Tag: madhyom news

madhyom news

  • Ramakrishna 36: “ছাদ যে জিনিসে তৈয়ারি—সেই ইঁট, চুন, সুরকিতেই সিঁড়িও তৈয়ারি”

    Ramakrishna 36: “ছাদ যে জিনিসে তৈয়ারি—সেই ইঁট, চুন, সুরকিতেই সিঁড়িও তৈয়ারি”

    চতুর্থ অধ্যায়

    জ্ঞান ও বিজ্ঞান, অদ্বৈতবাদ, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ ও দ্বৈতবাদ—এই তিনের সমন্বয়—Reconciliation of Non-Dualism, Quqlity Non-Dualism.

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—ঋষিদের ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছিল। বিষয় বুদ্ধির লেশমাত্র থাকলে এই ব্রহ্মজ্ঞান হয় না। ঋষিরা কত খাটত। সকাল বেলা আশ্রম থেকে চলে যেত। একলা সমস্ত দিন ধ্যান চিন্তা করত, রাত্রে আশ্রমে ফিরে এসে কিছু ফলমূল খেত। দেখা, শুনা, ছোঁয়া—এ-সবের বিষয় থেকে মনকে আলাদা রাখত, তবে ব্রহ্মকে বোধ বোধ করত।

    কলিতে অন্নগত প্রাণ, দেহবুদ্ধি যায় না। এ-অবস্থায় সোহহং বলা ভাল নয়। সবই করা যাচ্ছে, আবার আমিই ব্রহ্ম বলা ঠিক নয়। যারা বিষয় ত্যাগ করতে পারে না, যাদের ‘আমি’ কোন মতে যাচ্ছে না, তাদের আমি দাস আমি ভক্ত এ-অভিমান ভাল। ভক্তিপথে থাকলেও তাঁকে পাওয়া যায়।

    জ্ঞানী ‘নেতি’ ‘নেতি’ করে বিষয়বুদ্ধ ত্যাগ করে, তবে ব্রহ্মকে (Ramakrishna) জানতে পারে। যেমন সিঁড়ির ধাপ ছড়িয়ে ছড়িয়ে ছাদে পৌঁছানো যায়। কিন্তু বিজ্ঞানী যিনি বিশেষরূপে তাঁর সঙ্গে আলাপ করেন তিনি আরও কিছু দর্শন করেন। তিনি দেখেন, ছাদ যে জিনিসে তৈয়ারি—সেই ইঁট, চুন, সুরকিতেই সিঁড়িও তৈয়ারি। নেতি নেতি করে যাঁকে ব্রহ্ম বলে বোধ হয়েছে তিনিই জীবজগৎ হয়েছেন। বিজ্ঞানী দেখে, যিনি নির্গুণ, তিনিই সগুণ।

    ছাদে অনেকক্ষুণ লোক থাকতে পারে না, আবার নেমে আসে। যাঁরা সমাধিস্থ হয়ে ব্রহ্মদর্শন করেছেন। তাঁরাও নেমে এসে দেখেন যে, জীবজগৎ তিনিই হয়েছেন। সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি। নি-তে অনেকক্ষুণ থাকা যায় না। আমি যায় না; তখন দেখে, তিনিই আমি, তিনিই জীবজগৎ সব। এরই নাম বিজ্ঞান।

    আরও পড়ুনঃ “পুকুরে কলসীতে জল ভরবার সময় ভকভক শব্দ হয়, পূর্ণ হয়ে গেলে আর শব্দ হয় না”

    আরও পড়ুনঃ “সাপের ভিতরে বিষ আছে, অন্যকে কামড়ালে মরে যায়, সাপের কিন্তু কিছু হয় না।

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 35: “পুকুরে কলসীতে জল ভরবার সময় ভকভক শব্দ হয়, পূর্ণ হয়ে গেলে আর শব্দ হয় না”

    Ramakrishna 35: “পুকুরে কলসীতে জল ভরবার সময় ভকভক শব্দ হয়, পূর্ণ হয়ে গেলে আর শব্দ হয় না”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

                                                                                                                                 ব্রহ্ম নির্লিপ্ত—জীবেরই সম্বন্ধে দুঃখাদি (Problem of Evil)

    মানুষ মনে করে, আমরা তাঁকে জেনে ফেলেছি। একটা পিঁপড়ে চিনির পাহাড়ে গিছল। এক দানা খেয়ে পেট ভরে গেল, আর এক দানা মুখে করে বাসায় যেতে লাগল, যাবার সময় ভাবছে—এবার এসে সব পাহাড়টি লয়ে যাব। ক্ষুদ্র জীবেরা এই সব মনে করে। জানে না ব্রহ্ম বাক্যমনের অতীত।

    যে যতই বড় হউক না কেন, তাঁকে কি জানবে? শুকদেবাদি না হয় ডেও-পিঁপড়ে—চিনির আট-দশটা দানা না হয় মুখে করুক।

    ব্রহ্ম সচ্চিদানন্দ স্বরূপ—নির্বিকল্পসমাধি ও ব্রহ্মজ্ঞান

    তবে বেদে, পুরাণে যা বলছে—সে কিরকম বলা জান? একজন সাগর দেখে এলে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, কেমন দেখলে, সে লোক মুখ হাঁ করে বলে, ও! কি দেখলুম! কি হিল্লোল কল্লোল! ব্রহ্মের কথাও সেইরকম। বেদে আছে—তিনি আনন্দস্বরূপ-সচ্চিদানন্দ। শুকদেবাদি এই ব্রহ্মসাগর তটে দাঁড়িয়া দর্শন স্পর্শন করেছিলেন। এক মতে আছে–তাঁরা এ-সাগরে নামেন নাই। এ-সাগরে নামলে আর ফিরবার জো নাই।

    সমাধিস্থ হলে ব্রহ্মজ্ঞান হয়; ব্রহ্মদর্শন হয়—সে অবস্থায় বিচার একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ চুপ হয়ে যায়। ব্রহ্ম কি বস্তু মুখে বলবার শক্তি থাকে না।

    লুনের ছবি (লবণ পুত্তলিকা) সমুদ্র মাপতে গিছল। (সকলের হাস্য) কত গভীর জল তাই খপর দেবে। খপর দেওয়া আর হল না। যাই নামা অমনি গলে যাওয়া। কে আর খপর দিবেক?

    একজন প্রশ্ন করিলেন, সমাধিস্থ ব্যক্তি, যাঁহার ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছে তিনি কি আর কথা কন না?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (বিদ্যাসাগরাদির প্রতি)—শঙ্কারাচার্য লোকশিক্ষার জন্য বিদ্যার ‘আমি’ রেখেছিলেন। ব্রহ্মদর্শন হলে মানুষ চুপ করে যায়। যতক্ষণ দর্শন না হয়, ততক্ষণই বিচার। ঘি কাঁচা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণই কলকলানি। পাকা ঘির কোন শব্দ থাকেনা। কিন্তু যখন পাকা ঘিয়ে আবার কাঁচা লুচি পড়ে, তখন আর একবার ছ্যাঁক কলকল করে। যখন কাঁচা লুচিকে পাকা করে, তখন আবার চুপ হয়ে যায়। তেমনি সমাধিস্থ পুরুষ লোকশিক্ষা দিবার জন্য আবার নেমে আসে, আবার কথা কয়।

    যতক্ষণ মৌমাছি ফুলে না বসে ততক্ষণ ভনভন করে। ফুলে বসে মধু পান করতে আরম্ভ করলে চুপ হয়ে যায়। মধুপান করার পর মাতাল হয়ে আবার কখন কখন গুণগুণ করে।

    পুকুরে কলসীতে জল ভরবার সময় ভকভক শব্দ হয়। পূর্ণ হয়ে গেলে আর শব্দ হয় না। (সকলের হাস্য) তবে আর এক কলসীতে যদি ঢালাঢালি হয় তাহলে আবার শব্দ হয়। (হাস্য)

    আরও পড়ুনঃ “সাপের ভিতরে বিষ আছে, অন্যকে কামড়ালে মরে যায়, সাপের কিন্তু কিছু হয় না।

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Gratuity Limit Hike: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হাসি আরও চওড়া হল, বাড়ল গ্র্যাচুইটির পরিমাণ

    Gratuity Limit Hike: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হাসি আরও চওড়া হল, বাড়ল গ্র্যাচুইটির পরিমাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহার্ঘ্য ভাতার (DA) পর এবার গ্রাচুইটি (Gratuity) নিয়ে সুখবর দিল কেন্দ্র সরকার। এখন অবসর ও মৃত্যুজনিত গ্রাচুইটির (Death Gratuity) সীমা ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করা হল। বর্ধিত এই লাভ ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

    কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের গ্র্যাচুইটির পরিমাণ বাড়ল

    লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের আরও ৪ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর জেরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা ৫০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ মে জারি হওয়া অফিস মেমোরেন্ডামে (OM) বলা হয়েছে, “সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস পেনশন বিধি, ২০২১ বা কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (জাতীয় পেনশন সিস্টেমের অধীনে গ্র্যাচুইটির অর্থ প্রদান) নিয়ম ২০২১-এর অধীনে, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি এবং ডেথ গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে অর্থাৎ ২০ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের (Office Memorendum) পর থেকেই অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি এবং ডেথ গ্রাচুইটি সহ অন্যান্য ভাতা দ্রুত বৃদ্ধি হবে এমনটাই আশা করা হচ্ছিল। অবশেষে সেই সুখবর এল কেন্দ্র সরকারের তরফে। যদিও কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতার ফারাক এখনও অনেকটাই। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও পিছিয়ে রয়েছে রাজ্য সরকার।

    টানা পাঁচ বছর চাকরি করলেই মিলবে গ্র্যাচুইটি

    প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষাধিক কর্মচারী এবং পেনশন ভগিরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। নিয়ম অনুসারে একজন কর্মচারী অন্তত পাঁচ বছর যদি একটানা কাজ করেন তাহলে তিনি গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য। পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, মৃত্যু বা পদত্যাগের সময় পর্যন্ত প্রদেয় অর্থ পাওয়া যায়।

    আরও পড়ুন: কন্যাকুমারীতে ধ্যানমগ্ন প্রধানমন্ত্রী, আজ মোদি-গড় সামলাচ্ছেন বিশ্বস্ত অমিত

    চলতি বছরের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ডিয়ারনেস রিলিফ (Dearness Relief) এবং মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness Allowance) ৪ শতাংশ বাড়িয়েছে। কয়েক লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এটি একটি বিশাল স্বস্তির খবর ছিল। ডিএ ৫০ শতাংশে বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের বেতনের অন্যান্য অংশগুলিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rekha Patra: প্রথম বার ভোট দিলেন রেখা পাত্র, বিক্ষিপ্ত অশান্তিতেও আশাবাদী বিজেপি

    Rekha Patra: প্রথম বার ভোট দিলেন রেখা পাত্র, বিক্ষিপ্ত অশান্তিতেও আশাবাদী বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আগের রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি (Sandeshkhali) । যদিও ভোটের দিনে বেলা গড়াতেই ছবিটা বদলে গেল বসিরহাট (Basirhat) লোকসভা কেন্দ্রের এই অঞ্চলে। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোট হল এই কেন্দ্রে। তাঁর মধ্যেই জীবনে প্রথমবার ভোট দিলেন বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র (Rekha Patra) । এককালে শেখ শাহজাহানদের দাপটে প্রথমে বাম, পরে তৃণমূলের প্রার্থীরা এই অঞ্চল থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন। উঠত ভয়ঙ্কর ছাপ্পা রিগিংয়ের অভিযোগ। এবার প্রথম শান্তিতে ভোট হচ্ছে সন্দেশখালিতে।

    প্রথম বার ভোট দিলেন রেখা পাত্র

    প্রথমবার ভোট দিয়ে রেখাপাত্র বলেন (Rekha Patra), “জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। সন্দেশখালীর মা-বোনেরাও এবার অনেকে প্রথমবার ভোট দিয়েছে। এর জন্য মোদীজি কে ধন্যবাদ জানাই। ২০১১ সাল থেকে এখানকার লোকেরা ভোট দিতে পারেনি। তবে আমাদের লড়াই শুধু ভোট দেওয়ার জন্য ছিল না। ছিল আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচার লড়াই। সেই লড়াইয়ের একটা অঙ্গ এই ভোটদান। তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সন্দেশখালীর মা-বোনেরা একত্রিত হয়ে এখনও তাঁদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: শেষ দফা ভোটে অশান্ত ভাঙড়, জয়নগর, আক্রান্ত বিজেপি, জলে ফেলা হল ইভিএম

    প্রসঙ্গত বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তির খবর এসেছে। তবে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বেশিরভাগ বুথে। নখ, দাঁত বের করার চেষ্টা করলেও সেভাবে আস্ফালন দেখাতে পারছে না শাসক দলের বাহুবলীরা। সকাল থেকেই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ঘুরছেন বিজেপি প্রার্থী।

    মোটের উপর শান্তিপূর্ন নির্বাচন সন্দেশখালিতে

    সন্দেশখালিতে এখনও চালু রয়েছে সিবিআই ক্যাম্প। আঁটোসাটো নিরাপত্তা প্রত্যেকটি বুথে। গোটা সন্দেশখালি অতি স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সন্দেশখালির মহিলাদের প্রশ্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে, আপনারা চলে গেলে কী হবে। বসিরহাটের অন্যান্য জায়গাতেও রয়েছে সেন্ট্রাল ফোর্সের নিশ্ছিদ্র পাহারা। রেখা পাত্র (Rekha Patra) জানিয়েছেন তাঁদের এক কর্মীর এদিন মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে শাসক দলের কর্মীরা। তবে বেশির ভাগ বুথেই শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। গন্ডগোল এড়াতে মোবাইল নিয়ে বুথে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সঙ্গে মোবাইল নিয়ে আসলেও সুইচ অফ করে বুথে ঢুকতে হচ্ছে। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে মোবাইলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 34: “সাপের ভিতরে বিষ আছে, অন্যকে কামড়ালে মরে যায়, সাপের কিন্তু কিছু হয় না।”

    Ramakrishna 34: “সাপের ভিতরে বিষ আছে, অন্যকে কামড়ালে মরে যায়, সাপের কিন্তু কিছু হয় না।”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ব্রহ্ম নির্লিপ্ত—জীবেরই সমন্ধে দুঃখাদি (Problem of Evail)

    এই জগতে (Ramakrishna) বিদ্যামায়া অবিদ্যামায়া দুই-ই আছে; জ্ঞান-ভক্তি আছে, আবার কামিনী-কাঞ্চনও আছে, সৎও আছে, অসৎও আছে। ভালও আছে আবার মন্দও আছে। কিন্তু ব্রহ্ম নির্লুপ্ত। ভাল-মন্দ জীবের পক্ষে, সৎ-অসৎ জীবের পক্ষে, তাঁর ওতে কিছুই হয় না।

    যেমন প্রদীপের সম্মুখে কেউ বা ভগবত পড়ছে, আর কেউ বা জাল করছে। প্রদীপ নির্লিপ্ত।

    সূর্য শিষ্টের উপর আলো দিচ্ছে, আবার দুষ্টের উপরও দিচ্ছে।

    যদি বল দুঃখ, পাপ, অশান্তি—এ-সকল তবে কি? তার উত্তরে এই যে, ও-সব জীবের পক্ষে। ব্রহ্ম নির্লিপ্ত। সাপের ভিতরে বিষ আছে, অন্যকে কামড়ালে মরে যায়। সাপের কিন্তু কিছু হয় না।

    ব্রহ্ম অনির্বচনী অব্যপদেশ্যম—The Unknown and Unknowable

    ব্রহ্ম যে কি, মুখে বলা যায় না। সব জিনিস উচ্ছিষ্ট হয়ে গেছে। বেদ, পুরাণ, তন্ত্র, ষড় দর্শন—সব এঁটো হয়ে গেছে! মুখে পড়া হয়েছে, মুখে উচ্চারণ হয়েছে—তাই এঁটো হয়েছে। কিন্তু একটি জিনিস কেবল উচ্ছিষ্ট হয় নাই, সে জিনিসটি ব্রহ্ম। ব্রহ্ম যে কি, আজ পর্যন্ত কেহ মুখে বলতে পারে নাই।

    বিদ্যাসাগর (বন্ধুদের প্রতি)—বা! এটি তো বেশ কথা! আজ একটি নতুন কথা শিখলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—এক বাপের দুটি ছেলে। ব্রহ্মবিদ্যা শিখবার জন্য ছেলে দুটিকে, বাপ আচার্যের হাতে দিলেন। কয়েক বৎসর পরে তারা গুরুগৃহ ফিরে এল, এসে বাপকে প্রণাম করলে। বাপের ইচ্ছা দেখেন, এদের ব্রহ্মজ্ঞান কিরূপ হয়েছে। বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাপ! তুমি তো সব পড়েছ, ব্রহ্ম কিরূপ বল দেখি? বড় ছেলেটি বেদ থেকে নানা শ্লোক বলে বলে ব্রহ্মের স্বরূপ বুঝাতে লাগল! বাপ চুপ করে রইলেন। যখন ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে হেঁটমুখে চুপ করে রইল। মুখে কোন কথা নাই। বাপ তখন প্রসন্ন হয়ে ছোট ছেলেকে বললেন, বাপু! তুমি একটু বুঝেছ। ব্রহ্ম যে কি। মুখে বলা যায় না।

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 33: “এই জগতে বিদ্যামায়া অবিদ্যামায়া দুই-ই আছে, জ্ঞান-ভক্তি আছে, আবার কামিনী-কাঞ্চনও আছে”

    Ramakrishna 33: “এই জগতে বিদ্যামায়া অবিদ্যামায়া দুই-ই আছে, জ্ঞান-ভক্তি আছে, আবার কামিনী-কাঞ্চনও আছে”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—জ্ঞানযোগ বা বেদান্ত বিচার

    বিদ্যাসাগর মহাপণ্ডিত। যখন সংস্কৃত কলেজে পড়িতেন, তখন নিজের শ্রেণীর সর্বোৎকৃষ্ট ছাত্র ছিলেন। প্রতি পরীক্ষায় প্রথম হইতেন এবং স্বর্ণপদকাদি (Medal) বা ছাত্রবৃত্তি পাইতেন। ক্রমে সংস্কৃত কলেজের প্রধান অধ্যাপক হইয়াছিলেন। তিনি সংস্কৃত ব্যাকরণ ও সংস্কৃত কাব্যে বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করিয়াছিলেন। অধ্যবস্যায় গুণে চেষ্টা করিয়া ইংরেজি শিখিয়াছিলেন।

    ধর্ম-বিষয়ে বিদ্যাসাগর কাহাকেও শিক্ষা দিতেন না। তিনি দর্শনাদি গ্রন্থ পড়িয়াছিলেন। মাস্টার একদিন জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, আপনার হিন্দুদর্শন কিরূপ লাগে? তিনি বলিয়াছিলেন, আমার তো বোধ হয়, ওরা যা বুঝাতে গেছে বুঝাতে পারে নাই। হিন্দুদের ন্যায় শ্রাদ্ধাদি ধর্মকর্ম সমস্ত করিতেন, গলায় উপবীত ধারণ করিতেন, বাঙলায় যে-সকল পত্র লিখিতেন, তাহাতে শ্রীশ্রীহরিশরনম ভগবানের এই বন্দনা আগে করিতেন।

    মাস্টার আর একদিন তাঁহার মুখে শুনিয়াছিলেন, তিনি ঈশ্বর সমন্ধে কিরূপ ভাবেন। বিদ্যাসাগর বলিয়াছেন, তাঁকে তো জানবার জো নাই! এখন কর্তব্য কি? আমার মতে কর্তব্য, আমাদের নিজের এরূপ হওয়া উচিত যে, সকলে যদি হয়, পৃথিবী স্বর্গ হয়ে পড়বে। প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত যাতে জগতের মঙ্গল হয়।

    বিদ্যা ও অবিদ্যার কথা কহিতে কহিতে ঠাকুর ব্রহ্মজ্ঞানের কথা কহিতেছেন। বিদ্যাসাগর মহাপণ্ডিত। ষড় দর্শন পাঠ করিয়া দেখিয়াছেন, বুঝি ঈশ্বরের বিষয় কিছুই জানা যায় না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—ব্রহ্ম—বিদ্যা ও অবিদ্যার পার। তিনি মায়াতীত।

    এই জগতে (Ramakrishna) বিদ্যামায়া অবিদ্যামায়া দুই-ই আছে; জ্ঞান-ভক্তি আছে আবার কামিনী-কাঞ্চনও আছে, সৎও আছে, অসৎও আছে। ভালও আছে আবার মন্দও আছে। কিন্তু ব্রহ্ম নির্লুপ্ত।

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 32: “আলু পটল সিদ্ধ হলে তো নরম হয়, তা তুমি তো খুব নরম, তোমার অত দয়া!”

    Ramakrishna 32: “আলু পটল সিদ্ধ হলে তো নরম হয়, তা তুমি তো খুব নরম, তোমার অত দয়া!”

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    শ্রীরামকৃষ্ণকে বিদ্যাসাগরের পূজা সম্ভাষণ

    মিষ্টিমুখের পর ঠাকুর সহাস্যে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে কথা কহিতেছেন। দেখিতে দেখিতে একঘর লোক হইয়াছে, কেহ উপবিষ্ট কেহ দাঁড়াইয়া।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—আজ সাগরে এসে মিললাম। এতদিন খাল বিল হদ্দ নদী দেখেছি, এইবার সাগর দেখছি। (সকলের হাস্য)

    বিদ্যাসাগর (সহাস্যে)—তবে নোনা জল খানিকটা নিয়ে যান!(হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—না গো! নোনা জল কেন? তুমি তো অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর! (সকলের হাস্য) তুমি ক্ষীরসমুদ্র (সকালের হাস্য)

    বিদ্যাসাগর–তা বলতে পারেন বটে।

    বিদ্যাসাগর চুপ করিয়া রহিলেন। ঠাকুর কথা কহিতেছেন—

    বিদ্যাসাগরের সাত্ত্বিক কর্ম—“তুমিও সিদ্ধপুরুষ”

    তোমার কর্ম সাত্ত্বিক কর্ম। সত্ত্বের রজঃ। সত্ত্বরগুণ থেকে দয়া হয়। দয়ায় জন্য যে কর্ম করা যায়, সে রাজসিক কর্ম বটে—কিন্তু এ রজোগুণ—সত্ত্বের রজোগুণ, এতে দোষ নাই। শুকদেবাদি লোকশিক্ষার জন্য দয়া রেখেছিলেন ঈশ্বর-বিষয় শিক্ষা দিবার জন্য। তুমি বিদ্যাদান অন্নদান করছ, এও ভাল। নিষ্কাম করতে পারলেই এতে ভগবান লাভ হয়। কেউ করে নামের জন্য, পুণ্যের জন্য, তাদের কর্ম নিস্কাম নয়। আর সিদ্ধ তো তুমি আছই।

    বিদ্যাসাগর—মহাশয় কেমন করে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (সহাস্য)—আলু পটল সিদ্ধ হলে তো নরম হয়, তা তুমি তো খুব নরম। তোমার অত দয়া!(হাস্য)

    বিদ্যাসগার (সহাস্য)—কলাই বাটা সিদ্ধ তো শক্তই হয়!(সকলের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তুমি তা নও গো; শুধু পণ্ডিতগুলো দরকচা পড়া! না এদিক, না ওদিক। শুকুনি খুব উঁচুতে উঠে, তার নজর ভাগাড়। যারা পশু পণ্ডিত শুনতেই পণ্ডিত, কিন্তু তাদের কামিনী-কাঞ্চনে আসক্তি—শকুনি মতো পচা মড়া খুঁজছে। আসক্তি অবিদ্যার সংসারে। দয়া, ভক্তি, বৈরাগ্য বিদ্যার ঐশ্বর্য।

    বিদ্যাসাগর চুপ করিয়া শুনিতেছেন। সকলেই একদৃষ্টে এই আনন্দময় পুরুষকে দর্শন ও তাঁহার কথামৃত পান করিতেছেন।  

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 31: “না গো! নোনা জল কেন? তুমি অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর, তুমি ক্ষীরসমুদ্র!”

    Ramakrishna 31: “না গো! নোনা জল কেন? তুমি অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর, তুমি ক্ষীরসমুদ্র!”

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    শ্রীরামকৃষ্ণকে বিদ্যাসাগরের পূজা ও সম্ভাষণ

    ঠাকুর (Ramakrishna) ভাবাবিষ্ট হইতেছেন ও কিয়ৎক্ষণ ভাবে দাঁড়াইয়া আছেন। ভাব সংবরণ করিবার জন্য মধ্যে মধ্যে বলিতেছেন, জল খাব। দেখিতে দেখিতে বাড়ির ছেলেরা ও বন্ধুরা আসিয়া দাঁড়ালেন।

    ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হইয়া বেঞ্চের উপর বসিতেছেন। একটি ১৭/১৮ বছরের ছেলে সেই বেঞ্চে বসিয়া আছে—বিদ্যাসাগরের কাছে পড়াশুনার সাহায্য প্রার্থনা করিতে আসিয়াছে। ঠাকুর ভাবাবিষ্ট, ঋষির অন্তর্দৃষ্টি, ছেলের অন্তরের ভাব সব বুঝিয়াছেন। একটু সরিয়া বসিলেন ও ভাবে বলিতেছেন, মা! এ-ছেলের বড় সাংসারসক্তি! তোমার অবিদ্যার সংসার! এ অবিদ্যার ছেলে!

    যে-ব্যক্তি ব্রহ্মবিদ্যার জন্য ব্যাকুল নয়, শুধু অর্থকারী বিদ্যা উপার্জন তাহার পক্ষে বিড়ম্বনা মাত্র, এই কথা কি ঠাকুর (Ramakrishna) বলিতেছেন?

    বিদ্যাসাগর ব্যস্ত হইয়া একজনকে জল আনিতে বলিলেন ও মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, কিছু খাবার আনিলেন ইনি খাবেন কি? তিনি বলিলেন, আজ্ঞা, আনুন না। বিদ্যাসাগর ব্যস্ত হইয়া ভিতরে গিয়া কতকগুলি মিঠাই আনিলেন ও বলিলেন, এগুলি বর্ধমান থেকে এসেছে। ঠাকুরকে কিছু খাইতে দেওয়া হইল, হাজরা ও ভবনাথ কিছু পাইলেন। মাস্টারকে দিতে আসিলে পর বিদ্যাসাগর বলিলেন, ও ঘরের ছেলে, ওর জন্য ছেলে, ওর জন্য আটকাচ্ছে না। ঠাকুর একটি ভক্তছেলের কথা বিদ্যাসাগরকে বলিতেছেন। সে ছোকরাটি এখানে ঠাকুরের সম্মুখে বসে ছিল। ঠাকুর (Ramakrishna) বলিলেন, এ-ছেলেটি বেশ সৎ আর অন্তঃসার যেমন ফল্গু নদী, উপরে বালি, একটু খুঁড়লেই ভিতরে জল বইছে দেখা যায়!

    মিষ্টিমুখের পর ঠাকুর সহাস্যে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে কথা কহিতেছেন। দেখিতে দেখিতে একঘর লোক হইয়াছে, কেহ উপবিষ্ট কেহ দাঁড়াইয়া।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—আজ সাগরে এসে মিললাম। এতদিন খাল বিল হদ্দ নদী দেখেছি, এইবার সাগর দেখছি। (সকলের হাস্য)

    বিদ্যাসাগর (সহাস্যে)—তবে নোনা জল খানিকটা নিয়ে যান! (হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ—না গো! নোনা জল কেন? তুমি অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর! (সকলের হাস্য) তুমি ক্ষীরসমুদ্র (সকালের হাস্য)

    বিদ্যাসাগর–তা বলতে পারেন বটে।

    বিদ্যাসাগর চুপ করিয়া রহিলেন। ঠাকুর কথা কহিতেছেন—

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 30: “বালককে বুঝাইলে যেমন নিশ্চিত হয়, ঠাকুরও তেমনি নিশ্চিত হইলেন”

    Ramakrishna 30: “বালককে বুঝাইলে যেমন নিশ্চিত হয়, ঠাকুরও তেমনি নিশ্চিত হইলেন”

    কলিকাতায় শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের মিলন

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    গাড়ি রামমোহন রায়ের বাগানবাটির কাছ দিয়া আসিতেছে। মাস্টার ঠাকুরের ভাবান্তর দেখেন নাই, তাড়াতাড়ি বলিতেছেন, এইটি রামমোহন রায়ের বাটী। ঠাকুর বিরক্ত হইলেন; বলিলেন, এখন ও-সব কথা ভাল লাগছে না। ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হইতেছেন।

    বিদ্যাসাগরের বাটির সম্মুখে গাড়ি দাঁড়াল। গৃহটি দ্বিতল, ইংরেজ পছন্দ। জায়গায় মাঝখানে বাটী ও জায়গায় চতুর্দিকে প্রাচীর। বাড়ির পশ্চিমধারে সদর দরজা ও ফটক। ফটকটি দ্বারের দক্ষিণদিকে। পশ্চিমের প্রাচির ও দ্বিতল গৃহের মধ্যবর্তী স্থানে মাঝে মাঝে পুষ্পবৃক্ষ। পশ্চিমদিকের নিচের ঘর হইয়া সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিতে হয়। উপরে বিদ্যাসগার থাকেন। সিঁড়ি দিয়া উঠিয়াই উত্তরে একটি কামরা, তাহার পূর্বদিকে হলঘর। হলের দক্ষিণ-পূর্ব ঘরে বিদ্যাসাগর শয়ন করেন। ঠিক দক্ষিণে আর একটি কামরা আছে—এই কয়টি কামরা বহুমূল্য পুস্তক পরিপূর্ণ। দেওয়ালের কাছে সারি সারি অনেকগুলি পুস্তকাধারে অতি সুন্দররূপে বাঁধানো বইগুলি সাজানো আছে। এই হলঘরের পূর্ব সীমান্তে টেবিল ও চেয়ার আছে। বিদ্যাসাগর যখন বসিয়া কাজ করেন, তখন সেইখানে তিনি পশ্চিমাস্য হইয়া বসেন। যাঁহারা দেখাশুনা করিতে আসেন, তাঁহারাও টেবিলে চর্তুদিকে চেয়ারে উপবিষ্ট হন। টেবিলের উপর লিখবার সামগ্রী—কাগজ কলম। দোয়াত, ব্লটিং অনেকগুলি চিঠিপত্র বাঁধানো হিসাব-পত্রের খাতা দু-চারখানি বিদ্যাসাগরের পাঠ্যপুস্তক রহিয়াছে—দেখিতে পাওয়া যায়। ওই কাষ্ঠাসনের ঠিক দক্ষিণের কামরাতে খাট-বিছানা আছে—সেইখানেই ইনি শয়ন করেন।

    টেবিলের উপর যে—পত্রগুলি চাপা রহিয়াছে—তাহাতে কি লেখা রহিয়াছে? কোন বিধবা হয়তো লিখিয়াছে, আমরা অপোগণ্ডু শিশু অনাথ, দেখিবার কেহ নাই, আপনাকে দেখিতে হইবে। কেহ লিখিয়াছেন, আপনি খরমাতার চলিয়া গিয়াছিলেন, তাই আমরা মাসোহারা ঠিক সময় পাই নাই, বড় কষ্ট হইয়াছে। কোন গরিব লিখিয়াছে, আপনার স্কুলে ফ্রি ভর্তি হইয়াছি, কিন্তু আমার বই কিনিবার ক্ষমতা নাই। কেহ লিখিয়াছেন, আমরা পরিবারবর্গ খেতে পাচ্ছে না—আমাকে একটি চাকরি করিয়া দিতে হইবে। তাঁর স্কুলের কোন শিক্ষক লিখিয়াছেন, আমরা ভগিনী বিধবা হইয়াছে, তাহার সমস্ত ভার আমাকে লইতে হইয়াছে। এ বেতনে আমরা চলে না। হয়তো কেহ বিলাত হইতে লিখিয়াছেন, আমি এখানে বিপদগ্রস্থ, আপনি দীনের বন্ধু, টাকা পাঠাইয়া আসন্ন বিপদ হইতে আমাকে রক্ষা করুন। কেহ বা লিখিয়াছেন, অমুক তারিখে সালিসির দিন নির্ধারিত, আপনি সেদিন আসিয়া আমাদের বিবাদ মিটাইয়া দিবেন।

    ঠাকুর গাড়ি হইতে অবতরণ করিলেন। মাস্টার পথ দেখাইয়া বাটির মধ্যে লইয়া যাইতেছেন। উঠানে ফুলগাছ, তাহার মধ্য দিয়া আসিতে আসিতে ঠাকুর বালকের ন্যায় বোতাম হাত দিয়া মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, জামার বোতাম খোলা র‍য়েছে,–এতে কিছু দোষ হবে না? গায়ে একটি লংক্লথের জামা, পরনে লালপেরে কাপড়, তাহার আঁচলটি কাঁধে ফেলা। পায়ে বার্নিশ করা চটি জুতা। মাস্টার বলিলেন, আপনিও ওর জন্য ভাবেন না, আপনার কিছুতে দোষ হবে না; আপনার বোতাম দেবার দরকার নাই। বালককে বুঝাইলে যেমন নিশ্চিত হয়, ঠাকুরও তেমনি নিশ্চিত হইলেন। 

    আরও পড়ুনঃ “বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ…দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 28: “আমাকে বিদ্যাসাগরের কাছে কি লইয়া যাইবে? আমার দেখিবার বড় সাধ হয়”

    Ramakrishna 28: “আমাকে বিদ্যাসাগরের কাছে কি লইয়া যাইবে? আমার দেখিবার বড় সাধ হয়”

    কলিকাতায় শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের মিলন

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    বিদ্যাসাগরের বাটি

    আজ শনিবার, (২১ শে) শ্রাবণের কৃষ্ণা ষষ্ঠী তিথি, ৫ই অগষ্ট ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দ। বেলা ৪ টা বাজিবে।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কলিকাতার রাজপথ দিয়া ঠিকা গাড়ি করিয়া বাদুড়াবাগানের দিকে আসিতেছেন। সঙ্গে ভবনবাথ, হাজার ও মাস্টার। বিদ্যাসাগরের বাড়ি যাইবেন।

    ঠাকুরের জন্মভূমি, হুগলী জেলার অন্তঃপাতী কামারপুকুর গ্রাম। এই গ্রামটি বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহ নামক গ্রামের নিকটবর্তী। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বাল্যকাল হইতে বিদ্যাসাগরের দয়ার কথা শুনিয়া আসিতেছেন। দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়িতে থাকিতে থাকিতে তাঁহার পাণ্ডিত্য ও দয়ার কথা প্রায় শুনিয়া থাকেন। মাস্টার বিদ্যাসাগররের স্কুলে অধ্যাপনা করেন শুনিয়া তাঁহাকে বলিয়াছিলেন, আমাকে বিদ্যাসাগরের কাছে কি লাইয়া যাইবে? আমার দেখিবার বড় সাধ হয়। মাস্টার বিদ্যাসাগরকে সেই কথা বলিলেন। বিদ্যাসাগর আনন্দিত হইয়া তাঁহাকে একদিন শনিবার ৪ টার সময় সঙ্গে করিয়া আনিতে বলিলেন। একবার মাত্র জিজ্ঞাসা করিলেন, কিরকম পরমহংস? তিনি কি গেরুয়া কাপড় পরে থাকেন? মাস্টার বলিয়েছিলেন, আজ্ঞা না, তিনি এক অদ্ভুত পুরুষ, লাল পেড়ে কাপড় পড়েন, জামা পরেন, বার্নিশ করা জুতা পরেন, রাসমণির কালীবাড়িতে একটি ঘরের ভিতর বাস করেন, সেই ঘরে তক্তপোশ পাতা আছে—তাহার উপর বিছানা, মশারি আছে, সেই বিছানায় শয়ন করেন। কোন বাহ্যিক চিহ্ন নাই-তবে ঈশ্বর বই আর কিছু জানেন না। অহর্নিশ তাঁহার চিন্তা করেন।

    গাড়ি দক্ষিণেশ্বরের কালীবাড়ি হইতে ছাড়িয়াছে। পোল পার হইয়া শ্যামবাজার হইয়া ক্রমে আমহার্ষ্ট ষ্ট্রীটে আসিয়াছে। ভক্তেরা বলিতেছেন, এইবার বাদুড়বাগানের কাছে আসিয়াছে। ঠাকুর বালকের ন্যায় আনন্দ গল্প করিতে করিতে আসিতেছেন। আমহার্ষ্ট ষ্ট্রীটে আসিয়া তাঁহার ভাবান্তর হইল, যেন ঈশ্বরাবেশ হইবার উপক্রম।

    আরও পড়ুনঃ “সব ত্যাগ করে ভগবানকে ডাক–তিনিই সত্য আর সব অনিত্য”

    আরও পড়ুনঃ“এই স্থানে নরেন্দ্রের গান ঠাকুর প্রথমে শুনেন ও তাঁহাকে দক্ষিণেশ্বরে যাইতে বলেন”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share