Tag: Military Intelligence

  • Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ২০২৫ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বালুচিস্তানের মানবাধিকার পরিষদ। সংগঠনটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জোরপূর্বক গুম, হত্যা এবং নাগরিক (Balochistan) স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করে কর্মী ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    “বালুচিস্তান: ২০২৫ সালে মানবাধিকারের (Human Rights Crisis) পরিস্থিতি” শীর্ষক প্রতিবেদনে বছরজুড়ে নথিভুক্ত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্রবাদী গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বালুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের ১,৪৮২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও দাবি করা হয়েছে।

    একই সময়ে ৫৯৮টি হত্যার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। নিহতদের মধ্যে ২৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩২৫টির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করা হয়েছে। এই সংখ্যা মোট হত্যাকাণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি। মানবাধিকার পরিষদের নথিতে সবচেয়ে বেশি যে সংস্থার নাম এসেছে, সেটি হল ফ্রন্টিয়ার কর্পস। সংগঠনটির দাবি, ওই বাহিনীর সঙ্গে ৮৯৭টি জোরপূর্বক গুম এবং ১৯৫টি হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

    সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রতিবাদকারীরাও নিশানায় (Balochistan)

    শুধু গুম ও হত্যাকাণ্ড নয়, ২০২৫ সালে সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরাও আইনি হয়রানি, নির্বিচারে আটক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের দাবি, বৃহৎ সামরিক অভিযান, যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনটি নিজেকে বালুচিস্তান (Balochistan) ও সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক ও নির্দলীয় মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়।

    তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, বালুচিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান আইন মেনেই পরিচালিত হয় এবং এসব অভিযানের উদ্দেশ্য হল সশস্ত্র তৎপরতা দমন ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

    নজরদারি ও দমনের বিস্তৃত কাঠামোর অভিযোগ

    প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং গোয়েন্দা ব্যুরোর বিরুদ্ধে বালুচ সমাজের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ডিজিটাল ও মানবভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকারকর্মীদের আত্মীয়স্বজনের ওপর নজর রাখছে, বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া টেলিফোনে আড়িপাতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধীদের শনাক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

    এই নজরদারির পরিধি বালুচিস্তানের বাইরেও সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সেখানে নিরাপত্তার সন্ধানে বালুচিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী ও উদ্বাস্তুদেরও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    করাচিতেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়মিত জোরপূর্বক গুম করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনী ও পাল্টা-সন্ত্রাস কাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    প্রতিবেদনে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি চৌকি পরিচালনা, তোলাবাজি এবং অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন বিভাগকে বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পর আগে অপহৃত বালুচ অসামরিক নাগরিকদের গোপন আটকস্থান থেকে বের করে হত্যা করা হয় এবং পরে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত জঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়। সংগঠনটির মতে, এই ধরনের সাজানো সংঘর্ষের মাধ্যমে সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করার (Balochistan) চেষ্টা করা হয়।

    ২০২৬ সালেও গুমের ধারা অব্যাহত থাকার দাবি

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতেও কেচ, কোয়েটা ও গোয়াদরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জোরপূর্বক গুমের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, কবি ও চিকিৎসকদের রাতের অন্ধকারে সামরিক পোশাক পরা মুখোশধারী ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাদের গোপন আটককেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃতদেহ প্রত্যন্ত এলাকায় ফেলে রাখা বা অজ্ঞাত গণকবরে দাফন করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভিযোগ

    পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব স্থানীয় অপরাধী ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছে মানবাধিকার পরিষদ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক পাচারকারী ও স্থানীয় ভাড়াটে যোদ্ধারাও রয়েছে। তারা রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    সাংবাদিক আসিফ খান খেতরান এবং প্রয়াত সাংবাদিক সাজিদ হুসাইন বালুচের মতো ব্যক্তিদেরও এই ধরনের গোষ্ঠী টার্গেট করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিহত অধ্যাপক ও কবি ঘামখোয়ার হায়াতের হত্যাকাণ্ডেও এমন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশিষ্ট বালুচি নারী কবি হাবিবা পীরজানকে দ্বিতীয়বার অপহরণের সঙ্গেও এসব গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Balochistan)।

    দমন-পীড়নই কি উল্টো প্রতিরোধ বাড়াচ্ছে?

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন যত বাড়ছে, ততই তা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মনোভাবকে শক্তিশালী করতে পারে।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, একজন শিক্ষার্থীকে গুম করা, একজনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ ফেলে রাখা কিংবা রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা—এসব পদক্ষেপ সশস্ত্র প্রতিরোধকে দমন করার বদলে উল্টে সেটিকে আরও বৈধতা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে নিখোঁজ বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রতিরোধের মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মত প্রকাশ করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা অভিযানকে আইনসম্মত এবং সশস্ত্র তৎপরতা মোকাবিলার (Balochistan) অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

     

LinkedIn
Share