Tag: Maa Kali

Maa Kali

  • Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই শ্যামাপুজো (Kali Puja 2026)। উৎসবের প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর থেকে শহরতলি। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি মণ্ডপ, চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকের মনেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—এ বছর অমাবস্যা তিথি কখন শুরু হচ্ছে? কলকাতায় নিশীথপুজোর শুভ সময়ই বা কখন? ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর, রবিবার পালিত হবে কালীপুজো। দৃক পঞ্চাঙ্গের কলকাতার সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি। এই তিথি স্থায়ী হবে পরের দিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ফলে রবিবার রাতেই হবে শ্যামাপুজো।

    কালীপুজোর নির্ঘণ্ট একনজরে

    • কালীপুজো: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
    • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, সকাল ১১টা ২৭ মিনিট
    • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
    • কলকাতায় নিশীথপুজোর সময়: ৮ নভেম্বর, রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট

    নিশীথকাল মানেই কি রাত ১২টা?

    কালীপুজোর সঙ্গে গভীর রাতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশীথকাল বলতে ঠিক রাত ১২টাকে বোঝায় না। স্থানীয় সূর্যাস্ত এবং পরের দিনের সূর্যোদয়ের সময়ের হিসাব ধরে রাতের মধ্যভাগ নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই বিভিন্ন শহরে নিশীথপুজোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কলকাতার ক্ষেত্রে এ বছর নিশীথপুজোর নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

    কখন পুজোয় বসবেন?

    বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন হোক কিংবা পাড়ার বারোয়ারি পুজো, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতের পরামর্শ এবং অনুসৃত পঞ্জিকার নিয়ম মেনে চলাই ভাল। বিভিন্ন মন্দিরে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারিত হতে পারে। তাই মন্দিরের পুজোয় অংশ নিতে চাইলে আগে থেকেই সময় জেনে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষের সময় এবং নিশীথপুজোর মুহূর্ত এক নয়। আবার কলকাতার সময়সূচি অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই পুজোর প্রস্তুতির আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট পুজোর সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

  • Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১ জৈষ্ঠ্য শনিবার, ফলহারিণী কালীপুজো। বাংলায় কালীপুজোর চল সারা বছর ধরেই দেখা যায়। দুর্গাপুজোর পরে যে কালীপুজো হয় তা জনপ্রিয় দীপান্বিতা কালী পুজো নামে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে রক্ষাকালী পুজো। স্থানীয়ভাবেও বাংলার নানা প্রান্তে কালীপুজো হয়। কোনও কোনও গৃহস্থের বাড়িতেও কালী পুজো বছরের বিশেষ সময়ে দেখা যায়। জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে যে কালীপুজো হয় তা ফলহারিণী কালীপুজো (Falharini Kali Puja 2026) নামে প্রসিদ্ধ।

    ফলহারিণী অমাবস্যা কতক্ষণ থাকবে?

    এবছর, শনিবার এই অমাবস্যা তিথি (Falharini Amavasya) থাকায়, দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে, ফলহারিণী অমাবস্যা ১৬ মে ২০২৬ সালে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে পড়েছে। অর্থাৎ তিথি শনিবার পড়েছে। আর তিথি শেষ হচ্ছে, ১৭ মে রবিবার ভোররাত ১টা ১৩ মিনিটে। উল্লেখ্য, এই পঞ্জিকামতে, তিথি ১ জ্যৈষ্ঠ শুরু, তিথি শেষ ২ জ্যৈষ্ঠ। অন্যদিকে, অমাবস্যা ১৫ মে শুক্রবার ভোর ৪টে ১ মিনিটে পড়ছে। অমাবস্যা তিথি শেষ হবে ১৬ মে শনিবার রাত ১টা ৪৯ মিনিটে।

    পাপক্ষয়, আত্মশুদ্ধি ও মাতৃশক্তির আরাধনার বিশেষ তিথি

    হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মনে করা হয়—মা কালী এই তিথিতে ভক্তদের পাপ, দুঃখ, ক্লেশ ও কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। ‘ফলহারিণী’ শব্দটির অর্থই হল— যিনি কর্মফল হরণ করেন। তাই সাধারণ কালীপুজোর তুলনায় এই পূজার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অনেক গভীর। ফলহারিণী কালীপুজো মূলত তন্ত্রসাধনা, আত্মশুদ্ধি এবং ঈশ্বরচিন্তার একটি বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচিত। বাংলার বহু বাড়ি, মন্দির ও আশ্রমে এই দিন মা কালীর বিশেষ পুজো, হোম-যজ্ঞ, চণ্ডীপাঠ ও নামসংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা উপবাস পালন করে মাতৃশক্তির কৃপা প্রার্থনা করেন।

    ফলহারিণী কালীপুজোর পৌরাণিক তাৎপর্য

    শাস্ত্র মতে, জগজ্জননী মা কালী শুধু সংহারক নন, তিনি মুক্তিদাত্রীও। জীবনের সঞ্চিত কর্মফল, অহংকার, লোভ, ক্রোধ এবং মোহ দূর করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার শক্তি রয়েছে তাঁর মধ্যে। এই কারণেই ফলহারিণী অমাবস্যায় মা কালীর পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ জন্মে জন্মে নিজের কর্মের ফল বহন করে। শুভ কর্মে যেমন ভালো ফল আসে, তেমনই অশুভ কর্ম দুঃখ ও বাধার কারণ হয়। ফলহারিণী কালীপুজো সেই কর্মফলের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির প্রতীক। এই দিনে আন্তরিক ভক্তি ও প্রার্থনার মাধ্যমে মা কালীর কাছে জীবনের নেতিবাচক শক্তি দূর করার আবেদন জানানো হয়।

    ফলের মালা পরানোর রীতি দেখা যায়

    ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী জীবের কর্মফল অনুসারে তাদের আশীর্বাদ প্রদান করেন। তিনি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। পাশাপাশি জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ফলহারিণী অমাবস্যায় দেবীকে বিভিন্ন মরশুমি ফল দিয়ে পুজো দিলে দেবী সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। আম, জাম, কলা, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের মালা তৈরি করে দেবীকে পরানোর রীতি দেখা যায়।

    কেন এই পুজো ফলহারিণী কালীপুজো নামে পরিচিত?

    শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈষ্ঠ্য মাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল সমেত নানারকম মরসুমী ফল পাওয়া যায়। ভক্তরা তাঁদের ইষ্টদেবীকে এই ফল নিবেদন করে থাকেন। দেবী ভক্তদের কর্মফল হরণ করে তাদেরকে মোক্ষফল প্রদান করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ফলহারিণী কালীপুজো করলে বিদ্যা, কর্ম এবং অর্থ ভাগ্যের উন্নতি ঘটে প্রেম প্রণয়ের বাধা দূর হয়, দাম্পত্য সংসারী জীবনেও সুখ শান্তি বিরাজ করে। এককথায় এই বিশেষ পুজোয় ভক্তরা আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানসিক শক্তি পেয়ে থাকেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

    এই দিনেই সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    ফলহারিণী কালীপুজোর আরেকটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। জানা যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ফলহারিণী কালীপুজোর দিনে সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। এই ঘটনা হিন্দু আধ্যাত্মিক জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঠাকুর দক্ষিণেশ্বরে ষোড়শী রূপে পুজো করেছিলেন সারদা মা’কে। শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর সাধনার পরম পরিণতি হিসেবে স্ত্রী সারদা দেবীর মধ্যে আদ্যাশক্তির প্রকাশ দেখেছিলেন। ফলহারিণী কালীপুজোর রাতেই তিনি সারদা দেবীকে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেন। এর মাধ্যমে নারীশক্তি, মাতৃত্ব ও দেবীত্বের এক অনন্য ব্যাখ্যা সামনে আসে। পরবর্তীতে এই সময়ের কালী পুজো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ফলহারিণী কালী (Falharini Kali Puja 2026) পুজো নামেই প্রসিদ্ধি পায়।

  • Kali Puja 2025: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠের কালী মন্দিরে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    Kali Puja 2025: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠের কালী মন্দিরে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja 2025) বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয়। আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজার পাশাপাশি কালীপুজোতেও বিভিন্ন আচার-নিয়ম (Rituals) থাকে। আর কালীপুজোর বিশেষ আকর্ষণই হল মায়ের ভোগ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ্যামামায়ের মন্দির। আর সেই এক এক মন্দিরের এক এক রকমের ভোগ মাকে (Maa Kali) নিবেদন করা হয়। কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত কালীমন্দিরটি হল কালীঘাট মন্দির। এটি একটি সতীপীঠ। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি ইত্যাদি কলকাতার বিখ্যাত কয়েকটি কালীমন্দির। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের সেভকেশ্বরী কালীমন্দিরও বেশ বিখ্যাত।

    কোন মন্দিরে মাকে (Maa Kali) কী কী ভোগ দেওয়া হয়?

    কালীপুজোর সময় মায়ের যে ভোগ হয়, তা অন্যান্য পুজোর থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। এক নজরে দেখে নিন, কোন মন্দিরে মাকে কী কী ভোগ দেওয়া হয়?

    কালীঘাট মন্দির: সতীর একান্নপীঠের অন্যতম এই কালীঘাট (Kalighat)। সকালে মা-কে আমিষ পদ ভোগে দেওয়া হয়। সেই ভোগের মধ্যে রয়েছে বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলা ভাজা, ঘিয়ের পোলাও, ঘি ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস ও চালের পায়েস। তবে রাতে মা-কে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, বেগুনভাজা, আলু ভাজা, দুধ, ছানার সন্দেশ আর রাজভোগ থাকে কালীঘাটের ভোগে।

    সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির: আনুমানিক ১৭০৩ সালে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ও ঘটে পুজো (Kali Puja 2025) শুরু করেন। কালীপুজোর রাতে ভোগ দেওয়া হয় লুচি, পটলভাজা, ধোঁকা বা আলুভাজা, আলুর দম ও মিষ্টি।

    দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির: ভোরে দেবী ভবতারিণীর বিশেষ আরতি দক্ষিণেশ্বরের পুজোর (Kali Puja 2025) বিশেষ আকর্ষণ। আর ভোগে নিবেদন করা হয় সাদাভাত, ঘি, পাঁচরকমের ভাজা, শুক্তো, তরকারি, পাঁচরকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।

    তারাপীঠ মন্দির: কালীপুজোর (Kali Puja 2025) দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগ। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ রকম বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। আমিষ ভোগের মূল উপাদান হল শোল মাছ। ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে ভোগ গ্রহণ করেন না মা তাঁরা। কালীপুজোর দিন তারা মা-এর ভোগ হিসেবে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচ মিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্বই হল পোড়া শোলমাছ মাখা।

    সেভকেশ্বরী কালী মন্দির: শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এই কালীমন্দির। কালীপুজোর (Kali Puja 2025) দিনগুলিতে এই সেভকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সেবক পাহাড়ের নির্জনতায় হয় কালী মায়ের আরাধনা। অনেকেরই বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা। এখানে মায়ের (Maa Kali) ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই, মিষ্টি। আর এখানে ভোগের আকর্ষণ হল বোয়াল মাছ। এদিন এই মাছ দেবীর ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।

  • Kali Puja 2025: কখনও তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল! জানুন মা কালীর বিভিন্ন রূপ

    Kali Puja 2025: কখনও তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল! জানুন মা কালীর বিভিন্ন রূপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামপ্রসাদের কন্যা, রামকৃষ্ণের মা ভবতারিণী, সাধক কমলাকান্তের সাধনার ধন। তিনি দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। দেবী কালিকা। বাংলা জুড়ে কালীপুজোর (Kali Puja 2025) মাহাত্ম্য অনেক। শ্মশানবাসিনী থেকে ঘরে ঘরে পূজিত হওয়ার রয়েছে নানা আখ্যান। কড়া নিয়ম মেনে আরাধনা করা হয় দেবী কালিকার। কোথাও তিনি পূজিত হন চামুণ্ডা মতে, তো কোথাও আবার তন্ত্র মতে। কোথাও কোথাও দেবীকে কেন্দ্র করেই চলে তন্ত্র সাধনা। কোথাও তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল। মাকে ১১ রূপে বিনাশকারী শক্তি হিসেবে আরাধনা করে থাকেন ভক্তরা।

    মায়ের (Maa Kali) নানা রূপের কথা 

    দক্ষিণা কালী: বাংলায় সবচেয়ে বেশি আরাধনা হয় দক্ষিণা কালীর। কালীর এই রূপ জায়গা ভেদে শ্যামাকালী নামেও পরিচিত। সারা শরীর নীল বর্ণের, তাঁর মূর্তি ক্রুদ্ধ, ত্রিনয়নী, মুক্তকেশ, চারটি হাত এবং গলায় মুণ্ডমালা। বাম দিকের দুই হাতে নরমুণ্ড এবং খড়গ। ডান হাতে থাকে আশীর্বাদ এবং অভয় মুদ্রা। দেবী মহাদেবের উপরে দণ্ডায়মানা।

    শ্মশান কালী: মূলত প্রাচীন কালে ডাকাতেরা দেবীর এই রূপের আরাধনা করত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসে এই দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। গৃহস্থের বাড়িতে কালীর এই রূপের পুজো হয় না একেবারেই। মূলত শ্মশানেই তাঁর আরাধনা।

    সিদ্ধ কালী: কালীপুজোর দিনে বহু জায়গায় সিদ্ধ কালীর আরাধনা করা হয়। কালীর (Kali Puja 2025) এই রূপ ভুবনেশ্বরী নামেও পরিচিত। গৃহস্থের বাড়িতে কালীর এই রূপ পুজো হয় না। কালী মায়ের সাধকেরা এই পুজো করে থাকেন। সিদ্ধকালীর দু’টি হাত, শরীর গয়নায় আবৃত। দেবীর ডান পা শিবের বুকে এবং বাঁ পা থাকে তাঁর দু’পায়ের মাঝখানে। এই দেবী রক্ত নয়, বরং অমৃত পানে সন্তুষ্ট থাকেন।

    ফলহারিণী কালী: এটি বাৎসরিক পুজো। মূলত, গৃহস্থ বাড়িতে শান্তি বজায় রাখতে কালীর এই রূপকে আরাধনা করা হয়।

    মহা কালী: এই দেবীর (Kali Puja 2025) দশটি মাথার মতো দশটি হাত এবং দশটি পা থাকে। প্রতিমার সঙ্গে শিবের কোনও অস্তিত্ব নেই। দশ হাতেই রয়েছে অস্ত্র। দেবীর পায়ের তলায় অসুরের কাটা মুণ্ড থাকে। ভূত চতুর্দশীর দুপুরে এমনই দশমাথা মহা কালীর সাধনা করা হয়। তবে, গৃহস্থ বাড়িতে এই পুজো করা হয় না।

    কাম্যা কালী: বিশেষ প্রার্থনায় কালীর এই রূপ আরাধনা করা হয়। পুজোর নিয়মবিধি দক্ষিণা কালীর মতোই। সাধারণত, অষ্টমী, চতুর্দশী অমাবস্যা পূর্ণিমা ও সংক্রান্তির মতো তিথিতেই কাম্যা কালীর আরাধনা করা হয়।

    গুহ্যকালী: এই দেবীর গায়ের রং গাঢ় কালো। গলায় ৫০টি নরমুন্ডের হার এবং কানে শবদেহের আকারের অলঙ্কার থাকে। শাস্ত্রে কালীর এই রূপকে ভয়ঙ্করী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    ভদ্রকালী: কালীর এই রূপ সাধারণত বারোয়ারি বিভিন্ন মন্দিরে পুজো করা হয়। ভদ্রকালী নামে ভদ্র শব্দটি ব্যবহার হয়েছে কল্যাণ অর্থে এবং কালী শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে জীবনের শেষ সময় বোঝাতে।

    চামুণ্ডা কালী: চামুণ্ডা হলেন আদিশক্তি। আবার তিনিই ভগবতী দুর্গা। চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে হত্যা করে তিনি ‘চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত হন। পার্বতী, চণ্ডী, দুর্গা, চামুণ্ডা ও কালী এক ও অভিন্ন রূপ।

    শ্রী কালী: দেবী দুর্গা বা পার্বতীর একটি রূপ শ্রী কালী (Kali Puja 2025)। অনেকে মনে করেন এই রূপে দেবী দারুক নামে অসুরকে বধ করেছিলেন। পুরাণ অনুয়ায়ী, কালীর এই রূপ মহাদেবের কণ্ঠে প্রবেশ করে তাঁর কণ্ঠের বিষে কৃষ্ণবর্ণা হন এবং পরবর্তীকালে মহাদেব শিশু রূপে স্তন্যপান করে দেবীর শরীর থেকে বিষ গ্রহণ করেন।

    রক্ষাকালী: দক্ষিণা কালীর (Maa Kali) একটি রূপ হল রক্ষাকালী। কথিত, প্রাচীন কালে লোকালয়ের রক্ষার জন্য এই দেবীর পুজো করা হত। এই দেবীর বাহন সিংহ।

LinkedIn
Share