Tag: Maha shivratri 2026

  • Maha shivratri 2026: সৃষ্টি ও জ্ঞানের প্রতীক শিব, জেনে নিন শিব রাত্রির ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য

    Maha shivratri 2026: সৃষ্টি ও জ্ঞানের প্রতীক শিব, জেনে নিন শিব রাত্রির ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহা শিবরাত্রিতে (Maha shivratri 2026) ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে ভক্তরা নিজেদের পুজো আরাধনাকে উৎসর্গ করে থাকেন। স্বয়ং শিব পবিত্র ত্রিমূর্তির প্রতীক। শিবরাত্রির উৎসব শিব ও শক্তির মিলনকে নির্দেশ করে, যা ভারসাম্য, সৃষ্টি এবং জ্ঞানালোকের মূর্ত রূপ। এই দিন কোটি কোটি শিব (Lord Shiv) ভক্ত নিজের মনের বাসনা পূরণ করতে ভগবান শিবকে স্মরণ করে থাকেন। লোকবিশ্বাস, শিবরাত্রিতে শিবের উপাসনা করলে যে কোনও অসাধ্য সাধন হয়। মনস্কামনা পূর্ণ হয়। দেশজুড়ে দ্বাদশ শিবলিঙ্গ সহ শৈব বিগ্রহগুলিতে শিবের উপাসনা করা হয়।

    শিবরাত্রির মহাত্ম্য (Maha shivratri 2026)

    মহাশিবরাত্রি (Maha shivratri 2026) হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র উৎসব। ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে পালিত হয়, যিনি মহাজাগতিক শক্তি, মন্দের বিনাশ এবং জীবনের নবায়নের প্রতীক। উৎসবের আক্ষরিক অর্থ হলো শিব চতুর্দশীতে শিবের স্মরণে রাত্রি জাগরণ। বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে এই উৎসব। প্রতি বছর কোটি কোটি ভক্ত রাত জেগে শিবের (Lord Shiv) মন্ত্র জপ এবং আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র রাতে একাগ্র চিত্তে উপাসনা করলে পূর্বের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং দিব্য চেতনার সঙ্গে মিলন ঘটে।

    এই বছর, মহা শিবরাত্রি পালিত হচ্ছে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী এই উৎসব পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চতুর্দশী তিথি

    • শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ০৫:০৪ মিনিটে।
    • শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ০৫:৩৪ মিনিটে।

    পূজা ও ব্রতের মূল সময়সূচি

    • নিশীথ কাল পূজার সময়: রাত ১২:০৯ থেকে রাত ০১:০১ পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি)।
    • শিবরাত্রির পারণ (উপবাস ভাঙার সময়): সকাল ০৬:৫৯ থেকে দুপুর ০৩:২৪ পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি)।

    ভগবান শিব অনন্ত আলোকস্তম্ভ

    মহা শিবরাত্রি (Maha shivratri 2026) শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উপাসনার রাত নয়; এটি একটি মহাজাগতিক ঘটনা যা সৃষ্টি ও ভারসাম্যের দুই মূল শক্তি—শিব ও শক্তির মিলনকে প্রতীকায়িত করে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই রাতেই ভগবান শিব (Lord Shiv) অনন্ত আলোকস্তম্ভ অর্থাৎ ‘জ্যোতির্লিঙ্গ’ রূপে প্রকট হয়েছিলেন, যা সমগ্র সৃষ্টিতে তাঁর অসীম উপস্থিতি এবং শক্তির পরিচয় দেয়।

    চার প্রহরের তাৎপর্য ও সময়সূচি

    মহা শিবরাত্রির রাতকে চারটি ‘প্রহর’-এ ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রহর আধ্যাত্মিক জাগরণের ভিন্ন ভিন্ন ধাপকে নির্দেশ করে:

    • প্রথম প্রহর: চেতনার জাগরণ। (সময়: সন্ধ্যা ০৬:১১ – রাত ০৯:২৩)
    • দ্বিতীয় প্রহর: ঐশ্বরিক ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ। (সময়: রাত ০৯:২৩ – রাত ১২:৩৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি)
    • তৃতীয় প্রহর: মন ও আত্মার শুদ্ধিকরণ। (সময়: রাত ১২:৩৫ – ভোর ০৩:৪৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি)
    • চতুর্থ প্রহর: দিব্য শক্তির সঙ্গে পরম মিলন বা মোক্ষ লাভ। (সময়: ভোর ০৩:৪৭ – সকাল ০৬:৫৯, ১৬ ফেব্রুয়ারি)

    আত্মা পরিশুদ্ধ হয়

    শাস্ত্রমতে, এই চার প্রহরে ভক্তি ও সচেতনতার সঙ্গে পুজো করলে অসীম আধ্যাত্মিক পুণ্য এবং শান্তি লাভ করা যায়। সারা রাত জেগে বেলপাতা, দুধ, জল ও ধুতুরা ফুল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করার সময় নিরবিচ্ছিন্নভাবে “ওঁ নমঃ শিবায়” (Lord Shiv) মন্ত্র জপ করলে ভক্তের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং ভগবান শিবের (Maha shivratri 2026) আশীর্বাদ লাভ হয়।

LinkedIn
Share