Tag: Matua Gosai Convention 2026

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

LinkedIn
Share