Tag: mark carney

  • India Canada Sign: ২৬০ কোটি ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি সই ভারত-কানাডার

    India Canada Sign: ২৬০ কোটি ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি সই ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Deal) স্বাক্ষর করল ভারত ও কানাডা (India Canada Sign)। সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় ওই চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরেনিয়াম খনন কাজে যুক্ত কানাডাভিত্তিক সংস্থা ক্যামকো (Cameco) ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড ইউরেনিয়াম ভারতে সরবরাহ করবে।

    যৌথ বিবৃতি (India Canada Sign)

    বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য আমরা একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছি। আমরা ক্ষুদ্র মডুলার রি-অ্যাক্টর এবং উন্নত রি-অ্যাক্টর ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করব।” দুই নেতা এ বছর একটি নতুন বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা চূড়ান্ত করতেও রাজি হন। এর পর নয়াদিল্লিতে প্রধান আলোচকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সিইপিএর শর্তাবলী চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হবে। ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উষ্ণতার স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে প্রতিরক্ষা, কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে (Uranium Supply Deal)।

    কী বললেন মোদি

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।” তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার কোটি ডলার। ওই বিবৃতি অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি উৎসে সহযোগিতা জোরদার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যময় করার জন্য দুটি মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে (India Canada Sign)। যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, কানাডার পেনশন তহবিলগুলি ভারতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন।

    কার্নির ভারত সফর

    প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনও কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করলেন। এর আগে জাস্টিন ট্রুডো সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। ২০২৪ সালে কানাডা খালিস্তানি চরমপন্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে, এই অভিযোগে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করলে দুই দেশই একে অন্যের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে (India Canada Sign)। কার্নির সরকার এই পরিস্থিতি বদলাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, “গত দু’দশকের যে কোনও বছরের তুলনায় এ বছর কানাডা ও ভারত সরকারের (Uranium Supply Deal) মধ্যে বেশি এনগেজমেন্ট হয়েছে।”

     

  • India And Canada: “ভারত ও কানাডা অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে”, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর বললেন কার্নি

    India And Canada: “ভারত ও কানাডা অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে”, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর বললেন কার্নি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও কানাডা (India And Canada) অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।” সোমবার কথাগুলি বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (Mark Carney)। এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (India And Canada)

    নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে মোদি ও কার্নির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হয়।  সেখানে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। বৈঠকের ভিডিও শেয়ার করে এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে কার্নি লেখেন, “ভারত ও কানাডা অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।” দুই নেতা ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অবস্থাও খতিয়ে দেখেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

    ইন্ডিয়া-কানাডা সিইও ফোরাম

    দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কার্নি এদিন বিকেলে ইন্ডিয়া-কানাডা সিইও ফোরামেও অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হচ্ছে কার্নির এই সফর (Mark Carney)। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক উদ্বেগ ও সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান, জনগণ-স্তরের দৃঢ় সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিপূরকতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন (India And Canada)। এদিন দিনের শুরুতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, মোদি-কার্নি বৈঠকের আগে। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, “আজ সকালে নয়াদিল্লিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত। ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার তাঁর অঙ্গীকারের প্রশংসা করছি (Mark Carney)।”

    ভারত সফরে সস্ত্রীক কানাডার প্রধানমন্ত্রী

    প্রসঙ্গত, কার্নি, তাঁর স্ত্রী ডায়ানা ফক্স কার্নিকে সঙ্গে নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারতের প্রথম সরকারি সফরে শুক্রবার মুম্বই পৌঁছেছিলেন। সোমবার তিনি নয়াদিল্লিতে আসেন। এর পর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছি। কানাডা ও ভারত দুই আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেশ, যারা একসঙ্গে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে চায়। আমাদের জনগণের জন্য আরও নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা জ্বালানি, প্রতিভা, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি (India And Canada)।”

    মুম্বইয়ে কার্নি ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেন এবং ভারতীয় ও কানাডীয় সিইও, শিল্প ও আর্থিক বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতে অবস্থিত কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেন (Mark Carney)। শুক্রবার মুম্বই পৌঁছানোর পর কার্নি ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি বলে অভিহিত করেছিলেন। কানাডীয় কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিকারী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি (India And Canada)। নভেম্বর ২০২৫-এ জোহানেসবার্গে জি২০ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে সর্বশেষ মোদি-কার্নি সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে মোদি জানিয়েছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত (Mark Carney)।

     

  • Canada PM: টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে বৈঠক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

    Canada PM: টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে বৈঠক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ (এআই) বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও কানাডা কীভাবে (Tata Group) অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    কার্নির বক্তব্য (Canada PM)

    এক্স হ্যান্ডেলে কার্নি লিখেছেন, “কানাডা ও ভারত—উভয়ই দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, যাদের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও এআই খাতে বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন এবং আমি মুম্বইয়ে সাক্ষাৎ করেছি—আমাদের দুই দেশ কীভাবে এই ক্ষেত্রগুলিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে উভয় দেশের মানুষের জন্য অধিকতর নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে মার্ক কার্নি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ভারতে সরকারি সফরে রয়েছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী কার্নির প্রথম সরকারি ভারত সফর। কার্নি ২৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে পৌঁছন। পরবর্তী দু’দিনে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেন এবং ভারতীয় ও কানাডীয় সিইও, শিল্প ও আর্থিক বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতে অবস্থিত কানাডীয় পেনশন ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন (Canada PM)।

    ভারত-কানাডা সিইও ফোরামে অংশ নেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী কার্নির ১ মার্চ নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। ২ মার্চ হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি-স্তরের বৈঠকে অংশ নেবেন। দুই নেতা ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে কানানাস্কিসে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহানেসবার্গে তাঁদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা হবে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই নেতা চলমান সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলি—বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক—পর্যালোচনা করবেন (Canada PM)। এছাড়াও তাঁরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করবেন।” প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভারত-কানাডা সিইও ফোরামেও অংশ নেবেন। উল্লেখ্য যে (Tata Group), দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

     

  • India Canada Relation: “নতুন সুযোগের দরজা খুলবে” মুম্বইয়ে পৌঁছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা কার্নির

    India Canada Relation: “নতুন সুযোগের দরজা খুলবে” মুম্বইয়ে পৌঁছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা কার্নির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার সন্ধ্যায় মুম্বই বিমানবন্দরে নেমেছেন। কানাডার (India Canada Relation) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ততা মিটিয়ে নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি মুম্বইয়ে পৌঁছন। এখানে তিনি ভারত ও কানাডার শীর্ষ শিল্পপতি, আর্থিক বিশেষজ্ঞ ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    কখন কোথায় যাবেন কার্নি

    মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কার্নি (Carney visit India) একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করবেন, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় কার্নি বলেন, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি। আমরা মুম্বইয়ে পৌঁছেছি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, যা কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে।” ১ মার্চ কার্নির নয়াদিল্লিতে যাওয়ার কথা। ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে জ্বালানি, শিক্ষা, খনিজ নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দু’দেশের জনগণের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এই সফরে শক্তি, খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

    মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কানাডা আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ার দিকে জোর দিচ্ছে। কার্নি বলেন, “এক অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা এমন বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করছে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনছি এবং ব্যাপক নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছি, যাতে আমাদের শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।” তিনি আরও বলেন, “দেশে স্থিতি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।” কার্নির এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সূচনার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কার্নির এই সফরকে ভারত-কানাডা সম্পর্কের (India Canada Relations) ‘রিসেট’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর আমলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কানাডার অভিযোগ ঘিরে। ভারত সেই অভিযোগ শুরু থেকেই জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

  • Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার (Tahawwur Rana) নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা (Canada)। কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত সফরে আসার কথা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির। তাঁর সেই সফরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে কানাডা তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের তোড়জোড় করছে। বর্তমানে ভারতে বন্দি রয়েছেন রানা। কানাডা সরকারের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়েছে তাঁকে। বছর চৌষট্টির রানা জন্মেছিলেন পাকিস্তানে। পরে কানাডীয় নাগরিকত্ব নেন। ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হেডলি মার্কিন নাগরিক।

    রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Canada)

    গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ রানার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০০১ সালে কানাডীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় রানা তাঁর বসবাস ও ভ্রমণ সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য দিয়েছিলেন। রানা দাবি করেছিলেন যে, তিনি আগের চার বছর অটোয়া ও টরন্টোয় বসবাস করেছেন—যা অভিবাসন কর্তাদের মতে অসত্য। তিনি আরও জানান যে, তিনি কানাডার বাইরে মাত্র ছ’দিন ছিলেন, অথচ জানা গিয়েছে, তিনি শিকাগোয় বসবাস করছিলেন। সেখানে সম্পত্তিও রয়েছে তাঁর (Canada)। অভিবাসন বিভাগ কথিত জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। এখন আদালতের হাতেই রানার কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন (Tahawwur Rana) হলে রানা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাগরিকত্ব হারাবেন বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    রানা বর্তমানে তিহার জেলে

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর পাক-বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী রানা বর্তমানে তিহার জেলে আটক রয়েছেন, যেখানে তদন্তকারীরা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১০ এপ্রিল তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর আগে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করলে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে রানা সব ধরনের আইনি সুযোগ ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। সব আইনি পথ শেষ হলে তাঁকে ভারতে পাঠানো হয় এবং বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয় (Canada)।

    তদন্তকারীরা মামলার তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছেন, যার মধ্যে রানা ও সহ-অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির মধ্যে হওয়া বহু টেলিফোন কথোপকথনের প্রমাণও রয়েছে। হেডলি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাজা ভোগ করছেন (Tahawwur Rana)। রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হেডলি, লস্কর-ই-তৈবা, হরকত-উল-জিহাদি ইসলামি-সহ পাকিস্তানভিত্তিক অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলে মুম্বইয়ে প্রাণঘাতী হামলার (Canada) পরিকল্পনা করেছিলেন।

     

  • Modi Meets Carney: মোদি-কার্নি  বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’, নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত ভারত ও কানাডা

    Modi Meets Carney: মোদি-কার্নি বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’, নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত ভারত ও কানাডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন মোড়। কানাডার (Modi Meets Carney) সঙ্গে ভারতের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডায় জি৭ বৈঠকে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কার্নির আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। কানাডার (India Canada) কানানাসকিসে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকেই দুই রাষ্ট্রনেতার কথা হয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তাঁরা উভয় দেশেই নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়মিত কনসুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।

    মোদির অভিনন্দন, বৈঠক ফলপ্রসূ

    কানাডা সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে (Modi Meets Carney) সফলভাবে জি৭ সম্মেলন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “ভারত ও কানাডা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করে এই বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” এক্স -এ পোস্ট করে মোদি জানান, “প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, শক্তি, মহাকাশ, ক্লিন এনার্জি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সারসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছি।” কানাডায় জি৭ সম্মেলনে সন্ত্রাস দমনে ভারতের অবস্থানের কথা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের কাছে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর জন্য মঙ্গলবার ওই সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের ধন্য়বাদও জানান। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলাকে ‘মানবতা’-র উপর হামলা বলে মন্তব্য করেন। এদিন জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকও করেন মোদি।

    নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ঐকমত্য

    ভারত ও কানাডা (India Canada) ঘোষণা করেছে, তারা নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ করবে। এর মাধ্যমে নাগরিক এবং ব্যবসায়িক পরিষেবা স্বাভাবিক করার দিকে এগনো যাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই নেতা পারস্পরিক সম্মান, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।” মোদি আরও বলেন, “জি-৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ধন্যবাদ জানাই। ২০১৫ সালের পর আবার কানাডায় আসার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” তিনি বলেন, ভারত-কানাডা সম্পর্ক বহু দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। “অনেক কানাডিয়ান কোম্পানি ভারতে বিনিয়োগ করেছে। একইভাবে ভারতীয় কোম্পানিও কানাডায় নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই দুটি দেশ একসঙ্গে কাজ করে মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”

    নিজ্জর হত্যা ও সম্পর্কের অবনতি

    ২০২৩ সালের জুন মাসে খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। কানাডা ভারতের কয়েকজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার হাইকমিশনার ও পাঁচজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয় এবং পাল্টা কানাডিয়ান কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। ভারতের অভিযোগ, কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার খালিস্তানপন্থীদের কার্যকলাপে প্রশ্রয় দেন। চলতি বছর মার্চ মাসে অর্থনীতিবিদ মার্ক কার্নি কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হন। ট্রুডোর পদত্যাগের পর ভারত আশা করে, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের উন্নতি

    মার্ক কার্নি ক্ষমতায় এসেই ভারতের (India Canada) সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছিলেন। জি৭ সম্মেলনে সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে বলে দাবি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। উভয় দেশই একে অপরের রাজধানীতে হাইকমিশনারদের পুনরায় নিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে বলেই খবর। সম্প্রতি দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থা আবার যোগাযোগ শুরু করেছে। কানাডা এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের বন্ধুত্বকে মজবুত করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমরা।’’ কার্নির দাবি, ‘‘দুই দেশই জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহযোগিতার কথা ভাবছে।’’ উল্লেখ্য, কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ, যা দেশটির জনসংখ্যার ৪.৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৭.৭ লক্ষ শিখ সম্প্রদায়ের। এছাড়া প্রায় ১০ লক্ষ ভারতীয় ছাত্র, পেশাদার ও অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কানাডায় বসবাস করছেন। ২০২২ সালে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ (৪১ শতাংশ)। তবে সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ছাত্র ও কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় উভয়েই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • India Canada Relation: কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে শুভেচ্ছা মোদির, সহজ হবে দুদেশের সম্পর্ক?

    India Canada Relation: কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে শুভেচ্ছা মোদির, সহজ হবে দুদেশের সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় মিটেছে নির্বাচন। ফের ঝড় তুলেছে লিবারল পার্টি। মঙ্গলবার ছিল ফলাফল ঘোষণা। আপাতত কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে পাকাপাকিভাবে থাকছেন মার্ক কার্নি। জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগের মাস কয়েক পরেই নির্বাচিত হয়েছিল তাঁর নাম। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, ট্রুডো ‘জেদী’ হলেও, মার্ক কার্নি কিন্তু তেমন নয়। বছর কয়েক আগেই নিজ্জর-কাণ্ডের জেরে ট্রুডোর সময়কালে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে কানাডার (India Canada Relation)। এবার সেই দেশে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, সেই বিষিয়ে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক হতে পারে বলেও অনুমান একাংশের। নির্বাচনের আগে রাম নবমীর উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগদানের মধ্য দিয়ে কার্নি একপ্রকার বার্তাই দিয়েছেন—ভারতের সঙ্গে তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে তিনি অগ্রসর হতে চান।

    কার্নিকে শুভেচ্ছা মোদির

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হওয়া এবং লিবারেল পার্টির জয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্ক কার্নিকে (Mark Carney) অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্নিকে উদ্দেশ্য করে এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ভারত এবং কানাডা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার এবং প্রাণবন্ত মানুষে-মানুষে সম্পর্কে আবদ্ধ। আমাদের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের জনগণের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকছেন মার্ক কার্নিই। সোমবার ফেডেরাল সরকারের নির্বাচনে জয়ী কার্নির লিবারেল পার্টি। পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে প্রতিপক্ষ পিয়ের পলিয়েভেরের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে। দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা লিবারেল পার্টিই আবারও কানাডার শাসনভার হাতে তুলে নেবে। কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক কার্নি। জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন লিবারেল পার্টির নতুন দলনেতা। কার্নি বলেছিলেন, ‘সমমনস্ক দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বৈচিত্রময় করতে আগ্রহী কানাডা। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের একাধিক সুযোগ রয়েছে। তার জন্য আমাদের একে অপরের মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর আমি অবশ্যই নতুন করে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ খুঁজব।’

    ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক

    ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনের ঘটনায় নয়াদিল্লিকে দায়ী করেছিলেন কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শুরু থেকেই যাবতীয় অভিযোগ নাকচ করে এসেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেনি ট্রুডো প্রশাসন। বিতর্কের জেরে কূটনীতিকদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত ও কানাডা। ভারত অস্থায়ীভাবে কানাডিয়ান নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেয়। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই আবহে প্রাক্তন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাঙ্ক অফ কানাডা এবং ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর কার্নির বার্তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    নির্বাচনে এনডিপির ভরাডুবি

    কার্নি সরাসরি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা ইস্যুতে মুখ না খুললেও একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বহুস্তরীয়—ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সমাধান করা সম্ভব।” ট্রুডোর নীতিতে প্রবাসী কট্টর শিখ গোষ্ঠীর প্রভাব এবং এনডিপি নেতা জগমিত সিংয়ের সমর্থন লাভের জন্য আপসের রাজনীতি ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিল কানাডার। তবে এইবার নির্বাচনে এনডিপির ভরাডুবি এবং জগমিত সিংয়ের পদত্যাগ সেই বাধাগুলিকে অনেকটাই সরিয়ে দিয়েছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    বর্তমানে কানাডায় প্রায় ১৮ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ এবং ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। ২০২৩ সালে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৩.৪৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে পৌঁছায়, যদিও সিইপিএ (Comprehensive Economic Partnership Agreement) আলোচনাগুলি তিক্ত সম্পর্কের কারণে স্থগিত ছিল। কার্নির সময়ে সেই আলোচনাগুলির নতুনভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি আগেই বলেছিলেন, “আমরা নতুন মিত্র খুঁজছি এবং ভারত সেই তালিকায় শীর্ষে।”

    ভারতের প্রতিক্রিয়া

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত ইতিমধ্যে কানাডায় ভারতীয় হাই কমিশনার পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করছে। কার্নির জাতীয়তাবাদী অবস্থান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মোকাবিলায় কানাডার অর্থনীতি ও বিদেশনীতিতে ভারসাম্য আনার উদ্যোগ—এই সবই ভারত-কানাডা সম্পর্ককে নতুন রূপ দিতে পারে। জাস্টিন ট্রুডোর অধীনে যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল, তা মার্ক কার্নির সময়ে আবার উপরে উঠতে পারে বলেই আশা করছে দুই দেশ।

  • Mark Carney: সরকার ভেঙে দিলেন কানাডার নয়া প্রধানমন্ত্রী কার্নে, কারণ কী জানেন?

    Mark Carney: সরকার ভেঙে দিলেন কানাডার নয়া প্রধানমন্ত্রী কার্নে, কারণ কী জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথ গ্রহণ করেছিলেন ১৪ মার্চ। তার ঠিক ন’দিনের মাথায় সরকার ভেঙে দিলেন কানাডার (Canada) নয়া প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে (Mark Carney)। কার্নের আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিবারেল পার্টির জাস্টিন ট্রুডো। ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর পর ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রুডো। ট্রুডোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন লিবারেল পার্টরই অনেক সাংসদ। শেষমেশ একপ্রকার বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন ট্রুডো।

    ২৮ এপ্রিল দেশে সাধারণ নির্বাচন (Mark Carney)

    লিবারেল পার্টির তরফে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হয় কার্নেকে। সেই কার্নেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে অনুরোধ করেন গভর্নর জেনারেলের কাছে। অনুরোধ করেন ২৮ এপ্রিল দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে। সেই মতো ওই দিনই হচ্ছে কানাডার নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নয়া সরকার বেছে নেবেন কানাডাবাসী। কার্নে জানান, প্রতিবেশী আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে কানাডার নাগরিকদের জন্য সময় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প অনবরত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে কানাডাকে চাপে রাখতে চাইছেন। শক্ত হাতে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা দরকার। কার্নে চান, এই কঠিন সময়ে দেশকে কে নেতৃত্ব দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিন কানাডাবাসীই। সেই কারণেই সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ডাক দিয়েছেন কার্নে।

    কী লিখেছেন কার্নে?

    রবিবার রাতে সমাজ মাধ্যমে কার্নে লিখেছেন, “আমি এই মাত্র গভর্নর জেনারেলকে বললাম পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে এবং আগামী ২৮ এপ্রিল সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করতে। তিনি রাজি হয়েছেন। জি৭-এ আমাদের কানাডাকে সব চেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি করে তুলতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। দেশের জন্য এই পরিশ্রম কে বা কারা করবেন, তা ঠিক করার অধিকার কানাডার মানুষেরই। তাঁরা সেই অধিকারের দাবিদার।” তিনি বলেন, “কানাডাকে সুরক্ষিত করে তোলার জন্য অনেক কাজ বাকি আছে। এখানে বিনিয়োগ করতে হবে, কানাডাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনৈতিক শুল্ক হুঁশিয়ারির মুখে কানাডায় যে সঙ্কট নেমে এসেছে, তার মোকাবিলা করতে হবে। সেই কারণেই আমি জনগণের কাছ থেকে এ বিষয়ে কঠোর আদেশ চাইছি।”

    ঘুরে যায় হাওয়া

    কানাডায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের অক্টোবরে। নানা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ট্রুডোর আমলে লিবারেল পার্টির থেকে কনজারভেটিভরা কিছুটা এগিয়ে গিয়েছেন। এর পরেই শুরু হয় ট্রুডোকে সরানোর তোড়জোড় (Canada)। নয়া প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হয় কার্নেকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রুডোকে সরানোর পর থেকেই ঘুরে যায় হাওয়া। সেই হাওয়াকে স্ব-দলের নৌকার পালে লাগাতে চাইছেন কার্নে। সেই কারণেই অকাল নির্বাচন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে কানাডার প্রতি বড়সড় হুমকি উঠে এসেছে। ট্রাম্পের সেই হুমকি প্রসঙ্গে কার্নে বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) আমাদের ভেঙে ফেলতে চান, যাতে আমেরিকা আমাদের মালিকানা নেয়, আমরা কখনওই তা হতে দেব না।” তিনি আগেই বলেছিলেন, “ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমার নয়া জনমতের প্রয়োজন।”

    জনপ্রিয়তায় এগিয়ে কার্নে

    কার্নে (Mark Carney) জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তাঁর পূর্বসূরী ট্রুডোর ঘোষিত বেশ কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করেন তিনি। এর মধ্যে ছিল কার্বন কর বাতিল এবং মূলধন লাভ বৃদ্ধি। শনিবারই লিবারেল পার্টি ঘোষণা করেছিল, কার্নে জাতীয় রাজধানী অটোয়ার শহরতলির অন্টারিওর নেপিয়ান আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। লিবারেল পার্টির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমাদের নেতা মার্ক কার্নে, আগামী নির্বাচনে নেপিয়ানের জন্য আমাদের প্রার্থী হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, অটোয়া ছিল সেই জায়গা যেখানে কার্নে তাঁর পরিবারকে লালন-পালন করেছিলেন, জনসেবায় উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর কর্মজীবন এবং সর্বদা তাঁর সম্প্রদায়কে রিটার্ন দিয়েছিলেন (Mark Carney)।”

    কী বলেছিলেন কার্নে

    ন’দিন আগে (Canada) কার্নে যখন নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তার কিছু দিন আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে কানাডার। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরেই কার্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে কথা বলেন। কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপকে নিজেদের জীবনের সব চেয়ে বড় সঙ্কট হিসেবে অভিহিত করেন কার্নে। সেদিন তিনি বলেছিলেন, “আমরা এই (বাণিজ্য) লড়াই চাইনি। কিন্তু কানাডিয়ানরা সব সময় প্রস্তুত থাকে যখন কেউ তার হাতের গ্লাভস ফেলে দেয়। তো মার্কিনিদের কোনও ভুল করা উচিত নয়।” তিনি বলেন, “হকি খেলার মতো বাণিজ্য (Canada) লড়াইয়েও কানাডা জিতবে (Mark Carney)।”

  • Mark Carney: ‘‘যদি প্রধানমন্ত্রী হই…’’, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা ট্রুডোর উত্তরসূরি মার্ক কার্নির

    Mark Carney: ‘‘যদি প্রধানমন্ত্রী হই…’’, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা ট্রুডোর উত্তরসূরি মার্ক কার্নির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কার মার্ক কার্নি (Mark Carney) বসছেন কানাডার মসনদে (Canada PM)। সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারিতে জাস্টিন ট্রুডো প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় জল্পনা। কে হবেন কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী! সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল রবিবার। এদিন লিবারেল পার্টির নেতা হিসাবে মার্ক কার্নিকে (Canada PM) বেছে নেওয়া হয়েছে। ট্রুডোর উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর নাম মনোনীত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে কার্নি জানান, আগামী ভোটে জিতে তিনি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতি করবেন তিনি। প্রসঙ্গত, কানাডার আগামী সাধারণ নির্বাচনে লিবারেল পার্টিকে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ভারতকে পাশে টানার বার্তা কার্নির

    ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আগে কার্নির মুখে শোনা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন নীতির পরিবর্তন করেন তিনি। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির বিষয়ে কার্নি বলেন, ‘‘আমরা তাঁকে (ট্রাম্প) সফল হতে দিতে পারি না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারছে, যতক্ষণ না তারা কানাডার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পাল্টা ব্যবস্থা (শুল্ক) বহাল থাকবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকা কানাডা নয়। কানাডা কোনওভাবেই আমেরিকার অংশ হবে না।’’  অন্যদিকে, এক প্রশ্নের ভারতকে কাছে টানার বার্তা দিয়ে কার্নি বলেন, “কানাডার লক্ষ্য হল সমমনস্ক দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে উন্নত করা।” এই আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। কার্নি বলেন, ‘‘যদি প্রধানমন্ত্রী হই, তাহলে (ভারত-কানাডা সম্পর্ক) নতুন করে গঠন করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকব।’’

    দলের মধ্যেই ৮৬ শতাংশ ভোট পান কার্নি (Mark Carney)

    যদিও এর আগে কার্নিকে অনেক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হয়। লিবারেল পার্টির নেতা কে হবেন সেই সংক্রান্ত ভোটাভুটি হয়। লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের নাম ভাসছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে মাত্র আট শতাংশই ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ৫৯ বছর বয়সি, প্রাক্তন এই ব্যাঙ্কার মার্ক কার্নি প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট পেয়ে হারিয়ে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে।জানা গিয়েছে, লিবারেল পার্টির নেতা হওয়ার দৌড়ে মার্ক কার্নির ঝুলিতে এসেছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট। এই পরিমাণ ভোট মোট ভোটের প্রায় ৮৫.৯ শতাংশ বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন মাত্র ১১ হাজার ১৩৪ ভোট। এছাড়া কারিনা গোল্ড পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৫ ভোট এবং ফ্রাঙ্ক বেলিস পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৮ ভোট। ব্যবধানেই বোঝা যাচ্ছে পার্টির অন্দরে বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

    কার্নির সংক্ষিপ্ত পরিচয় (Mark Carney)

    কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর ছিলেন কার্নি (Mark Carney)। জানা যায়, এর আগে কখনও কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। ১৯৬৫ সালে তিনি ফোর্ট স্মিথে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে পড়াশোনা করেন হার্ভার্ডে। ২০০৩ সালে তিনি ব্যাঙ্ক অফ কানাডায় ডেপুটি গভর্নর হিসেবে কাজে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি হয়। ২০০৮-২০০৯ সালে কানাডা যখন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেসময় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে, কার্নি ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের গর্ভনর হন। প্রায় ৩০০ বছর এমন ঘটনা ঘটে, যখন কোনও ব্রিটিশ নাগরিক নন, এমন ব্যক্তি গভর্নর হন। ২০২০ সালে ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড থেকে অবসর নেওয়ার পরে অর্থ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায়, মার্ক কার্নির বাবা ১৯৮০-এর দশকে আলবার্টায় লিবারেল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের ভাষণে একথাও উল্লেখ করেন কার্নি।

    ট্রুডোর গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছিল

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত প্রায় ৯ বছর ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো। সম্প্রতি একাধিক ইস্যুতে দেশেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। ট্রুডোর জনপ্রিয়তাও একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। খালিস্তান ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পথে হেঁটে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলেন। ট্রুডোকে নিয়ে লিবেরাল পার্টির অন্দরের নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এখন দায়িত্ব পেলেন কার্নি (Mark Carney)। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন মার্ক কার্নির সামনে বর্তমানে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

  • Canada: ট্রুডোর পরে এবার লিবারেল পার্টির রাশ ধরছেন মার্ক কার্নি!

    Canada: ট্রুডোর পরে এবার লিবারেল পার্টির রাশ ধরছেন মার্ক কার্নি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল দলের অন্দরেই। ঘরে-বাইরে চাপের চোটে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন কানাডার (Canada) প্রধানমন্ত্রী লিবারেল পার্টির (Liberal Party) নেতা জাস্টিন ট্রুডো। তবে যেহেতু এখনও নেতা নির্বাচিত হয়নি, তাই তিনিই চালাচ্ছেন দেশ।

    নেতা বদলের কারণ (Canada)

    জানা গিয়েছে, এবার লিবারেল পার্টির রাশ ধরতে চলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ব্যাংকার মার্ক কার্নি। আগামী রবিবার তিনি দলের রাশ হাতে নিতে পারেন। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনিই হবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, চলতি বছরই রয়েছে কানাডার সাধারণ নির্বাচন। ট্রুডোকে সামনে রেখে নির্বাচনে যেতে চাইছিলেন না তাঁর দলের নেতারা। সেই কারণেই প্রয়োজন ছিল নেতা বদলের।

    সমীক্ষায় ইঙ্গিত

    মেইনস্ট্রিট রিসার্চের লিবারেল পার্টির ভোটারদের সমীক্ষায় ইঙ্গিত, কার্নি প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে পরাজিত করবেন (Canada)। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, কার্নি পেয়েছেন ৪৩ শতাংশের সমর্থন, আর ফ্রিল্যান্ডের ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৩১ শতাংশের সমর্থন। কার্নি ইতিমধ্যেই ট্রুডোর সঙ্গে দূরত্ব রচনা করতে শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি মন্ট্রিয়লে নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার ইংরেজি ভাষার বিতর্কে তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি দুর্বল ছিল। এর আগেই আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকিগুলির মুখোমুখি হয়েছি।” তাঁর নির্বাচনী ইস্তাহারে ট্রুডোর বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। কার্নির ইস্তাহারে বলা হয়েছে, অনেক কানাডিয়ান, বিশেষ করে তরুণ কানাডিয়ানরা মহামারি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্কটে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে – যা আরও খারাপ হয়েছে অভিবাসনের উল্লম্ফন ও সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের ঘাটতির কারণে।

    কার্নি নিজেকে বারবার ‘আউটসাইডার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও গত বছর প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তাঁকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন বাস্তববাদী, যিনি কাজ সম্পন্ন করেন।” প্রসঙ্গত, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন (Liberal Party) কার্নি। ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকারের অধীনে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন (Canada)।

LinkedIn
Share