Tag: Madhyom Bangala

  • SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল হাইকোর্ট ও কমিশনের মধ্যে। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা সারেন। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটার তালিকার স্বচ্ছতাকে নিশ্চিত করা এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অপর দিকে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (SIR)?

    ভোটার তালিকার পরিমার্জন (SIR) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি (Calcutta High Court) এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠক হয়। ভোটার তালিকায় নাম তোলা, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং তথ্যের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। আইনি পর্যবেক্ষণ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও প্রকার আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই কাজকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে এই প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই

    কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও  জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক অংশ ইতিপূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি অংশটি পর্যায়ক্রমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। বৃহস্পতিবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ

    নির্বাচনী ব্যবস্থার (SIR) আধুনিকীকরণ, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জানা যাচ্ছে, যে জেলায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে, সেখান থেকে বিচারকদের যাচাই বাকি থাকা জেলায় পাঠিয়েছে হাইকোর্ট। এই মর্মে, ৫ জন করে বিচারককে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর জেলায় পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে এখনও ৫০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে।

    কাজের ধারাবাহিকতা জরুরি

    সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতে (Calcutta High Court) নতুন দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই রদবদলের ফলে চলমান মামলাগুলোর (SIR) প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। নতুন আধিকারিকরা শীঘ্রই তাঁদের নিজ নিজ পদে যোগদান করবেন। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনা এবং দীর্ঘকাল একই পদে আসীন থাকা আধিকারিকদের নতুন অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত করা। হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • Governor RN Ravi: “৫৫০ কিমি বেড়া নেই, সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে,” রবিকে বললেন শুভেন্দু

    Governor RN Ravi: “৫৫০ কিমি বেড়া নেই, সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে,” রবিকে বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি লোকভবনে গিয়ে রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল আরএন রবি-র (Governor RN Ravi) সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছেন। এই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিরোধী দলনেতা রাজ্যের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত উদ্বেগ রাজ্যপালের কাছে ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে, বিরোধী কণ্ঠস্বরের নিরাপত্তা, জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

    আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে (Suvendu Adhikari)

    নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “মাননীয় রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে দিল্লিতে থাকার কারণে আমার পক্ষে ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, নবনিযুক্ত রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি উপযুক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলাম। তিনি আমার অনুরোধ গ্রহণ করে সাক্ষাতের অনুমতি দেন। আজ সেই নির্ধারিত সময়ে তাঁর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিট চলা এই সৌজন্য সাক্ষাতে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি।” বাংলার পরিস্থিতি যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে রাজ্যপালকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শাসক দলের লাগাম ছাড়া প্রশাসনের রাজনীতি করণের মতো বিষয় এদিনের বৈঠকে মূল বিষয়বস্তু ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা রাজ্যপালের গোচরে তুলে ধরেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষার আবেদন জানিয়েছি

    মমতা সরকারের নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক বিষয়ে বিরোধী দলনেতার পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র বা স্মারকলিপি রাজ্যপালের নিকট পেশ করা হয়েছে। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল বিষয়গুলো ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনম্রভাবে মাননীয় রাজ্যপালের কাছে রাজ্যের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষার আবেদন জানিয়েছি। তাঁকে অবগত করেছি যে, গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতাকে প্রায় সাড়ে এগারো মাস বিধানসভার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং পাঁচবার তাঁর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspended) করা হয়েছে। আমি তাঁকে বিনীতভাবে বলেছি যে, সংসদীয় গণতন্ত্রে এ জাতীয় নজিরবিহীন পরিস্থিতি অন্য কোথাও পরিলক্ষিত হয় না।”

    সীমান্ত থেকে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

    গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সরকারের পাশাপাশি বিরোধী পক্ষ এবং রাজভবনের মধ্যে এই ধরণের সমন্বয় একটি সুস্থ সংসদীয় রীতির পরিচয় বহন করে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কথা মাথায় রেখে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “এখানে আমলারা কেউ অবসর নেন না। যেটুকু সুযোগ পেয়েছি প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে বলেছি। কিভাবে বিচারব্যবস্থাকে এরাজ্যে আক্রান্ত হতে হয়েছে, সেটা জানিয়েছি। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য তোষণ। ৫৫০ কিমি বেড়া নেই। সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে। ফলে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। রাজ্যপালকে জানিয়েছি, বাংলাকে বাঁচান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা ক্লোজ চ্যাপ্টার হতে পারে না। এটা নিয়ে যা যা করার দরকার করব। পদক্ষেপ করা দরকার।”

    খামেনেই-র বাড়ির সামনে ধর্না দিক তৃণমূল

    রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বেতন কাটলে আর আজ না আসার কারণে কারও উপর যদি কোনও জুলুম হয়, বিরোধী দলনেতা পাশে থাকবে। বেতন বৃদ্ধি হবে বিজেপি সরকার এলে।” একই ভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের আন্দোলন নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল ইরান চলে যাক। কেন্দ্রীয় সরকার টিকিট করে দেবে। খামেনেইয়ের বাড়ির সামনে ধর্না দিক।

    বিচার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করছেন মমতা

    শুভেন্দু রাজ্য সরকারের এক নায়কতন্ত্রের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যে বর্তমানে সংবিধানের চারটি স্তম্ভই আঘাতের মুখে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম-সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলে রাজ্যে বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয় পরিকল্পিত ভাবে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টকেও বারবার অসম্মান করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” একই ভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন, “কোনও সংবাদমাধ্যম সরকারের পক্ষে বলুক বা বিপক্ষে – অনেক সময়ই তাদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।”

LinkedIn
Share