Tag: Midlife Memory Problem

  • Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাড় কিংবা পেশির পাশপাশি মস্তিষ্কের শক্তি (Brain Power) কতখানি রয়েছে! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত চল্লিশ বছরের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বাড়বে বিপদ! অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইংল্যান্ডের একদল চিকিৎসক গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বজুড়ে কমছে স্মৃতিশক্তি। বিশেষত চল্লিশ বছরের পরে মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস (Memory Problems After 40) পাচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অ্যালজ্যাইমার (Alzheimer’s Disease) কিংবা ডেমেনশিয়ার (Dementia) মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের (Brain Function Slowing Down) একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো উপযুক্ত খনিজ পদার্থের সরবরাহের অভাব। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে।

    কোন খনিজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium Benefits Brain) অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি এবং হাড় মজবুত রাখতে এই খনিজ পদার্থ খুব জরুরি। তবে হাড়-পেশির পাশাপাশি মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতেও এই খনিজ খুব জরুরি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমছে।

    মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে সাহায্য করে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের একাধিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো ভাবে চলতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই খনিজ পদার্থের জোগান ঠিকমতো থাকলেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার উপরেও এর প্রভাব পড়বে।
    ম্যাগনেশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম এই ক্লান্তিবোধ কমায়। ফলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমন জরুরি। অতিরিক্ত জেলা উত্তেজিত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশেষ সাহায্য করে। তাই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিও কমে।

    কেন চল্লিশের চৌকাঠে স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যালজাইমারের শিকার। ভারতেও এই সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন‌। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স ৬০-র চৌকাঠ ছুঁলেই অনেকেই এই রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রোগের জানান পাওয়া যেতে পারে চল্লিশের পরেই। নানান উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক হলেই পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। আর রোগের ঝুঁকি কমাতে তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। চল্লিশ বছরের পর থেকেই তাই স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা যাতে না কমে সেদিকে নজরদারি জরুরি।

    কীভাবে সহজে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মেটাতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও বাদাম জাতীয় খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেয়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম যে কোনও একধরনের বাদাম নিয়মিত খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সহজ হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত যে কোনও ধরনের ডাল‌ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডালে প্রোটিনের পাশপাশি প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। ডালের পাশাপাশি ছোলা, মটরের মতো দানাশস্য নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সব্জির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করে‌। এছাড়া কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টক দই ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিয়মিত খেলে ম্যাগনেশিয়াম জোগান ঠিকমতো হয়‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share