মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার
ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
