Tag: madhyom news

madhyom news

  • Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে খতম হয়েছে শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী কমান্ডার রুপি (Maoist Commander Rupi)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঙ্কের জেলায় ঘন জঙ্গলে আত্মগোপন করে ছিল। এই সাফল্যের পর মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—”হয় আত্মসমর্পণ করো, নয়তো কঠোর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো।”

    কীভাবে খতম?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গম বনভূমি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাওবাদীরা অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই এনকাউন্টারে শেষ পর্যন্ত রুপি নামের ওই মহিলা কমান্ডার নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র ও মাওবাদী নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কে এই রুপি (Chhattisgarh)?

    নিহত মাওবাদী নেত্রী রুপি দীর্ঘ দিন ধরে উত্তর (Chhattisgarh)  এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার মাথার ওপর কয়েক লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং নাশকতামূলক কাজে সে সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।

    সরকারের হুঁশিয়ারি

    অভিযান শেষে গডচিরোলির পুলিশ সুপার (Chhattisgarh)  বলেন, “রুপি (Maoist Commander Rupi) খতম হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল। যারা এখনো বিপথে রয়েছে, তাদের আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— সময় ফুরিয়ে আসছে। আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসার সুযোগ এখনো আছে। তা না হলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও তীব্র হবে।”

    বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য মাওবাদীদের সন্ধানে সংলগ্ন জঙ্গলগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চলছে।

    খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই সক্রিয়

    বস্তার রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পাত্তিলিঙ্গম এই সংঘর্ষকে মাওবাদী নেটওয়ার্কগুলোর ওপর ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগ ধারাবাহিকভাবে দিয়ে আসছে। অনেকেই সেই পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু যারা সহিংসতার পথেই চলেছে, তাদের পরিণতিও একই হচ্ছে।” সেইসঙ্গে তিনি অবশিষ্ট ক্যাডারদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে এখন খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই (Maoist Commander Rupi) সক্রিয় আছে। সময় ফুরিয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য তাদের অবশ্যই আত্মসমর্পণ করে মূলধারায় ফিরে আসতে হবে।”

  • SIR: রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনছে এসআইআর, ২ কোটি অবৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ উত্তরপ্রদেশে

    SIR: রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনছে এসআইআর, ২ কোটি অবৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ উত্তরপ্রদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভোটার ডাটাবেস পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের মতো বড় রাজ্যে অত্যন্ত বড় ঘটনা। ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কেবল ভোটার তালিকা ‘আপডেট’ করেনি, বরং রাজ্যের অনেক নির্বাচনী এলাকার সমীকরণ বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে লখনউ, কানপুর, বারাণসী এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মতো শহর ও গ্রাম মিশ্রিত জেলাগুলোতে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশাসনিক সহায়তায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

    উত্তরপ্রদেশের তথ্যের তুলনা এসআইআর-এর আগে ও পরে (SIR)

    প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখন ভোটার (SIR) সংখ্যা প্রায় ১৩.৩৯ কোটি। অক্টোবর ২০২৫-এ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। অর্থাৎ, ভেরিফিকেশনের পর প্রায় ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ মৃত) স্থানান্তরিত বা ভুয়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    • সংশোধনের আগের ভোটার সংখ্যা: ১৫.৪৪ কোটি
    • সংশোধনের পর ভোটার সংখ্যা: ১৩.৩৯ কোটি
    • মোট হ্রাস: ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ)

    সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ২.৯১ কোটি এন্ট্রি সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:

    • ১.২৭ কোটি মানুষ যারা বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন।
    • ৮৪.৭ লক্ষ মানুষ যারা অনুপস্থিত ছিলেন।
    • ৪৬ লক্ষ মৃত ব্যক্তি।
    • ২৩.৭ লক্ষ ডুপ্লিকেট (একই নাম দুবার থাকা) নাম।

    রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব

    ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (SIR) একটি বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এই কাজের ফলে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাপক পরিমাণে সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। যার মধ্যে হল—

    স্বচ্ছ নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকা সঠিক করা, যাতে ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

    শহরাঞ্চলে প্রভাব

    লখনউ উত্তর, লখনউ পূর্ব এবং সরোজিনী নগরের মতো শহুরে আসনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে। লখনউ উত্তরে সর্বোচ্চ ১.৫৪ লক্ষ নাম কাটা গেছে।

    মিরাট, সাহারানপুর এবং বারেরির মতো জেলাগুলোতেও অভিবাসী শ্রমিকের যাতায়াতের কারণে অনেক ভুয়া ভোটার ছিল, যা এখন পরিষ্কার করা হয়েছে। আগ্রায় প্রায় ৬.৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক সমীকরণ

    বিরোধী দলগুলো এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সরকারের দাবি, এটি একটি প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতিটি নাগরিককে তাদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ২ কোটিরও বেশি সন্দেহজনক নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ শাসনব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলগুলোকে এখন পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বুথ স্তরে প্রকৃত ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। তবে এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath)  প্রশাসনিক দক্ষতাকেই অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোক।

  • Ramakrishna 621: “নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি”

    Ramakrishna 621: “নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর

    অহৈতুকী ভক্তি—পূর্বকথা—শ্রীরামকৃষ্ণের দাসভাব

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — ইনি (ডাক্তার) যা বলছেন, তার নাম অহৈতুকী ভক্তি। মহেন্দ্র সরকারের কাছে আমি কিছু চাই না — কোন প্রয়োজন নাই, মহেন্দ্র সরকারকে দেখতে ভাল লাগে, এরই নাম অহৈতুকী ভক্তি। একটু আনন্দ হয় তা কি করব?

    “অহল্যা বলেছিল (Kathamrita), হে রাম! যদি শূকরযোনিতে জন্ম হয় তাতেও আমার আপত্তি নাই, কিন্তু যেন তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি তাকে — আমি আর কিছু চাই না।

    “রাবণ বধের কথা স্মরণ করাবার জন্য নারদ অযোধ্যায় রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা বরতে গিয়েছিলেন। তিনি সীতারাম দর্শন করে স্তব করতে লাগলেন। রামচন্দ্র স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, ‘নারদ! আমি তোমার স্তবে সন্তুষ্ট হয়েছি, তুমি কিছু বর লও।’ নারদ বললেন, ‘রাম! যদি একান্ত আমায় বর দেবে, তো এই বর দাও যেন তোমার পাদপদ্মে আমার শুদ্ধাভক্তি তাকে, আর এই করো যেন তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ না হই!’ রাম বললেন, ‘আরও কিছু বর লও।’ নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি।’

    “এঁর তাই। যেমন ঈশ্বরকে (Ramakrishna) শুধু দেখতে চায়, আর কিছু ধন মান দেহসুখ — কিছুই চায় না। এরই নাম শুদ্ধাভক্তি।

    “আনন্দ একটু হয় বটে, কিন্তু বিষয়ের আনন্দ নয়। ভক্তির, প্রেমের আনন্দ। শম্ভু (মল্লিক) বলেছিল — যখন আমি তার বাড়িতে প্রায় যেতুম – ‘তুমি এখানে এস; অবশ্য আমার সঙ্গে আলাপ করে আনন্দ পাও তাই এস’ — ওইটুকু আনন্দ আছে।

    “তবে ওর উপর আর-একটি অবস্থা আছে (Kathamrita)! বালকের মতো যাচ্ছে — কোনও ঠিক নাই; হয়তো একটা ফড়িং ধরছে।

    (ভক্তদের প্রতি) — “এঁর (ডাক্তারের) মনের ভাব কি বুঝেছ? ঈশ্বরকে প্রার্থনা করা হয়, হে ঈশ্বর, আমায় সৎ ইচ্ছা দাও যেন অসৎ কাজে মতি না হয়।

  • Nashik: নাসিকের আইটি সংস্থায় কেলেঙ্কারি! ফাঁস হল হিন্দু মহিলা কর্মীদের ধর্মীয় নিপীড়ন ও যৌন হেনস্থার চিত্র

    Nashik: নাসিকের আইটি সংস্থায় কেলেঙ্কারি! ফাঁস হল হিন্দু মহিলা কর্মীদের ধর্মীয় নিপীড়ন ও যৌন হেনস্থার চিত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে (Nashik) একটি প্রথম সারির আইটি সংস্থায় হিন্দু মহিলা কর্মীদের ওপর ভয়াবহ ধর্মীয় নিপীড়ন এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং অপরাধীদের হাতেনাতে ধরতে সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে ওই সংস্থায় অভিযান চালান। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। বেছে বেছে হিন্দু ধর্মের মেয়েদের টার্গেট (Love jihad) করে দুষ্কৃতীরা। তবে অভিযোগ এটাও উঠেছে যে অভিযুক্তরা কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। লাভ জেহাদই  তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

    নিয়মিত হেনস্থা করা হত (Nashik)

    বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে, নাসিকের (Nashik) এই আইটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তারা মহিলা কর্মীদের ওপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কেবলমাত্র টার্গেট করে হিন্দু মহিলা কর্মীদের নিয়মিত হেনস্থা করা হত এবং তাঁদের সিঁদুর পরা বা ধর্মীয় রীতি পালনে বাধা দেওয়া হত। এছাড়াও অনেককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও হয়েছে। অভিযুক্তরা অনেকেই নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে লাভ জেহাদের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। বেশ কিছু দিন ধরে এভাবে ধর্মান্তকরণ (Love jihad) করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সকলেই মুখ খুলেছেন। এরপর প্রশাসন তড়িঘড়ি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    পুলিশি অভিযান ও গ্রেফতার

    অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সাত মহিলা পুলিশ কর্মী চাকরিপ্রার্থী (Nashik) সেজে ওই সংস্থায় ছদ্মবেশে প্রবেশ করেন। সেখানে কাজ করার সময় তাঁরা দেখেন, কীভাবে মহিলা কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় (Love jihad) আচরণ পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল, আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার (সবাই টিম লিডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন) এবং পুনে-ভিত্তিক এক নারী এইচআর কর্মকর্তা (যিনি এই অপরাধে সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ)।

    ৯টি পৃথক এফআইআর-এ (FIR) যা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি হল–

    ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা

    মহিলা কর্মীদের হিন্দু ধর্মীয় (Love jihad)  চিহ্ন বর্জন করতে এবং ইসলামিক রীতিনীতি মেনে চলতে বাধ্য করা হত।

    যৌন হেনস্থা

    মহিলা কর্মীদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করা এবং অফিসের বাইরেও তাদের পিছু নেওয়ার (stalking) অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মাধ্যমে কর্মীদের দুর্বল করা এবং একঘরে করে রাখার অভিযোগও মিলেছে।

    পুরুষ কর্মীর ধর্মান্তর

    কেবল মহিলারাই নন, একজন পুরুষ কর্মীও অভিযোগ করেছেন যে গত দু’বছর ধরে তাঁকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

    পুলিশের বক্তব্য

    মহারাষ্ট্র (Nashik) পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পুলিশের ধারণা, তদন্ত এগোলে আরও অনেক ভুক্তভোগী সামনে আসতে পারেন। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থাও এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং খতিয়ে দেখছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, “কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভুক্তভোগীদের প্রতি অভিযুক্তের অপরাধমূলক আচরণ নির্লজ্জভাবে চলতে থাকে। ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের অশোভন আচরণের বিষয়ে প্রধান কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও, তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি  নিতে ব্যর্থ হন। তাই নির্যাতন চলতেই থাকে। অভিযোগকারী যখন এই ঘটনাগুলি সম্পর্কে কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার কাছে বারবার অভিযোগ করেন, তখন তিনি শ্লীলতাহানির বিষয়ে তাঁর অভিযোগ জানালেও কোনওরকম সক্রিয়তা দেখা যায়নি।”

    ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যৌন হয়রানি ও ধর্মীয় নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ন’টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    জুলাই ২০২২–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খান হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে এক মহিলা কর্মীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার ওই ভুক্তভোগীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। দানিশ অফিসের লবিতে ওই একই নির্যাতিতার সঙ্গে অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে তাঁর শ্লীলতাহানি করে।

    মে ২০২৩–১৯ মার্চ ২০২৬

    রাজা মেমন ও শাহরুখ কুরেশির বিরুদ্ধে এক মহিলা কর্মচারীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়া, তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করা এবং তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্যাতিতা প্রধান কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলেও, তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি।

    ২০২২–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত শফি শেখ দফতরে বৈঠকে নির্যাতিতার দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকাত এবং তাঁকে উপহাস করত। অভিযুক্ত তৌসিফ বিবাহিত। ভুক্তভোগীর সন্তান না থাকায় তাঁকে বিদ্রূপ করতেন এবং লজ্জাজনক মন্তব্য করত। সেই সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টাও করে।

    ৪ মে, ২০২৫–ডিসেম্বর ২০২৫

    অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার এক ভুক্তভোগীকে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অশ্লীল প্রশ্ন করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। তিনি হিন্দু মহিলা কর্মচারীদের সামনে হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

    ২০২২–২৩শে মার্চ, ২০২৬

    অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার, দানিশ, শাহরুখ শেখ এবং রাজা মেমন ভুক্তভোগীর ধর্ম নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে এবং তাঁকে নমাজ আদায় করতে বাধ্য করে। তারা তাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দেয়, আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্তরা হিন্দু মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন।

    ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত আসিফ আনসারি ও শফি শেখ এক মহিলা কর্মীর শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার হিন্দু দেব-দেবীগণের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষাও ব্যবহার করে।

    ২০২৫–মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত

    অভিযুক্ত আসিফ আনসারি, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং শফি শেখ নির্যাতিতাকে অপমান করে, তাঁর সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যও করে। অশালীনভাবে স্পর্শও করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুক্তভোগীর ধর্মের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে সম্মিলিতভাবে কলুষিত করার জন্য নানা অপকর্ম করে।

    জানুয়ারি ২০২৫–বর্তমান

    অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শফি শেখ নির্যাতিতার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্ত শফি যেমন প্রস্তাব দেয়, অন্যদিকে রাজা মেমন তার শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টাও করে।

    জানুয়ারি ২০২৬–১ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত

    অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শাহরুখ কুরেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে অশ্লীল কথাবার্তা ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ভুক্তভোগীর আপত্তি সত্ত্বেও, ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা, তাঁর ওপর নজর রাখা এবং তাঁর শরীর নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রান করতে থাকে।

  • RSS: কান্দাকুর্তিতে ‘স্ফূর্তি মন্দির’ উদ্বোধন করলেন ভাগবত, আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের পৈতৃক গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠান

    RSS: কান্দাকুর্তিতে ‘স্ফূর্তি মন্দির’ উদ্বোধন করলেন ভাগবত, আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের পৈতৃক গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত তেলঙ্গনার নিজামাবাদ জেলার কান্দাকুর্তিতে নবনির্মিত ‘স্ফূর্তি মন্দির’ (Spoorti Mandir) উদ্বোধন করেছেন। উল্লেখ্য, এই কান্দাকুর্তি গ্রামটি আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের পৈতৃক ভিটে।

    দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগায় (RSS)

    শনিবার আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি আরএসএস (RSS) প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ এবং জাতির প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। ভাগবত বলেন, “কান্দাকুর্তি কেবল একটি গ্রাম নয়, এটি ত্যাগের একটি পবিত্র স্থান যা দেশপ্রেমের প্রেরণা যোগায়।”

    ঐতিহাসিক গুরুত্ব

    কান্দাকুর্তি গ্রামটি গোদাবরী, মঞ্জিরা এবং হরিদ্রা নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমে অবস্থিত। হেডগেওয়ারের পূর্বপুরুষরা এখান থেকেই নাগপুরে চলে গিয়েছিলেন। নবনির্মিত এই স্মারক ভবনটি ডঃ হেডগেওয়ারের জীবন এবং তাঁর প্রদর্শিত পথের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবামূলক কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাগবতের বার্তা

    সরসঙ্ঘচালক ভাগবত (Mohan Bhagwat) তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, ডঃ হেডগেওয়ার চেয়েছিলেন ভারত যেন বিশ্বগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত হয়। আর সেই স্বপ্ন পূরণে প্রত্যেক নাগরিককে চরিত্র গঠন এবং সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরএসএস-এর (RSS) পদস্থ কার্যকর্তারা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী এবং স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন। কান্দাকুর্তিতে এই স্মারকটি নির্মাণের ফলে গ্রামটি আগামী দিনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডঃ হেডগেওয়ারের পৈতৃক ভিটেবাড়িটিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • Bangladesh: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ‘মাজার’ প্রধানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ‘মাজার’ প্রধানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধানকে (Sufi shrine) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা (৫৫), যিনি এলাকায় ‘জাহাঙ্গীর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ওই মাজার পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তরা সকলেই কট্টরপন্থীর সমর্থক বলে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ (Bangladesh)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে একদল লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শামীম রেজার (Sufi shrine) মাজারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আস্তানার ভেতরে থাকা শামীম রেজাকে তারা নির্বিচারে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।  হামলায় তাঁর আরও কয়েকজন অনুসারীও জখম হয়েছেন।

    পুলিশের বক্তব্য

    দৌলতপুর (Bangladesh) থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি পুরনো বলেই মনে হচ্ছে, তবে সেটি নতুন করে সামনে আসায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, শামীম রেজাকে (Sufi shrine) এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

    কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পুরানো একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।”

  • Iran: ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা আলোচনা সত্ত্বেও মেলেনি সমাধান, আমেরিকা ফিরলেন ভ্যান্স

    Iran: ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা আলোচনা সত্ত্বেও মেলেনি সমাধান, আমেরিকা ফিরলেন ভ্যান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের (Iran) মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর, দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বজায় থাকা অবস্থায়ই আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (US VP JD Vance)। ইরান আমেরিকা আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে।  রবিবার ভোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরপরই তিনি ফিরে যান। এই অচলাবস্থা প্রথম দফার শান্তি প্রচেষ্টাকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

    ইরানের জন্য অনেক খারাপ সংবাদ(Iran)

    পাকিস্তানে দীর্ঘ আলোচনার পর রবিবার পর্যন্ত কোনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ভ্যান্স (US VP JD Vance) বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। যদিও আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি, তবে এই পরিস্থিতি আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ সংবাদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত নমনীয় এবং সহযোগিতামূলক হওয়া সত্ত্বেও আলোচনায় কোনও অগ্রগতি হয়নি। আমরা এখানে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব রেখে এসেছি—এটিই আমাদের চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব। এখন দেখার বিষয় ইরানিরা এটি গ্রহণ করেন কি না।” ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা ইরানিদের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি—সেটি ভালো খবর। কিন্তু খারাপ খবর হল যে আমরা কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি। এটি আমেরিকার চেয়ে ইরানের পক্ষে অনেক বেশি খারাপ খবর।”

    শর্ত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত

    ভ্যান্স (US VP JD Vance) আরও বলেন, “আমরা কোনও চুক্তিতে না পৌঁছেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা এবং কোন কোন বিষয়ে তারা ছাড় দিতে রাজি তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ইরান তাদের শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সাংবাদিক বৈঠকে ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে পরমাণু অস্ত্র এবং তা তৈরির সরঞ্জাম তৈরির প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একটি দৃঢ় অঙ্গীকার চেয়েছিল। আমরা এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল।”

    অতিরিক্ত চাহিদা

    এদিকে, ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত চাহিদার” কারণে কোনও কাঠামো তৈরি না হওয়ায় তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু অধিকার এবং হরমুজ প্রণালী-সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

  • NEP 2020: সিবিএসই-র বড় সিদ্ধান্ত; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক, ৭ দিনের মধ্যে কার্যকরের নির্দেশ

    NEP 2020: সিবিএসই-র বড় সিদ্ধান্ত; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক, ৭ দিনের মধ্যে কার্যকরের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020)-এর সুপারিশ মেনে এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ‘তৃতীয় ভাষা’ (Third Language) শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যেই সমস্ত অনুমোদিত স্কুলকে এই নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

    ভাষা শিক্ষার বিস্তার (NEP 2020)

    এতদিন অনেক স্কুলে তৃতীয় ভাষা ঐচ্ছিক হিসেবে থাকলেও, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণি (NEP 2020) থেকে এটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

    ৭ দিনের সময়সীমা

    সিবিএসই-র (NEP 2020) পক্ষ থেকে স্কুলগুলোকে অত্যন্ত অল্প সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই শিক্ষাক্রম চালুর পরিকাঠামো তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের (CBSE) ভাষা নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পরিকাঠামোর উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে যোগ্য ভাষা শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং ক্লাসের সময়সূচী বা রুটিন পরিবর্তন করা স্কুলগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জাতীয় শিক্ষানীতির প্রতিফলন

    কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে (NEP 2020) ভারতীয় ভাষাগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই-র এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি অংশ। বোর্ডের (CBSE) মতে, স্কুল স্তরে একাধিক ভাষা শিখলে শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সঙ্গে তাদের মেলবন্ধন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতীয় ধ্রুপদী ভাষা বা আধুনিক কোনো ভারতীয় ভাষাকে এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    স্কুল ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

    হঠাৎ করে আসা এই নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোর (CBSE) মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক স্কুলই মনে করছে, মাত্র ৭ দিনের মধ্যে নতুন ভাষা শিক্ষক নিয়োগ বা পাঠ্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের (NEP 2020) ভাষাগত জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সিবিএসই-র এই কড়া নির্দেশের পর দেশের হাজার হাজার স্কুল এখন দ্রুততার সঙ্গে তাদের শিক্ষানীতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

  • West Bengal Elections 2026: এক বছরের মধ্যে ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, ডেবরায় বড় ঘোষণা অমিত শাহের

    West Bengal Elections 2026: এক বছরের মধ্যে ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, ডেবরায় বড় ঘোষণা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন বঙ্গবাসীকে বড় আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah)। রাজ্যের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মেটাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন (West Bengal Elections 2026)

    ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি (West Bengal Elections 2026) ক্ষমতায় এলে আগামী এক বছরের মধ্যেই ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ কার্যকর করা হবে। বছরের পর বছর বন্যার কবলে পড়া এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান। অমিত শাহ বলেন, “নরেন্দ্র মোদিজি এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আক্ষরিক অর্থে জঞ্জালে পরিণত করেছে। আপনারা রাজ্যে বিজেপির সরকার আনুন, আমি কথা দিচ্ছি মাত্র এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে এই অঞ্চলের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেব।”

    অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ

    আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit shah)। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি সরকার গঠন করলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। বাংলার সীমান্তকে সুরক্ষিত করাই তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার। অমিত শাহ বলেন, “বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের ক্ষমতায়নের বদলে কেবল রাজনীতির বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতি — মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩,০০০ টাকা।” তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

    রাজ্য সরকারের সমালোচনা

    বর্তমান রাজ্য সরকারের (West Bengal Elections 2026) কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রাজ্যের উন্নয়নের গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে সামনে আনা এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া—এই দুই কৌশলী প্রচারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ উভয় প্রান্তের ভোটারদের বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন। অমিত শাহের এই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে অনেকটাই সুবিধা করে দেবে বলে বলছেন বিজেপি সমর্থকরা।

    দিদির সদিচ্ছার অভাব

    অমিত শাহ (Amit shah) সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বছরের পর বছর ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো আন্তরিকতা দেখাননি।” তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই প্রকল্প থমকে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, “ঘাটালবাসীর বন্যার কষ্টকে তৃণমূল সরকার স্রেফ ভোটের রাজনীতিতে পরিণত করেছে। প্রতি বছর বর্ষায় সাধারণ মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারান, তখন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজের দায় এড়াতে চায়।”

    বিজেপির সংকল্প

    অমিত শাহ (Amit shah) পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান সম্পন্ন করা হবে। তাঁর কথায়, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। মেদিনীপুরের মানুষকে আর বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে না।” প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবকদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের ৫ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। বিজেপি-র ইস্তেহারে আরও বলা হয়েছে, যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে।

    তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান

    অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই দাবি করা হয়েছে যে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রেখেছে দিল্লি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করবে। বিজেপি নেতার এই সফরকে ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলেও কটাক্ষ করেছে শাসক শিবির।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদিনীপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। নির্বাচনের আগে অমিত শাহের এই সরাসরি আক্রমণ এবং প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মনে যে নতুন করে আশার সঞ্চার হবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Ramakrishna 620: “দেখ, ঈশ্বর সব করছেন, তিনি যন্ত্রী, আমি যন্ত্র, এ-বিশ্বাস যদি কারু হয়, সে তো জীবন্মুক্ত—তোমার কর্ম তুমি কর, লোকে বলে করি আমি”

    Ramakrishna 620: “দেখ, ঈশ্বর সব করছেন, তিনি যন্ত্রী, আমি যন্ত্র, এ-বিশ্বাস যদি কারু হয়, সে তো জীবন্মুক্ত—তোমার কর্ম তুমি কর, লোকে বলে করি আমি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    FREE WILL OR GOD’S WILL
    ‘যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া’

    Liberty or Necessity?—Influence of Motives

    ডাক্তার — কিন্তু আগুন ‘হীট’ও (উত্তাপ) দেয়, আর ‘লাইট’ও (আলো) দেয়। আলোতে দেখা যায় বটে; কিন্তু উত্তাপে গা পুড়ে যায়। ডিউটি (কর্তব্য কর্ম) করতে গেলে কেবল আনন্দ (Ramakrishna) হয় তা নয়, কষ্টও আছে!

    মাস্টার (গিরিশের প্রতি) — পেটে খেলে পিঠে সয়। কষ্টতেও আনন্দ।

    গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি) — ডিউটি শুষ্ক।

    ডাক্তার — কেন?

    গিরিশ — তবে সরস। (সকলের হাস্য)

    মাস্টার — বশ, এইবার লোভে গুলি খাওয়া এসে পড়ল।

    গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি) — সরস, নচেৎ ডিউটি কেন করেন?

    ডাক্তার — এইরূপ মনের ইনক্লিনেসন (মনের ওইদিকে গতি)।

    মাস্টার (গিরিশের প্রতি) — ‘পোড়া স্বভাবে টানে!’ (হাস্য) যদি একদিকে ঝোঁকই (ইনক্লিনেসন) হল Free Will কোথায়?

    ডাক্তার (Ramakrishna)— আমি Free (স্বাধীন) একেবারে বলছি না। গরু খুঁটিতে বাঁধা আছে, দড়ি যতদূর যায়, তার ভিতর ফ্রি। দড়ি টান পড়লে আবার —

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও Free Will

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এই উপমা যদু মল্লিকও বলেছিল। (ছোট নরেন্দ্রের প্রতি) একি ইংরাজীতে আছে?

    (ডাক্তারের প্রতি) — “দেখ, ঈশ্বর সব করছেন, তিনি যন্ত্রী, আমি যন্ত্র। এ-বিশ্বাস যদি কারু হয়, সে তো জীবন্মুক্ত—‘তোমার কর্ম তুমি কর, লোকে বলে করি আমি।’ কিরকম জানো? বেদান্তের একটি উপমা আছে (Kathamrita)—একটা হাঁড়িতে ভাত চড়িয়েছ, আলু, বেগুন, চাল লাফাতে থাকে, যেন অভিমান করছে ‘আমি নড়ছি’, আমি লাফাচ্চি।’ ছোট ছেলেরা ভাবে, আলু। পঠল, বেগুন ওরা বুঝি জীয়ন্ত, তাই লাফাচ্চে। যাদের জ্ঞান হয়েছে তারা কিন্তু বুঝিয়ে দেয় যে, এই সব আলু, বেগুন পটল এরা জীয়ন্ত নয়, নিজে লাফাচ্চে না। হাঁড়ির নিচে আগুন জ্বলছে, তাই ওরা লাফাচ্ছে। যদি কাঠ টেনে লওয়া যায়, তাহলে আর নড়ে না। জীবের ‘আমি কর্তা’ এই অভিমান অজ্ঞান থেকে হয়। ঈশ্বরের শক্তিতে সব শক্তিমান। জ্বলন্ত কাঠ টেনে নিলে সব চুপ। — পুতুলনাচের পুতুল বাজিকরের হাতে বেশ নাচে, হাত থেকে পড়ে গেলে আর নড়ে না চড়ে না!

    “যতক্ষণ না ঈশ্বরদর্শন হয়, যতক্ষণ সেই পরশমণি ছেঁয়া না হয়, ততক্ষণ আমি কর্তা এই ভুল থাকবে; আমি সৎ কাজ করেছি, অসৎ কাজ করেছি, এই সব ভেদ বোধ থাকবেই থাকবে। এ-ভেদবোধ তাঁরই মায়া — তাঁর মায়ার সংসার চালাবার জন্য বন্দোবস্ত। বিদ্যামায়া আশ্রয় করলে, সৎপথ ধরলে তাঁকে লাভ করা যায়। যে লাভ করে, যে ঈশ্বরকে দর্শন করে, সেই মায়া পার হয়ে যেতে পারে। তিনিই একমাত্র কর্তা, আমি অকর্তা, এ-বিশ্বাস যার, সেই জীবন্মুক্ত, এ-কথা কেশব সেনকে বলেছিলাম।”

    গিরিশ — Free Will কেমন করে আপনি জানলেন?

    ডাক্তার — Reason (বিচার)-এর দ্বারা নয় — I feel it!

    গিরিশ — Then I and others feel it to be the reverse. (আমরা সকলে ঠিক উলটো বোধ করি যে, আমরা পরতন্ত্র)। (সকলের হাস্য)

    ডাক্তার — ডিউটির ভিতর দুটো এলিমেন্ট — (১) ডিউটি বলে কর্তব্য কর্ম করতে যাই, (২) পরে আহ্লাদ হয়। কিন্তু initial stage-এ (গোড়াতে) আনন্দ হবে বলে যাই না। ছেলেবেলায় দেখতুম পুরুত সন্দেশে পিঁপড়ে হলে বড় ভাবিত হত। পুরুতের প্রথমেই সন্দেশ-চিন্তা করে আনন্দ হয় না। (হাস্য) প্রথমে বড় ভাবনা।

    মাস্টার (স্বগত) — পরে আনন্দ (Kathamrita), কি সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ হয়, বলা কঠিন। আনন্দের জোরে কার্য হলে, Free Will কোথায়?

LinkedIn
Share