মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জয়নগরে (Jayanagar Rape) নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় ৬২ দিনের মাথায় ফাঁসির সাজা শোনাল বারুইপুর আদলাত। সেইসঙ্গে মৃতার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল পড়ুয়া নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল এক মুসলিম যুবক (Muslim Youth)। ঘটনা ঘটার পর থেকেই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো ছিল। ফলে স্থানীয় জনতা ব্যাপক ভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রকাশ করে। এমনকী পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে ঝাঁটাপেটা পর্যন্ত করেন গ্রামবাসীরা।
ওই নাবালিকা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল (Jayanagar Rape)!
গত ৪ অক্টোবর জয়নগরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় রাজ্যরাজনীতি ব্যাপক ভাবে উত্তাল হয়ে পড়েছিল। ওই নাবালিকা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মূল অভিযুক্তের নাম মুস্তাকিন (Muslim Youth)। টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে প্রথমে মুখ চেপে ধর্ষণ করা হয় এবং এরপর নির্মমভাবে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়। শরীরে মোট ৩৭টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা এবং রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল মহিষমারি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায়। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে স্থানীয় ফাঁড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জনতার বিরুদ্ধে। যদিও পাল্টা স্থানীয় জনতার দাবি, পুলিশ প্রথম থেকেই কেসটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছিল না। পুলিশ যদি আগেই করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিক করে পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তাহলে হয়তো এমন পরিণতি হতো না। প্রতিবাদে মানুষের ক্ষোভের আগুনের আঁচ পড়ে থানার উপর। স্থানীয় জনতার দাবি, সবটাই ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই না।
নৃশংস-বিরল ঘটনা
মামলার রায়দানের পর সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নৃশংস ঘটনা (Jayanagar Rape)। বিরল ঘটনা, তাই ফাঁসির আবেদন করেছিলাম আমরা। বিচারক দোষীকে ফাঁসির সাজাই দিয়েছেন। এই মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডিএনএ প্রোফাইল মিলে গিয়েছে। ফলে সন্দেহের আর কোনও অবকাশই থাকে না।” ঘটনার তদন্ত থেকে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত মুসলিম যুবককে গত ৫ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৭ অক্টোবর তদন্ত সিট গঠন করা হয়। এরপর ২৫ দিনের মাথায় গত ৩০ অক্টোবর চার্জশিট গঠন করা হয়। অবশেষে ৫ ডিসেম্বর মুস্তাকিনকে দোষী সাবস্ত্য করা হয়।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।