Tag: Lord Shiva

Lord Shiva

  • Maha Shivratri 2025: আজ মহা শিবরাত্রি, স্বপ্নে শিব দর্শন করলে কী লাভ হয় জানেন?

    Maha Shivratri 2025: আজ মহা শিবরাত্রি, স্বপ্নে শিব দর্শন করলে কী লাভ হয় জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র উৎসব হল মহা শিবরাত্রি (Maha Shivratri 2025)। শোনা যায়, এই দিনে ভগবান শিব (Lord Shiva) ও দেবী পার্বতীর মিলন হয়েছিল। তাই বিশ্বাস করা হয় যে, এই রাতে ভগবান শিবের শক্তি তার সর্বোচ্চ শিখরে থাকে। যে কারণে এই রাত্রি আধ্যাত্মিক উন্নতি ও স্বর্গীয় আশীর্বাদ লাভের জন্য অনন্য। প্রশ্ন হল, এই বিশেষ রাত্রিতে যদি মহাদেব স্বপ্নে আপনার সামনে উপস্থিত হন? হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এমন স্বপ্নের গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এটি আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ইঙ্গিত হতে পারে।

    মহা শিবরাত্রি (Maha Shivratri 2025)

    হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, মহা শিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। এ বছর উৎসবটি পালিত হবে আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারি। এদিন ভক্তরা দিনভর উপোস করেন। সন্ধেয় মন্দিরে ভগবান শিবের জলাভিষেক করেন। দেবাদিদেব মহাদেবের আশীর্বাদ লাভের জন্য সারা রাত ধরে চার প্রহরের পূজা করেন। স্বপ্নকে প্রায়ই ঐশ্বরিক বার্তা হিসেবে দেখা হয়। মহা শিবরাত্রিতে যদি আপনি স্বপ্নে ভগবান শিবকে দেখেন, তাহলে এটি একটি বিরল ও অত্যন্ত শুভ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন দর্শনের অর্থ কী হতে পারে তা নিয়েই আজকের আলোচনা।

    স্বপ্নে ভগবান শিবকে হাসিমুখে দেখা

    মহা শিবরাত্রিতে (Maha Shivratri 2025) যদি আপনি স্বপ্নে মহাদেবকে আনন্দিত বা হাসিমুখে দেখেন, তাহলে এটি অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এই স্বপ্ন ইঙ্গিত করে যে ভগবান শিবের আশীর্বাদ আপনার ওপর রয়েছে এবং শীঘ্রই আপনার জীবনে সুখবর ও সমৃদ্ধি আসতে চলেছে। স্বপ্নে যদি আপনি একটি শিব মন্দির দেখতে পান, তাহলে এটি বিবেচিত হয় আধ্যাত্মিক জাগরণ ও ঈশ্বরীয় সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে। এটি নির্দেশ করে যে মহাদেব আপনার প্রতি প্রসন্ন হয়েছেন। আপনার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে চলেছে।

    স্বপ্নে যদি আপনি শিবলিঙ্গের দর্শন পান কিংবা দেবী পার্বতীর সঙ্গে শিবকে দেখেন, তা অত্যন্ত শক্তিশালী ও শুভ লক্ষণ। স্বপ্ন শাস্ত্র অনুযায়ী, এই ধরনের দর্শন ইঙ্গিত দেয় যে সামনে কোনও বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে চলেছে। এটি আপনার জীবনে সুখ, সাফল্য ও পরিপূর্ণতা বয়ে আনতে পারে।

    স্বপ্নে ভগবান শিবের পূজা করা

    স্বপ্নে যদি আপনি নিজেকে ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করতে বা পুজো করতে দেখেন, তবে এটি অত্যন্ত বিরল ও দৈবী দর্শন বলে মনে করা হয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ আপনার ওপর বর্ষিত হচ্ছে। এটি আপনার জীবনের সমস্ত বাধা দূর করে (Maha Shivratri 2025) শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের পথ খুলে দেবে (Lord Shiva)।

  • Shiv Tandav Stotra: সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে জীবন! সোমবার ‘শিব তাণ্ডব স্তোত্র’ পাঠের সুফল জানেন?

    Shiv Tandav Stotra: সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে জীবন! সোমবার ‘শিব তাণ্ডব স্তোত্র’ পাঠের সুফল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনই শিবপুজো ভক্তি সহকারে করা যায়। তবে সোমবার দেবাদিদেব মহাদেবের (Lord Shiva) আরাধনার বিশেষ দিন। শিবপুজোর পাশাপাশি মহাদেবের বিভিন্ন স্তোত্র পাঠ করলেও মেলে বিশেষ ফল, এমনটাই বলছেন পণ্ডিতরা। শিবের বিভিন্ন স্তোত্রের মধ্যে অন্যতম হল শিব তাণ্ডব স্তোত্র (Shiv Tandav Stotra), পৌরাণিক মতে যা রচনা করেছিলেন রাবণ। কিংবদন্তি অনুসারে, লঙ্কাধিপতি রাবণ অসুরকুলের হলেও, তিনি ছিলেন প্রচণ্ড জ্ঞানী ও শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত। শিবকে প্রসন্ন করার জন্য তিনিই রচনা করেছিলেন শিব তাণ্ডব স্তোত্র। ভক্তদের বিশ্বাস, শিব তাণ্ডব স্তোত্র (Shiv Tandav Stotra) পাঠ করা হলে স্বয়ং মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়া যায়। শাস্ত্র মতে, সোমবার শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করলে মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করা যায়।  শিব তাণ্ডব স্তোত্র নিয়েই আজকে আমাদের প্রতিবেদন। জেনে নিন কীভাবে পাঠ করবেন এই মন্ত্র। এই স্তোত্র পাঠে কী কী ফল মেলে, তাও জানুন।

    পৌরাণিক আখ্যান

    পুরাণ অনুযায়ী, লঙ্কার রাজা রাবণ শিবের পরম ভক্ত ছিলেন। শিবের উদ্দেশে একটি বিশেষ স্তুতি স্বরূপ এই শিব তাণ্ডব স্তোত্র রচনা করেন রাবণ। এই স্তোত্রটি বিবিধ অলংকারে সমৃদ্ধ। ছন্দের মালা দিয়েই তৈরি হয়েছে এই মন্ত্র। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রাবণ শিব কৈলাশ পর্বত তুলে লঙ্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলে, ভগবান শিব নিজের পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে কৈলাশ পর্বতকে চেপে দেন। যার ফলে রাবণের হাত কৈলাশ পর্বতে চাপা পড়ে যায়। তখনই শিবকে প্রসন্ন করার জন্য স্তুতি লেখেন রাবণ। এই স্তুতিটিই শিব তাণ্ডব স্তোত্র (Shiv Tandav Stotra) নামে প্রসিদ্ধ। আর যে স্থানে রাবণ চাপা পড়েছিল, সেটি রাক্ষস তাল নামে পরিচিত হয়ে রয়েছে। তাণ্ডব শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল তণ্ডুল, সহজ বাংলায় লাফানো। শাস্ত্র মতে, তাণ্ডব নৃত্য শুধুমাত্র পুরুষরাই করতে পারেন। স্ত্রীদের তাণ্ডব নৃত্য করা নিষিদ্ধ। শিব তাণ্ডব স্তোত্র নেচে নেচে পাঠ করা সর্বোত্তম বলেই মনে করেন শাস্ত্র বিশারদরা।

    কখন পাঠ করবেন শিব তাণ্ডব স্তোত্র (Shiv Tandav Stotra)?

    পরিবারের কোনও সদস্য স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি না-পেলে, সমস্ত ধরনের তন্ত্র-মন্ত্রে বাধা দিলে, শত্রু সমস্যায় ফেললে আবার আর্থিক ও রোজগার সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করতে পারেন। এ ছাড়াও বিশেষ মনস্কামনা পূরণ বা গ্রহ দোষ সমাপ্ত করার ইচ্ছা থাকলেও এই স্তোত্র পাঠ করা যেতে পারে।

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র (Shiv Tandav Stotra) পাঠের নিয়ম

    শাস্ত্র মতে সকাল বেলা হল আদর্শ সময় শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করার ক্ষেত্রে, তবে সন্ধ্যাতেও করা যায়। এই স্তোত্র পাঠ করার আগে শিবকে প্রণাম করুন। তার পর ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য অর্পণ করে তাঁর পুজো করুন। এর পর সুর করে শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করবেন। আগেই বলা হয়েছে, নৃত্যরত অবস্থায় এই স্তোত্র পাঠ করা সর্বোত্তম। স্তোত্র পাঠ শেষ হলে শিবের (Lord Shiva) ধ্যান ও প্রার্থনা করুন।

    দেবাদিদেবের শক্তি ও সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে পুরো শিব তাণ্ডব স্তোত্রে। ইউটিউবে গেলে বিভিন্ন খ্যাতনামা গায়কের কণ্ঠে শিব তাণ্ডব স্তোত্রের ছন্দময় উচ্চারণ শুনতে পাওয়া যায়। শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করার রীতিও পাবেন এখানে। মনে করা হয়, কোনও ব্যক্তি যদি শিব তাণ্ডব স্তোত্র নিয়মিত পাঠ করেন, তাহলে তিনি অভাবনীয় লাভবান হন। তাঁর জীবন থেকে সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যায় এবং সংসার সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। 

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠের পদ্ধতি

    সকালে বা সন্ধ্যায় পাঠ করতে হবে।

    পরিচ্ছন্ন হয়ে পরিষ্কার কাপড় পরে তবেই পাঠ করবেন।

    ভগবান শিবের ছবি বা মূর্তির সামনে প্রণাম করার পর ভগবান শিবের আরাধনা করবেন।

    বসবেন কুশের আসনে। পরনে সাদা কুর্তা ও ধুতি থাকলে ভালো।

    আপনি উচ্চস্বরে এবং শুদ্ধ উচ্চারণেও এই পাঠটি করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে আপনি শব্দগুলো ভালো করে বুঝে নিন, তারপর সঠিকভাবে উচ্চারণ করে পাঠ করুন।

    পাঠ শেষ হওয়ার পরে, ভগবান শিবের ধ্যান করুন, তারপর দেবাদিদেবের পুজো করার পরে আরতি করুন।

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠের উপকারিতা

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। মনে করা হয়, প্রতিদিন শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করলে বাকসিদ্ধ হয় ব্যক্তি।

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করলে কখনই সম্পদের অভাব হয় না। শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠে শিব প্রসন্ন হন এবং আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। এই স্তোত্র পাঠ করলে মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

    শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করলে শনি, রাহু ও কেতু দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি নিয়মিত পাঠ করলে ব্যক্তি রাশিতে সর্প যোগ, কালসর্প যোগ দোষ থেকে মুক্তি পায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mahadev: শিবপুজোর জন্য সোমবার কেন বিশেষ দিন? কীভাবে করবেন মহাদেবের আরাধনা?

    Mahadev: শিবপুজোর জন্য সোমবার কেন বিশেষ দিন? কীভাবে করবেন মহাদেবের আরাধনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি সোমবারেই ভক্তরা দেবাদিদেব মহাদেবের উদ্দেশে পুজো অর্পণ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, মহাদেবের (Mahadev) আশীর্বাদে দূর হয় জীবনের যাবতীয় সমস্যা ও বাধা বিঘ্ন। জীবনে নেমে আসে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি। এমনিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো সব বারেই করা যায়, তবে সোমবার কেন বিশেষ দিন? পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, চন্দ্রদেবতা সোমবারে দেবাদিদেব মহাদেবকে পুজো করেন। খুশি হয়ে শিব (Shiva Puja) চন্দ্র দেবতাকে বরদান করেছিলেন। আবার শিবকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য দেবী পার্বতী ১৬টি সোমবার ব্রত করেছিলেন বলে জানা যায়। তাই সোমবার শিব পুজোর জন্য বিশেষ দিন হয়ে রয়েছে। সোমবারে (Mahadev) ভগবান শিবের পুজো অত্যন্ত ফলদায়ক ও শুভ বলে মনে করা হয়।

    পূর্ণিমা অনুযায়ী আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার

    হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাসের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। সনাতন ধর্মে এই মাসটি শিবকে (Shiva Puja) সমর্পিত করা হয়েছে। এই মাসে নিয়ম মেনে শিবের আরাধনা করলে মহাদেবের কৃপায় সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। এ বছর শ্রাবণ মাসে দুর্লভ সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। দুটি পদ্ধতিতে শ্রাবণ মাসের গণনা করা হয়। সংক্রান্তি অনুযায়ী ও পূর্ণিমা অনুযায়ী। পূর্ণিমা তিথি অনুযায়ী গত ২২ জুলাই থেকে শ্রাবণ মাস শুরু হয়েছিল এবং শেষ হচ্ছে আজ সোমবার অর্থাৎ ১৯ অগাস্ট। অন্য দিকে সংক্রান্তি অনুযায়ী ১৬ জুলাই সূর্য কর্কট রাশিতে প্রবেশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রান্তির পরের দিন অর্থাৎ ১৭ জুলাই থেকে শ্রাবণ মাসের সূচনা ধরা হয় এবং তা শেষ হয় গত ১৭ অগাস্ট। অর্থাৎ পূর্ণিমা অনুযায়ী দেখলে এ বছর ৫টি সোমবার থাকছে। আবার সংক্রান্তি অনুযায়ী গণনা করলে ৪টি সোমবার পাওয়া যায়। পূর্ণিমা অনুযায়ী তাই আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। শ্রাবণ মাসের সোমবার পালনের সময় বিশেষ কিছু রীতি পালন করলে সন্তুষ্ট হন মহাদেব (Mahadev), এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। রয়েছে বিশেষ কিছু পুজোর পদ্ধতিও। শ্রাবণ মাসের সোমবার পালন নিয়ে জ্যোতিষীরা বলছেন, যদি কারও কুণ্ডলীতে বিবাহের যোগ না থাকে বা বিবাহে বাধা আসে, তাহলে শ্রাবণ মাসের সোমবার পালনে সে বাধা কেটে যায়।

    সোমবার শিব (Mahadev) পুজোর পদ্ধতি

    সোমবার ভগবান শিবের বিশেষ পুজো করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবাদিদেব মহাদেব অত্যন্ত ভক্তবৎসল এবং নিষ্ঠা ও ভক্তি সহযোগে পুজো করলেই তিনি তুষ্ট হয়ে যান। শাস্ত্র বিশারদরা বলেন, শুধু বেলপাতা, ফুল, ফল, জলেই তুষ্ট হন মহাদেব।  তবে তার সঙ্গে শিবলিঙ্গে কিছু বিশেষ জিনিস নিবেদন করলে ভগবান সহজেই প্রসন্ন হন। সোমবার শিবলিঙ্গে কী কী নিবেদন করলে তিনি তুষ্ট হবেন?

    শিবলিঙ্গের পুজো করার আগে শ্রী গণেশ, ভগবান বিষ্ণু, নবগ্রহ এবং দেবী পার্বতীর পুজো করার বিধান দিচ্ছেন পণ্ডিতরা। শিবলিঙ্গে বেলপত্র, ফুল ইত্যাদি উৎসর্গ করুন। কাঁচা দুধ দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করুন, এরপর পঞ্চমেব, পঞ্চামৃত, মিষ্টি, ফল, ধাতুরা, ভাং ইত্যাদি নিবেদন করুন এবং সব শেষে শিবের আরতি করুন।
            
    শিবের রুদ্রাভিষেক করলেও ভালো ফল মেলে। ভক্তরা নিজেদের ইচ্ছাপূরণের জন্য বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভগবান শিবের রুদ্রাভিষেক করেন।  ঘি দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করলে সন্তানের সুখ হয়। অন্যদিকে গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করলে দুঃখ ও পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস। 
            
    অন্যদিকে, আখের রস দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করা খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। এতে মহাদেব সহজেই খুশি হন এবং ভক্তের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস রয়েছে।
            
    শিব মন্দিরে প্রদীপ দান করলেও দেবাদিদেব মহাদেব ভক্তদের ওপর আশীর্বাদ বর্ষণ করেন, এমনটাই বিশ্বাস রয়েছে ভক্তদের। বিশ্বাস করা হয়, এদিন কাঁচা চালের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে দান করলে পিতৃদোষ দূর হয়। 
            
    শিবলিঙ্গে প্রিয় জিনিসগুলি অর্পণ করার পর ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করার বিধান দিচ্ছেন পণ্ডিতরা, এতে শুভ ফল পাওয়া যায়। আবার শিব মন্দিরে রুদ্রাক্ষ নিবেদন করলে দাম্পত্য জীবন খুবই সুখের হয় বলে ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে।

    শিবপুজোর আরও খুঁটিনাটি

    অবশ্যই সকালে স্নান করে শিবলিঙ্গের পুজো করা উচিত। 
            
    শিবলিঙ্গে (Mahadev) জাফরান অর্পণ করলে ভক্তদের জীবনে সুখ-শান্তি আসে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে চিনি দিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করলে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য দূর হয়।
            
    ভোলেনাথ সুগন্ধিও খুব পছন্দ করেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে। শিবলিঙ্গে সুগন্ধি লাগালে মনের চিন্তা শুদ্ধ হয় বলে ধারণা। শিবলিঙ্গে দুধ অর্পণ করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মনের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়।

    শিব পুরাণ অনুসারে, শিবলিঙ্গের পুজো জীবনের অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক কষ্ট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায় শিব পুজোর মাধ্যমে। শিবলিঙ্গ সম্পর্কে একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে যে, কলিযুগে কুষমান্ড ঋষির পুত্রই সর্বপ্রথম শিবলিঙ্গের পুজো শুরু করেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nag Panchami 2024: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী, জানুন পৌরাণিক কাহিনী

    Nag Panchami 2024: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী, জানুন পৌরাণিক কাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় নাগ পঞ্চমী। এ বছর আজ, ৯ অগাস্ট শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী (Nag Panchami 2024)। সনাতন ধর্মে, নাগ দেবতাকে ভগবান ভোলানাথের অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ দিনে তাই নাগ দেবতার পুজো করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে যে নাগ পঞ্চমীতে নাগ দেবতার পুজো করলে ভগবান শিব অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং ব্যক্তি জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করেন।

    তিথি ও পুজোর সময় (Nag Panchami 2024)

    ৯ অগাস্ট সকালেই শুরু হয়ে গিয়েছে তিথি। পঞ্জিকা অনুসারে, পুজোর শুভ সময় সকাল ৫টা ৪৭ মিনিট থেকে ০৮টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত রয়েছে। দুপুরে পুজোর শুভ সময় হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা বেলায় পুজোর সময় ০৬টা ৩৩ মিনিট থেকে রাত ০৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

    নাগ পঞ্চমীর (Nag Panchami 2024) পৌরাণিক আখ্যান

    হিন্দু ধর্মের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব হল নাগ পঞ্চমী। প্রসঙ্গত শুধুমাত্র ভারতেই নয়, পার্শ্ববর্তী নেপালেও পালন হয় এই উৎসব। নাগপঞ্চমী ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনীও। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণ একবার যমুনা নদীর ধারে খেলছিলেন। এমন সময়ে শ্রীকৃষ্ণ নদীতে পড়ে যান এবং কলিঙ্গ নামের একটি সাপ তাঁকে জাপটে ধরে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য কঠিন লড়াই শুরু করেন ভগবান। কলিঙ্গ সাপ বুঝে যায় যে শ্রীকৃষ্ণ কোনও সাধারন শিশু নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মারে কলিঙ্গ সাপের তখন বেসামাল অবস্থা। কলিঙ্গ সাপ এরপর শ্রীকৃষ্ণকে অনুরোধ করেন, তাঁকে হত্যা না করার জন্য। শ্রীকৃষ্ণ আশ্বাস দেন এবং কলিঙ্গ সাপকে ছেড়ে দেন। এর পাশাপাশি ওই সাপকে তিনি বলেও দেন যে সাধারণ মানুষের কোনও রকম ক্ষতি না করার জন্য। সাধারণভাবে নাগ পঞ্চমী শ্রীকৃষ্ণের বিজয়কেই চিহ্নিত করতে উদযাপিত হয়, বলে বিশ্বাস করেন অনেক ভক্ত।

    বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয় নাগদেবতার কাছে

    হিন্দু ধর্মে এই দিন গোবর দিয়ে সাপের প্রতিকৃতি বানানোর প্রথা দেখা যায়। নাগ পঞ্চমীর দিন বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গোবর দিয়ে সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। সনাতন ধর্মে, নাগ দেবতাকে জল এবং খাদ্যের দেবতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। গোবর দিয়ে তৈরি সাপ রূপী নাগ দেবতার পুজো করা হয় এবং বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয় তাঁর কাছে।

    শিব ও পার্বতীকেও এইদিন পুজো করা হয়

    নাগ দেবতা (Nag Panchami 2024) শিবের (Lord Shiva) গলায় অবস্থান করেন। নাগ পঞ্চমীর এই বিশেষ দিনে শিব ও পার্বতীকেও পুজো করা হয় বেশ কিছু জায়গায়। ভক্তদের বিশ্বাস, এর ফলে পরিবারে সুখের আগমন ঘটে। এর সঙ্গে ইতিবাচক শক্তিও সঞ্চারিত হয় মনে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে গোবর দিয়ে তৈরি সাপের প্রতিকৃতি ঘরে মঙ্গল বয়ে আনে। এটি তৈরি করলে ঘরে কখনও সাপের ভয় থাকে না।

    নাগ দেবতাকে সম্পদ ও শস্যের দেবতাও মনে করা হয়

    নাগ দেবতাকে সম্পদ ও শস্যের দেবতাও মনে করা হয়। বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে একটি নাগদেবতার প্রতিকৃতি তৈরি করলে গৃহে সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। শুধু তাই নয়, এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মূল দরজায় সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করলে ঘরে প্রবেশকারী সমস্ত মানুষের উপর নাগ দেবতার আশীর্বাদ থাকে। এছাড়া মূল ফটকে সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করলে ভগবান শিবেরও (Lord Shiva) আশীর্বাদ মেলে বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

    পশ্চিমবঙ্গ বাদে অন্যত্রও হয় নাগ পঞ্চমী উৎসব

    শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, মহারাষ্ট্র কেরল সর্বত্র এই উৎসব দেখা যায়। মহারাষ্ট্রে এই দিন থালায় করে সাপ নিয়ে গৃহস্থের দরজায় দরজায় যাওয়ার রীতি রয়েছে। অন্যদিকে, কেরলেও একইভাবে সাপের মূর্তি পুজো করার রীতি দেখা যায়। অনেক জায়গাতে ভারতবর্ষে কাদা ও বালির তৈরি সাপের মূর্তিও পুজো করা হয়। নাগ দেবতাকে দুধ, ধান, দুর্বা অর্পণ করা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস রয়েছে, দেবাদিদেব মহাদেবের গলায় জড়িয়ে থাকে নাগ দেবতা, তাই সেই নাগ দেবতাকে খুশি করলে সুফল পাওয়া যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shravan Somvar: আজ শ্রাবণ সোমবার, এইভাবে শিবের পুজো করলে মিলবে সুফল, পূর্ণ হবে মনোবাঞ্ছা

    Shravan Somvar: আজ শ্রাবণ সোমবার, এইভাবে শিবের পুজো করলে মিলবে সুফল, পূর্ণ হবে মনোবাঞ্ছা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবাদিদেব মহাদেবের প্রিয় মাস হল শ্রাবণ (Shravan Somvar)। এই মাসেই শিবভক্তরা উপোস করে প্রতি সোমবার ভগবানের উদ্দেশে পুজো নিবেদন করেন। মহাদেবের মাথায় জল ঢালা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, শিবের মাথায় সোমবার জল ঢাললে সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। জীবনে আসে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি। এর পাশাপাশি, বিশেষ কিছু রীতি মেনে চললে তুষ্ট হন মহাদেব, সে নিয়েই আজকে জানব আমরা।

    শ্রাবণ মাসের সোমবারে শিবের পুজো (Lord Shiva) করার বিশেষ কিছু নিয়ম

    ১) সোমবার সকালে স্নান করার পরে শিবের মন্দিরে যান। এক্ষেত্রে খালি পায়ে মন্দিরে যেতে পারলে ভালো হয়। জল ভর্তি পাত্র বাড়ি থেকে নিয়ে যান। মন্দিরের শিবলিঙ্গে তা অর্পণ করুন। ১০৮ বার শিব মন্ত্র জপ করুন। দিনে অন্ন গ্রহণ না করাই ভালো, শুধু ফল খান। সন্ধ্যায় (Shravan Somvar) আবার দেবাদিবের মন্ত্রগুলি জপ করুন। 

    ২) ভগবান শিবকে (Shravan Somvar) খুশি করতে শ্রাবণ মাসের সোমবার শিবলিঙ্গে বিভিন্ন সামগ্রী নিবেদন করুন। গঙ্গাজল, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, ভাঙ, কর্পূর, দুধ, রুদ্রাক্ষ, ভস্ম নিবেদন করুন। জ্যোতিষীরা বলছেন, এই জিনিসগুলি অর্পণ করলে ব্যক্তির সৌভাগ্য জাগ্রত হয়।

    ৩) শিবের (Lord Shiva) মাথায় জল ঢালার পর প্রদীপ জ্বালিয়ে করতে হবে আরতি। পুজো শেষে উপোস ভাঙতে পারেন ফল খেয়ে। ভক্তি দিয়ে পুজো করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয় এবং বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

    ৪) শাস্ত্রবিদদের মতে, শিবের পুজোতে চন্দন, অখন্ড চাল, ধুতুরা ফুল, আকন্দ, বেলপাতা, দুধ ও গঙ্গাজল অর্পণ করলে প্রসন্ন হন মহাদেব।

    ৫) শ্রাবণ মাসের ব্রত পালন করার সময় ঠাকুরঘরকে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখতে বলছেন শাস্ত্রবিদরা। পুজোর সময় ঘর অন্ধকার রাখবেন না।

    ৬) সন্ধ্যাবেলার চেয়ে শ্রাবণ মাসের (Shravan Somvar) পুজো সকালে করে নেওয়াই ভালো।

    ৭) শাস্ত্রবিদদের মতে, ফল খেয়ে এই পুজো করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই দিন খাবারের তালিকায় আলু, লাউ এবং কুমড়ো অবশ্যই রাখুন।

    ৮) ব্রত পালনের দিনটি যতটা সৎ জীবনযাপন করুন।

    ৯) শিবপুজোর সময় অবশ্যই ঘি, মধু, সিদ্ধি, দুধ এবং গঙ্গাজল দিয়ে মহাদেবের অভিষেক করুন।

    ১০) বেলপাতা, ধুতুরা এবং আকন্দ ফুল শিবের সবচেয়ে প্রিয়। এই জিনিসগুলো পুজোয় অর্পণ করতে কখনও ভুলবেন না।

    ১১) শিবপুজোর সময় শিবলিঙ্গে আতপ চাল এবং যব অর্পণ করলে মিলবে শুভ ফল।

    ১২) শিবপুজো করার আগে সূর্যদেবকে জল অর্পণ করা খুবই শুভ বলে মনে করেন শাস্ত্রবিদরা।

    শিবের পুজো করার সময় যা করতে নেই (Shravan Somvar)

    ১) মহাদেবকে কখনও কেতকী ফুল অর্পণ করতে নেই বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদরা।

    ২) তুলসীপাতা শিবের পুজোয় কখনও ব্যবহার করবেন না।

    ৩) শিবের পুজোয় সব কিছু সাদা রঙের জিনিস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, এমনটাই মত শাস্ত্রবিশারদদের।

    ৪) শিবলিঙ্গে কখনই হলুদ, সিঁদুর, তুলসী, ডাল, কুমকুম, তিল, চাল, লাল ফুল, শঙ্খ সহ গঙ্গাজল অর্পণ করা উচিত নয় বলে জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    ৫) শিবলিঙ্গ কখনও প্রদক্ষিণ করবেন না। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাদেব তাঁকে প্রদক্ষিণ করা পছন্দ করেন না। তাই শিবলিঙ্গ বা মহাদেবের মূর্তিকে ভুলেও প্রদক্ষিণ করবেন না।

    ৬) মহাদেবের আরাধনায় বেলপাতা জরুরি হলেও সোমবার ভুলেও বেলপাতা ছিঁড়বেন না। আপনি সোমবার পুজো করলে আগের দিন বেলপাতা গাছ থেকে তুলে রাখুন।

    ৭) শিবলিঙ্গের অভিষেক করতে জল এবং দুধ ঢালতে হয়। কিন্তু তার জন্য ভুলেও স্টিল বা তামার পাত্র থেকে শিবলিঙ্গে জল দেবেন না। কেবলমাত্র পেতলের পাত্র থেকেই শিবলিঙ্গে জল ঢালুন।

    ৮) উপবাসের সময় ভুলেও দুধ খাবেন না। শ্রাবণ মাসে মহাদেবকে দুধ নিবেদন করুন, শিবলিঙ্গে দুধ ঢালুন। এর ফলে কোষ্ঠী থেকে চন্দ্র দোষ দূর হবে এবং মনের অশান্তি কমবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Chaukori: কুমায়ুন হিমালয়ের চৌকোরি থেকে তুষারধবল শৃঙ্গ দর্শন এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা

    Chaukori: কুমায়ুন হিমালয়ের চৌকোরি থেকে তুষারধবল শৃঙ্গ দর্শন এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুমায়ুন হিমালয়ের (Kumaon Himalayas) পিথোরাগড় জেলার এক অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্বত্য পর্যটন কেন্দ্র চৌকোরি (Chaukori)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওক, পাইন, দেওদার, রডোডেনড্রন, ফার গাছের জঙ্গলে ঢাকা এই চৌকোরি প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটকের এক অত্যন্ত প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। চৌকোরি থেকে নন্দাদেবী, পঞ্চচুল্লি প্রভৃতি হিমালয়ের তুষারধবল শৃঙ্গগুলি দর্শন করা এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা।

    কাছেই প্রচুর দর্শনীয় স্থান (Chaukori)

    মূলত এই অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দূরন্ত আকর্ষণের জন্যই বারবার এখানে ছুটে আসেন পর্যটকরা। একই সঙ্গে ঘুরে নেওয়া যায় চৌকোরি থেকে প্রায় ৩-৪ কিমি দূরের মাস্ক ডিয়ার রিসার্চ সেন্টার, মহাত্মা গান্ধীর সুযোগ্য শিষ্যা সরলা বেনের আশ্রমও। চৌকোরি থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে রয়েছে আরও একটি জনপ্রিয় এবং মনোরম পর্যটন কেন্দ্র বেরিনাগ। ২৪ কিমি দূরে গঙ্গোলী হাট। চৌকোরি থেকে পাতাল ভুবনেশ্বর যাওয়ার পথে অবস্থিত এই গঙ্গোলী হাট হল কুমায়ুনী শিল্প-সংস্কৃতির এক অন্যতম পীঠস্থান। এখানে রয়েছে মহাকালী মন্দির।

    ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর

    আবার ইচ্ছে এবং হাতে সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া যায় চৌকোরি (Chaukori) থেকে প্রায় ৩৮ কিমি দূরে পাতাল ভুবনেশ্বরও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পাতাল ভুবনেশ্বরের অন্যতম খ্যাতি শৈবতীর্থ হিসেবে। স্বয়ং আদি শঙ্করাচার্যর পদধূলিধন্য এই পাতাল ভুবনেশ্বর। এখানকার প্রাচীন গুহা মন্দিরটি কুমায়ুন অঞ্চলের অন্যতম পবিত্র ও প্রসিদ্ধ শৈবতীর্থ। প্রচলিত বিশ্বাস, এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৩ কোটি দেবতার আবাস। এখানে একাধিক গুহায় জল চুঁইয়ে স্ট্যালাকটাইট এবং স্ট্যালাগমাইটে সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু অবয়ব। অনেকটা অন্ধ্রপ্রদেশের বোরহালু কেভ বা বোরহা কেভের মতোই চমৎকার সব সৃষ্টি। চৌকোরি থেকে সকালে বেরিয়ে পাতাল ভুবনেশ্বর ঘুরে আবার চকৌরিতেই রাত্রিবাস করা যায়। 

    যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়া (Chaukori)

    যাতায়াত-ট্রেনে এলে নামতে হবে কাঠগুদাম। এখান থেকে গাড়িতে যেতে হবে চৌকোরি। দূরত্ব প্রায় ১৯৮ কিমি। আসা যায় লালকূয়া বা হলদোয়ানি থেকেও। সরাসরি গাড়ি নিয়ে আসা যায় ৮৬ কিমি দূরের আলমোড়া বা ১৭৩ কিমি দূরের নৈনিতাল থেকেও।
    থাকা-খাওয়া-চৌকোরিতে (Kumaon Himalayas) আছে কেএমভিএন (KMVN)-এর ট্যুরিস্ট রেস্ট হাউস ফোন-০৮৬৫০০০২৫৪২) এবং বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল। আর পাতাল ভুবনেশ্বরে থাকতে চাইলে এখানেও আছে কেএমভিএনের ট্যুরিস্ট রেস্ট হাউস (ফোন-০৮৬৫০০০২৫৪৩) এবং কিছু বেসরকারি হোটেল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Lok Sabha Election: মোদি তথা বিজেপির বড় জয়ের কামনায় বারাণসীর মন্দিরে রুদ্রাভিষেক

    Lok Sabha Election: মোদি তথা বিজেপির বড় জয়ের কামনায় বারাণসীর মন্দিরে রুদ্রাভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সপ্তম দফা লোকসভার ভোট শেষ হতেই দেশ জুড়ে সামনে এসেছে এক্সিট পোল। প্রতিটি এক্সিট পোলেই দেখা যাচ্ছে বিজেপির জয়জয়কার। সারা দেশের নজর এখন ৪ জুনের ফলাফলের দিকে। ঠিক এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির বড় জয়ের কামনায় (Lok Sabha Election) বারাণসীর মহামৃত্যুঞ্জয় মন্দিরে রুদ্রাভিষেক করলেন জ্ঞানবাপী মামলার একদল মামলাকারী এবং আইনজীবী। এই রুদ্রাভিষেক পর্বে বিধি অনুসারে মহাদেবের দুগ্ধাভিষেক ও জলাভিষেক করা হয়।

    কী বললেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা?

    অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এদিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাদের একটাই প্রার্থনা যে বিজেপি তথা এনডিএ যেন ৪০০ আসন পায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেন বড় জয় পান। এই কামনাই আমরা মহামৃত্যুঞ্জয় ভগবানের কাছে করেছি।’’ প্রসঙ্গত, বারাণসী কেন্দ্র থেকেই ২০১৪ সাল থেকে টানা জিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Lok Sabha Election)। ২০১৯ সালের মতো এবারেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন কংগ্রেসের অজয় রাই। দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলে পরিচিত বারাণসীতে অষ্টাদশ লোকসভায় ভোটদান পর্ব সম্পন্ন হয়েছে গত ১ জুন।

    আরও পড়ুন: “ধ্যানের মধ্যেও নিরন্তর ভেবেছি উজ্জ্বল ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাম মন্দিরের মতো সমস্যার সমাধান হোক মথুরা ও জ্ঞানবাপী

    জ্ঞানবাপীর অন্যতম মামলাকারী শোভনলাল আর্য, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘যেভাবে ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির অযোধ্যাতে তৈরি হয়েছে, ঠিক একইভাবে জ্ঞানবাপী এবং মথুরাতেও সমস্যার সমাধান হোক। এটাই চাইছি। এছাড়াও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী নীতি নেওয়া প্রয়োজন এবং এগুলো তখনই সম্ভব যখন ভারতীয় জনতা পার্টি ব্যাপকভাবে জিতে আসবে (Lok Sabha Election)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি ও ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল সাফল্য কামনায় আজকে সংকল্প নেওয়া হয়েছে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্দিরে এবং রুদ্রাভিষেক করা হয়েছে ভগবানের কাছে। প্রার্থনা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীজি যেন বড় ব্যবধানে জেতেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।
     

  • Gajan Utsav: বঙ্গবাসী মেতেছে গাজন উৎসবে! এর প্রচলন কবে থেকে জানেন?

    Gajan Utsav: বঙ্গবাসী মেতেছে গাজন উৎসবে! এর প্রচলন কবে থেকে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈত্র শেষে গাজনের ঢাক (Gajan Utsav)। গ্রাম থেকে শহর শোনা যাচ্ছে ঢাক-ঢোল-কাঁসরের আওয়াজ। বাংলা বছরের শেষ উৎসব হল গাজন। এই উৎসবে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। গাজন উৎসবে জাতপাতের বেড়াজাল টপকে সকলেই সামিল হন শিব আরাধনায়। তবে এর পাশাপাশি আমাদের জেনে রাখতে হবে, গাজন উৎসব ধর্মরাজকে কেন্দ্র করেও হয়।

    গাজন শব্দের উৎপত্তি 

    গবেষকরা জানাচ্ছেন, গাজন (Gajan Utsav) শব্দের উৎপত্তি ‘গর্জন’ থেকে। অনেকের ধারণা, শিব সাধনার সময় সন্ন্যাসীদের হুঙ্কার বা রব থেকেই গাজন শব্দের উৎপত্তি। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও মেলে গাজনের উল্লেখ। পুরাণের প্রকৃতিখণ্ডে  লেখা রয়েছে, ‘‘চৈত্র মাস্যথ মাঘেবা যোহর্চ্চয়েৎ শঙ্করব্রতী। করোতি নর্ত্তনং ভক্ত্যা বেত্রবানি দিবাশিনম্।। মাসং বাপ্যর্দ্ধমাসং বা দশ সপ্তদিনানি বা। দিনমানং যুগং সোহপি শিবলোক মহীয়তে।।’’ এর অর্থ চৈত্রে কিংবা মাঘে এক-সাত দশ-পনেরো কিংবা তিরিশ দিন হাতে বেতের লাঠি নিয়ে শিবব্রতী হয়ে নৃত্য ইত্যাদি করলে মানুষের শিবলোক প্রাপ্ত হয়।

    জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিবের সঙ্গে কালির বিবাহ সম্পন্ন হয়

    অনেক গবেষকের ধারণা, গাজন (Gajan Utsav) উৎসবে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব। আবার বাংলার মঙ্গলকাব্যতেও গাজনের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন ধর্মমঙ্গল কাব্যে রয়েছে এর বিস্তৃত বিবরণ। তবে অন্য একটি অংশের মতে, গা শব্দ বলতে গ্রামকে বোঝায়। আর, জন শব্দ বলতে জনসাধারণকে বোঝায়। অর্থাৎ গ্রামের জনসাধারণের যা উৎসব তাই গাজন। জনশ্রুতি রয়েছে, গাজনই হল সেই দিন যেদিন শিবের সঙ্গে কালির বিবাহ সম্পন্ন হয়। আরও লৌকিক কথা হল, গাজনের সন্ন্যাসীরা হলেন আসলে শিবের বরপক্ষ।

    গাজন উৎসবের তিনটি অংশ

    গাজন উৎসবের তিনটি অংশ থাকে। যথা- ঘাট সন্ন্যাস, নীলব্রত এবং চড়ক। অনেক জায়গাতে গাজন উৎসব (Gajan Utsav) চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই ভক্ত সন্ন্যাসীরা পালন করতেন, সেটা অনেক আগেকার কথা অবশ্য। তবে বর্তমান সময়ে চৈত্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে অথবা তিন দিন আগে থেকেই কঠোরব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। এই সময়ে পরিচ্ছন্ন বস্ত্র ধারণ করে হবিষ্যান্ন গ্রহণ করেন সন্ন্যাসীরা।

    অনেক জায়গাতে মুখোশ নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়

    গাজনে অনেক জায়গাতে মুখোশ নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়। যা স্থানীয় ভাষায় বোলান গান নামেও পরিচিত। এগুলি বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদিয়া বীরভূম জেলাতে দেখা যায়। এই সময়ে শিব-গৌরী সাজেন অনেকেই। এর পাশাপাশি নন্দী, ভৃঙ্গি ভুত-প্রেত, দৈত্য, দানব প্রভৃতি ধরনের সং সেজেও নৃত্য করেন সবাই (Gajan Utsav)। লৌকিক ছড়া, আবৃত্তি গানও করা হয়। গাজনের ঠিক পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় নীল পুজো। গ্রাম্য মহিলারা সন্তানদের মঙ্গল কামনায় এ দিন ফল, আতপ চাল, অর্থ দান করে থাকেন।

    প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন কবে

    পৌরাণিকভাবে গাজন উৎসবের (Gajan Utsav) সূচনা নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে, বান নামে এক রাজা ছিলেন প্রবল শিব ভক্ত। তিনি দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে কঠোর তপস্যা করেন। শিব ভক্তির সেই সূত্র মেনে এখনও পর্যন্ত সন্ন্যাসীরা চড়কের বান পরেন। কাঁটার উপরে ঝাঁপও দেন। গাজন যেন এক প্রকার কৃচ্ছসাধনের ব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ কপাল ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, ১৪৮৫ সালের রাজা সুন্দর আনন্দ ঠাকুর প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন করেন। সেই থেকেই এই প্রথা মেনে আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

    অন্ত্যজ শ্রেণির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্ন্যাস ধর্ম পালন করেন

    গাজনের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভূত-প্রেত, পুনর্জন্ম প্রভৃতি বিষয়। এক সময়ে গাজনের (Gajan Utsav) সন্ন্যাসীরা হুড়কো দিয়ে নিজেদেরকে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুত বেগে ঘুরতেন। সেসময় ব্রিটিশ সরকার আইন প্রণয়ন করে এই নিয়ম-নীতি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে আজও অনেক স্থানে এই রীতি দেখা যায়। গাজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এই সময়ে অন্ত্যজ শ্রেণির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্ন্যাস ধর্ম পালন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় শিব-পার্বতী সেজে কেউ কেউ ভিক্ষা পাত্র নিয়ে বের হন। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আতপ চাল, কাঁচা আম, কাঁচা কলা প্রভৃতি সংগ্রহ করেন।

    মালদহ জেলায় গম্ভিরা উৎসব পালিত হয় এই সময়

    পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্রই গাজন উৎসব দেখা যায়। মালদহ জেলায় গম্ভিরা উৎসব (Gajan Utsav) পালিত হয় এই সময়। কোথাও তা চৈত্র সংক্রান্তি থেকে হয়, কোথাও তা আবার পয়লা বৈশাখে হয়। চার দিন ধরে চলে এই উৎসব। একদিকে যেমন শিব আরাধনা চলে, তেমনই অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার কথা ভক্তরা দেবাদিদে মহাদেবের উদ্দেশে বলতে থাকেন। সেখানে সমস্ত ধরনের কথাই খোলামেলা বলা হয়। রাজনীতি থেকে জীবনের বঞ্চনা কোনও কিছুই বাদ যায় না। পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির পাশাপাশি কলকাতাতেও দেখা যায় চৈত্র সংক্রান্তির সং সাজা। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে সঙ বের হয়। কলকাতার জেলে পাড়ার সঙ্গে কথাও কম বেশি সকলেই জানেন। এর পাশাপাশি কালীঘাটের নকুলেশ্বর তলা সহ বেশ কিছু জায়গায় আজও গাজন পালিত হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের WhatsappTelegramFacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Triyuginarayan Temple: শিব-পার্বতীর বিবাহস্থল! বিয়ে করতে অনেকেই ছুটে যান উত্তরাখণ্ডের এই মন্দিরে

    Triyuginarayan Temple: শিব-পার্বতীর বিবাহস্থল! বিয়ে করতে অনেকেই ছুটে যান উত্তরাখণ্ডের এই মন্দিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডকে দেবভূমি বলা হয়ে থাকে। একাধিক পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন স্থান। উত্তরাখণ্ডের অন্যতম বিশেষ তীর্থস্থান হল ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির (Triyuginarayan Temple)। রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত এই মন্দিরকে দেখতে পাওয়া যায় পর্বতের ১,৯৮০ মিটার উচ্চতায়। হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মন্দিরেই সম্পন্ন হয়েছিল শিব পার্বতীর আধ্যাত্মিক বিবাহ। ভক্তদের বিশ্বাস, ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরের অগ্নিকুণ্ড শিব-পার্বতীর বিবাহের সময় থেকেই জ্বলছে। এই কুণ্ডকে সাক্ষী রেখে বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন শিব এবং পার্বতী। ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে অধিষ্ঠান করছেন ভগবান বিষ্ণু। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তিন যুগ ধরে অবস্থান করছে মন্দির। তাই এমন নামকরণ।

    বিবাহ কেন্দ্র ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির (Triyuginarayan Temple)

    সাত পাকে বাঁধা পড়া, হিন্দু ধর্মে কোনও চুক্তি নয় বরং তা এক পবিত্র সম্পর্কের শুরু বলে মানা হয়। বর্তমান লিভ-ইন সম্পর্কের যুগে হিন্দু ধর্মের পবিত্র বিবাহ বন্ধন নৈতিক সমাজ গঠনে অনেক বেশি কার্যকরী বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পবিত্র সম্পর্কের শুরু করতে অনেকেই তাই তীর্থস্থানকে বেছে নেন। ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে (Triyuginarayan Temple) সব থেকে বেশি বিবাহ সম্পন্ন হয় বলেই জানা যাচ্ছে। প্রতি বছরেই দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষই আসেন এখানে নিজেদের বিবাহ সম্পন্ন করতে। স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রতিবছরে এমন বিবাহের সংখ্যা ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে বেড়েই চলেছে।

    কী বললেন পুরোহিত কমিটির সভাপতি? 

    বর্তমানে ত্রিযুগীনারায়ণ (Triyuginarayan Temple) তীর্থ পুরোহিত কমিটির সভাপতি রয়েছেন সচ্চিদানন্দ পাঁচপুরি। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিনই আমরা অজস্র ফোন কল এবং অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন পাই। যাঁরা এই মন্দিরের মাধ্যমে নিজেদের বিবাহ সম্পন্ন করাতে চান। দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশো বেশি বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এই মন্দিরে।’’ ওই পুরোহিত আরও জানিয়েছেন, আড়াইশো জনেরও বেশি মানুষ রেজিস্ট্রি করেছেন ভবিষ্যতে বিবাহ করার জন্য। মন্দিরের পুরোহিত কমিটির সভাপতির মতে, ‘‘আমরা এখনও পর্যন্ত বিদেশ থেকে অসংখ্য ফোন কল পেয়ে যাচ্ছি। বিবাহের আবেদন করছেন ওনারা।’’ ওই মন্দির কমিটির সভাপতি মতে, ‘‘আমরা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও আবেদন জানিয়েছি, যাতে দেশের কোনও মানুষ বিদেশে বিবাহ করতে না যান। উত্তরাখণ্ডে এই মন্দিরেই নিজেদের বিবাহ সম্পন্ন করেন।’’

    পৌরাণিক কাহিনী কী বলছে?

    পুরাণ অনুযায়ী, চৈত্র মাসে বিয়ে হয়েছিল শিব-পার্বতীর। এখন চৈত্র মাস চলছে। চারদিকে, বিশেষ করে গ্রামবাংলায় গাজন উৎসব পালিত হচ্ছে। এই উৎসবকে শিব-পার্বতীর বিয়ের উৎসব হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, নিজেদের বিবাহের জন্য এই স্থানকেই বেছেছিলেন শিব-পার্বতী। এখানকার অগ্নিকুণ্ডের আগুন শিব-পার্বতীর বিবাহ সময় জ্বালিয়েছিলেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু। এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের। এই অগ্নিকুণ্ডে এখনও পর্যন্ত ভক্তরা এসে নিয়মিতভাবে আহুতি দেন এবং এটাকে পবিত্র কাজ বলে মানা হয়। মনে করা হয়, শিব-পার্বতীর বিবাহে প্রধান পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেছিলেন ব্রহ্মা। এছাড়া ভগবান বিষ্ণু বিবাহের যাবতীয় প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন। এই মন্দিরের গঠনশৈলীর সঙ্গে কেদারনাথের গঠন শৈলী মিলে যায়। প্রতি বছর কেদারনাথের মতোই অসংখ্য ভক্তের গন্তব্য হয়ে ওঠে এই ত্রিযুগীনারায়ণ (Triyuginarayan Temple) মন্দির। এই মন্দিরে রয়েছে ভগবান বিষ্ণুর দু’ফুটের বড় একটি ছবি। তার পাশে দেখা যায় মা লক্ষ্মী এবং সরস্বতীকেও। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী পার্বতী ছিলেন হিমালয়ের কন্যা। তিনি ভগবান শিবকে বিয়ে করতে চেয়ে কঠোর তপস্যা করেন। যা উত্তরাখণ্ডের গৌরিকুণ্ডে অবস্থিত বর্তমানে কেদারনাথ ট্রেকিংরুটে এটি পড়ে।

    উদ্যোগ নিচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও

    উত্তরাখণ্ডের সরকার ইতিমধ্যেই ত্রিযুগীনারায়ণ (Triyuginarayan Temple) মন্দিরকে কেন্দ্র করেই সমস্ত কিছুর উন্নয়নকে উপর জোর দিচ্ছে। সেখানকার পর্যটন মন্ত্রীর সতপাল মহারাজ জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডকে বিবাহ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে তাঁদের সরকার। পর্যটকদের টানতে এবং সুবিধার কাজে একাধিক প্রকল্পও শুরু হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Maha Shivratri 2024: চলতি বছরে মার্চের ৮ ও ৯ তারিখ শিবরাত্রির তিথি, জানুন পুজোর শুভক্ষণ

    Maha Shivratri 2024: চলতি বছরে মার্চের ৮ ও ৯ তারিখ শিবরাত্রির তিথি, জানুন পুজোর শুভক্ষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাতে গোনা কয়েকটা দিন, তারপরেই আসছে মহা শিবরাত্রি। শিবভক্তরা ওই দিন মেতে উঠবেন দেবাদিদেবের (Maha Shivratri 2024) আরাধনায়। নিয়ম হল, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এদিন শিবলিঙ্গ রূপে প্রকট হয়েছিলেন মহাদেব। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পার্বতীর সঙ্গে। এই তিথিতে শিব-পার্বতীর পুজো করলে ব্যক্তিগত জীবন সুখ, সৌভাগ্যে ভরে ওঠে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। মহা শিবরাত্রির তারিখ ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে এখানে জেনে নেওয়া যাক। এছাড়াও এ বছরের মহা শিবরাত্রি একাধিক শুভ যোগের উপস্থিতিতে পালিত হবে। সে বিষয়েও এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। ২০২৪ সালের ৮ মার্চ রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে মহা শিবরাত্রি (Maha Shivratri 2024), সমাপ্ত হবে পরের দিন ৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে।

    চার প্রহরের পুজো

    ৮ মার্চ সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়ে যাবে মহা শিবরাত্রির চার প্রহরের পুজো। প্রথম প্রহর শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্রহর শুরু হবে রাত ৯টা ২৮ মিনিট থেকে রাত ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। তৃতীয় প্রহরের পুজো শুরু হবে মাঝরাত ১২টা ৩১ মিনিট থেকে ভোররাত ৩টে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। চতুর্থ প্রহর ভোররাত ৩টে ৩৪ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে। পুজোর সময় মনে রাখবেন শিবের (Maha Shivratri 2024)  পুজোর ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, কয়েকটি জিনিস আছে, যেগুলি অন্য দেবদেবীকে অর্পণ করা গেলেও, শিবকে করা যায় না। যেমন হলুদ ও সিঁদুর প্রায় সব দেবদেবীকে অর্পণ করা গেলেও, কখনই দেওয়া যায় না শিবকে।

    মহা শিবরাত্রির পুজোর নিয়ম

    শিবরাত্রিতে (Maha Shivratri 2024)  ব্রহ্ম মুহূর্তে উঠে শিব ও পার্বতীকে প্রণাম করে পুজোর সংকল্প গ্রহণ করুন। এর পর গঙ্গায় স্নান করুন। গঙ্গা দূরে থাকলে গঙ্গাজল মেশানো জলে স্নান করুন। নতুন ও পরিষ্কার পোশাক পরে সূর্যকে অঞ্জলি দিন। মন্দিরে গিয়ে দুধ, গঙ্গাজল দিয়ে শিবের অভিষেক করুন। এ ছাড়াও বাড়িতে একটি চৌকিতে লাল কাপড় বিছিয়ে দিন। তার উপর রাখুন শিব মূর্তি। দুধ-গঙ্গাজল দিয়ে সেই প্রতিমার অভিষেক করুন। এর পর পঞ্চোপচার নিয়মে শিব ও পার্বতীর অভিষেক করুন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share