Tag: Modi Xi Meeting

  • Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Modi Xi Meeting) বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হিসেবে দেখবে—এই বিষয়টিকেই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে আসা জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উচ্ছ্বসিত ওয়াং জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেন।

    ভারত-চিন অংশীদারিত্বে জোর (Modi Xi Meeting)

    ওয়াং বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বৈঠকে বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

    ওয়াং আরও বলেন, মোদি এবং জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে নেই; বরং তা নয়া উচ্চতায় উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রও।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বার্তা

    ভারত ও চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, দুই পক্ষ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মতপার্থক্য ও বিরোধগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করার এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    ওয়াং জানিয়েছেন, জিনপিংয়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিবাচক সাড়া দেন। মোদি স্পষ্ট করেন, ভারত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখে (Modi Xi Meeting)।

    চিনের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হতে প্রস্তুত ভারত

    বৈঠকের বিষয়ে ওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত চিনের প্রতিপক্ষ নয়, পার্টনার হতে প্রস্তুত। মোদি আরও বলেছেন, দুই দেশের উন্নয়নকে ভারত কোনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায়। ওয়াং বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান বজায় রাখা, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ব্রিকস-সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা

    ব্রিকসে একে অপরের সভাপতিত্বকে সমর্থন করার বিষয়েও মোদি ও জিনপিং একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং (Wang Yi)। রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জি২০-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগমূলক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ওয়াং বলেন, ভারত ও চিনের উচিত পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা (Modi Xi Meeting)।

    ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে চিন

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠকে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। তিনি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান আরও গভীর করা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Modi Xi Meeting)।

    গুও আরও জানান, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য চিন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নকে সমর্থন করবে, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়।

    ব্রিকস বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং (Wang Yi) ফের জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অংশীদারিত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। সীমান্তে শান্তি, ব্রিকসে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে (Modi Xi Meeting)।

LinkedIn
Share