Tag: medical college

medical college

  • Bangladesh: ‘‘এই ভুল ধারণা রাখবেন না’’, বিএনপি নেতাকে মোক্ষম জবাব দিলেন ভারতীয় চিকিৎসকরা

    Bangladesh: ‘‘এই ভুল ধারণা রাখবেন না’’, বিএনপি নেতাকে মোক্ষম জবাব দিলেন ভারতীয় চিকিৎসকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের বড় ভরসার জায়গা ভারত। তাই, জটিল কোনও ব্যাধি বা পয়সাওয়ালারা সাধারণ চেকআপ করার জন্য নিজের দেশের ডাক্তারের ওপর ভরসা করেন না। সোজা চলে আসেন এপার বাংলায়। তবে বর্তমানের পরিস্থিতি আলাদা। অশান্ত বাংলাদেশ (Bangladesh) দিয়েছে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক। এদিকে ভারতীয় ভিসাও বন্ধ। নিয়মের কড়াকড়িতে বহু বাংলাদেশিই ভারতে আসতে পারছেন না। এরই মধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা। মূলত, ভারতীয় ডাক্তারদের হকারি করার কথা বলেছেন তিনি। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতীয় চিকিৎসকরাও।

    ঠিক কী বললেন বিএনপি নেতা?(Bangladesh)

    বিএনপির (BNP) স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “বাংলাদেশে যত অবৈধ ভারতীয় বাসিন্দা আছে, তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে (Bangladesh)।” ভিসা সমস্যা ও ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে না পারার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ভারতে না গেলে দেশের কয়েকশো কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। অনন্তকাল ধরে ভিসা বন্ধ করে রাখলে ভারতীয় ডাক্তাররা রোগী পাবেন না। ভারতীয় ডাক্তারদের হকারি করতে হবে। ফুটপাথে হকারি করে খেতে হবে। তাই ভিসা বন্ধ করায় ভারতকে স্বাগত।”

    আরও পড়ুন: সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন! দাবায় সেরা ডি গুকেশ, কুর্নিশ সচিন-মোদি-মুর্মুদের

    কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন ভারতীয় চিকিৎসকরা

    বিএনপি নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশি (Bangladesh) রোগীরা না এলে, ভারতীয় চিকিৎসকরা পথে বসবেন, এই ভুল ধারণা রাখবেন না। আপনি যেই হন না কেন, আপনার ভারত সম্পর্কে ধ্যানধারণা নেই। এই বাংলাতেই ১০ কোটি মানুষের বাস। ১৪০ কোটির দেশে কোনও ডাক্তার পথে বসবেন না। আপনার মতো ভিক্ষার দশা আমাদের হবে না। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরতে হবে না।” আরেক চিকিৎসক, রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “পরিসংখ্যানগতভাবে বলি, বাংলাদেশে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে ৪৫টি। আর সেখানেই পশ্চিমবঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে ৩৫টি। আমাদের দেশে ৭৩১টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। আপনাদের ওপর নির্ভর করে আমাদের সংসার চলে না। কিন্তু ভারতে চিকিৎসা না পেলে আপনাদের অবস্থা কী হবে সেটা ভেবে দেখবেন। কারণ বাংলাদেশের মানুষের নিজের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরেই ভরসা নেই। বিপদে, দুর্দিনে তাঁরা আমাদের কাছেই আসেন।”

    মহাসঙ্কটে হাজার হাজার বাংলাদেশি

    বাংলাদেশে (Bangladesh) অশান্তির কারণে মহা সঙ্কটে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য নিয়মিত কলকাতায় আসা-যাওয়া করা হাজার হাজার বাংলাদেশি। তাঁদের এ-পারে আসায় এখন কার্যত দাঁড়ি পড়েছে। নিয়মের এই ‘ফাঁস’ আলগা হয়ে কলকাতা-সহ দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার পথ কবে আবার সুগম হবে, সেই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পদ্মাপারের রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়েরা। ঢাকার বাসিন্দা মহম্মদ মুর্তাফিজ বলেন, “সাত বছর আগে চেন্নাইয়ের হাসপাতালে স্ত্রীর চিকিৎসা হয়েছিল। সেই চিকিৎসকই কলকাতার মল্লিকবাজারে কয়েক মাস অন্তর রোগী দেখতে আসেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে ওই চিকিৎসক কলকাতায় এসে ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারিনি। আপাতত যে ওষুধ চলছে, সেটাই ভরসা। কিন্তু চিকিৎসককে না দেখি এ ভাবে কত দিন চলবে?”উদ্বেগের একই সুর শোনা গেল সিলেটের বাসিন্দা নূর আহমেদের গলাতেও। নুরের কথায়, “হঠাৎ করেই দু’দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেল। এখন তো কলকাতার চিকিৎসকদের একাংশ বাংলাদেশিদের চিকিৎসা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আমাদের মতো রোগীদের কী হবে, জানি না।” বিভিন্ন দফতর ঘুরেও সীমান্ত পেরোনোর অনুমতি পাননি পাবনার বাসিন্দা মহম্মদ আলি ও জান্নাতুর ফিরদৌস। তিনি বলেন, “স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় যেতে না পেরে ঢাকাতেই এক জন চিকিৎসককে দেখিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ ফল মিলছে না। ফুসফুসে জল জমছে। দু’দেশের সম্পর্ক মুষ্টিমেয় কয়েক জন নিজেদের স্বার্থে বিষিয়ে দিচ্ছেন। এর ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের ভুগতে হচ্ছে!”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Senior Doctor: ছড়াচ্ছে জেলায়! কলকাতা ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তাররাও দিলেন গণ-ইস্তফা

    Senior Doctor: ছড়াচ্ছে জেলায়! কলকাতা ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তাররাও দিলেন গণ-ইস্তফা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে সংহতির বার্তা দিতে ‘গণ ইস্তফা’র হুঙ্কার আরজি করের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে সিনিয়র ডাক্তারদের (Senior Doctor) মধ্যে। প্রথম শুরু হয়েছিল আরজি কর থেকে। এবার তা ছড়িয়ে পড়ল কলকাতা মেডিক্যালের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালেও। এদিন দুপুরে কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তাররাও গণ ইস্তফা দিলেন। মঙ্গলবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে একইভাবে ৪০ জনেরও বেশি ডাক্তার ইস্তফা দিয়েছেন।

    কলকাতা মেডিক্যালে গণ-ইস্তফা (Senior Doctor)

    কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তারদের (Senior Doctor) অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই ‘গণ ইস্তফা’ দিচ্ছেন। বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ‘গণ ইস্তফা’ দেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক। স্লোগান ওঠে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। পর পর দু’দিন শহরের দুই মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র ডাক্তাররা ‘গণ ইস্তফা’ দেওয়ায় নবান্নের ওপর চাপ বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। 

    আরও পড়ুন: “বাংলায় আমরা সরকার গঠন করব”, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শুভেন্দু বলে দিলেন কৌশলও

     উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে গণ -ইস্তফা?

    আরজি করকাণ্ডের সঠিক বিচার ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ একগুচ্ছ দাবিতে জুনিয়র ডাক্তাররা দু’মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাতেও রাজ্য সরকারের তরফে সাড়া মেলেনি। সেই দাবি পূরণের জন্য জুনিয়র ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন। কলকাতার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে দুই জুনিয়র ডাক্তার অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন। বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিদ্যুৎ গোস্বামীর হাতে প্রথম পর্বে ৩০ জন সিনিয়র ডাক্তার গণ ইস্তাফাপত্র তুলে দেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার ফোরামের অন্যতম সদস্য উৎপল  বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনশনে যে জুনিয়র ডাক্তাররা বসেছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটছে। তাঁদের জীবন বাঁচাতে এবং রাজ্য সরকার নমনীয় হয়ে যাতে জুনিয়র ডাক্তারদের ন্যায্য দাবি পূরণ করে, তার বার্তা দিতে এই গণ ইস্তাফা (Senior Doctor) দিয়েছি।” উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অরুণাভ সরকার বলেন, “রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই। অপরাধ ও অপরাধীদের আড়াল করতে বেশি ব্যস্ত রাজ্য সরকার। অনশনে বসা জুনিয়র ডাক্তারদের জীবনের কথা কেন ভাবছে না সরকার? এতেই বোঝা যায় আরজি করকাণ্ডকে রাজ্য সরকার ধামাচাপা দিতে চাইছে। “

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Suvendu Adhikari: নবান্ন অভিযানের ডাক, ফের ঝান্ডাহীন আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: নবান্ন অভিযানের ডাক, ফের ঝান্ডাহীন আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (RG Kar Case) ফের একবার ঝান্ডাহীন আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আরজি করকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরেও একাধিকবার তিনি এই ঝান্ডাহীন আন্দোলনের কথা বলেছেন। আবারও বললেন। এবং এই ডাক দিতে অনুরোধ করলেন নির্যাতিতার বাবাকে।

    শুধু একবার ডাক দিন (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “নির্যাতিতার বাবাকে মিছিলে হাঁটতে হবে না। তিনি শুধু একবার ডাক দিন, যে নবান্ন অভিযান হবে। তারপর বাকিটা আমরা করে নেব।” সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেছেন, “ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের) ওপর এক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস ছিল। এখন আর বিশ্বাসটাই নেই।” নির্যাতিতার মা আবার পুলিশ দ্রুত তদন্ত বন্ধ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন। নির্যাতিতার পরিবারের আক্রমণের ঝাঁঝ কমে যাওয়ার আগেই ফের তৃণমূলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করলেন শুভেন্দু।

    কী বললেন শুভেন্দু

    সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “রাজ্য সরকার বলছে, রাত মহিলাদের জন্য নিরাপদ নয়। এ লজ্জা রাখার কোনও জায়গা আছে? যেখানে সংসদে, বিধানসভায় মহিলাদের আসন সংরক্ষণ বিল পাশ হচ্ছে, নারী সশক্তিকরণের কথা বলা হচ্ছে। রাজ্যগুলিতে কেন্দ্র নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মহিলাদের বাড়ির মালিকানা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে এই রাজ্য সরকার বলছে মহিলাদের রাতে ডিউটি করার প্রয়োজন নেই! রাতে যে মহিলাদের নিরাপত্তা নেই, সেটা সরকার নিজেই বলছে নবান্ন থেকে? এর পরে হয়তো বলবে দিনের বেলাতেও মহিলারা বাড়ি থেকে বেরোবেন না!”

    আরও পড়ুন: “মমতার ওপর থেকে বিশ্বাসটাই হারিয়ে গিয়েছে”, বলছেন নির্যাতিতার বাবা

    পশ্চিমবঙ্গে নারী স্বাধীনতা, নারী সুরক্ষা, নারীর অধিকার, নারীর নিরাপত্তা – সবই বিপন্ন বলেও তোপ দাগেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক (Suvendu Adhikari)। এবং এই পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বিজেপি, সিপিএম ইত্যাদি প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই আমরা পদক্ষেপ করতে পারছি না। নির্যাতিতার বাবা একবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিন, সবাই বেরোবে। তাঁকে বেরোতে হবে না। জাতীয় পতাকা নিয়ে শুধু একবার (RG Kar Case) ডাকটা দিন। বাকিটা আমরা করে দেব জাতীয় পতাকা নিয়ে (Suvendu Adhikari)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Case: ঢোক গিলল রাজ্য, প্রত্যাহার করা হল চিকিৎসকদের বদলির সিদ্ধান্ত

    RG Kar Case: ঢোক গিলল রাজ্য, প্রত্যাহার করা হল চিকিৎসকদের বদলির সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢোক গিলল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। বদলি প্রত্যাহার করা হল আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Case) সেই ৪২ জন চিকিৎসকের। শনিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম।

    স্বাস্থ্য সচিবের সাফাই (RG Kar Case)

    সাফাই গাইতে তিনি বলেন, “এই বদলির নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ নেই। এটা রুটিন বদলি ছিল। মাস দুয়েক আগেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।” রুটিন বদলিই যদি হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কেন প্রত্যাহার করা হল, তার জুতসই কোনও জবাব অবশ্য দিতে পারেননি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব। নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, “যে বদলির কথা বলা হয়েছে, সেই বদলির প্রক্রিয়া আরজি করের ৯ অগাস্টের ঘটনার প্রায় দু’মাস আগেই শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এই বদলির নির্দেশে ছাড়পত্র অনেক আগেই দিয়েছিলেন। নামের বানান থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধনের কাজ মিটিয়ে বদলির অর্ডার ইস্যু করতে অনেক দেরি হল। তবে আমরা সেই নির্দেশও প্রত্যাহার করছি।”

    ছেঁদো যুক্তি!

    তিনি বলেন, “ওই চিকিৎসকরা এখন বিভিন্ন জায়গায় পরিষেবা দিচ্ছেন। তাঁদের বদলি করলে পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হল। এতে কোনও বিতর্ক নেই। বদলির নির্দেশ আপাতত বাতিল করা হয়েছে। চিকিৎসক সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্ট অ্যাসোসিয়েশনে’র তরফে বদলির প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল (RG Kar Case)। এক্স হ্যান্ডেলে বলা হয়েছিল, “বাংলার রাজ্যপাল আমাদের প্রতিবাদ সমর্থনকারী সদস্যদের অন্যায়ভাবে বদলি করেছেন। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কিন্তু ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের দাবি স্তব্ধ করতে পারবে না। আমরা আমাদের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

    আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হিংসায় মৃত ৬৫০, বলছে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট

    বদলির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্সও।’ এই আবহেই প্রত্যাহার করা হল বদলির সিদ্ধান্ত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঘরে-বাইরে (Health Department) চাপে পড়ে গিয়েই ফেলে দেওয়া থুতু গিলল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার (RG Kar Case)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Hospital: রাতের রাজপথে জনজাগরণ, তৃণমূলের বুকে ধরল কাঁপন

    RG Kar Hospital: রাতের রাজপথে জনজাগরণ, তৃণমূলের বুকে ধরল কাঁপন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার মধ্যরাতে রাজপথের দখল নিলেন প্রমীলারা (Meyera Raat Dokhol Koro)। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁতেই শুরু হল মিছিল (RG Kar Hospital)। সেই কালো মাথার মিছিল থেকে আওয়াজ উঠল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট মধ্য রাতে গর্জে উঠেছিল স্বাধীন ভারত। আর এদিন মধ্যরাতে কলকাতার রাজপথ চলে গেলে শুধুই ‘অর্ধেক আকাশ’দের দখলে।

    নিয়ন আলোয় হাঁটছেন প্রমীলারা (RG Kar Hospital)

    উত্তরে আরজি কর তো বটেই, দক্ষিণে যাদবপুর, মধ্য কলকাতায় অ্যাকাডেমি, কলেজস্ট্রিট সর্বত্রই কেবল মিছিল আর মিছিল। হাইমাস্টের নিয়ন আলোয় নির্ভয়ে হেঁটে চলেছেন প্রমীলারা। রাতের নির্জনতা ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ধ্বনিতে। কলকাতার রাজপথের পাশাপাশি এদিন মহিলারা রাত জেগেছেন দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুতেও। স্ত্রী-শক্তির এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে সাগরপারের এডিনবরা (ব্রিটেন) শহরও।  বাংলার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জেও রাত জেগেছে প্রমীলা বাহিনী। আরজি করের নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের দাবিতে গর্জে উঠেছে নারী শক্তি।

    মশাল হাতে নারী শক্তি

    শহরে যখন পথবাতির আলোয় হয়েছে মিছিল, তখন গাঁ-গঞ্জে প্রমীলারা পথে নেমেছেন মশাল হাতে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো প্রত্যন্ত জেলায়ও রাত জেগেছে স্ত্রী শক্তি। শহর থেকে গ্রাম – অনেক মাকেও হাঁটতে দেখা গিয়েছে শিশু কোলে। রাত দখলের ডাক দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী রিমঝিম সিন‍্‍হা। তার পর লোকমুখে ছড়িয়েছে সেই ডাক। বুধবার আক্ষরিক অর্থেই রাত দখল করল অর্ধেক আকাশ। সফল হল নারীর নৈশ অভিযান। ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে যে অভিযানে শামিল হলেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাধীনতাকামী নারীরা। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ছাঁদের ইংরেজি স্লোগানও যেমন ছিল, তেমনি ছিল শঙ্খ বাজানোর সনাতনী রীতিও। যা থেকে প্রমাণ হয়, অতি আধুনিকার পাশাপাশি এদিন রাত জেগেছেন সনাতনী আদর্শের নারীরাও। মিছিল থেকেই আরজি করকাণ্ডে দোষীর ফাঁসির দাবিও উঠেছে।

    ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’

    এবং এই আওয়াজ যেমন শোনা গিয়েছে বেহালা, গড়িয়া, দমদম, নিউটাউনে, তেমনি শোনা গিয়েছে হাওড়া, লিলুয়া কিংবা বাগনান, কোলাঘাটেও। কল্যাণী থেকে বনগাঁ, জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি – সর্বত্রই এক আওয়াজ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। এর পাশাপাশি এদিন কলকাতায় আরও একটি আওয়াজ তুলেছেন জনা কয়েক প্রতিবাদী। তাঁরা ফাঁসি চেয়ে বসেছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অল্প কয়েকজনকে এই আওয়াজ তুলতে দেখা গেলেও, এর তাৎপর্য কম নয়। কারণ যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন নারী, সেখানেই নিত্য হয় নারী নির্যাতন। কেবল (RG Kar Hospital) বদলে যায় দৃশ্যপট। সে পটে কখনও ভেসে ওঠে কামদুনির নির্জন রাস্তা, কখনও আবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোনও কক্ষ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার সেই নারী। সেই নারী নির্যাতনের প্রতিবাদেই এদিন মধ্যরাতে গর্জে উঠল তামাম বাংলা।

    শাসকের বুকে কাঁপন

    এই গর্জনই কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে শাসকের বুকে। আগেভাগেই যার আঁচ পেয়ে অশ্লীল রসিকতা করেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে আসা উদয়ন গুহ। ফেসবুক পোস্টে উদয়ন লিখেছিলেন, “দিনহাটার কেউ কেউ কাল (বুধবার) রাতের দখল নিতে চাইছেন। আমার সমর্থন থাকল। তবে, স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে রাতে ফোন করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, রাত দখলের কর্মসূচিকে ঘিরে শাসক যে ভয় পেয়েছে, দলবদলু উদয়নের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। বুধবার রাত যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে রাত দখল করো আন্দোলনের ঝাঁঝ। এবং সেই আন্দোলন থেকেই যখন রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর ফাঁসির আওয়াজ ওঠে, তখন আরও বিপন্ন বোধ করে শাসক। যদিও ঘটনার পরে পরেই দোষীর ফাঁসির সাজা দাবি করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে তাতে যে (Meyera Raat Dokhol Koro) ভবি ভোলেনি, খোদ মুখ্যমন্ত্রীরই ফাঁসির দাবি ওঠায় তা স্পষ্ট।

    আরও পড়ুন: আরজি করে তাণ্ডব, মমতাকে কাঠগড়ায় তুললেন শুভেন্দু, কী বললেন সুকান্ত?

    নৈশ-মিছিল থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে কাঁচা চিত্রনাট্য!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রমীলাদের এই আন্দোলন কৌশলে দমাতে চেয়েছে তৃণমূল। নৈশ-মিছিল শুরু হতেই কারা যেন গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র। পুশিলের আধপোড়া উর্দিও মিলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরোটাই একটা সাজানো নাটক (RG Kar Hospital)। এই নাটকের চিত্রনাট্যকার যিনি, তিনি আন্দোলন থেকে বঙ্গবাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাংলার গৃহবাসীকে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন, আন্দোলনের নামে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছে প্রমীলা বাহিনী। পুলিশের আধ পোড়া উর্দি দেখিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন পুলিশ পিটিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে চিত্রনাট্যটা বড়ই কাঁচা। এবং এই চিত্রনাট্যের পর্দা ফাঁস করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রতিবাদী সেজেই গুন্ডারা ঢুকে পড়েছিল আরজি করে। তাদের সেখানে ঢোকার সুযোগ করে দেয় পুলিশই। আরজি করকাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কারণেই হামলা চালিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে (RG Kar Hospital)।

    চিত্রনাট্য ফাঁস (Meyera Raat Dokhol Koro)! অতএব, সাধু সাবধান!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • RG Kar Hospital: আরজি করে তাণ্ডব, মমতাকে কাঠগড়ায় তুললেন শুভেন্দু, কী বললেন সুকান্ত?

    RG Kar Hospital: আরজি করে তাণ্ডব, মমতাকে কাঠগড়ায় তুললেন শুভেন্দু, কী বললেন সুকান্ত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত মেয়েদের ‘রাত দখলে’র কর্মসূচি থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে তাণ্ডব হাসপাতালের (RG Kar Hospital) জরুরি বিভাগে। দুষ্কৃতীরা সেখানে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ। একতলায় জরুরি বিভাগের সর্বত্র স্পষ্ট দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের ছাপ।

    নিন্দা করলেন শুভেন্দু (RG Kar Hospital) 

    ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, প্রতিবাদী সেজেই গুন্ডারা ঢুকে পড়েছিল আরজি করে। তাদের সেখানে ঢোকার সুযোগ করে দেয় পুলিশই। আরজি করকাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কারণেই হামলা চালিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা প্রতিবাদ জানাতে আসবেন, তাঁরা কেন এভাবে ভাঙচুর করবেন এই ঘটনায় রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শুভেন্দু। সিবিআইয়ের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

    কাঠগড়ায় মমতা

    এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কাছে অরাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে চালাক বলে মনে করেন। তিনি ভেবেছেন, জনতার মাঝে দুষ্কৃতীদের প্রতিবাদী সেজে মিশে যাওয়ার বিষয়টা কেউ ধরতে পারবেন না।” নন্দীগ্রামের বিধায়কের অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীরাই হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের সেফ প্যাসেজ করে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তাও দেখিয়েছে পুলিশ। এটা করতে গিয়ে পুলিশ নিজেরাই সরে গিয়েছিল কিংবা অন্য দিকে তাকিয়ে ছিল যাতে লুম্পেনরা হাসপাতালে ঢুকে হামলা চালিয়ে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে দিতে পারে (RG Kar Hospital)।

    আরও পড়ুন: মধ্যরাতে আরজি করে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর ছক?

    শুভেন্দু লিখেছেন, “তৃণমূলের নির্বোধ দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা সফলভাবে রূপায়ণ করতে পারেনি। তাই তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে রেসিডেন্ট ডাক্তার, পিজিটি ও ইনটার্নদের ধরনা মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে। যদি কেউ প্রতিবাদকে সমর্থন করতেই আসবেন, তাহলে মূল ঘটনার কেন্দ্রস্থলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাবেন কেন? তাঁর প্রশ্ন, যেখানে গোটা রাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে, সেখানে আরজি করেই কেন ঘটল হিংসাত্মক ঘটনা?

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) যখন রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন, তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “এ কোন বিভীষিকাময় রাজ্যে বাস করছি আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করুন (RG Kar Hospital) মুখ্যমন্ত্রী।”

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Hospital: মধ্যরাতে আরজি করে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর ছক?

    RG Kar Hospital: মধ্যরাতে আরজি করে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডের (RG Kar Hospital) প্রতিবাদে বুধবার ‘রাত দখলে’র কর্মসূচি নিয়েছিলেন প্রমীলারা। মধ্য রাতের সেই কর্মসূচি চলাকালীনই আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কোলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাল একদল ব্যক্তি (Miscreants)। তাণ্ডব চালানো হল হাসপাতাল চত্বরেও।

    তছনছ জরুরি বিভাগ (RG Kar Hospital)

    দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, সিসিইউ, এইচসিসিইউ, ওষুধের স্টোররুম। হাসপাতাল চত্বরে যে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে, সেখানেও ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মঞ্চেও ভাঙচুর চালায় বীরপুঙ্গবরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেয়েদের রাত দখলের এই আন্দোলনে সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই দলের ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরাই মেয়েদের কর্মসূচিতে গিয়ে মাতব্বরি করেছে। পৌরুষ দেখাতে চালিয়েছে তাণ্ডব। আন্দোলনের ফোকাস থেকে ঘোরাতে চেয়েছে রাজ্যবাসীর দৃষ্টির অভিমুখ। আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে আন্দোলন মঞ্চেও বীরত্ব জাহির করেছে দুষ্কৃতীরা।

    পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন

    মেয়েদের রাত দখলের এই কর্মসূচিতে পুরুষরা তাণ্ডব চালালেও, হাসপাতাল চত্বরে থাকা পুলিশকর্মীরা ছিলেন অসহায়। চোখের সামনে দেখতে হয়েছে ভাঙচুর করা হচ্ছে পুলিশের গাড়ি, চলছে তাণ্ডব। পরে বিশাল বাহিনী এবং র‌্যাফ নামিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা হয়। বুধবার রাতে তাণ্ডবের ওই ঘটনা ঘটলেও, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাণ্ডবকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তাও জানা যায়নি। প্রত্যাশিতভাবই পুলিশের সদিচ্ছা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

    আরও পড়ুন: ‘মধ্যরাত দখলের’ কর্মসূচিকে কটাক্ষ! উদয়নের ‘অশ্লীল রসিকতা’য় শোরগোল

    বুধবার ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়েদের একটি মিছিল এগতে শুরু করে আরজি করের দিকে। এই সময়ই তাণ্ডব শুরু করে লাঠি ও রড় হাতে দুষ্কৃতীরা। ভেঙে উপড়ে ফেলা হয় জরুরি বিভাগের বাইরের কোলাপসিবল গেট। এই বিভাগের টিকিট কাউন্টার-সহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো হয়। হাসপাতালের (RG Kar Hospital) এক কর্মী বলেন, “দুষ্কৃতীরা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। একতলার জরুরি বিভাগে আর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।”

    এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জিনিসপত্র। পোড়া প্লাস্টিক, পুলিশের আধপোড়া উর্দি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এমারজেন্সিতে? পুলিশের উর্দিতে আগুন লাগিয়ে মেয়েদের রাত দখলের কর্মসূচিকে কলঙ্কিত করার ধান্ধায় ছিল দুষ্কৃীতরা (Miscreants)? মহিলাদের কর্মসূচিতে ওরা কারা? প্রশ্ন হাজারো। উত্তর অধরা (RG Kar Hospital)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: কর্মক্ষেত্রে কতটা নিরাপদ ডাক্তাররা? আরজি কর-কাণ্ডের পর প্রশ্ন চিকিৎসক মহলে

    RG Kar Incident: কর্মক্ষেত্রে কতটা নিরাপদ ডাক্তাররা? আরজি কর-কাণ্ডের পর প্রশ্ন চিকিৎসক মহলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Doctor Rape Murder) পরতে পরতে রহস্য। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই দাবি করছেন, এই ঘটনায় একাধিক জন জড়িত থাকতে পারে। কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Incident) এক ৩২ বছর বয়সি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। ফেডারেশন অফ রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ফোর্ডা) জানিয়েছে, সারা দেশে হাসপাতালের নির্বাচনী সেবা বন্ধ থাকবে। সব মেডিক্যাল কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তারও দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। 

    চিকিৎসকদের দাবি

    আর জি কর (RG Kar Incident) মেডিক্যাল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন (আরডিএ) ঘোষণা করেছে যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিবাদ বন্ধ করবে না। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, “আমরা চারটি দাবি তুলেছি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনা, মহিলার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।” কলকাতার ২৬ একর জুড়ে এই প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। এখানে এরকম ঘটনায় বাকরুদ্ধ বাংলা তথা দেশ।

    সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব

    আন্দোলনকারীরা  জানিয়েছেন যে, হাসপাতালের সংবেদনশীল স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব রয়েছে। ডাক্তারদের জন্য আলাদা শৌচালয় নেই। যে কোনও লোক রাতে হাসপাতালে প্রবেশ করে যান। যা রাতের হাসপাতালকে বিপজ্জনক করে তোলে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যে সেমিনার রুমে চিকিৎসকের দেহ মিলেছিল সেখানে কোনও সিসিটিভি নেই। ফ্লোর ওয়ার্ড বা করিডরেও কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে অপরাধী অপরাধ করার আগে ভাবত। এনআরএস হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় আগে আরজি কর-এ (RG Kar Incident) কর্মরত ছিলেন। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র ভবনের মূল ফটকে সিসিটিভি আছে। আপনি যে বেশিরভাগ সিসিটিভি দেখেন তা কাজ করে না।”

    বিশ্রাম কক্ষ নেই

    আরজি করের (RG Kar Incident) জুনিয়র ডাক্তারদের মতে, মহিলা ডাক্তারদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় নির্যাতিতা সেমিনার রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেমিনার রুমে কোনও ওয়াশরুম নেই। রাতের ডিউটিতে বেশিরভাগ সময় চিকিৎসকরা সেমিনার রুম বা সোনোগ্রাফি রুম ব্যবহার করেন। 

    বিনা অনুমতিতে হাসপাতালে প্রবেশ

    একজন চিকিৎসকের মতে আরজি করের (RG Kar Incident) “সবচেয়ে বড় সমস্যা” হল বিনা অনুমতিতে মাঝে মাঝেই লোক হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, “প্রায়শই একজন রোগী ১১-১২ জন আত্মীয়ের সঙ্গে আসে। শুধুমাত্র আইডি কার্ডধারীদেরই ওয়ার্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত। এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ড দেখুন, যেখানে ভিআইপি ও রাজনীতিবিদরা থাকেন। সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে।” এছাড়াও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতে হাসপাতালের বাইরে কোনও নিরাপত্তা নেই। একজন মহিলা সাফাইকর্মী জানান, “একজন রোগীর সঙ্গে ১৫-২০ জন পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়ে। আমরা জরুরি বিভাগে মাতাল লোকদেরও দেখতে পাই।”

    আরও পড়ুন: একজনের কাজ নয়, দাবি চিকিৎসকদের! আরজি কর কাণ্ডে কাকে আড়ালের চেষ্টা হচ্ছে?

    পর্যাপ্ত পুলিশের অভাব

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, হাসপাতালে (RG Kar Incident) পর্যাপ্ত পুলিশ থাকা উচিত। তাঁদের মতে, রাতে ফ্লোরে কোনও নিরাপত্তাই থাকে না। এই হাসপাতালটিতে আঘাতজনিত রোগীর প্রচুর ভিড় হয়। ডাক্তার-রোগীর অনুপাত খুব কম। যদি কেউ চিকিৎসককে অপমান করে, তবে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না। হাসপাতালের নিজস্ব প্রাইভেট সিকিউরিটি রয়েছে ঠিকই তবে জুনিয়র চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, রাত ৯টার পর প্রাইভেট সিকিউরিটি গায়েব হয়ে যায়। রাতে হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক বা নার্স এমনকী ছেলেরাও অন্ধকার, নির্জন জায়গা দিয়ে হাঁটতে ভয় পান। কারণ হাসপাতাল চত্বরে নানা ধরনের বেআইনি কাজ হয়।  অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অনেক সময়ই মত্ত যুবকদের উৎপাত লক্ষ্য করা যায় হাসপাতাল চত্বরে। করিডর থেকে শুরু করে সিঁড়ি, রোগীদের ওয়ার্ড সর্বত্রই ঢিলেঢালা নিরাপত্তা। তাই সবসময়ই নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। অনেকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তারই মূল্য চোকাতে হল নির্যাতিতাকে (Doctor Rape Murder)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Midnapore: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একী হাল! এক সপ্তাহে ১২১ জন রোগী নিখোঁজ মেদিনীপুর মেডিক্যালে

    Midnapore: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একী হাল! এক সপ্তাহে ১২১ জন রোগী নিখোঁজ মেদিনীপুর মেডিক্যালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একী অবস্থা! মেডিক্যাল কলেজ থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছেন রোগীরা। আর সেটা জানেই না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে  মেদিনীপুর (Midnapore) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আর এই বিষয়টি জানাজানি হতেই মুখ পুড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    এক সপ্তাহে ১২১ জন রোগী নিখোঁজ! (Midnapore)

    মেদিনীপুর (Midnapore) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছে। রোগীদের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেখার পরই রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়ার কথা। কিন্ত,  বাস্তবে তা কিছুই হচ্ছে না। বরং, প্রতিদিন খাতায়কলমে বেড়ে চলেছে নিখোঁজ রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সাত দিনে এই হাসপাতাল থেকে ১২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। বেশিরভাগই চিকিৎসাধীন ছিলেন পুরুষ বিভাগে। চলতি সপ্তাদের প্রথমদিন সোমবারই ২০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যান।

    আরও পড়ুন: জ্যোতিপ্রিয় ঘনিষ্ঠ বারিকের রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কী সাফাই?

    এমনিতেই এই হাসপাতালের (Midnapore) পরিষেবা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ ছিল। এবার হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের (Medical College) এক আধিকারিক বলেন, আসলে রোগীরা নিয়ম অনুযায়ী ছুটি না নিয়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে, আমাদের কাছে রোগীর তথ্য না থাকার কারণে আমরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে, নিরাপত্তারক্ষী থাকার পরও এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর সমাধান হবে।

    শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা

    তৃণমূলের আমলে হাসপাতালের এই ঢিলেঢালা নিরাপত্তার অবস্থার কারণে মুখ পুড়েছে শাসক দলের। তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অরূপ দাস বলেন, মেডিক্যাল কলেজে (Medical College) শতাধিক রোগী নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি অন্যতম কারণ। আর এই হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না বলেই রোগীরা পালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, “কেন রোগীরা চলে যাচ্ছেন, সেটা প্রশাসনের দেখা উচিত।”  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • West Bengal Health: কোটি টাকার যন্ত্র কিনেও বন্ধ বিভাগ, চিকিৎসার জন্য ভরসা তাই ভিন রাজ্য! 

    West Bengal Health: কোটি টাকার যন্ত্র কিনেও বন্ধ বিভাগ, চিকিৎসার জন্য ভরসা তাই ভিন রাজ্য! 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জেলা কিংবা কলকাতা, একাধিক সরকারি হাসপাতালের করিডরে পড়ে আছে কয়েক হাজার কোটি টাকার চিকিৎসার যন্ত্র। কিন্তু তারপরেও বন্ধ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ! তার জেরেই চিকিৎসা পরিষেবা পান না সাধারণ মানুষ। ছুটতে হয় ভিন রাজ্যে! রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা (West Bengal Health) আটকে রয়েছে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়েই, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    সমস্যা ঠিক কোথায়? 

    জেলার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে কলকাতার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএম, ছবিটা সর্বত্র এক! স্বাস্থ্য ভবন থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। চিকিৎসার জন্য যন্ত্রও কেনা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সেই যন্ত্র একবারও ব্যবহার হয়নি। বরং পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। যেমন, স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসএসকেএম হাসপাতালের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে গামা রে মেশিন। এই মেশিন কিনতে একশো কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। দীর্ঘদিন অব্যবহারের ফলে তা খারাপ হয়ে যায়। ফের কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তা মেরামত করা হয়। কিন্তু রোগী পরিষেবায় সেই মেশিন ব্যবহার করা যায়নি। থাইরয়েড ক্যানসার সহ একাধিক চিকিৎসার গামা রে মেশিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতালে (West Bengal Health) এই মেশিন থাকা সত্ত্বেও তা রোগী পরিষেবায় কাজে লাগে না। কারণ, এই মেশিন চালানোর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান। যার নিয়োগ স্বাস্থ্য দফতর করে না। ফলে রোগীকে বাধ্য হয়ে যেতে হয় ভিন রাজ্যে। 

    একই পরিস্থিতি পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ একাধিক জেলার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের (West Bengal Health)। স্বাস্থ্য ভবনের খবর, কয়েক’শো কোটি টাকা খরচ হয়ে ওই সব হাসপাতালে স্নায়ু চিকিৎসার একাধিক যন্ত্র বসানো হয়। কিন্তু ওই সব হাসপাতালে নেই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ! তাই রোগীরা পরিষেবা পান না। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের জেলা থেকে শহর ঘুরে বেড়াতে হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য তাঁরা ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন।
    এমনকী স্বাস্থ্য ভবনের বারান্দাতেও পড়ে আছে একাধিক যন্ত্র, যা কোটি কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। কিন্তু কোন হাসপাতালে তার প্রয়োজন, কোথায় সেগুলো বসানো হবে, তা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা হয়নি। ফলে, নষ্ট হচ্ছে সেসব যন্ত্র!

    কী বলছেন স্বাস্থ্যকর্তারা? 

    স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, যন্ত্র চালানোর জন্য উপযুক্ত কর্মী পর্যাপ্ত নেই। বিশেষত রেডিয়েশন যন্ত্র যেগুলো থাইরয়েড, বিভিন্ন গ্ল্যান্ডের রোগ নির্মূল করতে প্রয়োজন হয়, সেই যন্ত্র পরিচালনা করার জন্য দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পরিকাঠামো গড়ে তুলে রোগী পরিষেবা (West Bengal Health) দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত কী? 

    পরিকল্পনা ও সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল। রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, একের পর এক মেডিক্যাল কলেজ ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হলেও পরিকাঠামো নিয়ে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। রাজ্যে স্নায়ু-শল্য, প্লাস্টিক সার্জারির মতো বিভাগে রোগীদের পরিষেবা (West Bengal Health) দেওয়ার জন্য যে পরিকাঠামো ও কর্মী প্রয়োজন, তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, এই ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন দক্ষ কর্মী। কিন্তু রাজ্য সরকার স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে না। চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী স্বল্প বেতনে এই কাজ অধিকাংশ প্রশিক্ষিত ব্যক্তি করতে নারাজ। কারণ, দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই ধরনের কাজের জন্য অনেক বেশি বেতন ও সুবিধা এই প্রশিক্ষিত কর্মীরা পান। তাই কর্মীর অভাবে পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। পাশপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্যাপ্ত নেই। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা তলানিতে।

    কী বলছেন ভুক্তভোগীরা? 

    পেটের সমস্যা, স্নায়ু কিংবা ক্যানসার-যে কোনও রোগের চিকিৎসার (West Bengal Health) জন্য এ রাজ্যের মানুষকে কখনও মুম্বই আবার কখনও দক্ষিণ ভারতে ছুটতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার বিজ্ঞাপন দেয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে! সব মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন। কিন্তু রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খুব খারাপ। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বিজ্ঞাপনের চেয়ে কবে পরিষেবা বেশি গুরুত্ব পাবে?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share