Tag: Maha Kumbh 2025

Maha Kumbh 2025

  • PM Modi: ‘‘সম্মিলিত চেতনা গড়ে তুলেছে’’, লোকসভায় মহাকুম্ভের ব্যাপক সাফল্যের প্রশংসা মোদির

    PM Modi: ‘‘সম্মিলিত চেতনা গড়ে তুলেছে’’, লোকসভায় মহাকুম্ভের ব্যাপক সাফল্যের প্রশংসা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভ ২০২৫-এর (Maha kumbh 2025) ব্যাপক সাফল্যের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি। সেখানেই মহাকুম্ভের সাফল্যের জয়গান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    জাতীয় চেতনার প্রমাণ (PM Modi)

    তিনি একে ভারতের আধ্যাত্মিক ও জাতীয় চেতনার প্রমাণ বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই বিশাল সমাবেশের সুন্দর ব্যবস্থাপনারও প্রশংসা করেন, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত, সাধু ও মানুষকে আকর্ষণ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী মহাকুম্ভকে বিভিন্ন “অমৃত”-এর উৎস বলে বর্ণনা করেন। এর মধ্যে “ঐক্য” হল সবচেয়ে পবিত্র। তিনি বলেন, “মহাকুম্ভ হল সেই বিশেষ মুহূর্ত যখন মানুষ সারা দেশ থেকে একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের জাত, ভাষা, অঞ্চল, লিঙ্গ এবং অন্যান্য পক্ষপাত ভুলে গিয়ে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে পবিত্র স্নান করেছিলেন। এই ভাবনা প্রচার করেছিলেন যে এটি কখনও “আমি” এর জন্য নয়, বরং সর্বদা “আমরা” এর জন্য।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা মহাকুম্ভের পরিমাণ ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁরা তাঁদের উত্তর পেয়েছে দেশজুড়ে দেখা গেছে অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ও আধ্যাত্মিক জাগরণের মাধ্যমে।”

    রেকর্ড-ভাঙা উৎসাহ

    মহাকুম্ভে রেকর্ড-ভাঙা উৎসাহের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাকুম্ভ ২০২৫-এ জাতীয় সচেতনতার একটি অসাধারণ প্রদর্শনী দেখা গিয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ প্রয়াগরাজে একত্রিত হয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম গভীর আবেগ নিয়ে এই অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়েছে, যা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে মহাকুম্ভ আঞ্চলিক, ভাষাগত এবং সামাজিক সীমা অতিক্রম করে একটি সম্মিলিত চেতনা গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, “মহাকুম্ভের মহিমা হল ভারতের ঐক্যের ক্ষমতার প্রতিফলন, যা বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সাধারণ লক্ষ্যের দিকে কাজ করে।”

    প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণ

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর মরিশাস সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি যখন ত্রিবেণী সঙ্গমের পবিত্র জল গঙ্গা তালাবে উৎসর্গ করেছিলাম, তখন তা প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এক গভীর ভক্তির অনুভূতি জাগিয়েছিল।” তিনি বলেন, “ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, এবং এই একত্রিত হওয়ার চেতনাকে আরও লালন করা প্রয়োজন (Maha kumbh 2025)।”

    মহাকুম্ভে অমৃত স্নান

    চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল মহাকুম্ভে অমৃত স্নান। শেষ হয়েছিল ৪৫ দিন পরে, ২৬ ফেব্রুয়ারি। তিন পক্ষের এই মহাকুম্ভ বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে একটি। ৬৬ কোটিরও বেশি ভক্ত গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর সঙ্গমে পবিত্র স্নান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও ৫ ফেব্রুয়ারি ত্রিবেণী সঙ্গমে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি জানান, এই অনুষ্ঠানের প্রভাব ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তিনি মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গাবার্ডকে মহাকুম্ভের গঙ্গাজল উপহার দেন। প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে অংশ নিয়েছিলেন ৭৪টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) মতে, এটি এই গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সমাবেশের বৈশ্বিক সচেতনতা প্রদর্শন করে।

    ভারতের ঐক্যের শক্তি

    বিশ্বজুড়ে চলা সংঘাতের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “মহাকুম্ভ ভারতের ঐক্যের শক্তিকে প্রতিফলিত করে। বিশ্বের অনেক অংশ বিভক্ত থাকলেও, ভারত ঐক্য ও সম্মিলিত ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।” তিনি বলেন, এই ঐক্যই আমাদের আশীর্বাদ ও আমাদের শক্তি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের সময় ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিক প্রথাগুলি ঐক্যবদ্ধকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। মহাকুম্ভ, যা বিশ্বাসীদের এক বিশাল সমাবেশ, এটি লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বিশ্বাসের অনুভূতি পুনরায় জাগ্রত করে।” তিনি বলেন, “এই ধরনের বৃহৎ অনুষ্ঠানগুলি বিশ্বের কাছে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে এবং ঐতিহ্য রক্ষার পথে দেশকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।”

    পরিবেশগত গুরুত্বে জোর

    প্রধানমন্ত্রী মহাকুম্ভের পরিবেশগত গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনি একটি বৃহত্তর নদী সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বানও জানান। জল সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে ‘নদী উৎসব’ প্রসারিত করার অনুরোধও জানান। তিনি (PM Modi) বলেন, “কুম্ভমেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম টেকসই উন্নয়নে জন আন্দোলনের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।” নদী দূষিত ও শুকিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি জোর দিয়েছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলাশয় সংরক্ষণের পদ্ধতি শেখানো প্রয়োজনের ওপর। তাঁর মতে, নদী উৎসবের প্রসার ভারতের বিশাল নদী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে (Maha kumbh 2025)।

    ভারতীয় সংস্কৃতির শেকড়

    এদিন তিনি ফের বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতির শেকড় বুঝতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মহাকুম্ভের মতো ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।” একটি ক্রমবর্ধমান আধুনিক বিশ্বে, যেখানে অনলাইন শক্তি জীবনকে রূপান্তরিত করছে, সেখানে তিনি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি গর্বিত হয়েছেন এই ভেবে যে যখন দেখলেন তরুণরা তাদের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “মহাকুম্ভের মতো উৎসবগুলি কেবল ধর্মীয় সমাবেশই নয়, বরং ভারতের ঐতিহাসিক সহনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই ধরনের উৎসবগুলি যেন অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন (Maha kumbh 2025)।”

  • Maha kumbh 2025: শুরু হল নাসিক কুম্ভ ২০২৭-এর প্রস্তুতি, মহাকুম্ভস্থল পরিদর্শন বিশেষ প্রতিনিধি দলের

    Maha kumbh 2025: শুরু হল নাসিক কুম্ভ ২০২৭-এর প্রস্তুতি, মহাকুম্ভস্থল পরিদর্শন বিশেষ প্রতিনিধি দলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র ২ বছর পরেই ফের কুম্ভমেলার (Maha kumbh 2025) আয়োজন করা হবে দেশে। ২০২৭ সালেই আবার কুম্ভমেলা হবে। এবার আয়োজক শহর মহারাষ্ট্রের নাসিক। দেশের চার শহরে কুম্ভমেলা হয়— প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী। প্রতিটি শহরে কুম্ভমেলা আয়োজনের পৃথক হিসাব রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী নাসিকে পরবর্তী কুম্ভের বছর ২০২৭।

    কেন মাত্র দু’বছরের মধ্যেই পরবর্তী কুম্ভমেলা

    নাসিক এবং উজ্জয়িনীতে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয় ১২ বছর অন্তর। এই মেলাকে পূর্ণ কুম্ভমেলা বলা হয়ে থাকে। এর আগে গোদাবরী নদীর তীরে নাসিকে পূর্ণ কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ১২ বছর সম্পূর্ণ হচ্ছে ২০২৭-এ। ওই বছর ১৭ জুলাই থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত কুম্ভমেলা চলবে। শিপ্রা নদীর ধারে উজ্জয়িনীতে শেষ বার কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০১৬ সালে। ১২ বছরের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে আবার পূর্ণকুম্ভ আয়োজিত হবে ২০২৮ সালে। অর্থাৎ, পর পর দু’বছর মহারাষ্ট্রে এবং মধ্যপ্রদেশে দু’টি পূর্ণ কুম্ভমেলা হওয়ার কথা।

    হরিদ্বারেও কুম্ভমেলা ২০২৭-এ

    নাসিকে কুম্ভমেলার সময় জুলাই-অগাস্ট। প্রয়াগরাজ এবং হরিদ্বারের ক্ষেত্রে কুম্ভমেলার হিসাব কিছুটা আলাদা। এই দুই শহরে ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভের পাশাপাশি ছ’বছর অন্তর একটি করে অর্ধ কুম্ভমেলারও আয়োজন করা হয়ে থাকে। সুতরাং, প্রয়াগরাজে পরবর্তী কুম্ভমেলাটি হবে আরও ছ’বছর পরে ২০৩১ সালে। হরিদ্বারে শেষ বার কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০২১ সালে। সেটি ছিল পূর্ণকুম্ভ। নিয়ম অনুযায়ী, হরিদ্বারেও ২০২৭ সালে একটি অর্ধ কুম্ভমেলার আয়োজন হওয়ার কথা। ২০২৭ সালে একই বছরে পর পর দু’টি কুম্ভমেলার আয়োজন করা হবে। যদিও এই দুই মেলা আয়োজনের সময় ভিন্ন। হরিদ্বারে সাধারণত এপ্রিল মাসে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়।

    নাসিক কুম্ভের প্রস্তুতি

    সম্প্রতি নাসিক কুম্ভ ২০২৭-র প্রস্তুতি ঠিকভাবে করার জন্য প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ পরিদর্শন (Maha kumbh 2025) করে এক প্রতিনিধি দল। তারা বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মহাকুম্ভের গৃহীত ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। নাসিক থেকে আসা ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ডঃ প্রবীণ গেদাম এবং বিভিন্ন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যেমন স্পেশ্যাল ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ দত্তাত্রয় করালে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জলজ শর্মা, পৌর কমিশনার মনীষা খাত্রি এবং নাসিক মেট্রোপলিটন রিজিওন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সিইও মানিক গুরসাল। ডঃ প্রবীণ গেদাম বলেন, ‘‘আমরা ২০২৭ সালের নাসিকের কুম্ভমেলাকে ২০২৫ সালের মহাকুম্ভের মতোই জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি অর্জনের জন্য, আমরা এখানকার ব্যবস্থাগুলো অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের দল এই বিশাল অনুষ্ঠানের জন্য বাস্তবায়িত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখবে। স্নানঘাট ও আখড়া সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি আমরা। এটি নাসিক কুম্ভের জন্য আমাদের প্রস্তুতি আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।’’

  • Mithun Attacks Mamata: মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলায় মমতাকে ধুয়ে দিলেন ‘মহাগুরু’

    Mithun Attacks Mamata: মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলায় মমতাকে ধুয়ে দিলেন ‘মহাগুরু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভকে (Maha Kumbh 2025) ‘মৃত্যুকুম্ভ’ উল্লেখ করা নিয়ে মমতাকে এবার পাল্টা (Mithun Attacks Mamata) দিলেন বিজেপি নেতা তথা বিখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। দাদাসাহেব ফালকে জয়ী অভিনেতা তথা বিজেপি নেতার সাফ কথা, মমতা ভুল বলছেন, আসল কথা হল প্রয়াগরাজে সনাতনী ধর্মের আস্থার জয় হয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ সেখানে পূণ্যস্নান করেছেন। এদিকে, মহাকুম্ভের ১৪৪ বছরের চক্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করায় মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    কুম্ভ নিয়ে ঢোঁক গিললেন মমতা!

    ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যের বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা মঙ্গলবার ঢোঁক গিলে বলেন, ‘‘কুম্ভস্নান নিয়ে কিছু বলিনি। আমি বলেছি, কুম্ভ নিয়ে অব্যবস্থার কথা।’’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিঠুন (Mithun Attacks Mamata) বলেন, ‘‘কে কী বলছেন তার মধ্যে আমি যাব না। তবে চোখ তো মিথ্যে কথা বলে না। সত্তর কোটি ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে কত হবে জানি না, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, সবটা যেন সুস্থভাবে সম্পন্ন হয়।’’

    ‘‘যেটা উনি বলেছেন সেটা পুরোপুরি ভুল’’

    মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘আমি যতদূর জানি, পূণ্যস্নান সংক্রান্তিতে হয়। যেমন গঙ্গাসাগর প্রতিবার হয়, মহাকুম্ভে ১২ বছর পর পর হয়। তা বলে ১৪৪ বছর অন্তর মহাকুম্ভ, আমি যতটুক শুনেছি, এটা ঠিক নয়!’’ জবাবে মিঠুন (Mithun Attacks Mamata) বলেন, ‘‘যেটা উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছেন সেটা পুরোপুরি ভুল। ৭০ কোটি মানুষ প্রয়াগরাজে এসেছেন, পূণ্যস্নান করেছেন, এটা কি ভুল? এই মহাস্নান গরিব থেকে বড়লোক, সবাই এক জায়গায়, কোনও ভেদাভেদ নেই। ফলে সনাতনী ধর্মর কী পাওয়ার সেটা বুঝিয়ে দিল, গর্ব সে কহো হাম সনাতনী হ্যায়!’’

    ‘‘মানুষ দেখেছে সনাতন ধর্মের শক্তি’’

    মমতা দাবি করেছেন, মহাকুম্ভ (Maha Kumbh 2025) নিয়ে হাইপ তুলেছে যোগী প্রশাসন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি নস্যৎ করে ‘মহাগুরু’ (Mithun Attacks Mamata) বলেন, ‘‘এতে হাইপ তোলার কী আছে, হাইপ কেউ তোলেননি, আপনা থেকেই উঠেছে! যোগী সাহেব কাউকে ফোন করে বলেননি। মহাকুম্ভ পুণ্যের জায়গা, ফলে লোক নিজে থেকেই জড়ো হয়েছে, মানুষ দেখেছে সনাতন ধর্মের শক্তি।’’ একই সঙ্গে মিঠুন এও দাবি করেছেন, বাংলা থেকে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানির ঘটনা বন্ধ করতে চাইলে সবার আগে তৃণমূলের সরকারকে হঠিয়ে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই দায়িত্ব নিতে হবে বাংলার মানুষকেই।

    ‘‘সনাতন ধর্মের পবিত্র ঘটনাগুলিকে অবমূল্যায়ন করার প্রচেষ্টা’’

    শুধু মিঠুনই নন, মমতাকে একহাত নেন শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতাকে কটাক্ষ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লেখেন, ‘‘‘ধর্মীয়’ ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন যে, ১৪৪ বছরের মহাকুম্ভ চক্র ‘ভুল এবং প্রচারিত’। ঐতিহাসিক নথি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিদ্যাবিজ্ঞান মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) বৈধতা নিশ্চিত করে। তাঁর (মমতার) বারবার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সনাতন ধর্মের পবিত্র ঘটনাগুলিকে অবমূল্যায়ন ও অবমূল্যায়ন করার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে, যা তাঁর তুষ্টির রাজনীতির ব্র্যান্ড দ্বারাও প্রভাবিত।’’ শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, ‘‘যেহেতু তিনি ১৪৪ বছরের চক্রকে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তাই তিনি অবশ্যই যথাক্রমে ১২ বছর অন্তর পূর্ণ কুম্ভ, এবং ৬ বছর অন্তর অর্ধ কুম্ভ মেলার চক্র সম্পর্কেও সন্দেহবাদী। এই নির্বাচনী সংশয়বাদ তাঁর হিন্দু-বিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রকাশ করে।’’

    ‘‘তৃণমূলের ৫০ এমএলএ কুম্ভে স্নান করেছেন’’!

    এরই সঙ্গে, নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা মমতাকে মনে করিয়ে দেন, তাঁর (মমতার) দলেরই কত নেতা-মন্ত্রী সব প্রয়াগে গিয়ে পুণ্যডুব দিয়ে এসেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আমি নিজে ওখানে স্নান করেছি। তৃণমূলের তো ৫০ জন এমএলএ ওখানে(কুম্ভে) স্নান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকুম্ভ বলার পরে ক্যানিংয়ের এমএলএ স্নান করেছেন। উত্তরপাড়ার এমএলএ স্নান করেছেন শুনলাম। যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনে আসার জন্য এসব বলেন। তবে বিপদে পড়লে তাঁরাই বলেন ভগবান আমায় রক্ষা করুন। সেই সঙ্গে তৃণমূলের নেতারা মহাকুম্ভে স্নান করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেন বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।’’

  • Maha Kumbh 2025: মহা শিবরাত্রিতে মহাকুম্ভে শেষ অমৃত স্নান! উপচে পড়ল ভিড়, কন্ট্রোল রুমে বসে যোগী

    Maha Kumbh 2025: মহা শিবরাত্রিতে মহাকুম্ভে শেষ অমৃত স্নান! উপচে পড়ল ভিড়, কন্ট্রোল রুমে বসে যোগী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহা শিবরাত্রির (Maha Shivratri) উপলক্ষে মহা কুম্ভের শেষ অমৃত ‘স্নান’ (Last Amrit Snan)। মহা কুম্ভের (Maha Kumbh 2025) শেষ দিনে পবিত্র স্নান করার জন্য ত্রিবেণী সঙ্গমে (Prayagraj Sangam) বিপুল ভক্ত সমাগম। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। গোটা পরিস্থিতির ওপর নিজের অফিস থেকে নজরদারি চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) স্বয়ং। জানা গিয়েছে, গোরক্ষনাথ মন্দিরে একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছেন যোগী। সেখান থেকেই অনবরত নজরদারি চালাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের হিসেব জানাচ্ছে, এদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৮২ লক্ষ মানুষ পুণ্যডুব দিয়েছেন। এদিন সকালে এক্স হ্যান্ডলে যোগী আদিত্যনাথ জানান, কুম্ভে ৬৩.৬৩ কোটি মানুষ স্নান করেছেন। মেলা শেষে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে, তা নিশ্চিত।

    লাখ লাখ পূণ্যার্থী প্রয়াগরাজে

    গত ১৩ জানুয়ারি মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) সূচনা ঘটেছিল। ৬ সপ্তাহ ধরে চলেছে এই ধর্মীয় ‘মহামিলন’। এর মধ্যে মোট ৬ দিন ‘শাহি স্নানের যোগ’ ছিল- ১৩ জানুয়ারি (পৌষ পূর্ণিমা), ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি), ২৯ জানুয়ারি (মৌনী অমাবস্যা), ৩ ফেব্রুয়ারি (বসন্ত পঞ্চমী), ১২ ফেব্রুয়ারি (মাঘী পূর্ণিমা), ২৬ ফেব্রুয়ারি (মহা শিবরাত্রি)। মহাকুম্ভের শেষ শাহি স্নানের সময় সঙ্গমে ডুব দিতে ভোররাত থেকেই ঘাটে ঘাটে ভিড় জমিয়েছেন লক্ষাধিক পূণ্যার্থী। মহা শিবরাত্রি (Maha Shivratri) উপলক্ষে মহাকুম্ভে ডুব দিয়ে পুণ্য অর্জনের ‘শেষ সুযোগ’ যাতে হাতছাড়া না হয়ে যায়, তার জন্যে লাখ লাখ পুণ্যার্থী প্রয়াগরাজে ভিড় জমিয়েছেন।

    কুম্ভে কড়া নিরাপত্তা

    শেষ অমৃত স্নান (Last Amrit Snan) উপলক্ষে গোটা কুম্ভ এলাকায় গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে আজ কোনও ভিআইপি-র জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে না কুম্ভে। এদিকে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। নিকটবর্তী ঘাটেই স্নান করতে বলা হয়েছে পুণ্যার্থীদের। এদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশে ডিআইজি (কুম্ভ) বৈভব কৃষ্ণ দাবি করেছেন, শিবরাত্রিতে ‘জোড়া পরিস্থিতি’ সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি করেছে পুলিশ বাহিনী। ৩৭ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, ১৪ হাজার হোমগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। ২৭৫০টি এআই ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ৩টি জল পুলিশ স্টেশন বসানো হয়েছে। এছাড়াও ১৮টি জল কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। এরই সঙ্গে ৫০টি ওয়াচটাওয়ার বসানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরারি চালানো হচ্ছে যাতে কোনও ভুয়ো খবর না ছড়ানো হয়। ভারতীয় রেলওয়েও মহা শিবরাত্রির (Maha Shivratri) জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি মহা কুম্ভ ২০২৫-এর (Maha Kumbh 2025) চূড়ান্ত অমৃত স্নানের (Last Amrit Snan) পর তীর্থযাত্রীদের ফিরে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়াগরাজ থেকে ৩৫০ টিরও বেশি অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

  • Maha Kumbh 2025: মহাকুম্ভে মহাকীর্তি! ৬০ কোটি ভক্তের ডুব, সঙ্গে ৩ লাখ কোটির ব্যবসা

    Maha Kumbh 2025: মহাকুম্ভে মহাকীর্তি! ৬০ কোটি ভক্তের ডুব, সঙ্গে ৩ লাখ কোটির ব্যবসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পর প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাকুম্ভ (Maha Kumbh 2025)। এই মহাকুম্ভে ডুব দিয়েছেন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান থেকে কূটনীতিক। বলিউড থেকে শিল্পপতি। দেশের রাজনৈতিক নেতা থেকে ক্রীড়া জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। প্রতিদিনই সারা ভারত যেন প্রয়াগরাজের অভিমুখে এগিয়ে চলেছে। এই আবহে মহাকুম্ভের অর্থনৈতিক দিকটি সামনে এসেছে। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) একটি সমীক্ষা চালিয়েছে এবং সেখানে জানানো হয়েছে যে পৃথিবীর বৃহত্তম এই যে ধর্মীয় সমাবেশ অর্থাৎ মহাকুম্ভ এখানেই বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে ও পরিষেবা দিয়ে আনুমানিক তিন লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) পৃথিবী জুড়ে একটি বড় ইভেন্ট হিসেবে প্রচুর মানুষের সমাগমই হতে চলেছে তা নয়, এটি পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনৈতিক ইভেন্টগুলির মধ্যেও অন্যতম হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে মহাকুম্ভে স্থাপিত হতে চলেছে মহাকীর্তি। অনুমান করা হচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬০ কোটিরও বেশি ভক্ত পুণ্যস্নান সারবেন।

    ৬০ কোটির ডুব, ৩ লাখ কোটির ব্যবসার

    কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের অন্যতম কর্তা তথা চাঁদনী চকের সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম মানব সমাবেশ হতে চলল এই মহাকুম্ভ। একইসঙ্গে এর অর্থনৈতিক দিকটির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। প্রবীণ জানিয়েছেন, মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার আগে তাঁরা অনুমান করেছিলেন যে প্রয়াগরাজে ৪০ কোটি ভক্তের আগমন ঘটবে এবং প্রায় দু লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হতে পারে। কিন্তু মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার পর থেকে যেভাবে ভক্তদের ঢল নামতে শুরু করে, তারপরে সমস্ত হিসাব নিকাশ বদলে যায়। এখন আর চল্লিশ কোটি ভক্ত নয়। এখন মনে করা হচ্ছে ৬০ কোটি ভক্ত পবিত্র স্নান করবেন মহাকুম্ভে। একইসঙ্গে দু লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা ঠেকতে পারে তিন লক্ষ কোটি টাকাতে। প্রসঙ্গত, আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। মহাকুম্ভ চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রি পর্যন্ত। সেই সময়ের মধ্যে আশা করা হচ্ছে যে ৬০ কোটি মানুষ মহাকুম্ভের পুণ্য স্নানে অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলেই তিন লক্ষ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হবে মহাকুম্ভকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে ৫৩ কোটিরও বেশি ভক্ত মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান সেরেছেন এবং প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ভক্ত হিসেবে আসছেন।

    কোন কোন ব্যবসা বাড়ল (Maha Kumbh 2025)

    মহাকুম্ভকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশে অর্থনীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন অনেক ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ছোটখাটো ব্যবসা ব্যাপক বেড়েছে। ক্যালেন্ডার, পাটের ব্যাগ, স্টেশনারি রাখার মতো বাক্স, ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়- এই সমস্ত পণ্যগুলোর ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রিও বেড়েছে। মহাকুম্ভের অর্থনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) এর মহাসচিব আরও বলেন,যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক ব্যবসা বড়েছে, সেগুলি হল-

    -আতিথেয়তা এবং আবাসন

    -খাদ্য ও পানীয় ক্ষেত্র

    -পরিবহন ও সরবরাহ

    -ধর্মীয় পোশাক, পূজা সমাগম এবং হস্তশিল্প

    -বস্ত্র, পোশাক এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য

    -স্বাস্থ্যসেবা এবং সুস্থতা পরিষেবা

    -ধর্মীয় নৈবেদ্য এবং অন্যান্য পণ্য

    -মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং বিনোদন

    -অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবা

    -টেলিকম, মোবাইল, এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম

    ১৫০ কিলোমিটার আশেপাশে অর্থনীতির উন্নতি

    কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) আরও জানিয়েছে যে উপরে উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় এবং জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হয়েছে। মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) অর্থনৈতিক এমন সুবিধা শুধুমাত্র যে প্রয়াগরাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, এমনটা নয় এই অর্থনৈতিক বিকাশ ১৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে। এর মধ্যে থাকা প্রত্যেকটি শহর এবং জনপদেও ব্যবসা বেড়েছে যা স্থানীয় অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে। মহাকুম্ভকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রীদের মধ্যে পর্যটনও বেড়েছে। অযোধ্যা বারাণসী সমেত উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলিতে বেড়েছে ভক্তদের ভিড়।

    অন্যান্য তীর্থস্থানেও ভিড়

    কারণ ভক্তরা যখন প্রয়াগরাজে আসছেন তখনই তাঁরা মনস্থির করছেন যে একইসঙ্গে কাশী বিশ্বনাথ ধাম ও অযোধ্যার রাম মন্দিরও তাঁরা দর্শন করবেন। নিকটবর্তী আশেপাশে অঞ্চলে যে সমস্ত ধর্মীয় স্থান আছে, সেগুলিতে তাঁরা যাবেন। এর ফলেই বাড়ছে ধর্মীয় পর্যটক (Maha Kumbh 2025)। এই অঞ্চলগুলিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নও ব্যাপক হচ্ছে। এই শিল্প সংস্থার কর্তা আরও জানিয়েছেন মহাকুম্ভ একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে এবং একটি প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য যেমন রয়েছে, তেমন এর অর্থনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। মহাকুম্ভকে কেন্দ্র করে ব্যবসা বেড়েছে প্রচুর মানুষের। সমৃদ্ধ হয়েছে জাতীয় এবং স্থানীয় ব্যবসা।

  • Maha Kumbh 2025: ‘এই আধ্যাত্মিক মেলার জন্য ভারত সরকারকে অভিনন্দন’, কুম্ভে মজে বিদেশি পর্যটকরা

    Maha Kumbh 2025: ‘এই আধ্যাত্মিক মেলার জন্য ভারত সরকারকে অভিনন্দন’, কুম্ভে মজে বিদেশি পর্যটকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভ (Maha Kumbh 2025) ঘুরে উচ্ছ্বসিত বিদেশি পর্যটকরা। মহাকুম্ভ দেখার অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই হয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। ওই মেলা চত্বর ঘুরে দেখে উচ্ছ্বাস এবং বিস্ময় প্রকাশ করেন বিদেশ থেকে আসা শয়ে শয়ে ভক্ত। কুম্ভমেলার এই রকম আয়োজন দেখে বিস্মিত এবং মুগ্ধ তাঁরা। এই মহা-আয়োজনকে এক গ্লোবাল ইভেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন তাঁরা।

    মানব আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল

    বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের মতে, মহাকুম্ভ শুধুমাত্র মানব আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল নয়, এটি একটি ঐশ্বরিক ঘটনা যা সকল জীবের কল্যাণে সহায়ক, পাখি ও প্রাণীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, বিদেশি পর্যটকরা এই অভিজ্ঞতাকে একটি জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আধ্যাত্মিক উত্থান এবং সাংস্কৃতিক বিশালতার অসাধারণ এক পরিসর। এ প্রসঙ্গে এক পর্যটক বলেন, ‘এই রকম একটি ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক মেলার আয়োজন করার জন্য আমি ভারত সরকারে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘এই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং ভারতের ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’ তাঁরা জানান, মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) এসে যে জিনিস তাঁরা দেখলেন তা কোনও দিনই ভুলবেন না।

    সারা জীবনে একবারই আসে

    মহাকুম্ভ ২০২৫ (Maha Kumbh 2025) বিশ্বব্যাপী তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এর মধ্যে দিল্লির মনিকা তার ত্রিবেণী সঙ্গম পরিদর্শনকে তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি শুধুমাত্র মিডিয়াতে এসব মুহূর্ত দেখেছি, কিন্তু তা সরাসরি অভিজ্ঞতা করা আমার ধর্ম এবং মানবতায় বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। এটি একটি অবিস্মরণীয় আধ্যাত্মিক যাত্রা।” এক বিদেশি পর্যটকের কথায়, এখানকার সরকার যেভাবে এই বিপুল জনসামাগম সামলেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। তিনি বলেন, “ভিড়ের পরিমাণ সত্ত্বেও, এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের মধ্যে যে ইতিবাচক শক্তি রয়েছে, তা সকলকে এক সূত্রে বেঁধে রেখেছে।” মহাকুম্ভ মেলা দর্শন সারা জীবনে একবারই আসে বলে উল্লেখ করেছেন অন্য এক পর্যটক। তিনি বলেন, ‘এখানে এসে আমরা ভারত এবং তার নাগরিক সংস্কৃতিকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি।’

  • Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘ক্ষমা চান’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধু-সমাজ

    Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘ক্ষমা চান’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধু-সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভকে ‘‘মৃত্যুকুম্ভে’’র সঙ্গে তুলনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিজেপির পাশাপাশি সাধু সম্প্রদায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিধানসভায় মহাকুম্ভ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সাধু সম্প্রদায় বলেছে যে মমতার বক্তব্য সনাতন ধর্মের অপমান। তাঁর মন্তব্য সনাতন ধর্মের এবং মহাকুম্ভের পবিত্রতার প্রতি অবমাননা। সাধু-সন্তদের মতে, মহাকুম্ভ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সনাতন সংস্কৃতির আত্মা, যা কোটি কোটি ভক্তের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।

    মহাকুম্ভের মহিমা দেখেছে বিশ্ব

    শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহাননির্বাণীর জাতীয় সম্পাদক মহন্ত যমুনা পুরী বলেছেন যে, দায়িত্বশীল পদে থেকেও এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোভা পায় না। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ হল অমৃত পর্ব, যার দেবত্ব এবং মহিমা সমগ্র বিশ্ব দেখেছে। মহাকুম্ভের নামের সাথে এই ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।’’ এবং এই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। পঞ্চ দশনাম আবাহন আখড়ার আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী অরুণ গিরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সনাতনীদের জন্য ‘মৃত্যুর রাজ্য’ হয়ে উঠছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তাঁর উচিত উত্তরপ্রদেশের নয়, নিজের রাজ্যের কথা চিন্তা করা।’ যোগী আদিত্যনাথ মহাকুম্ভের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং তিনি এই মহৎ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।’’

    সনাতন ধর্মের ওপর আক্রমণ

    নির্মোহী আনি আখাড়ার মহান্ত রাজেন্দ্র দাস মমতার মন্তব্যকে সনাতন ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ সনাতন ধর্মকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। মমতা এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন না কারণ তিনি সবসময় সনাতন মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যকে অবমাননা করেছেন।’’ তিনি মন্তব্য করেন। মহামণ্ডলেশ্বর ঈশ্বর দাস মহারাজ মমতার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এটা তাঁর সনাতন বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন। তিনি সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তিনি পশ্চিমবঙ্গকে আরেকটি বাংলাদেশে পরিণত করতে চান।’’

    প্রয়াগরাজে আসুন মমতা

    অযোধ্যা হনুমান গড়ী মন্দিরের মহান্ত রাজু দাস মমতার মন্তব্যকে ‘‘অলভনীয়’’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানান। একইভাবে, স্বামী জিতেন্দ্রনন্দ সরস্বতী এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেন, ‘‘মহাকুম্ভ সনাতন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতীক। সন্ন্যাসী সম্প্রদায় মমতার কথার নিন্দা করেছে।’’ গোবর্ধন মঠ পুরী’র স্বামী অঢোকশজনন্দ দেব তীর্থ মমতাকে প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে আসার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তিনি এর আধ্যাত্মিক মহিমা উপলব্ধি করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘৫০ কোটিরও বেশি সনাতনিরা এই ‘অমৃত কুম্ভ’ থেকে দৈবিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। একে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজনীতিকদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।’’

  • Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলছেন’’! ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী, মমতাকে তোপ সুকান্ত-শুভেন্দুর

    Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলছেন’’! ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী, মমতাকে তোপ সুকান্ত-শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভায় মহাকুম্ভকে মৃত্যকুম্ভ বলে বিপাকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’)। বিজেপি বিধায়কেরা সে সময়ে অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের খবর ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই আক্রমণ তুঙ্গে তুলেছে বিজেপি। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজমুদার বা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত মালব্যও। একযোগে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধু-সন্তরাও।

    ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী

    শুভেন্দু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘লজ্জাজনক, নিন্দনীয় এবং অসম্মানজনক! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন এটা মহাকুম্ভ নয়, মৃত্যুকুম্ভ! যে পবিত্র মহাকুম্ভ ১৪৪ বছর পর হচ্ছে, তার সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ধারণাই নেই।’ শুভেন্দুর দাবি, ‘‘ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’) এই মন্তব্য প্রত্যাহার করুন, ক্ষমা চান। মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলতে পারেন না। ৪০ কোটি হিন্দু পুণ্যার্থী এখানে স্নান করেছেন। হিন্দু সমাজ, সন্ত সমাজকে বলছি প্রতিবাদ করুন। এটা হিন্দুদের উপর আঘাত, মহাকুম্ভের উপর আঘাত।’’

    বাংলা থেকে অমৃত-কুম্ভের সন্ধানে

    মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাকুম্ভের প্রসঙ্গ টেনে মৃত্যুকুম্ভ (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’) বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে মহাকুম্ভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান, এক হয়েছে হিন্দুস্থান। মহাকুম্ভকে কেন্দ্রকে গোটা পৃথিবীর হিন্দুরা অনেকদিন পর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দলদাস আইপিএসরা ওনাকে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েক লক্ষ হিন্দু, সেটা ১ কোটির বেশি ২ কোটিও হতে পারে, স্রোতের মতো গিয়েছেন। তৃণমূলের অনেক পরিচিত সাংসদ, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তাঁরাও নিজেদের মহাকুম্ভে ডুব দেওয়ার ছবি দিয়েছেন। বাধ্য হয়েছেন ছাড়তে। তাই মুখ্যমন্ত্রী আজকে ভয় পাচ্ছেন কুম্ভকে দেখে।”

    কুম্ভের অপমান সহ্য করবে না হিন্দুস্থান

    বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “এখনও পর্যন্ত মহাকুম্ভে ৪০ কোটি মানুষ গিয়েছেন। সবাই আশা করছেন, আরও ১০ কোটি মানুষ যাবে। সেখানে আপনি মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছেন। আপনি বলেছেন কুম্ভমেলা টাকা রোজগারের জন্য করা হয়েছে। এতবড় অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এই মন্তব্যের খেসারত আপনাকে দিতে হবে। মহাকুম্ভের অপমান হিন্দুস্থান সহ্য করবে না। হিন্দুস্থান আপনাকে গণতান্ত্রিকভাবে সবক শেখাবে। মহাকুম্ভকে অপমান করার জন্য যেখানেই সুযোগ পাবেন, মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ান। প্রয়াগরাজের সব আখড়াকে অনুরোধ করব, এই অপমানের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।”

    প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির

    শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, ‘তাঁর (মমতার) জানা উচিত যে, এ বার পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী মহাকুম্ভে গিয়েছেন এবং এখনও যাচ্ছেন।’ মমতার শব্দবন্ধ কেন্দ্র করে কর্মসূচিও ঘোষণা করে দিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর ‘মৃত্যুকুম্ভ’ শব্দবন্ধ এবং বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশনের প্রতিবাদে বিজেপি পরিষদীয় দল বৃহস্পতিবার গোটা বিধানসভা জুড়ে মিছিল করবে বলে শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন। বিধানসভা চত্বর থেকে বেরিয়ে সেই মিছিল যাবে রাজভবনে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে অভিযোগ জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সে জন্য মঙ্গলবারই রাজ্যপালের কাছ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে।

    মহাকুম্ভ পৃথিবীর ঐতিহ্য

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) আপাতত সরকারি সফরে আন্দামানে। সেখান থেকেই তিনি বলেছেন, ‘‘মহাকুম্ভ শুধু হিন্দুদের উৎসব নয়, এটা গোটা পৃথিবীর কাছে একটা ঐতিহ্য। কিন্তু শুধু নিজের ভোটব্যাঙ্ককে তোষণ করবেন বলে তিনি মহাকুম্ভ সম্পর্কে এই কথা বললেন।’’ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে সুকান্ত বলেন, ‘‘মহাকুম্ভ ঘুরে আসুন। যেখানে ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি ভক্ত ডুব দিয়েছেন, সেখানকার জন্য কী বিশাল ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে দেখে আসুন।’’ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা বাংলার সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘‘মহাকুম্ভকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অযাচিত আক্রমণ হল ২০২৬ সালে তাঁর আশু পরাজয়ের প্রথম লক্ষণ। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে তিনি ঘাবড়ে গিয়েছেন। তিনি চূড়ান্ত পরাজয়ের ভয় পাচ্ছেন।’’

    ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

    মহাকুম্ভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সমস্যা হল সনাতন ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করা খুবই সহজ। একই স্তরে অন্য কোনও ধর্মের সমালোচনা করতে পারে না। বুঝতে পারে না যে তাঁরা কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী। তিনি বলেন, ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করছি। মমতাদিদি এটা সত্যি যে মহাকুম্ভ নয় আপনার জন্য এটা মৃত্যুকুম্ভের বরাবর। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, পূর্ব ভারত থেকে যেভাবে আসছেন কুম্ভস্নানের জন্য আসছেন। আপনার অস্থির হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আপনার রাজনৈতিক কেরিয়ারের জন্য মৃত্যুকুম্ভই হতে চলেছে।’’

  • Maha Kumbh 2025: মহাকুম্ভে মিলন মেলা, পবিত্র প্রয়াগে পুণ্য-স্নান পাকিস্তানের ৬৮ পুণ্যার্থীর

    Maha Kumbh 2025: মহাকুম্ভে মিলন মেলা, পবিত্র প্রয়াগে পুণ্য-স্নান পাকিস্তানের ৬৮ পুণ্যার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-ভারত দুই দেশের রাজনৈতিক দূরত্ব সত্ত্বেও, ওয়াঘার ওপার আর এপারে রয়েছে আত্মার টান। পাকিস্তান (Pakistani Hindus) থেকে দেবভূমি ভারতের মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) যোগ দিলেন সিন্ধু প্রদেশের ৬৮ জন হিন্দু ভক্তের একটি দল। বৃহস্পতিবার প্রয়াগরাজে পৌঁছে সঙ্গমের পবিত্র জলে ডুব দিলেন তাঁরা। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন সূত্রের খবর ভক্তরা গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জন্য প্রার্থনা করে আচার অনুষ্ঠান করেন।

    মহাকুম্ভে মোক্ষলাভ

    পাকিস্তানের (Pakistani Hindus) করাচিতে অবস্থিত শ্রী পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির সমিতির অধ্যক্ষ শ্রীরামনাথ মিশ্র মহারাজের নেতৃত্বে ওই দলটি পাকিস্তান থেকে কলসবন্দি করে নিয়ে এসেছেন ৪০০ হিন্দুর অস্থি। উদ্দেশ্য, মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) পুণ্যলগ্নে মা গঙ্গায় মোক্ষের সন্ধান। গত ৮ বছর ধরে প্রিয়জনের অস্থি রাখা হচ্ছিল পাকিস্তানের শ্মশানেই। প্রিয়জনের অস্থি গঙ্গায় বিসর্জন দিতেই এত বছরের অপেক্ষা। মহাকুম্ভের পুণ্যলগ্নে এই সব অস্থি ভারতে আনার জন্য বিশেষ ভিসা দেওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে। ভিসা পেয়েই গত সোমবার ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ৪০০ পাকিস্তানি হিন্দুর কলসবন্দি অস্থি নিয়ে আসা হয় ভারতে।

    মহাকুম্ভে অভিভূত পুণ্যার্থীরা

    মহন্ত রামনাথ জানান, মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) আসার আগে তাঁরা প্রথমে হরিদ্বার যান। সেখানে তাঁদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে ভস্ম বিসর্জন দেন। তার পর ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্যস্নান করেন সকলে। গত বছর এপ্রিল মাসে পাকিস্তান থেকে ২৫০ জন প্রয়াগরাজে গিয়ে গঙ্গায় স্নান করেছিলেন। এ বার সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি, সুক্কুর, খাইরপুর, শিকারপুর, কারকোট এবং জটাবল জেলা থেকে ৬৮ জন পুণ্যার্থী এসেছেন। যার মধ্যে ৫০ জন প্রথমবার কুম্ভে এলেন। ওই দলের এক সদস্যা সংবাদসংস্থাকে বলেন, ‘‘এটা খুবই আনন্দের অনুভূতি। প্রকাশ করার মতো কোনও ভাষা আমার কাছে নেই। আগামিকাল আমরা ফের পুণ্যস্নান করব। এখানে থাকা আমাদের সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যের জন্য আমরা গর্বিত।’’ সিন্ধু থেকে আসা এক গৃহবধূ বলেন, ‘‘ভারতে এবং মহাকুম্ভে এলাম আমার প্রথমবার। এখানে আমাদের সনাতন সংস্কৃতি উপলব্ধি করাটা এক ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা। আমরা সিন্ধুতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। সেখানে হিন্দুদের প্রতি খুব বেশি বৈষম্য নেই। তবে ভারতে আমাদের ঐতিহ্য প্রত্যক্ষ করা এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা।’’

  • Maha Kumbh 2025: মাঘী পূর্ণিমার আগেই মহাকুম্ভে ভক্ত সংখ্যা ছাড়াবে ৪০ কোটি!

    Maha Kumbh 2025: মাঘী পূর্ণিমার আগেই মহাকুম্ভে ভক্ত সংখ্যা ছাড়াবে ৪০ কোটি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) ভক্ত সংখ্য ৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি রয়েছে মাঘী পূর্ণিমার অমৃত স্নান। মনে করা হচ্ছে তার আগেই চল্লিশ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করে যাবে মহাকুম্ভ। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার পরে বিগত ২৪ দিনে পবিত্র স্নান সেরেছেন ৩৮.২৯ কোটি ভক্ত। হিসেব বলছে, ৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুর দুটো নাগাদ পবিত্র সঙ্গমে ভক্ত সংখ্যা ছুঁয়ে যায় ৫৯.২৪ লক্ষে। হিসেব বলছে, প্রতি দুই ঘণ্টায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ ভক্ত স্নান করছেন। এভাবেই মহাকুম্ভ একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে কুম্ভমেলার যে অভূতপূর্ব্যবস্থা সেটারও প্রশংসা ঝরে পড়ছে ভক্তদের মুখে, তীর্থযাত্রীদের মুখে (Magha Purnima)। তাঁরা যোগী ও মোদি- এই দুই সরকারেরই প্রশংসা করছেন।

    লখনউ থেকে এসেছিলেন প্রমেশ্বর ত্রিপাঠী

    লখনউ থেকে এসেছিলেন প্রমেশ্বর ত্রিপাঠী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্নানের কারণে কোনওরকমের বিঘ্ন ঘটেনি। সবকিছুই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদেরকে প্রটোকলের নামে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। অন্যদিকে, মুম্বই থেকে আগত ভক্ত অদিতি শ্রীবাস্তব এবং তাঁর পরিবার প্রশংসায় ভরিয়ে তোলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। এর পাশাপাশি, প্রশাসনেরও ব্যাপক প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, কোনও ভিভিআইপি আসছেন বলে তাঁদেরকে কোথাও থামানো হয়নি। কোনও সমস্যার সম্মুখীন তাঁরা হননি (Maha Kumbh 2025)। অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সবকিছু সম্পন্ন হচ্ছে।

    মাদুরাই থেকে এসেছিলেন ভক্ত রঙ্গনাথন

    মাদুরাই থেকে এসেছিলেন ভক্ত রঙ্গনাথন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, ভুটানের রাজা এসেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, কূটনীতিক আধ্যাত্মিক সন্ন্যাসী- সকলেই এই মহাকুম্ভে স্নান করেছেন। এটা কেবলমাত্র ভারতেই ঘটছে। মোদি-যোগীর কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি পুলিশকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তার কারণ তিনি সঙ্গে এনেছিলেন ৭২ বছর বয়সি মাকে। তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। তাই পুলিশ ট্রাই সাইকেলের মাধ্যমে তাঁকে পবিত্র স্নান করিয়েছেন। প্রসঙ্গত, মহাকুম্ভ (Maha Kumbh 2025) শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি, ২৬ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির পর্যন্ত তা চলবে।

LinkedIn
Share