Tag: Mamata Speech Controversy

  • Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আইনি বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, ওই সভা থেকে তিনি এমন কিছু ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।

    কী ঘটেছিল ধর্মতলার সভায়?

    এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা মঞ্চে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সভায় দেওয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার সম্ভাবনা ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ঠিক কী বলেছিলেন মমতা?

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য। মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায় না এবং তা সামাজিক বিভাজন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছিলেন, বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশকে প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা দায়ের?

    হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর তিনটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।

    • ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি করা অথবা সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনা দিয়ে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুতর প্রকৃতির এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি জটিলতা বাড়তে পারে।

    তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর হেয়ার স্ট্রিট থানা মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। তদন্তকারী আধিকারিক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং সভার বক্তব্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনের সভার ভিডিও রেকর্ডিং, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলির সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এফআইআর প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। একইসঙ্গে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

LinkedIn
Share