Tag: Modi New Zealand Visit

  • Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের (Christopher Luxon) সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    বৈঠকের পর এক্স (আগের টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছিল। আর চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর হিসেবে আমার এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

    ২০৩০-এর মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি) করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত কার্যকর করতে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের একটি রোডম্যাপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কাঠামো এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি।

    বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আরও সহযোগিতা

    মোদির মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ। সেই কারণেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।’

    একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, ক্রীড়া এবং পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর যে কোনও ধরনের বাধার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে জোর

    এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউএন) সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের প্রতিও নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন।

    নতুন গতি পাবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক

    কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দশক পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশই এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

LinkedIn
Share