মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে তারা কত পরিমাণ ক্রুড অয়েল রফতানি করল, তার নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করবে না রাশিয়া (Russia)। শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিল মস্কো (Oil Export Data)। এদিন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এই তথ্য গোপন রাখা হবে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক অমঙ্গলকামী শক্তি। এই বিষয়টি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার জেরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য করা হয়েছে।
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি (Russia)
এই পরিস্থিতি সামনে আসে যখন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার মধ্যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে রাশিয়া তার বাণিজ্যিক স্বার্থ ও কৌশলগত পদক্ষেপকে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করতে সরবরাহের পরিমাণ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতে ঠিক কত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এ প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সরাসরি তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সঙ্গত কারণেই রাশিয়া সরবরাহের পরিমাণ সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করবে না।” বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক পক্ষ রাশিয়ার বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। আধিকারিকদের মতে, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাব কমাতে এই গোপনীয়তা রাশিয়ার বৃহত্তর রফতানি কৌশলেরই অংশ।
ক্রুড অয়েল সরবরাহ
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া এক সপ্তাহে (Russia) ভারতে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল (২২ মিলিয়ন ব্যারেল) ক্রুড অয়েল সরবরাহ করতে সক্ষম। এই বিষয়ে পেসকভ সরাসরি সংখ্যা নিশ্চিত না করলেও রাশিয়ার শক্তিশালী সরবরাহ সক্ষমতার ইঙ্গিত দেন। এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে একটি মানচিত্র দেখানো হয়, যেখানে আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারের গতিবিধি দেখানো হয়েছিল। জানা গিয়েছে, এসব ট্যাঙ্কার ভারতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত রিফাইনারিগুলির দিকে যাচ্ছিল, যা বর্তমানে চলা সামুদ্রিক লজিস্টিক কার্যক্রমের ব্যাপকতা তুলে ধরে (Oil Export Data)।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে
এদিকে (Russia), সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পৌঁছেছে চরমে। এই হামলায় জড়িত ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হারমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই সামুদ্রিক পথে পরিবাহিত হয় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারত ও চিনের মতো বড় ভোক্তা দেশগুলিকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
আমেরিকার অবস্থান
অন্যদিকে, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে রাশিয়ান তেল কেনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেই দেশই এখন ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এই ছাড়ের মাধ্যমে ভারতকে রাশিয়ান তেল কিনতে দেওয়া হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা যায় এবং সংকটকালে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা যায় (Russia)। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত নৌপথে বাধা তৈরি হওয়ায় রাশিয়া সরবরাহ বাড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাশিয়ার সূত্র থেকে প্রকাশিত মানচিত্র ও স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিপুল সংখ্যক রাশিয়ান তেলবাহী ট্যাঙ্কার ভারতের দিকে যাচ্ছে (Oil Export Data)। লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া তার রফতানি পাইপলাইন ও বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সরবরাহ অব্যাহত রাখছে। হারমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে অন্যান্য পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভারতীয় বন্দরগুলিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল পৌঁছানো যায়। আধিকারিকরা বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এই লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Russia)।”
