Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

  • Mamata Banerjee: হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

    Mamata Banerjee: হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ও শর্তাবলী লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে আদালতের অবমাননার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    বিঘ্নহীন সভার অনুমতি (Mamata Banerjee)

    শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি দিক সম্পূর্ণ সচল রাখার কথা ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।

    শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ

    অভিযোগ, সভার দিন সেই নির্দেশই কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় মঞ্চ থেকে ইশারা করেন। এরপর রাস্তার অন্য পাশে গাছের তলায় জড়ো হয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও দলীয় কর্মী ব্যারিকেড সরিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের দুই দিকই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যস্ত ওই এলাকায় বাস, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল থমকে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি দিক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু গাছের নীচে থাকা লোকজনদের ডেকে এনে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন? আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রুজু করতে। পাশাপাশি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই বেআইনি কাজ (Mamata Banerjee) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

    শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গাছের তলায় থাকা কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলের সামনে নিয়ে এসে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “দেখুন কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। গাছের নীচে থাকা লোকদের ডেকে এনে রাস্তা বন্ধ করে দিলেন। এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছি, তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও বলেছি।”

    হাইকোর্টের শর্ত

    উল্লেখ্য, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভার ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক শর্ত দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভায় দেড় হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সভাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ ছিল।

    এছাড়াও (Mamata Banerjee) যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ক্যাথিড্রাল রোড এবং রানি রাসমনি রোডের অন্তত একটি করে দিক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশই সভার দিন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে (Suvendu Adhikari) এবং আদালতে বিষয়টি কীভাবে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদন করা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব (CAA Citizenship) দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah on CAA)। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাওয়াখালিতে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি।” তিনি জানান, সিএএ-র আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলাশাসককে সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ ক্ষমতা

    নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সেইসব জটিলতা কেটে যাবে। সেই বার্তাও এদিন দিয়েছেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সমস্ত শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদের সিএএ-র অধীনে পড়ে থাকা আবেদনগুলি প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা দেয়। এর আগে এই আবেদনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হত। ওই কমিটিতে জনগণনা দফতর, গোয়েন্দা ব্যুরো এবং ডাক বিভাগের আধিকারিকরাও থাকতেন। অমিত শাহ জানান, সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ৮ জন জেলা শাসককে ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর দাবি, সমস্ত যোগ্য শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    সিএএ প্রসঙ্গে মমতাকে নিশানা শাহ-র

    নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন চালু করেছে। বাংলা-সহ ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ থেকে এই বাংলাতেও অনেক শরণার্থী এসেছেন অতীতে। তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সেই কথা জানানো হয়েছিল। অনেকেই সিএএ-তে আবেদন করে ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছিল। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। শিলিগুড়িতে (Amit Shah in Siliguri) ফের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শাহ। এদিন সিএএ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শাহ। তাঁর দাবি, CAA চালুর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন। শাহ বলেন, “মমতাদিদি সিএএ কার্যকর করতে রাজি হননি। দেশের সুরক্ষার ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছেন মমতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকেও যেতে হয়েছে, আপনার সরকারকেও যেতে হয়েছে। এখন এখানে বিজেপির সরকার রয়েছে।” নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী—বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা যোগ্য হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সিএবং খ্রিষ্টান অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

    শ্যামাপ্রসাদ-এর সংকল্প

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেন। কংগ্রেস সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল! স্বাধীনতার সময় জওহরলাল নেহরু ও লিয়াকতের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেসময় হিন্দু শরণার্থীরা, বিশেষ করে বাংলার হিন্দুরা আরও কোণঠাসা হয়েছিলেন বলে মত রাজনীতিকদের একাংশের। ভিটেমাটি-সহ সব কিছুই হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন অমিত শাহ বলেন, “সেই চুক্তি যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পড়েছিলেন, তিনি বলেন কংগ্রেস পূর্ব পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হিন্দুদের কথা চিন্তা করেননি। ভারতের মুসলমানের চিন্তা করেছেন কিন্তু হিন্দুদের কথা বলেনি।” শাহ জোর গলায় এদিন বলেন, “এখন শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিক করছেন। আমরা বাকিদেও নাগরিকত্ব দেব।”

    অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার

    ভারতের নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের ওপর শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করবে এবং তাদের রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকার ‘শনাক্ত, বাতিল এবং বহিষ্কার’ (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে আবারও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করা হবে।’ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থলসীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে হওয়া অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) প্রতিনিয়ত রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিএএ বাস্তবায়নকে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

  • Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিকেনস নেকের (Amit Shah on Chicken’s Neck) নিরাপত্তায় ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড বানিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। প্রথম দিন রয়েছেন শিলিগুড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনেক ব্যবস্থা নিচ্ছে, বলে বার্তা দেন শাহ। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি ।

    চিকেনস নেকের সুরক্ষায় ত্রি-কোণ গ্রিড

    দেশের মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ একটি সরু ফালি। অথচ কৌশলগত গুরুত্বে গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু শিলিগুড়ি করিডর, ‘চিকেনস নেক’। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে সেই করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়েই বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান ৮ রাজ্যকে যোগ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা এটি। নেপাল, ভূটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত এর সঙ্গে জড়িত। এটা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ঘোষণা, “শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” শাহ জানান, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি- এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ক্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড চিকেন্স নেকের সিকিউরিটির দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই পুরো এলাকার উপর কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হচ্ছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’ এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

    মমতা-সরকারকে নিশানা

    নিজের বক্তব্যের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, আগে একাধিকবার এই ধরনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসার জন্য অনুরোধ জানান হয়েছে। পালাবদলের পরে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এসেছেন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজি বলছিলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসএসবির অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু আগেও আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আসতেন না।’ সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অমিত শাহ পূর্বতন সরকারের সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    শুভেন্দু-সরকারের প্রশাংসা

    শাহ মনে করিয়ে দেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া দরকার। কিন্তু সেই কাজটাই এত দিন আটকে ছিল জমি না পাওয়ার জন্য। তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি।’ অমিত শাহ সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।’ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ‘চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছলেন।’

    দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর

    তিনি আরও জানান, শুধু সেনা বা এজেন্সির মাধ্যমে কোনও জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং তার জন্য় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। তাই ২০২৬-২৭ বাজেটে দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরি করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গৌরব মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা মহেশ দীক্ষিত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ডঃ রাজেন্দ্র কুমার, এসএসবি-র ডিজি সঞ্জয় সিংঘল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্যান্য শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

    ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, ‘স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হতো না। আমার দুঃখ হতো। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আরও ভালো ভাবে জানতে পারবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন এসএসবি-র জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসএসবি জওয়ানরা অসামান্য সেবা দিয়েছেন। কারগিল যুদ্ধের পর ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল সীমান্ত এবং ২০০৪ সাল থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রকৃতপক্ষে ৬৯৯ কিমি) দীর্ঘ ভারত-ভূটান সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এসএসবি। কাঁটাতারহীন উন্মুক্ত সীমান্তে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রীতি বজায় রেখে দিবারাত্রি কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, যা এসএসবি জওয়ানরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান

    অমিত শাহের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসবি-র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান। অমিত শাহকে চাণক্যর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি চাণক্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে অমিত শাহজি সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন।’ ২০৪৭-এ বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকবে বলে আশা শুভেন্দুর।

  • Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রহস্যমৃত্যু বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee)। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (TMC)। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। আশিস আত্মহত্যা করেছেন কি না, করলে তার কারণই বা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি আশিসের। বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার সকালে সেখানেই মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশও। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

    টানা বিধায়ক (Ashish Banerjee)

    ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও একাধিকবার ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন আশিস। মন্ত্রিসভায় বিরাট কোনও দায়িত্ব কোনওদিনই পাননি আশিস। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। বীরভূমের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন আশিস। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। তবে জেলার রাজনীতিতে অনুব্রতের প্রভাবের কারণে আশিসের রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ সীমিত ছিল বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বগটুই গণহত্যায় অস্বস্তিতে ছিলেন আশিস

    ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইয়ে গণহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল। সেই সময় আশিসকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও নিজের বিধানসভা এলাকায় ভোটের ফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন (TMC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তিনি (Ashish Banerjee)। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। দলের অনেক নেতার সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলের খবর। ভোটে হেরে যাওয়ার পর আশিসকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছিল না।

    মৃত্যুর কারণ

    তাঁর মৃত্যুর পিছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আশিসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন অনুব্রত। বলেন, “এত ভালো লোক। কেন এই কাজ করলেন, বুঝতে পারছি না। ওঁর কোনও শত্রু নেই। কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই। কোনও মানসিক চাপই ছিল না। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতেই যেতেন না। আমি প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছি (TMC)। ওঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। খুব নিরীহ, শান্ত লোক ছিলেন। আশিস (Ashish Banerjee) কোনও দুর্নীতিতে ছিলেন বলে আমার মনে হয় না।”

     

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

  • Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রবিবারের ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মমতার গাড়িকে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা বিজেপির পরিকল্পিত নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’।

    কী বলেছেন শুভেন্দু?

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনি জেড প্লাস ক্যাটিগরি পান। আমরা প্রত্যাহার করিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৫ বছর ছিলেন। বয়সও হয়েছে। ওনাকে যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা এবং ওনার সম্মান রাখা উচিত। সে কাজ পুলিশ করেছে। পুলিশ খারাপ কিছু করেনি।” রবিবারের ঘটনাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির ‘সন্ত্রাস’ চলছে। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই পুলিশকে ব্যবহার করে ‘লুম্পেন’দের জড়ো করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুভেন্দুর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে। এরপর থেকে কানে যে ইয়ারফোনগুলো লাগায়, সেগুলো ব্যবহার করুন, তাহলে আর চোর শুনতে পাবেন না।”

    হালিশহর গেলেন শুভেন্দু

    এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সোমবার হালিশহরে মৃত কর্মী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর। হালিশহরে গেলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেবল সমবেদনা জানানোই নয়, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট করে দিলেন, হেফাজতে মৃত্যু কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিকভাবে ওই থানার আইসি (IC)-কে ক্লোজ করার এবং তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রীর জন্য রাজ্য সরকারের হোম মিনিস্টারের কোটায় ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ওই টাকা যেন সন্তানদের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালানো হয়।

    “আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ”

    সেই পরিবারের সঙ্গে মমতার যোগাযোগ এবং তাঁর সেখানে যাওয়া নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।  শুভেন্দুর দাবি, বীরজু কেওটের পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “বাড়ির লোক বলছে, না আমরা ডাকিনি৷ উনি যুক্ত হন, চাই না আমরা৷ আপনাকে ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, আপনি বলছেন না আমি দরজা ভেঙে ঢুকব৷ বাড়ির লোক বলছে পুলিশের তদন্তে আস্থা আছে, উনি এক আইনজীবী নিয়ে নাটক করতে গিয়েছেন। পুলিশকে না জানিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের লোক আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে৷”

    “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন”

    রবিবার আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দু’বছর আগে ওই রাতেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। পানিহাটির বাসিন্দা ওই চিকিৎসকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন। হাত জোড় করে বলতেন ক্ষমা করে দিন। রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন।”

    মমতাকে তোপ শমীকেরও

    এদিকে, মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটির সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও বিজেপি কর্মী যুক্ত নন। একইসঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন। শমীক বলেন, “দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নন। শুভেন্দু অধিকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, সেই অত্যাচার বিজেপি কিন্তু তৃণমূলের ওপর করেনি। কিন্তু পাথর ছোড়া, কাদা ছোড়া এ তো তৃণমূলের শেখানো সংস্কৃতি।”

    মমতার গাড়িতে হামলা, প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিজেপি-তৃণমূলের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এরই মধ্যে হালিশহরে শুভেন্দুর কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

  • Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। বেড়েছে বরাদ্দ। অন্যদিকে, যুবসাথী হয়েছে যুবশক্তি। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও দু’টি নাম। কন্যাশ্রী (Kanyashree) ও সবুজসাথী (Sabujsathi) প্রকল্প। তৃণমূল সরকারের আমলের এই দু’টি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্য দিকে, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বণ্টনের বহুল পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথি’।

    পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দু’টি জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনও প্রকার বদল আসবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে যে ভাবে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদ্‌যাপন করা হত, সেই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। তবে এ বার থেকে তা নতুন পরিচয় নিয়ে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”

    কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন

    ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য় হল ছাত্রীদের স্কুলছুট আটকানো, বাল্যবিবাহ রোধ ও ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা মূলত তিন ধাপে দেওয়া হত। প্রথমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া। এরপর পরের ধাপে অবিবাহি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

    সবুজ সাথী হল সারথি

    সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হত সাইকেল। বিনামূল্যেই সাইকেল বিতরণ করত বিগত সরকার। নতুন সরকারও একইভাবে সাইকেল বিতরণ করবে। শুধু নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘সারথি’। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ প্রতিশ্রুতি মতোই সব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। উল্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বদলে দেওয়া হচ্ছে বিগত সরকারের দেওয়া প্রকল্পের নাম।

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই (21 July)। ১৯৯৩ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী। বাম জমানার সেই (Suvendu Adhikari) নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেই ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার, যে সরকারের চালিকা শক্তি ছিলেন মমতা স্বয়ং। টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা। তার পরেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত রিপোর্ট। প্রশ্ন হল, কেন দিনের আলো দেখেনি সেই রিপোর্ট? কেনই বা রাখা হয়েছিল ফাইল বন্দি করে? শেষমেশ সোমবার, ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সেই রহস্যের কুয়াশা কাটল। সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে রাজ্য বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের সেই বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এনেছেন, যা তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

    মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি (Suvendu Adhikari)

    বিধানসভায় তদন্ত রিপোর্টটি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কোনওরকম উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। যদিও মণীশ গুপ্তকে ওপর থেকে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কমিশন জানতে পারেনি। রিপোর্টের সূত্র ধরে শুভেন্দু আরও জানান, মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডোরিনা ক্রসিং— যেখানে যেখানে পুলিশের বন্দুক থেকে গুলি ছুটেছিল, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, সেই জায়গাগুলি রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে। বিক্ষোভকারীরা মহাকরণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, প্রশাসনের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। অথচ, পুলিশের গুলিতে যুবকদের যে মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনও যথার্থতা বা আইনি বৈধতা কমিশন খুঁজে পায়নি। এমনকি মহাকরণ থেকেও এই সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি।

    প্রধান সাক্ষী মমতাকেই ডাকেনি কমিশন!

    এই রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হল সাক্ষীদের তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং তৎকালীন পুলিশ কর্তা-সহ মোট ৪৪ জনকে তলব করেছিল কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে মমতার নেতৃত্বে সেদিন মহাকরণ অভিযান হয়েছিল এবং যিনি নিজেকে এই ঘটনার প্রধান সাক্ষী বলে দাবি করেন, তাঁকেই শুনানির জন্য ডাকেনি কমিশন! এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলে দিয়েছিলেন তাঁকে যেন না ডাকা হয়। আসলে আইন অনুযায়ী এই তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশনই মনে করে না।” এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পঙ্কজবাবু এই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁর নির্দেশে যুবকদের বুকে গুলি চলেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকে মমতা নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী করেছেন। তাই এই কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রহসন মাত্র (Suvendu Adhikari)।

    ক্ষমতার লোভ ও বিপুল সম্পত্তি

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু (21 July) করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতা পাওয়া তো বটেই, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়ানো এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া— সবই হয়েছে এই দিনটিকে পুঁজি করেই। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা কী ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজও জানতে পারেনি।” শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের নামে বিশাল তোড়জোড় এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেও, আদতে শহিদদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনও মানসিকতাই তাদের ছিল না। নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতে পারেন, এই ভয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ফাইল বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। শহিদদের আবেগকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।

    তৃণমূলের ত্রিমুখী ভাঙন

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ক’দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, মণীশ গুপ্তকে আড়াল করতেই ২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাই প্রকৃত বিচার চেয়ে তিনি রিপোর্টটি জনসমক্ষে আনার অনুরোধ জানান। কাকলির সেই পত্র পাওয়ার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন। এর ফলে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের দিন বাংলায় নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যেতে চলেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। এবার আর এক ছাতার তলায় নয়, তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথকভাবে এই দিনটি পালন করবে। কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচি পালিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কর্মসূচি পালিত হবে ধর্মতলায়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এবং দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানাবেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, যাঁরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই পার্টিতে (Suvendu Adhikari)।

    এর ঠিক আগের দিন সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রমাণ সহ এই রিপোর্ট আমজনতার দরবারে পেশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন আর কতটা ধামাচাপা দিয়েছেন, তা এবার বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট (21 July) প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও খানিক উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share