Tag: LNG-Powered

  • Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়। দেশের প্রথম এলএনজি (LNG) চালিত ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল গুজরাটের সবরমতী থেকে। রবিবার ট্রেনটির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। রেল পরিষেবায় প্রচলিত ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজেল-প্লাস-এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তি। সবরমতী ইন্টিগ্রেটেড কোচিং ডিপোর দুটি ১,৪০০ হর্সপাওয়ারের ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC)-কে এই প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী একই ইঞ্জিনে ডিজেলের পাশাপাশি এলএনজিও ব্যবহার করা যাবে।

    প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা

    প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই ওই দুটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। রেলের পরীক্ষামূলক তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এলএনজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। রেলের হিসেব অনুযায়ী, এলএনজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটারের মতো দূষণকারী নির্গমনও কমতে পারে। পূর্ববর্তী রেল মূল্যায়নে অনুমান করা হয়েছিল, একটি ডিপিসি থেকে বছরে প্রায় ১১.৯ লক্ষ টাকা এবং আট-কোচের একটি রেক থেকে প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির সুবিধা

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হল এর নমনীয়তা। জ্বালানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলএনজি ও ডিজেলের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের শক্তি ও কার্যক্ষমতা বজায় রেখেই ডিজেলের আংশিক বিকল্প হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে প্রায় ২,২০০ লিটারের এলএনজি ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। এতে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ কেজি ব্যবহারযোগ্য এলএনজি ধারণ করা যায়। একবার সম্পূর্ণ এলএনজি ভরলে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ঘন ঘন জ্বালানি ভরার প্রয়োজনও কমবে।

    একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন

    অমিত শাহের আমেদাবাদ সফরের সময় একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনার অংশ হিসেবেই এই এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। গোটা প্যাকেজে রেল নিরাপত্তা, সিগন্যালিং, লাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মালবাহী পরিকাঠামো-সহ মোট ১,৫৪২ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প রয়েছে। এর আগে সাবরমতীতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াগ-১২ লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ শেড উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে একটি ওয়াগ-১২ বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমেদাবাদ-পালনপুর এবং আমেদাবাদ-সামাখিয়ালি রেলপথে দেশীয় ‘কবচ’ ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি দুটি রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং সাবরমতী-সরখেজ অংশে ডাবলিংয়ের কাজেরও সূচনা করা হয়েছে। রেলের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এলএনজি-চালিত এই ট্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ট্রেনের কর্মক্ষমতা বজায় রেখে নির্গমন কমানো যায় কি না, আগামী দিনে তার কার্যকারিতাই নজরে থাকবে।

LinkedIn
Share