মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের পিছিয়ে গেল বারাণসীর (Varanasi) জ্ঞানবাপী মামলার শুনানি। ২৬ মে, বৃহস্পতিবার এই মামলায় মসজিদ কমিটির আবেদন শুনবে বলে জানিয়েছে বারাণসী জেলা আদলত। আদালত উভয় পক্ষকেই কমিশনের প্রতিবেদনে আপত্তি জানাতে ও এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (Kashi Viswanath Temple) চত্বরেই রয়েছে জ্ঞাপবাপী মসজিদ (Gyanvapi Mosque)। হিন্দুদের দাবি, মসজিদ তৈরি হয়েছিল মন্দির ভেঙে, ষোড়শ শতকে। মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের (Mughal emperor Aurangzeb) নির্দেশে। পরে বর্তমান মন্দিরটি তৈরি করেন রানি অহল্যাবাই। ১৮০০ শতকে মন্দির কর্তৃপক্ষকে নন্দীর একটি মূর্তি উপহার দেন নেপালের রানা। সেই মূর্তি এখনও রয়েছে।
আরও পড়ুন : জ্ঞানবাপীর ৫ মামলাকারী লক্ষ্মী, সীতা, রেখা, মঞ্জু আর রাখিকে চেনেন?
এই জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরের মা শৃঙ্গার গৌরীর পুজোর অধিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন পাঁচ মহিলা। সেই আবেদনের শুনানির পরে সোমবার পর্যন্ত নির্দেশ সংরক্ষিত রেখেছিলেন জেলা বিচারক এ কে বিশ্বাস। এর আগে দেশের শীর্ষ আদালত জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলা শুনানির জন্য পাঠিয়েছিল বারাণসী জেলা আদালতে।
মসজিদ পরিচালনা করে অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি (anjuman intezamia masjid committee)। এই কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতেই বারাণসী দায়রা আদালত থেকে ওই স্পর্শকাতর মামলা সরানো হয়। সোমবার মসজিদ কমিটির তরফে মসজিদ চত্বর রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আবেদনটির শুনানি আগে করার আবেদন জানানো হয় বারাণসী জেলা আদালতে।
আরও পড়ুন : জ্ঞানবাপী মসজিদ আগে মন্দিরই ছিল! বলছে ১৯৩৬ সালের নথি
তারও আগে মসজিদে শুরু হয় ভিডিওগ্রাফির কাজ। ভিডিওগ্রাফির পর্বে নজরদারি করার জন্য আইনজীবী অজয় কুমার মিশ্রকে নিয়োগ করা হয় অ্যাডভোকেট কমিশনার হিসেবে। মসজিদে সমীক্ষা ও ভিডিওগ্রাফির (Videography survey) রিপোর্ট ফাঁস হওয়ায় সরানো হয়েছিল অজয় কুমারকে। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হয়েছিল মসজিদ কমিটি।
সোমবার দুপুরে বিচারক বিশ্বাসের এজলাসে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে জ্ঞানবাপী মামলার শুনানি। তার আগেই অবশ্য আদালত নিযুক্ত পর্যবেক্ষক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (ISI) বিশেষজ্ঞ দলের সমীক্ষা এবং ভিডিওগ্রাফির প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আদালত ওজুখানা ও তহ্খানা সিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় বহাল রাখলেও, মসজিদে কোনও অবস্থায়ই নমাজ পাঠ বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
সোমের পর মঙ্গলবারও ফের হয় শুনানি। হিন্দুদের তরফে আইনজীবী বিষ্ণু জৈন বলেন, আদালত দু পক্ষকেই কমিশনের রিপোর্টের ওপর অবজেকশন ফাইল করতে বলেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।