Tag: Military modernization

  • S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিবৃদ্ধি করে ভারতে পৌঁছল রাশিয়া-নির্মিত এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রন (প্রকারান্তরে রেজিমেন্ট)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চতুর্থটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেক্টরে মোতায়েন করা হবে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এবার চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমনের মাধ্যমে সেই প্রকল্প আরও এক ধাপ এগোল।

    ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি ধাপে ধাপে এসে পৌঁছচ্ছে। প্রথম ধাপ ৩ জুন ভারতে এসে পৌঁছেছে। তার আগে গত মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আধিকারিকরা রাশিয়ায় গিয়ে প্রি-ডিসপ্যাচ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রনের বাকি সরঞ্জাম ও উপাদানগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি শেষ হওয়ার কথা।

    পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা

    সামরিক সূত্রের মতে, নতুন এস-৪০০ ইউনিটটি ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, বিশেষত পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এই ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এস-৪০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

    • ● সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
    • ● যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং আকাশে থাকা নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করতে পারে।
    • ● একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
    • ● উন্নত রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    একটি স্কোয়াড্রনে কী কী থাকে?

    প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে মোট ১৬টি বিশেষায়িত যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে—

    • ● কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
    • ● অত্যাধুনিক রাডার ইউনিট
    • ● মোবাইল মিসাইল লঞ্চার
    একটি স্কোয়াড্রন আবার দুটি ব্যাটারিতে বিভক্ত। প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি করে লঞ্চার থাকে। ফলে একটি সম্পূর্ণ স্কোয়াড্রন থেকে একযোগে ১২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত মোট ৬০টি লঞ্চার এবং প্রায় ৬,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, যেগুলি ১২০ কিলোমিটার থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিলম্ব

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে এবং ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। তবে রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি সমস্ত সরঞ্জাম ও পঞ্চম তথা শেষ রেজিমেন্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে।

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ কার্যকারিতার প্রমাণ

    ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই অভিযানে শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশপথে আসা হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের মোট এস-৪০০ বহর ১০টি ইউনিটে পৌঁছবে।

    ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    এস-৪০০ বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (IACCS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এস-৪০০-এর পাশাপাশি দেশীয়ভাবে নির্মিত ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এমআরএসএএম’ (MRSAM)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    চতুর্থ এস-৪০০ রেজিমেন্টের আগমনের ফলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রকল্প সমাপ্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছল। পঞ্চম ও শেষ রেজিমেন্ট হাতে পাওয়ার পর দেশের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস-৪০০ শুধু একটি অস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
  • Adani Defence: প্রথম চালান হস্তান্তর করা হল ‘প্রহর’ লাইট মেশিনগানের, দেশীয় ক্ষুদ্র অস্ত্র উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি 

    Adani Defence: প্রথম চালান হস্তান্তর করা হল ‘প্রহর’ লাইট মেশিনগানের, দেশীয় ক্ষুদ্র অস্ত্র উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৭.৬২ মিমি ‘প্রহর’ লাইট মেশিনগানের (LMG) প্রথম চালান হস্তান্তর করা হয়েছে ২৮ মার্চ। এটি দেশীয় ক্ষুদ্র অস্ত্র উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে। নির্ধারিত সময়সীমার ১১ মাস আগেই এলএমজি সরবরাহ করা হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দ্রুত বাস্তবায়নের নজির। এই অস্ত্রগুলি উৎপাদিত হয়েছে গ্বালিয়রের ক্ষুদ্র অস্ত্র কারখানায়, যা ভারতের প্রথম সম্পূর্ণভাবে একীভূত বেসরকারি খাতের ছোট অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র (Adani Defence)।

    প্রহর এলএমজির মোট অর্ডার (Adani Defence)

    অস্ত্রবাহী ট্রাকগুলির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রকের অধিগ্রহণ বিষয়ক মহাপরিচালক এ আনবারাসু। উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ প্রতিরক্ষা আধিকারিকরাও (Indian army)। প্রহর এলএমজির মোট অর্ডার ৪০,০০০ ইউনিটেরও বেশি। মূল চুক্তির মেয়াদ ছিল সাত বছর। তবে আদানি ডিফেন্স তিন বছরেরও কম সময়ে সরবরাহ করে দিয়েছে এই অস্ত্র। সিইও আশিস রাজবংশী জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ১,০০০টি এলএমজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে এক নজিরবিহীন হার। প্রকল্পটি বিড জমা দেওয়া থেকে প্রথম সরবরাহ পর্যন্ত মোট ছ’বছর সময় নিয়েছে, যা দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনের জটিলতা ও পরিসরকে প্রতিফলিত করে।

    গ্বালিয়রের কারখানা

    ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত গ্বালিয়র কারখানায় সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে—ব্যারেল তৈরি, বোল্ট ক্যারিয়ার ও রিসিভার নির্মাণ, উন্নত সিএনসি মেশিনিং, রোবোটিক্স এবং সূক্ষ্ম পরিমাপ প্রযুক্তি। কারখানায় একটি ধাতুবিদ্যা পরীক্ষাগার এবং ২৫ মিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ ফায়ারিং রেঞ্জও রয়েছে, যা কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। প্রতিটি অস্ত্র মোতায়েনের আগে পরীক্ষা, ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ এবং পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব পড়ছে, তা বিচার করে দেখা হয়। প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১ লাখ অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা এবং ৯০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। এই উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে ২০২৪ সালে চালু হওয়া কানপুরের আদানি ডিফেন্স গোলাবারুদ কমপ্লেক্স।

    বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা

    এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ কোটি ছোট ক্যালিবার গোলাবারুদ, এবং ভবিষ্যতে বড় ও মাঝারি ক্যালিবার গোলাবারুদ উৎপাদনের দিকেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে (Adani Defence)। প্রহর এলএমজি, যা আন্তর্জাতিকভাবে নেগেভ এনজি৭ (Negev NG7) নামে পরিচিত, ইজরায়েল ওয়েপন ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে তৈরি হচ্ছে। এটি নির্ভরযোগ্যতা, উচ্চ কর্মক্ষমতা এবং বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভিযোজন যোগ্যতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।গ্বালিয়র কারখানাটিকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল অস্ত্র উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে, যা দেশের দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াবে (Indian army)।

    প্রহর এলএমজির প্রথম চালান

    প্রহর এলএমজির প্রথম চালান সরবরাহ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি (Adani Defence)। দ্রুত সময়সীমা, উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে একটি নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে।

     

LinkedIn
Share