Tag: Mars

Mars

  • Liquid Water On Mars: মঙ্গলগ্রহের গভীরে রয়েছে তরল জলের বিশাল ভান্ডার, দাবি বিজ্ঞানীদের

    Liquid Water On Mars: মঙ্গলগ্রহের গভীরে রয়েছে তরল জলের বিশাল ভান্ডার, দাবি বিজ্ঞানীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরল আকারে জলের একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ ভান্ডারের খোঁজ মিলল মঙ্গলগ্রহে (Liquid Water On Mars)। এই গ্রহের তলদেশে ভগ্ন-আগ্নেয়শিলার গভীরে রয়েছে ব্যাপক পরিমাণে তরল জল। মঙ্গলগ্রহের মাটির নীচের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছেন নাসার (NASA) বিজ্ঞানীরা (American scientists)। তাঁদের দাবি, তরল জলের পরিমাণ এতটাই যে, তা দিয়ে মঙ্গলের গোটা পৃষ্ঠ ঢাকা পড়বে। অর্থাৎ, গোটা মঙ্গল জলের তলায় চলে যাবে! 

    নাসার পাঠানো রোবোটিক ইনসাইট ল্যান্ডার দ্বারা প্রাপ্ত সিসমিক ডেটার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ল্যান্ডারটি ২০১৮ সালে মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করেছিল। তখন থেকেই এটি লালগ্রহের তরল ধাতব ভূত্বকের বিভিন্ন স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছে। এই মিশন শেষ হয়েছিল ২০২২ সালে। এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে মহাকাশ গবেষণা এবং গ্রহ বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

    জীবের জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য অনুকূল পরিবেশ (Liquid Water On Mars)

    ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সান দিয়েগো স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অফ অশেনোগ্রাফির গ্রহবিজ্ঞানী ভাসান রাইট একটি রিপোর্টে বলেন, “মঙ্গলগ্রহের (Liquid Water On Mars) পৃষ্ঠের প্রায় ৭.২ থেকে ১২.৪ মাইল (১১.৫ থেকে ২০ কিমি) নীচে অবস্থিত রয়েছে প্রচুর পরিমাণ জল রাশি। এই গভীরে তরল আকারে জল যেমন রয়েছে, তেমনই জীবের জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য সম্ভাব্য অনুকূল পরিস্থিতিও রয়েছে সেখানে। তবে, ওপরের দিকে, অর্থাৎ, কম গভীর স্তরে জল বরফের অবস্থায় রয়েছে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পরিমাপ করেছি ভূ-পৃষ্ঠে ক্রমবর্ধমান কম্পনের তরঙ্গের গতিকে। সেই সঙ্গে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পরিমাপ এবং শিলা পদার্থবিদ্যা মডেলগুলির অংশ সংগ্রহ করেছি। আবার গ্রহের আগ্নেয়গিরির মধ্যস্থ কম্পনের তরঙ্গের গতি পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছে ইনসাইট ল্যান্ডার। গভীরতার সঙ্গে কীভাবে এই তরঙ্গ পরিবর্তিত হয়, পৃষ্ঠদেশের শিলাটি কী দিয়ে তৈরি, কোথায় কোথায় ফাটল রয়েছে ইত্যাদি নানা বিষয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছি আমরা। মঙ্গলগ্রহের ক্রাস্ট বা সবচেয়ে বাইরের স্তরের মধ্যে ম্যাগমা বা লাভার ঠান্ডা রূপ এবং ভগ্ন আগ্নেয়শিলাগুলির মধ্যে তরল জলের উপস্থিতিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। মঙ্গল-পৃষ্ঠে শিলার ফাটলগুলিও তরল জলে ভরা, তারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ক্রমাগত ভূমিকম্পের ফলে মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠদেশ আজ শীতল এবং জনশূন্য, কিন্তু একসময় ওই স্থান উষ্ণ ও ভেজা ছিল। অনুমানিক ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি আগে পরিবর্তিত হয়েছিল এই গ্রহের রূপ। আমরা গবেষণায় দেখেছি যে, মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগে যে জল ছিল, তার বেশির ভাগই মহাকাশে বিলীন হয়ে যায়নি বরং গ্রহের মধ্যে ফিল্টার হয়ে সঞ্চিত হয়েছে। আগামী দিনে মঙ্গলে রয়েছে আরও অপার সম্ভাবনা।”

    আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা, হিন্দু ছাত্রদের সঙ্গে আজ বৈঠক ইউনূসের

    মঙ্গলগ্রহেও জীব শক্তির উৎস রয়েছে

    গ্রহ বিজ্ঞানী (NASA) ভাসান রাইটের সহযোগী লেখক মাইকেল মাঙ্গা আবার বলেন, “পৃথিবীর ভূগর্ভের অভ্যন্তরে যেমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবের প্রাণের সন্ধান পাই, ঠিক একই ভাবে এই মঙ্গলগ্রহেও (Liquid Water On Mars) জীব শক্তির উৎস রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগে নদী, হ্রদ এবং সম্ভবত মহাসাগরে তরল জল ছিল। এই গ্রহের ভূত্বকটিও তার ইতিহাসের প্রথম দিক থেকেই জলে পূর্ণ ছিল বলে মনে করা যেতেই পারে। পৃথিবীতেও ভূগর্ভস্থ জল, পৃষ্ঠদেশে থেকেই পাতালে প্রবেশ করেছিল। ফলে আমরা আশা করতে পারি মঙ্গলে জলের ইতিহাস পৃথিবীর মতোই হবে। তবে যখন এই জলরাশি অন্দরে প্রবেশ করেছে তখন এই গ্রহের উপরের ভূত্বকটি আজকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ ছিল। পৃথিবীর মানবজাতি কখনও মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠে মহাকাশচারীদের পাঠালে বা সেখানে সম্পর্ক স্থাপন করতে গেলে, এই জল একটি অত্যাবশ্যক সম্পদ হবে। তাছাড়া দীর্ঘ সময়ের জন্য ওই গ্রহে কিছু করার পরিকল্পনায় দারুণ ভাবে সহযোগী হবে এই জল। মঙ্গলগ্রহের মেরু অঞ্চলগুলির পৃষ্ঠে থাকা জমা জল বরফের আকারে রয়েছে। ফলে ভূপৃষ্ঠের গভীরতায় খনন করা খুব কঠিন কাজ।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mars: মঙ্গলে প্রবাহিত নদী-হ্রদ! প্রমাণ হিসেবে মানচিত্র প্রকাশ করল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

    Mars: মঙ্গলে প্রবাহিত নদী-হ্রদ! প্রমাণ হিসেবে মানচিত্র প্রকাশ করল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলে (Mars) জল আছে বা ছিল, তা আগেই জানতে পেরেছিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তবে এবারে তার প্রমাণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা পেলেন মানচিত্র। সেই মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে লাল গ্রহে একসময় প্রবাহিত ছিল নদী এবং হ্রদ। পৃথিবীর নিকটতম লাল গ্রহে জলের প্রমাণ পাওয়ার পর জীবনের সন্ধান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের বিবর্তনে লালগ্রহ থেকে জল হারিয়ে গিয়েছিল এবং আজ তার পৃষ্ঠে জলের কোনও চিহ্ন মাত্র নেই। তবে সম্প্রতি কেমিক্যাল এবং স্পেকট্রাল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, মঙ্গলে একসময় জল ছিল।

    ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) তরফে মঙ্গল গ্রহের জলের প্রথম মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মানুষ অবতরণ করতে পারে এমন সম্ভাব্য জায়গাগুলিও দেখা গিয়েছে এই মানচিত্রে। মানচিত্রগুলিতে আরও দেখা গিয়েছে গ্রহ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা খনিজ বস্তুগুলিকে। গত দশকের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    বিজ্ঞনীরা মনে করছেন, মানুষ মঙ্গল গ্রহে পা রাখার আগে, এই মানচিত্রটি মিশনের জন্য খুবই উপকারী কারণ এর সাহায্যে মঙ্গলে অবতরণ করার জায়গাগুলি সনাক্ত করা যেতে পারে। যেখানে প্রচুর পরিমাণে জলীয় খনিজ রয়েছে সেই স্থানগুলি সন্ধানের জন্য ইউরোপের মার্স এক্সপ্রেস অবজারভেটরি এবং আমেরিকার মার্স রিকনেসেন্স অরবিটার একসঙ্গে কাজ করছে। জানা গিয়েছে, এই খনিজগুলি পাথর থেকে তৈরি হয়, যা অতীতে রাসায়নিক ভাবে জল দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাদামাটি এবং লবণে পরিবর্তিত হয়েছে।

    আরও পড়ুন: চাঁদ ও মঙ্গলের পর এবার শুক্রগ্রহে অভিযান চালাবে ইসরো

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাঁরা গ্রহের কয়েকটি অংশে এই ধরনের হাজার হাজার খনিজ পদার্থ খুঁজে পেয়েছেন। আর সমস্ত গ্রহ জুড়ে জলীয় খনিজ খুঁজে পাওয়া প্রমাণ করে যে, মঙ্গলে জল শুধুমাত্র কয়েকটি স্থানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রহের চারপাশে ভূতত্ত্ব গঠনেও একটি বিশাল ভূমিকা পালন করেছিল। এখন একটাই প্রশ্ন যে, জল সেখানে স্থায়ী ছিল, নাকি সীমাবদ্ধ ছিল।

    জন কার্টার নামে এক বিজ্ঞানী জানান, বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন যে যখন এটি ভেজা অবস্থায় ছিল, তখনই শুধুমাত্র কয়েক ধরনের কাদামাটির মত খনিজ পদার্থ তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন মানচিত্রে অন্য কিছুর ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেন, যদিও মঙ্গলগ্রহের অনেক লবণ সম্ভবত কাদামাটির থেকে পরে তৈরি হয়েছিল। মানচিত্রে আরও দেখা যায় লবণ ও কাদামাটির ঘনিষ্ঠ মিশ্রণ রয়েছে। আবার কিছু লবণ মাটির থেকেও পুরনো বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ইএসএ-র (ESA) প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জল ও জলের বিবর্তন ততটা স্পষ্ট নয় মানচিত্রে। আবার মঙ্গলে খনিজ পদার্থের বিবর্তনও ব্যাখ্যা করা যাচ্ছেনা । ভূতত্ত্ববিদরা লাল গ্রহের সার্ভে করার জন্য মার্স এক্সপ্রেসের ওমেগা যন্ত্র ও এমআরও-তে মার্সের জন্য কমপ্যাক্ট রিকনাইসেন্স ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার (Compact Reconnaissance Imaging Spectrometer for Mars) থেকে ডেটা ব্যবহার করেছেন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Venus Orbit: চাঁদ ও মঙ্গলের পর এবার শুক্রগ্রহে অভিযান চালাবে ইসরো

    Venus Orbit: চাঁদ ও মঙ্গলের পর এবার শুক্রগ্রহে অভিযান চালাবে ইসরো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাঁদ ও মঙ্গলের পর এবার শুক্র গ্রহে অভিযান (Venus Orbiter Mission) চালাবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। শুক্রকে প্রদক্ষিণ করার জন্য একটি মহাকাশযান (Spacecraft) প্রস্তুত করছে ইসরো। সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহের পৃষ্ঠের নীচে কী রয়েছে এবং এটিকে ঘিরে থাকা সালফিউরিক অ্যাসিড মেঘের রহস্য উদঘাটন করবে মহাকাশযান। এছাড়াও পরিকল্পিত পরীক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে শুক্রের পৃষ্ঠে ঘটে চলা প্রক্রিয়াগুলির সন্ধান, সক্রিয় আগ্নেয়গিরির হটস্পট এবং লাভা প্রবাহ সহ অগভীর উপ-পৃষ্ঠের স্তরবিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের গঠন এবং গতিশীলতা অধ্যয়ন। এছাড়াও ভেনুসিয়ান আয়োনোস্ফিয়ারের সঙ্গে সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসরো-র চেয়ারম্যান এস সোমনাথ (S Somnath) বলেছেন, “শুক্র মিশনটি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে, একটি প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য় তহবিলের বিষয়টিও ঠিক করা হয়েছে।” সোমনাথ উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, “শুক্র গ্রহের জন্য একটি মিশন তৈরি করা এবং স্থাপন করা ভারতের পক্ষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব। ভারতের কাছে এখন সেই সামর্থ্য আছে।”

    তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুক্র গ্রহের জন্য মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। ওই সময় পৃথিবী এবং শুক্র এতটাই কাছাকাছি আসবে যে মহাকাশযানটিকে ন্যূনতম পরিমাণ প্রপেলান্ট ব্যবহার করে কক্ষপথে রাখা যেতে পারে। ২০২৪ সালের পর আবার এই ধরনের সুযোগ আসবে ২০৩১ সালে। শুক্রগ্রহে অভিযান নিয়ে আশাবাদী ইসরো। মার্স বা চাঁদে যেরকম সফল অভিযান চালানো হয়েছিল শুক্রের ক্ষত্রেও তেমনই হবে, বলে বিশ্বাস বিজ্ঞানীদের। একসময় পৃথিবীর মতোই ছিল এই গ্রহ। অনেক বিজ্ঞানী একে পৃথিবীর যমজ গ্রহও বলে থাকেন। কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এখানে প্রাণীরা বাস করতে পারে না এমনটাই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তাই এই গ্রহকে নিয়ে মানুষের এত আকর্ষণ।

  • Venus, Mars, Jupiter, Saturn: প্রায় হাজার বছর পর, এক সরলরেখায় শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি

    Venus, Mars, Jupiter, Saturn: প্রায় হাজার বছর পর, এক সরলরেখায় শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : আনুমানিক এক হাজার বছর পর আবার চারটি গ্রহ একসঙ্গে , একই লাইনে রয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার ২৬ ও ২৭ এপ্রিল সূর্যোদয়ের আগে, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি-সহ চারটি গ্রহ পূর্ব দিগন্ত থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে সরল রেখায় দৃশ্যমান ছিল। আগামী ৩০ এপ্রিল তথা শনিবার আবার এই ঘটনা ঘটবে। গ্রহগুলি পৃথিবীর কাছে থাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা যাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য।
    সূর্যোদয়ের ঠিক আগে শনিবার দিগন্ত রেখা বরাবর  আকাশে চোখ রাখলে শুক্র এবং বৃহস্পতি গ্রহকে একসঙ্গে খুব কাছাকাছি দেখা যাবে। শুক্র বৃহস্পতির ০.২ ডিগ্রি দক্ষিণে থাকবে। এর আগে ২৬ এবং ২৭ এপ্রিল দূরবীন বা টেলিস্কোপ ছাড়াই বৃহস্পতি, শুক্র, মঙ্গল এবং  শনিকে এক লাইনে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। ভুবনেশ্বরের পাঠানি সামন্ত প্ল্যানেটোরিয়ামের ডেপুটি ডিরেক্টর শুভেন্দু পট্টনায়েক বলেন, এই ধরনের ঘটনা প্রায় ১,০০০ পর ঘটল। বেশ বিরল। এর আগে ৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে শেষবার এমন হয়েছিল। এই ধরণের ঘটনা ‘প্ল্যানেট প্যারেড’ নামে পরিচিত। সৌরজগতের গ্রহগুলি আকাশের একই অঞ্চলে এক সরলরেক্ষায় সারিবদ্ধ হলে এমনটা বলা হয়। 
    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতি নীচে বামদিকে সবার প্রথমে থাকবে। এর পরে শুক্র, তারপর মঙ্গল এবং তারপর শনি থাকবে। এই সময়ে, বৃহস্পতিকে দেখা সবচেয়ে কঠিন হতে পারে কারণ এটি দিগন্ত রেখার ঠিক উপরে থাকবে এবং সেখানে সাধারণত গ্রহের আলো কমে যায়। 
    শুভেন্দু পট্টনায়েক বলেন, “সাধারণত তিন ধরনের প্ল্যানেট প্যারেড হয় ৷ সূর্যের একপাশে একাধিক গ্রহ সাধারণত তিনটি গ্রহ একটি রেখাতেই থাকে ৷ এই মহাজাগতিক সমাবেশ প্রায়শই হয়ে থাকে ৷ বছরের অনেক দিন এমনটা দেখা যায় ৷” তিনি জানান, চারটি গ্রহের একই লাইনে থাকাটা হয় বছরে একবার ৷ পাঁচটি গ্রহের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে প্রতি ১৯ বছরে একবার ৷ আটটি গ্রহ একটি সারিতে অবস্থান করার বিরল ঘটনা ১৭০ বছরে একবার হয়ে থাকে ৷ এ বিষয়ে পট্টনায়ক বলেন, “দ্বিতীয়ত প্ল্যানেট প্যারেড, একই সময়ে আকাশের একটি ছোট্ট অংশে একাধিক গ্রহ জমায়েত করে ৷ পৃথিবী থেকে তাদের দেখা যাক বা না যাক, আমরা একেও প্ল্যানেট প্যারেড বলি ৷ এরকমটা শেষবার হয়েছিল ২০০২ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ২০২০ সালের জুলাইতে ৷ সেবার সৌরজগতের সবক’টি গ্রহ একটি সারিতে অবস্থান করছিল ৷ সন্ধ্যার আকাশে খালি চোখেই তা দেখা গিয়েছিল ৷”
    তৃতীয় প্ল্যানেট প্যারেড প্রসঙ্গে পট্টনায়ক বলেন, “এক্ষেত্রে চারটি গ্রহ খুব কাছাকাছি একই জায়গায়, এক রেখায় থাকে। এর ফলে গ্রহগুলি উজ্জ্বল দেখায়। ২০২২-র এপ্রিলে শুক্র,মঙ্গল,বৃহস্পতি এবং শনির এক সারিতে অবস্থানটি তৃতীয় ধরনের প্ল্যানেট প্যারেড ৷ এরকমটা হয়েছিল ৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে, প্রায় এক হাজার বছর আগে ৷”

     

LinkedIn
Share