Tag: Leaking Classified Defence Information

  • Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হানিট্র্যাপ’-এর (Honey Trap) ফাঁদে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) কর্মরত এক উইং কমান্ডারকে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট-এর আওতায় তদন্ত চলছে। পুলিশ ও বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার গোয়েন্দা শাখা প্রথমে ওই অফিসারের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। এরপর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করে বায়ুসেনা। পরে সেই তথ্য ও নজরদারির উপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তাঁকে গ্রেফতার করে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের অভিযোগ

    দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই উইং কমান্ডারকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এক মহিলা পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তি আসলে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়কে কাজে লাগিয়েই ওই অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়। প্রথমে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হয়। পরে ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে সামরিক সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ, ওই অফিসারের কাছ থেকে সামরিক গতিবিধি, সেনা মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষা ইউনিট সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যও পাঠিয়েছিলেন।

    সহকর্মীর ফোনে সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টলের নির্দেশ

    তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই মহিলার পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি ওই উইং কমান্ডারকে তাঁর এক সহকর্মীর ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ফোনের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ অথবা যোগাযোগে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। দিল্লি পুলিশ মনে করছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র একজন বায়ুসেনা অফিসারকে ঘিরে নয়; এর পিছনে আরও বড় একটি গুপ্তচর চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়ো পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বায়ুসেনার অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সচেতনতা প্রশিক্ষণের গুরুত্বও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত যত এগোবে, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের পরিধি এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share