Tag: Midterm Election:

  • US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের প্রভাব পড়তে পারে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে। নির্বাচনী ধাক্কার পর ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত চাপ সৃষ্টির কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব প্রমাণ করতে চাইবেন ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি তাঁর কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে পরিবর্তন

    মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ভোটাররা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পদেও জয় পেয়েছে বিরোধী দল। টেক্সাস, জর্জিয়া ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের দল। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, নির্বাচনের ফলাফল আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে বড় পরিবর্তন আনবে না। কারণ, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, দেশীয় উৎপাদন এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর কথায়, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় ট্রাম্পের এখন দ্রুত সাফল্য প্রয়োজন। সেই কারণে ভারতের উপর বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ বাড়তে পারে। আমেরিকার কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য একাধিক ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি।

    ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকার বাজার

    অন্যদিকে, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর সভাপতি এস সি রালহানের বক্তব্য, ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আগামী কয়েক মাসে মার্কিন শুল্কনীতি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটাই ভারতীয় রফতানিকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির (MSME) জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রয়োজন। তবেই তারা নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ এবং আগাম রফতানির পরিকল্পনা করতে পারবে। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত ভানসালিও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হিরে ও গয়না রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতের অন্যতম প্রধান বাজার। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন।

    ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

    ভানসালির আশা, মার্কিন কংগ্রেসের গঠন পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়লেও প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এর আগে যে শুল্কগুলি আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন করে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার্যকর হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ভারতীয় রফতানিকারীরা দ্রুত এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে এবং দুই দেশের রত্ন ও গয়না শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের জন্য একটি কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। তবে আমেরিকার পরিবর্তিত শুল্ক পরিস্থিতির কারণে চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্যের উপর কম শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছে নয়াদিল্লি। ফলে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।

LinkedIn
Share