Tag: Malda

Malda

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal CM) এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকাল ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন।

    সূচনা ও তৃণমূল পর্ব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনের আগে নিজের মন্ত্রীসভার পদ আর দায়িত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর  নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় কাজ করেন। অবশেষে দুই বার মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিজেপির এই বিধায়ক (West Bengal CM)।

    সাংসদ থেকে মন্ত্রী

    আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর রাজনৈতিক জীবন –

    ১৯৯৫: রাজনৈতিক সূচনা

    পারিবারিক ঐতিহ্যের হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষেক। কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় প্রথম পদার্পণ করেন।

    ১৯৯৯: তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে উত্থান

    কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। সে বছর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে দলের জয়ের নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু।

    ২০০১ – ২০০৪: প্রাথমিক চড়াই-উতরাই

    ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়া এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বামফ্রন্ট প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    ২০০৬: প্রথম বিধানসভা জয়

    দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০০৭ – ২০০৮: নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও সাংগঠনিক ম্যাজিক

    ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এর সুফল মেলে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বামমুক্ত হয়। ওই বছরই তিনি যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান।

    ২০০৯: লোকসভায় জয় ও দিল্লি যাত্রা

    তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বাম দুর্গ ধসিয়ে দিয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

    ২০১১ – ২০১৪: ক্ষমতার কেন্দ্রে পদার্পণ

    রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে এই সময়েই দলের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁর কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ২০১৬: মন্ত্রী হিসেবে অভিষেক

    নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার সফলভাবে সামলান।

    ২০১৯ – ২০২০: দূরত্ব ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

    দলের অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন।

    ২০২১: নন্দীগ্রামের যুদ্ধ ও বিরোধী দলনেতা

    বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় হাসিল করেন। ফলস্বরূপ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়।

    ২০২৬: বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।

    ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে (West Bengal CM) লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে তিনি হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।

    বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লক্ষ্য

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের মূল মন্ত্র হবে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাংলাকে পুনরায় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করাই  প্রশাসনের অগ্রাধিকার হবে। বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।”

    তৃণমূল নেত্রীর একসময়ের প্রধান সহযোগী থেকে আজ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মসনদে আসীন হওয়া— শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক বিবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

  • Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal Election 2026) রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের (Newtown BJP Worker) এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে মালাদায় বিজেপি কর্মী খুনে এবার ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বিজেপি কর্মীদের।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Newtown BJP Worker)

    ৫ মে নিউটাউন থানা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়।  অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল এবং তার অনুগামীরা ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের (West Bengal Election 2026) ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কমল মণ্ডল। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাদের উপর মারধরও করা হয়। তবে ব্যাপক মারধরের কারণেই মধু মণ্ডলের মতো বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা

    নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। বিজেপির (Newtown BJP Worker) অভিযোগ, জয়লাভের পর তৃণমূল কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    এলাকা শান্ত রাখতে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ (West Bengal Election 2026) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নিউটাউন (Newtown BJP Worker) থানার পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা

    অন্যদিকে, মালদা জেলায় এক বিজেপি সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়

    বুধবার গভীর রাতে ইংরেজ বাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন যুবক প্রথমে কিশানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে মহেশপুরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে, কিশানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশ থেকে একটি বড় ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

  • NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মালদায় (Malda) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনার তদন্তে ১২টি মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)।

    এনআইএ-র বিবৃতি (NIA)

    গভীর রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে এনআইএ-র তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের জন্য তারা ফের মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানায় ৭টি এবং কালিয়াচক থানায় ৫টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ মালদায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এনআইএ-র তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই এই মামলাগুলির বিস্তারিত তদন্তের জন্য মালদায় পৌঁছে গিয়েছে।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত মালদায় সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও সংক্রান্ত মামলাগুলি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় ও সরকারি দফতরে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১ এপ্রিলের ঘটনাসংক্রান্ত ১২টি মামলা হস্তান্তর করে (NIA)। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে। ওই চিঠিতে একটি ভয়াবহ রাতের বিবরণ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন মহিলা এবং পাঁচ বছরের একটি শিশু-সহ জুডিশিয়াল অফিসারদের ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খাদ্য ও জল ছাড়াই আটকে রাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

    হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ

    মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তিরস্কার করে। ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় নারিয়ালাকে ক্ষমাও চাইতে বলে শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বেঞ্চের নির্দেশ, গ্রেফতার হওয়া ২৬ জন অভিযুক্তকে মামলার নথিপত্র-সহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে, কারণ এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না (NIA)। আদালত এনআইএকে এই ঘটনার হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয় এবং জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে (Malda)।

    মূল অভিযুক্ত হেফাজতে

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, মূল অভিযুক্ত মফাকেররুল ইসলাম এবং মৌলানা মহম্মদ শাহজাহান আলি কাদরি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রয়েছেন হেফাজতে। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা প্রকাশ করে এবং এটি শুধুমাত্র জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করার শামিল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ৭০০ জুডিশিয়াল অফিসার বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬০ লক্ষেরও বেশি আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে তাঁদের।

    সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে,  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এবং তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে গ্রুপ কল করেছিলেন। পরে তাঁরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন এবং মধ্যরাতের পর আটক বিচারপতিদের মুক্ত করা হয় (NIA)। প্রধান বিচারপতি এও জানান, উদ্ধার হওয়ার পরেও জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, হামলা চালানো হয় লাঠি এবং ইট দিয়েও (Malda)।

  • Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে এনআইএ-র রিপোর্ট পেশ, রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ শীর্ষ আদালতের

    Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে এনআইএ-র রিপোর্ট পেশ, রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা (Malda) মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় তদন্তপ্রক্রিয়া কতদূর এগোল, সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ২০২৬ সালের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “যদি রাজ্যের বিচার বিভাগীয় অফিসাররাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিচার ব্যবস্থার ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না।”

    ২২ জন  বুথ লেভেল অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ (Supreme Court)

    মোথাবাড়ি (Malda) অঞ্চলের ২২ জন  বুথ লেভেল অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা। তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে অনুমান। বিচারকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখেই এই রিপোর্ট তৈরি করছেন তদন্তকারীরা। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে মোথাবাড়ির বিডিও অফিসে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল সাতজন বিচারবিভাগীয় (Supreme Court) আধিকারিককে। শুধু তাই নয় সেই সঙ্গে শারীরিক ভাবে হেনস্থাও করা হয়। তাঁদের মধ্যে নারী আধিকারিকরাও ছিলেন। ভিড়ের তান্ডবে তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এই খবরটি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। সেই সময় গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। দুষ্কৃতীদের একটা বড় অংশ স্থানীয় আইএসএফ, এমআইএম এবং তৃণমূলকর্মী বলে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

    এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

    এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং (Sonia Singh IG NIA) ইতিমধ্যেই ২৫ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে রাজধানী পৌঁছে গিয়েছেন। আজ, সোমবার সেই রিপোর্ট জমা পড়তে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। হামলার আগে-পরে ঠিক কী ঘটেছিল, প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল—সবটাই এখন সর্বোচ্চ আদালত তদন্ত করে দেখছে। মোথাবাড়ির ঘটনার দিন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যারপরনাই অসন্তুষ্ট ছিল শীর্ষ আদালত। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও জেলার এসপি, ডিএম-দের শো’কজ করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর (SIR)-এর কাজ করছেন যাঁরা, সেই বিচারকদের ঘিরে এরকম বিক্ষোভ হল কী করে? পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণ করা গেল না? পুলিশ প্রশাসন কী করছিল? এই সব দিক খতিয়ে দেখে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এনআইএ-এর রিপোর্ট দেওয়ার কথা।সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা গিয়েছে এটি কেবল একটি সাধারণ জনরোষ নয়, বরং বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    এসআইআর ইস্যুতে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, আদালত নিযুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এনআইএ তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। ঘটনার পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও সুপ্রিম কোর্ট আগেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিল, প্রয়োজন পড়লে আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

    কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে কী ঘটেছিল?

    ঘটনার দিন বুধবার সকাল থেকেই জমায়েত শুরু হয়েছিল কালিয়াচক (Malda) ২ নম্বর বিডিও অফিসে। প্রথম সারিতে ছিলেন মহিলারা। আচমকা একসময় বিডিও অফিসের ভিতরেও ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের বের করে দেয়। কিন্তু তারপরেও তারা এলাকা ছাড়েননি! শেষে রাতে যখন বিচারকরা (Supreme Court) পুলিশের ঘেরাটোপে বেরোচ্ছেন, তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে প্রচুর বিক্ষোভ দেখায় দুষ্কৃতীরা। সামাজিক মাধ্যমে সামনে আসা একাধিক ভিডিওতে এমন ছবি দেখা যায়।

    রাজ্য সরকারের অবস্থান

    অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালিয়াচককাণ্ড প্রসঙ্গে (Malda) জানানো হয়েছে যে তারা যথাসাধ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং বর্তমানে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মোথাবাড়ির ঘটনা নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিধানসভার নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই ঘটনার পর থেকে এসআইআর, বিচারকদের হেনস্থার মতো ঘটনা আগামী বিধানসভার ভোটে  প্রভাব ফেলবে বলে মত প্রকাশ করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের মানুষ। তবে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বিজেপির পক্ষে জনমত গঠন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসক—সবার কাছেই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ (Bansuri Swaraj)। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি সাংবিধানিক প্রয়োজন।

    গণতন্ত্র পদদলিত

    লোকসভার জিরো আওয়ারে বিষয়টি উত্থাপন করে বাঁশরী দাবি করেন, এই ঘটনায় “গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয়েছে”। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে। বিশেষ করে মহিলা কর্মকর্তাদের আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানান বাঁশরী। তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন নৈরাজ্য মেনে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, দ্রুত এই ঘটনা নিয়ে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট

    অন্যদিকে কমিশনকে একহাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, জুডিশিয়াল আধিকারিকদের নিরাপত্তা কমিশনের দায়িত্ব। এজন্য যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, তা কমিশনকে করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সরাসরি পর্যবেক্ষণে জানান, পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা ‘রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ’ আগে কখনও দেখেনি। সুপ্রিম কোর্টের এও পর্যবেক্ষণ, এ রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ পালন নিয়েও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে শুনানি শুরু করে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি হাতে নেয়।

  • Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliyachak Incident) অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল (Mofakkarul Islam) পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে প্রথমে বাগডোগরা থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরু যাওয়ার বিমানের টিকিট ছিল মোফাক্কেরুলের। গ্রেফতারের পরে সমাজমাধ্যমে লাইভ করেন তিনি। সেখানে দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন এবং কাউকে উস্কানিও দেননি। তাঁর দাবি, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এসআই নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ দেখে তাঁর বক্তব্য রেখেছিলেন। মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    প্ররোচনামূলক পোস্ট মোফাক্কেরুলের

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তারও। তবে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মোফাক্কেরুল লিখেছেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ গ্রেফতারির পর ফেসবুকে লাইভ ভিডিও পোস্ট তিনি বলেন, “নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রতিবাদে ছিলাম বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে অ্যারেস্ট হলাম।” পরে অবশ্য ভিডিওটি মোফাক্কেরুলের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেখা যায়নি।

    বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা

    উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে ‘মূল প্ররোচনাকারী’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল। জয়রামন জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মালদা কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

    কে এই মোফাক্কেরুল

    ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। কিন্তু সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

    মূলচক্রী মোফাক্কেরুল

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কালিয়াচকের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। তার পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষপর্যন্ত মালদা কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতিমধ্যেই,মালদা কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) আইজি সনিয়া সিং। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার বেশ কয়েক জন নেতা স্থানীয় মানুষদের প্ররোচিত করেছিলেন। তার পরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার ‘মূলচক্রী’ হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে।

    প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

    শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাত থেকেই ভাইরাল হয়ে কালিয়াচকের বিক্ষোভের একটি ছবি। সেখানে দেখা যায়, বিপুল জমায়েতের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কিছু বক্তব্য রাখছেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে গিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    এই ঘটনায় বিজেপির দাবি, কেউ কেউ ভারতে বসেই দেশের ক্ষতি করছেন। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যাঁরা এই ঘটনার পিছনে আছেন, যাঁরা কার্যত ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, যাঁরা জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের খুঁজে খুঁজে আইনের অধীনে আনতে হবে। ভারতে বসে ভারতের ক্ষতি করা হচ্ছে।” মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘রাজ্যে পুলিশের সিআইডি শাখা নেপালে পালানোর সময় মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছে। মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। এই ইটাহারে তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রধানের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের যোগাোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

  • SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) নাম না থাকায় বুধবার কার্যত তাণ্ডব চলল মালদার (Malda) কালিয়াচকে। সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। পরে, পুলিশ গিয়ে বিচারকদের উদ্ধার করে।

    সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ (SIR)

    বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলছিল। এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি, বিডিও অফিসের গেট আটকেও দিয়ে চলে বিক্ষোভ। জেলার একাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় বুধবার দুপুর থেকেই। এর মধ্যেই খবর আসে, সাত বিচারক দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েছেন বিডিও অফিসেই। ওই বিচারকরা ট্রাইবুনালের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় উন্মত্ত জনতা ইট-পাটকেল ছোড়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে। পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গাড়ির সিটে পড়ে রয়েছে কাচের টুকরো। জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে ছিলেন বিচারকরা।

    পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় বাঁশ ফেলে চেষ্টা করা হয় পুলিশের কনভয় আটকানোর। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছে শুধু তাই নয়, বিচারকদের যখন উদ্ধার করে আনা হচ্ছিল সেই সময় রাস্তায় বাঁশ ফেলে কনভয় আটকানোর চেষ্টা করা হয়। মহিলা বিচারকদের শারীরিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের উস্কানি (SIR)।”

     রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন

    প্রসঙ্গত, প্রায় একদিন ছাড়া সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বের করছে নির্বাচন কমিশন। এখনও অবধি প্রায় ২২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তারই প্রতিবাদে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, মূলত তাঁরাই প্রথম পথে নামেন। কালিয়াচকের ওই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন (SIR)। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের কাছে গন্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে জেলাশাসকের অফিসে সরানোর জন্য আগেই জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, জানানোর পরেও জেলা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

  • Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা আছি বলেই আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে কোনও দিন ভুল বুঝবেন না।” দিন কয়েক আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নবান্নের গদি বাঁচাতে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে দিলেন তৃণমূলেশ্বরী (Mamata Banerjee)। অবশ্য (Communal Violence) এই প্রথম নয়, ২০১১ সালে মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। জনমানসে এটি রাজ্যের প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    ম্লান পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ (Communal Violence) 

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে দেখা হত একটি সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বৌদ্ধিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক সহাবস্থানের আঙ্গিকে। কিন্তু গত এক দশকে, মমতা জমানায় ধারাবাহিক দাঙ্গা, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ বাংলার এই ভাবমূর্তিকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক বিরোধ বা স্থানীয় উত্তেজনা থেকে শুরু হওয়া ঘটনাগুলি দ্রুতই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি ঘটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, মালদার কালিয়াচকে। এক বিরাট উন্মত্ত জনতা হিংসাত্মক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় থানায়, গাড়িতে আগুন লাগায়, ধ্বংস করে সরকারি সম্পত্তি। তাণ্ডবের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়।

    হাওড়ায় হিংসা

    ওই বছরেরই শেষের দিকে হাওড়া জেলার ধুলোগড়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায়। এলাকার বহু বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগানো হয়, যার জেরে অনেক বাসিন্দাকে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে হয়। কয়েকদিন ধরে চলা এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে, ২০১৭ সালে। উত্তেজনার আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো হিংসাত্মক ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা, মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    বঙ্গে অশান্তির আগুন

    এর ঠিক পরের বছরই ২০১৮ সালে, রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয় আসানসোল ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে। নতুন করে ছড়ায় হিংসার আগুন। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের জেরে কয়েকজন নিহত হন, নষ্ট করা হয় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি (Mamata Banerjee)। ২০১৯ এবং ২০২০ সালের শুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রতিবাদ জানানোর সময়ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বহু জেলায় রেললাইন অবরোধ করে, ভাঙচুর করে রেলস্টেশনে, ট্রেনে লাগিয়ে দেয় আগুন। হিংসা এবং বিক্ষোভের জেরে বহু জায়গায় ক্ষতি করা হয় জনসাধারণের সম্পত্তির।

    নির্বাচনোত্তর হিংসা

    আর একটি বড় হিংসার ঘটনা ঘটে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় ভোট-পরবর্তী হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘরে হামলা হয়, নষ্ট করা হয় সম্পত্তি, বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ (Communal Violence)। বাংলার এই হিংসাই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলির তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে হয় আদালত ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর অনেক এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়, ঘরছাড়াও হতে হয়েছিল বহু মানুষকে।

    রামনবমীতেও হিংসার ছবি

    ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও রামনবমী উদযাপনের সময় হাওড়া, রিষড়া ও মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পাথর ছোড়া, তাজা বোমা নিয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে (Mamata Banerjee)। কোনও কোনও এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রশাসন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা গাড়ি, পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া দোকান এবং শুনসান রাস্তাঘাটের ছবি। বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার জের পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নানা সময় উঠে এসেছে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। রাজ্য সরকারের সমালোচকরা দাবি করেন, স্থানীয় বিরোধকে সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নেওয়া থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেও পারেনি তারা।

    রাজনৈতিক উত্তেজনা

    রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অনেক সময় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিতে ইন্ধন জুগিয়ে পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তোলে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঐতিহাসিক তুলনাও টানা হয়েছে হুসেন শহিদ সুরাবর্দির সময়ের সঙ্গে। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনকাল ১৯৪৬ সালের ‘ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সেই ঘটনা বাংলার ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় (Mamata Banerjee) আজও। এই ঘটনার গভীর ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে বাংলার সামাজিক কাঠামোয় (Communal Violence)।

     

LinkedIn
Share