, নতুন পিএমও ভবনের অধিকাংশ অফিস আধুনিক ওয়ার্কস্পেসের আদলে তৈরি, ঠিক যেমন সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত কার্তব্য ভবনগুলিতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলি তুলনামূলকভাবে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো। কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দফতর জানিয়েছিল, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এই প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয় (PM Modi)। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,১৮৯ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনায় ১০.৪৪ শতাংশ কম। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২৪ মাস।

    সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর

    তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক কিংবা সিপিডব্লুডি আর বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে পাঠানো প্রশ্নের কোনও জবাবও মেলেনি (PMO)। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ১৯২০-৩০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নর্থ ও সাউথ ব্লক ছিল কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মূল ভবন। সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ রাইসিনা হিলের এই লাল বেলেপাথরের ভবনগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। ইতিমধ্যেই নর্থ ব্লকের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রক সরে যাওয়ার পর, সাউথ ব্লকের সংস্কারের জন্যও টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ভবন খালি হলেই কাজ শুরু হবে (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঘোষিত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নয়া সংসদ ভবন, উপরাষ্ট্রপতির এনক্লেভ এবং ১০টি নতুন কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ভবনের মধ্যে প্রথম তিনটি কর্তব্য ভবন নির্মিত হয়েছে (PMO)।

LinkedIn
Share