Tag: moon south pole

moon south pole

  • Chandrayaan 3: পূর্বসূরির চোখে উত্তরসূরি! চাঁদের বুকে ‘বিক্রম’-এর ছবি তুলে পাঠালো ‘চন্দ্রযান ২’ অরবিটার

    Chandrayaan 3: পূর্বসূরির চোখে উত্তরসূরি! চাঁদের বুকে ‘বিক্রম’-এর ছবি তুলে পাঠালো ‘চন্দ্রযান ২’ অরবিটার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালে তার সঙ্গীর অকালমৃত্যুতে সে একা হয়ে পড়েছিল। চার বছর ধরে সে একাই চাঁদের চারপাশে চরকি-পাক খাচ্ছিল। এবার সে একজন সঙ্গী পেয়েছে। চন্দ্রভূমে সফল অবতরণ করেছে তার উত্তরসূরি ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার। ইতিমধ্যেই সেই ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে ‘চন্দ্রযান ২’-এর অরবিটারের। এবার চন্দ্রপৃষ্ঠে থাকা ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর (Vikram-Pragyan) ছবি উঠলো চন্দ্র-২ অরবিটারে লাগানো ক্যামেরায়। সেই ছবি পোস্ট করা হয়েছে ইসরোর চন্দ্রযান-৩ ট্যুইটার হ্যান্ডলে।

    এখনও সচল চন্দ্র-২ অরবিটার

    ২০১৯ সালে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল ‘চন্দ্রযান ২’। কিন্তু, সেই অভিযান সফল হয়নি। অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছিল ‘হার্ড-ল্যান্ডিং’ ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (‘চন্দ্রযান ৩’ অভিযানেও ল্যান্ডার ও রোভারের নাম অরপিবর্তিত রাখা হয়েছে)। কিন্তু, সচল রয়েছে চন্দ্র-২ অরবিটার। সে এখনও প্রদক্ষিণ করে চলেছে চাঁদকে। চার বছর আগের সেই ব্যর্থতার পর ২০২৩ সালে এসে সাফল্যের মুখ দেখল ইসরো। 

    মহাকাশে বিরাট লাফ ভারতের

    বুধবারই মহাকাশে বিরাট লাফ দিয়েছে ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল অবতরণ করেছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও তার পেটে থাকা রোভার ‘প্রজ্ঞান’ (Vikram-Pragyan)। ইতিমধ্যেই, চাঁদের বুকে দাপিয়ে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়াচ্ছে রোভার। অন্যদিকে, এক জায়গায় স্থির রয়েছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। এদিকে, চাঁদের চারপাশে চক্কর কাটতে কাটতে সেই ছবি তুলে নিলো ‘চন্দ্রযান ২’ অরবিটার। অর্থাৎ, পূর্বসূরির চোখে ধরা দিল উত্তরসূরি।

    ইসরোর তরফে যে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, চাঁদের মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। আগের দিনের সঙ্গে বর্তমানে ল্যান্ডারের অবস্থানের পার্থক্য বোঝাতে বুধবার দুপুরের আর বুধবার রাতের দুটো ছবি প্রকাশ করে ইসরো। দুটি ছবিই চন্দ্রপৃষ্ঠের এক জায়গার। দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চারদিকে গর্তের মধ্যে, মোটামুটি সমতল একটা জায়গা খুঁজে নিয়ে ল্যান্ডার বিক্রম দাঁড়িয়ে রয়েছে চাঁদের মাটিতে। তার ছায়াও ধরা ছবিতে।

    ঠিকঠাক কাজ করছে বিক্রম-প্রজ্ঞান (Vikram-Pragyan)

    এর আগে, গতকাল ইসরো জানিয়েছিল, ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) সকল সিস্টেম ঠিকঠাক কাজ করছে। সব প্যারামিটার স্বাভাবিক রয়েছে। ইসরো ট্যুইট করে জানিয়েছে, ‘‘সমস্ত কাজ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হচ্ছে। সমস্ত সিস্টেমও স্বাভাবিক রয়েছে। ল্যান্ডার মডিউল পেলোডগুলি— ইলসা, রম্ভা এবং চ্যাস্টে চালু করা হয়েছে। রোভারের গতিশীলতা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রপালশন মডিউলে শেপ পেলোড রবিবার চালু করা হয়েছে৷’’

    নামার আগে শেষ মুহূর্তের ভিডিও

    পাশাপাশি, ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3) অবতরণের আগে চূড়ান্ত মুহূর্তগুলির একটি ভিডিও শেয়ার করেছে ইসরো। সেখানে দেখা যাচ্ছে, যতই চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছে ল্যান্ডার ততই স্পষ্ট হয়ে ধরা দিচ্ছে চাঁদ। ল্যান্ডার ইমেজার ক্যামেরায় ওই ছবিগুলি ধরা পড়ে অবতরণের একেবারে শেষ মুহূর্তে। ভিডিও শেয়ার করার সময় ইসরো টুইটে জানিয়েছে, ‘‘ল্যান্ডার ইমেজার ক্যামেরাটি মাটি স্পর্শ করার ঠিক আগে চাঁদের ছবি ধারণ করেছিল।’’

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • India On Moon: ইতিহাসের পাতায়! বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় ভারতের

    India On Moon: ইতিহাসের পাতায়! বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। নির্ধারিত সময়েই হলো বহু কাঙ্খিত টাচডাউন। চাঁদের বুকে সফট ল্যান্ডিং করলো ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। সেই সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়লো ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের অনাবিষ্কৃত দক্ষিণ মেরু জয় করলো ভারতের ‘চন্দ্রযান ৩’। একইসঙ্গে, আমেরিকা, সাবেক সোভিয়েত এবং চিনের পরেই চাঁদে সফল ভাবে মহাকাশযান অবতরণ করানো দেশের তালিকায় চতুর্থ হিসাবে নাম লেখাল ভারত। এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ বলেন, ‘‘আমরা পেরেছি, চাঁদের দেশে পা রেখেছে ভারত। ইন্ডিয়া ইস অন দ্য মুন।’’

    কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে বসে ইতিহাসের সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির সঙ্গে জুড়ে থাকলেন কোটি কোটি ভারতবাসী। ইসরোর তরফে একটি ট্যুইট করে বলা হয়, ‘চন্দ্রযান ৩’  সফলভাবে চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং করেছে। একইসঙ্গে ‘চন্দ্রযান ৩’-এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, ‘ভারত, গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছি আমি। লক্ষ্যপূরণ হল তোমারও।’’

    এত বড়ো সাফল্যের পর জোহানেসবার্গ থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘‘তিনি বলেন, ভারতের উদীয়মান ভাগ্যের আহ্বান এই মুহূর্তে। অমৃতকালের আহ্বান। অন্তরীক্ষে নতুন ভারতের উদয়।’’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, আজ ১৪০ কোটি ভারতীয়র হৃদস্পন্দন জড়িয়ে ছিল। ইসরো বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করেন মোদি। বলেন, ‘‘টিম চন্দ্রযানকে, বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা। তাঁরা এই মুহূর্তটির জন্য বছরের পর বছর ধরে পরিশ্রম করেছেন।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমার প্রিয় পরিবাবেরর সদস্যরা যখন নিজেদের চোখের সামনে এরকম ইতিহাস তৈরি হতে দেখি, তখন জীবন ধন্য হয়ে যায়। এরকম ঐতিহাসিক ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য গর্বের বিষয়। এই মুহূর্তটা অবিস্মরণীয়। এই মুহূর্তটা উন্নত ভারতের। প্রত্যেক দেশবাসীর মতো আমারও মনোযোগ চন্দ্রযানের মহা অভিযানে ছিল।  এটি ভারতের নতুন শক্তি, নতুন চেতনার মুহূর্ত।’’

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Chandrayaan 3: ল্যান্ডারের ‘সফট ল্যান্ডিং’ নয়, বিজ্ঞানীদের চিন্তায় রেখেছে চাঁদের ধুলো! কেন?

    Chandrayaan 3: ল্যান্ডারের ‘সফট ল্যান্ডিং’ নয়, বিজ্ঞানীদের চিন্তায় রেখেছে চাঁদের ধুলো! কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তার পরেই আসতে চলেছে বহুকাঙ্খিত মাহেন্দ্রক্ষণ। বুধবার সন্ধেয় চাঁদের মাটি ছুঁতে চলেছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3)। সেই সঙ্গে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে আজ। ইসরো (ISRO) জানিয়েছে, আজ ভারতীয় সময় সন্ধে পৌনে ৬টা থেকে শুরু হবে অবতরণের প্রক্রিয়া। চাঁদের মাটিতে ৩০ কিলোমিটার ওপর থেকে নামবে ল্যান্ডার বিক্রম। সন্ধে ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যান্ডিং করবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Lander Vikram) ও তার মধ্যে থাকা রোভার ‘প্রজ্ঞান’ (Rover Pragyan)। 

    দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করবে ‘চন্দ্রযান ৩’

    ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করবে ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার এবং রোভার। ৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবতরণ করার কথা এই মহাকাশযানের। এই এলাকাটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এর আগে কোনও দেশই মহাকাশযান পাঠায়নি। ফলে ভারত আজ সফল হলে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল অবতরণের কৃতিত্ব অর্জন করবে। চাঁদের বুকে অবতরণের সেই দৃশ্য বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে সরাসরি সম্প্রচার হবে ইসরোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইউটিউবে।

    আরও পড়ুন: আজ চাঁদের মাটি ছোঁবে ‘চন্দ্রযান ৩’, সাফল্য কামনায় দেশ-বিদেশে পুজো-যজ্ঞ-নমাজ পাঠ

    সফট-ল্যান্ডিং করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ

    তবে, এই অঞ্চলে সফট-ল্যান্ডিং করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। তা হলো, অবতরণ প্রক্রিয়ার ওই শেষের ২০ মিনিট। চার বছর আগে এই পর্বে এসে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছিল (বিজ্ঞানের পরিভাষায় হার্ড ল্যান্ডিং) ‘চন্দ্রযান ২’-এর ল্যান্ডার। এই পর্যায়টিই হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। ইসরোর বিজ্ঞানীরা যদিও আত্মবিশ্বাসী, যে এবার তাঁরা সফল হবেনই। ইসরোর দাবি, ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3) ও তার ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-কে (Lander Vikram) এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতি হলেও তা সঠিকভাবে সফট-ল্যান্ডিং করতে পারবে। ল্যান্ডারে থাকা যাবতীয় সেন্সর কাজ না করলেও, সঠিকভাবে অবতরণ করতে সক্ষম ‘বিক্রম’। তেমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে তাকে।

    তবে ইসরোর বিজ্ঞানীদের মাথায় অন্য আরেকটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো, চাঁদের মাটি। অবতরণের সময় ল্যান্ডার স্পর্শ করার সময় চারদিকে ধুলোর আস্তরণ উড়বে। কার্যত প্রায় ঢাকা পড়ে যাবে ল্যান্ডার। এমতাবস্থায়, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ধুলো পুরো থিতিয়ে বসে যাচ্ছে, ততক্ষণ ‘বিক্রম’-এর পেট থেকে ‘প্রজ্ঞান’-কে বের করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের এই আশঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে কোন বিজ্ঞান? 

    বিজ্ঞানীদের চিন্তায় রেখেছে ‘রেগোলিথ’, কী এটা?

    চাঁদের ধুলোকে বলা হয় ‘রেগোলিথ’। এই ধুলো চার্জড পার্টিকলে ভরপুর, খনিজ উপাদানও আছে। এর মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন, টাইটানিয়াম এবং আয়রনের মতো খনিজ মৌল। তাদের অণু-পরমাণুর মধ্যে নিরন্তর ধাক্কাধাক্কি চলছে। রেগোলিথ মহাজাগতিক রশ্মির বিকিরণে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। চাঁদে যেহেতু পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই মহাজাগতিক রশ্মি, সৌরঝড় সরাসরি আছড়ে পড়ে চাঁদে। আর মহাজাগতিক রশ্মিদের বিকিরণে চাঁদের ধুলো উত্তেজিত থাকে সারাক্ষণ। 

    মহাজাগতিক রশ্মিদের বিকিরণে চাঁদের ধুলো আরও উত্তেজিত হয়ে লাফালাফি শুরু করে। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা অন্য কোনও মহাজাগতিক রশ্মি চাঁদের মাটিতে সরাসরি আছড়ে পড়ার সময় এই সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণাগুলিকে আঘাত করে। ফলে এগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি হয়। গরম হলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য ধুলোকণাগুলো তড়িৎ ঋণাত্মক কণা বা ইলেকট্রন ছাড়তে থাকে। তাপমাত্রার ফারাক এবং মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে বিরাট এলাকা জুড়ে ধুলোর ঝড় শুরু হয় যাতে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ফোর্স চুম্বকীয় স্তর তৈরি করে। 

    প্রজ্ঞানকে বাঁচাতে এখন কী করণীয়?

    সফট ল্যান্ডিং (Chandrayaan 3) ঠিকঠাক ভাবে করতে হলে রেট্রো-রকেট চালাতে হতে পারে ল্যান্ডারকে (Lander Vikram)। ইসরো জানিয়েছে, অবতরণের সময় যদি চাঁদের মাটির ধুলো ওড়ে, তাহলে ক্ষতি হতে পারে রোভারের। ধুলোর আয়নিক কণারা রোভারের যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। ধুলোকণা যন্ত্রের উপর গিয়ে পড়লে বেতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক‘ (DSN)-এর মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে না রোভার ‘প্রজ্ঞান’। সেক্ষেত্রে কী করণীয়? ইসরো জানিয়েছে, ল্যান্ডারের চারটি পা যখন মাটি ছোঁবে, ইঞ্জিন বন্ধ করে দেবেন বিজ্ঞানীরা। শুধুমাত্র সেন্ট্রাল ইঞ্জিন কাজ করবে। তাও সতর্ক ভাবে, যাতে ধুলো না ওড়ে। অবতরণের পর ওই মাটি থিতিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করা হবে। এর পর ল্যান্ডার থেকে আলাদা হয়ে চাঁদের মাটিতে নামবে রোভার ‘প্রজ্ঞান’ (Rover Pragyan)। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Chandrayaan 3: অবতরণ-পর্বে শেষ ২০ মিনিটই চ্যালেঞ্জ! ‘চিন্তা নেই, সফট-ল্যান্ডিং হচ্ছেই’, আশ্বাস ইসরোর

    Chandrayaan 3: অবতরণ-পর্বে শেষ ২০ মিনিটই চ্যালেঞ্জ! ‘চিন্তা নেই, সফট-ল্যান্ডিং হচ্ছেই’, আশ্বাস ইসরোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘দ্য ফাইনাল কাউন্টডাউন’। রাত পোহালেই ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়বে ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল অবতরণ করার নজির গড়তে চলেছে দেশ। অনাবিষ্কৃত আঁধারে ঘেরা চাঁদের সেই মেরু অঞ্চলে ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) অবতরণ ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে গোটা দেশে, থুরি বলা ভালো গোটা বিশ্বে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী যা থাকতে পারে দেশবাসী, তার জন্য গোটা অবতরণ প্রক্রিয়ার সরাসরি স্ট্রিমিং ৫টা ২০ মিনিট থেকে করবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

    অবতরণ-পর্বে শেষের ২০ মিনিটই প্রধান চ্যালেঞ্জ

    ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর (Lander Vikram) চূড়ান্ত অবতরণ প্রক্রিয়া (দ্য ফাইনাল ডিসেন্ট) শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ। আর সন্ধেয় ৬টা ৪ মিনিটে হবে কাঙ্খিত ‘টাচডাউন’। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, চির-আঁধারে ঘেরা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের পরতে পরতে রয়েছে রহস্য। এই দক্ষিণ মেরু অঞ্চলই সবচেয়ে এবড়ো-খেবড়ো, খানা-খন্দে ভরা। রয়েছে শয়ে শয়ে গহ্বর। ফলে, এই অঞ্চলে সফট-ল্যান্ডিং করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। ইসরোর বিজ্ঞানীদের মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো, অবতরণ প্রক্রিয়ার ওই শেষের ২০ মিনিট। চার বছর আগে এই পর্বে এসে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছিল (বিজ্ঞানের পরিভাষায় হার্ড ল্যান্ডিং) ‘চন্দ্রযান ২’-এর ল্যান্ডার।

    আরও পড়ুন: চাঁদে অবতরণের পরই তো আসল কাজ শুরু ‘চন্দ্রযান ৩’-এর! জানেন কী করবে বিক্রম-প্রজ্ঞান?

    যদিও এবার, সফল সফট ল্যান্ডিংয়ের বিষয়ে আশাবাদী ইসরো। তারা জানিয়েছে, ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3) ও তার ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-কে (Lander Vikram) এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতি হলেও, তা সঠিকভাবে সফট-ল্যান্ডিং করতে পারবে। কীভাবে গোটা অবতরণের প্রক্রিয়া কাজ করবে, তা বিশদে ইসরোর তরফে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ‘বিক্রম’-কে নিচে নামানো হবে। একইসঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে কমানো হবে তার গতিও। এই পুরো বিষয়টা একেবারে অঙ্ক কষার মতো সাজিয়ে ল্যান্ডারের সিস্টেমকে বলে দেওয়া হয়েছে। 

    ধাপে ধাপে গতি কমানোর সঙ্গে নিচে নামবে ‘বিক্রম’

    বর্তমানে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Lander Vikram) চাঁদের ২৫ কিলোমিটার x ৭০ কিলোমিটার কক্ষপথে অবস্থান করছে। সেখান থেকে চাঁদের বুকে পা রাখতে মিনিট ২০ সময় লাগবে। ইসরো জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ‘বিক্রম’-কে বর্তমান অবস্থান থেকে ৭.৪ কিমি উচ্চতায় নামিয়ে আনা হবে। এই সময়ে ল্যান্ডারের গতি থাকবে সেকেন্ডে ৩৫৮ মিটার। সময় লাগবে ১১ মিনিট। দ্বিতীয় ধাপে ৬.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় নামিয়ে আনা হবে। এখানে ‘বিক্রম’-এর গতি আরও কমে হবে সেকেন্ডে ৩৩৬ মিটার। 

    ছবি সৌজন্য – ইসরো

    তৃতীয় ধাপে উচ্চতা কমে হবে ৮০০ মিটার। এবারও আরও গতি কমবে। এই পর্যায়ে এসে ল্যান্ডার তার লেজার রশ্মির সাহায্যে অবতরণের যোগ্য জায়গা খুঁজে বের করে নেবে। লেজার রশ্মির সাহায্যে ‘বিক্রম’-এ থাকা সেন্সর অবতরণের উপযুক্ত জায়গা খুঁজে নিতে সাহায্য করবে। পরের ধাপে, ৮০০ থেকে ১৫০ মিটার উচ্চতায় নামবে ‘বিক্রম’। এখানে তার গতি থাকবে সেকেন্ডে ৬০ মিটার। এর পর, পর ১৫০ থেকে ৬০ মিটারে নামার সময়ে এই গতি হবে ৪০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। শেষ ধাপে, ৬০ থেকে ১০ মিটারে নামতে গিয়ে ‘বিক্রম’-এর গতি থাকবে ১০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। সেখান থেকে মাটি ছোঁয়ার সময় ল্যান্ডারের গতি কমে হবে সেকেন্ডে ১.৬৮ মিটার।

    আরও পড়ুন: বুধবার চাঁদে পা ‘বিক্রম’-এর, তার আগে ৭০ কিমি ওপর থেকে ছবি পাঠালো ‘চন্দ্রযান ৩’

    কোনও সেন্সর কাজ না করলেও নামতে পারবে ‘বিক্রম’!

    বিজ্ঞানীদের মতে, এই গোটা ধাপগুলিই হচ্ছে একটা চ্যালেঞ্জ। এই পর্যায়টিই হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। চার বছর আগে, এই পর্যায় থেকে ছিটকে গিয়েছিল ‘চন্দ্রযান ২’। ব্যর্থ হয়েছিল অভিযান। অধরা থেকে গিয়েছিল স্বপ্ন। তবে, ইসরো এবার অনেক বেশি সতর্ক থেকেছে। যে কারণে, ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) নকশায় আমূল বদল আনা হয়েছে। পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ সেন্সর বসানো হয়েছে ‘বিক্রম’-এ। রয়েছে প্রচুর ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, ইসরোর দাবি, ল্যান্ডারে থাকা যাবতীয় সেন্সর কাজ না করলেও, সঠিকভাবে অবতরণ করতে সক্ষম ‘বিক্রম’ (Lander Vikram)। তেমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে তাকে। শর্ত বলতে শুধুমাত্র প্রোপালশন সিস্টেম ঠিক চললেই হলো।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Chandrayaan 3: বুধবার চাঁদে পা ‘বিক্রম’-এর, তার আগে ৭০ কিমি ওপর থেকে ছবি পাঠালো ‘চন্দ্রযান ৩’

    Chandrayaan 3: বুধবার চাঁদে পা ‘বিক্রম’-এর, তার আগে ৭০ কিমি ওপর থেকে ছবি পাঠালো ‘চন্দ্রযান ৩’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝে মাত্র ২৪-ঘণ্টা। বুধবার সন্ধেয় চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে চলেছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3)। তার সঙ্গেই রচিত হতে চলেছে নতুন ইতিহাস। আপামর ভারতবাসী এখন একটাই প্রার্থনা— ঠিকঠাক যেন অবতরণ করে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Lander Vikram)। দেশবাসীকে অভয় দিচ্ছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। জানিয়েছেন, সব ঠিকই আছে। এখন শেষ মুহূর্তের সিস্টেম-চেক প্রক্রিয়া চলছে।

    ইতিহাস তৈরির অপেক্ষায় ভারত

    তারিখ— ২৩ অগাস্ট। দিন— বুধবার। সময়— সন্ধেয় ৬টা বেজে ৪ মিনিট। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর কাছে এটাই এখন মাহেন্দ্রক্ষণ। কখন তা আসবে সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সকলে। কারণ, এই সময় চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে ভারতের ‘চন্দ্রযান ৩’  মহাকাশযানের ‘ল্যান্ডার বিক্রম’ (Lander Vikram)। সকলেই উদগ্রীব। সকলের মন প্রত্যাশায় ভরপুর। তবে, একইসঙ্গে রয়েছে সামান্য আশঙ্কাও। আর তাই, ‘চন্দ্রযান ৩’-এর সাফল্য কামনায় দেশজুড়ে চলছে পুজো-প্রার্থনা।

    আরও ছবি পাঠালো ‘চন্দ্রযান ৩’

    কিন্তু, পৃথিবীতে যখন তার নামে এত পুজোপাঠ চলছে, যজ্ঞ হচ্ছে, তখন কী করছে ‘চন্দ্রযান ৩’? উত্তর দিয়েছে ইসরো। মঙ্গলবার, ট্যুইটার হ্যান্ডলে দুটি ভিডিও শেয়ার করেছে ইসরো। সেখানে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত অবতরণ করার আগে চন্দ্রপৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3)। আর মহাকাশযানে লাগানো বিভিন্ন ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে চাঁদের এবড়ো-খেবড়ো খানা-খন্দ-গর্তে ভরা ভূমি। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৭০ কিলোমিটার উপর থেকে ছবি তুলেছে চন্দ্রযানের ‘ল্যান্ডার পজিশন ডিটেকশন ক্যামেরা’। ধূসর গোলকের গায়ে এবড়োখেবড়ো চিহ্ন দেখা গিয়েছে সেই ভিডিওতে। গত ১৯ অগাস্ট ওই ছবিটি তুলেছিল ‘চন্দ্রযান ৩’। পাশাপাশি, আরেকটি ভিডিওতে গত ২০ তারিখ ৪ নম্বর ল্যান্ডার ইমেজার ক্যামেরায় তোলা পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহের ছবিও ধরা পড়েছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কীভাবে চাঁদের পরিক্রমা করে চলেছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Lander Vikram)। এর আগেও চাঁদের ছবি পাঠিয়েছিল ‘চন্দ্রযান ৩’। সেই ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিল ইসরো।

    মঙ্গলে চূড়ান্ত ব্যস্ততা ইসরোয়

    ট্যুইটারে ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) অবতরণের প্রসঙ্গে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে মিশন অপারেশনস কমপ্লেক্সে (MOX) চূড়ান্ত ব্যস্ততা ও উত্তেজনা রয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মিশন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে। সিস্টেমে এখন চেকিং চলছে। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে সব ঠিকঠাক আছে। ইসরো আরও জানিয়েছে, অবতরণের সরাসরি সম্প্রচার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে শুরু হবে। ইসরো আগেই জানিয়েছিল, অবতরণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিট নাগাদ। আর সন্ধেয় ৬টা ৪ মিনিটে হবে কাঙ্খিত ‘টাচডাউন’। ইসরো জানিয়েছে, যেখানে উৎক্ষেপণের সময় ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার, সেখানে চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার পরে তা হয় ঘণ্টায় ৬ হাজার কিলোমিটার এবং অবতরণের সময়ে হবে ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ, একেবারে পালকের মতো চাঁদের মাটি ছোঁবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Lander Vikram)। 

    সাফল্য কামনায় দেশজুড়ে পুজো-যজ্ঞ

    এদিকে, ‘চন্দ্রযান ৩’-এর সাফল্য কামনায় দেশজুড়ে কোথাও হচ্ছে পুজো-প্রার্থনা, তো কোথাও আয়োজন করা হয়েছে যজ্ঞের। কলকাতা থেকে বারাণসী— দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বারাণসীর কামাখ্যা মন্দিরে হোমের আয়োজন করা হয়। কোচবিহার মদনমোহন কলোনি এলাকায় এই যজ্ঞের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার যাতে চাঁদের মাটিতে নেমে অবতরণ ইতিহাস তৈরি করতে পারে, সেই প্রার্থনা করা হয়। মুম্বইয়ে আবার বিশেষ হোমের আয়োজন করেন শিবসেনা নেতা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির) আনন্দ দুবে। উত্তর প্রদেশের আগ্রায় বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল চন্দ্রযানের সাফল্য কামনায়। আবার মধ্য প্রদেশে বিশেষ পুজোর আয়োজনও করা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Chandrayaan 3: কোথায় অবতরণ? জায়গা খুঁজে চলেছে ‘ল্যান্ডার বিক্রম’, ছবি প্রকাশ ইসরোর

    Chandrayaan 3: কোথায় অবতরণ? জায়গা খুঁজে চলেছে ‘ল্যান্ডার বিক্রম’, ছবি প্রকাশ ইসরোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝে আর মাত্র একটা দিন। ভারতের ইতিহাস গড়ার জন্য আর একটু সময় ধৈর্য্য ধরতেই হবে। চাঁদের মাটি ছোঁয়ার সময় যতই এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে প্রত্যাশার পারদ। ততই বাড়ছে আশা। ইসরো (ISRO) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধেয় ৬টায় সামান্য কিছু পরেই, চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3)। তবে, তার আগেই সম্ভাব্য ল্যান্ডিং সাইটের ছবি সোমবার পাঠালো ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। 

    চাঁদের দক্ষিণ মেরু দেখতে কেমন? ছবি প্রকাশ ইসরোর

    চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে ‘চন্দ্রযান ৩’। চাঁদের বুকে নামার আগে শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের মহাকাশযান। বুধবার বিকেল ৫টা বেজে ৪৫ মিনিটে চন্দ্রপৃষ্ঠে নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan 3)। সন্ধেয় ৬টা ৪ মিনিট নাগাদ চাঁদের অনাবিষ্কৃত ও অদেখা দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করার কথা ‘ল্যান্ডার বিক্রম’-এর (Lander Vikram)। কেমন সেখানকার ভৌগলিক বৈচিত্র্য? কী আছে সেখানে? ল্যান্ডিংয়ের আগে, সেই ছবি ধরা পড়েছে ল্যান্ডারে লাগানো ক্যামেরায়। সোমবার সকালে তেমনই বেশ কয়েকটি ছবি ট্যুইটারে শেয়ার করা হয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার হ্যান্ডেলে। 

    দক্ষিণ মেরুতে সফট-ল্যান্ডিং একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ

    পৃথিবী থেকে চাঁদের কেবলমাত্র একটি দিকই দেখা যায়। উল্টোদিকে কী আছে, তা পৃথিবী থেকে অধরা। চাঁদের এই দিককে বলা হয়ে থাকে ‘দ্য ডার্ক অফ দ্য মুন’। বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, চির-আঁধারে ঘেরা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের পরতে পরতে রহস্য। এই দক্ষিণ মেরুই সবচেয়ে এবড়ো-খেবড়ো। রয়েছে শয়ে শয়ে গহ্বর। ফলে, এই অঞ্চলে সফট-ল্যান্ডিং করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। চাঁদের যে ছবিগুলো প্রকাশ পেয়েছে এদিন, সেগুলো তোলা হয়েছে ল্যান্ডার হ্যাজার্ড ডিটেকশন অ্যান্ড অ্যাভয়ডেন্স ক্যামেরায়। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদে অবতরণের জন্য একটি সুরক্ষিত জায়গা খুঁজতে ‘ল্যান্ডার বিক্রম’-কে (Lander Vikram) সাহায্য করছে এই ক্যামেরা। অর্থাৎ, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর যেখানে ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার অবতরণ করবে, সেখানে কোনওরকম বোল্ডার বা গভীর কোনও গর্ত না থাকে, বা জায়গাটা যাতে অবতরণের যোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই ক্যামেরা। অবতরণের সময় ভুল জায়গায় পা না পড়ে তাই আগেভাগেই এলাকায় চিহ্নিত করে রাখছে সে।

    আরও পড়ুন: বুধবার সন্ধেয় চাঁদে পা ‘চন্দ্রযান ৩’-এর! কখন-কোথায় সরাসরি সম্প্রচার, জেনে নিন

    অবতরণের সময় ল্যান্ডার গতি হবে ঘণ্টায় ৫ কিমি

    চাঁদে অবতরণের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী এবং একইসঙ্গে সাবধানীও বটে ইসরো। গত ৫৭ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত এবং চিন ছাড়া অন্য কোনও দেশের মহাকাশযানই চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করতে পারেনি। রবিবারই চাঁদে আছাড় খেয়ে ধ্বংস (পরিভাষায় হার্ড ল্যান্ডিং) হয় রাশিয়ার লুনা ২৫ ল্যান্ডার। যদিও, ইসরো বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত, এবার সব ঠিকঠাক হবে। যেখানে উৎক্ষেপণের সময় ‘চন্দ্রযান ৩’-এর (Chandrayaan 3) গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার, সেখানে চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার পরে তা হয় ঘণ্টায় ৬ হাজার কিলোমিটার এবং অবতরণের সময়ে হবে ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ, একেবারে পালকের মতো চাঁদের মাটি ছোঁবে ‘ল্যান্ডার বিক্রম’ (Lander Vikram)। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share