Tag: MP

MP

  • CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা (CID Raid)! শনিবার দুপুরে সাংসদ তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে হানা দেন সিআইডির পাঁচ আধিকারিক। ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠি নিয়ে। ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই রয়েছে। সেই সইয়ের সত্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ, কয়েকটি সই নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।

    সিআইডির লক্ষ্য (CID Raid)

    ওই চিঠিতে থাকা সইগুলি আদৌ স্বাক্ষরকারীর কি না, তা যাচাই করাই সিআইডির লক্ষ্য। তাই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে যান সিআইডির আধিকারিকরা। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন চন্দ্রনাথ সিনহা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যয়, তেমনি রয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেকও। এই মামলারই তদন্তে শনিবার অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা।

    বঙ্গে পট পরিবর্তন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পট পরিবর্তন হয়েছে বঙ্গে। যিনি ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, বিজেপির সেই শুভেন্দু অধিকারী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর গোহারা হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি খুইয়ে আক্ষরিক অর্থেই পথে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে তো হেরেইছেন, মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁর সাধের তৃণমূলও। মাত্র ৮০টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তাঁর দল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ নেতা শোভনদেব। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠির জেরেই যত কাণ্ড! অভিযোগ, ওই চিঠিতে কয়েকটি সই জাল করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এ সংক্রান্ত প্রথম চিঠিটি বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। সেই চিঠি ফিরিয়ে দেন বিধানসভার স্পিকার। পরে তাঁর কাছে যায় আরও একটি চিঠি। তার পরেই শুরু হয় ‘জাল সই’ নিয়ে হইচই (CID Raid)।

    নথিপত্র খতিয়ে দেখছে সিআইডি

    কেবল সই যাচাই-ই নয়, বেশ কিছু নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন সিআইডির আধিকারিকরা। কোন পরিস্থিতিতে ওই চিঠিতে সই করা হয়েছিল, যিনি সই করেছিলেন, তিনি আদৌ স্বাক্ষর করেছিলেন কিনা, সইটি সত্যি সত্যিই তাঁর নিজের করা কি না – এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলেও খবর (Abhishek Banerjee)। এদিন অবশ্য সিআইডির আধিকারিকদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে অভিষেকের বাড়ি থেকে। কারণ বাড়িতে তাঁর দেখা মেলেনি। তাঁর বাড়ির এক কর্মী জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। তাঁর স্ত্রী, সন্তানরাও নেই। কোথায় গিয়েছেন, তিনি বলতে পারবেন না। সব শুনে তদন্তকারীরা অভিষেকের বাড়ি ১৮৮এ শান্তিনিকেতনের ঠিকানায় একটি নোটিশ লটকে দিয়ে যান। এরই খানিক পরে কালীঘাট রোডের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। বলেন, আমি ওই বাড়িতে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে, এই বাড়িতে আসতে হবে (CID Raid)।

    অভিষেকের হাতে নোটিশ

    তৃণমূল নেতার এহেন ‘বার্তা’ পেয়েই অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তাঁরা সরাসরি ‘ভাতিজা’র হাতেই তুলে দেন নোটিশ। জানা গিয়েছে, সোমবারই তলব করা হয়েছে তৃণমূলের এই নেতাকে। পরে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মামলার তদন্ত করছেন, সেই অফিসাররা জানেন না সাত বছর ধরে আমি ওই বাড়িতে থাকি না৷ হয়তো ওঁদের কাছে ভুল তথ্য ছিল৷ আমিও বুঝি ওঁদের চাকরি করতে হয়৷ এখনও নোটিশ পড়িনি৷ নোটিশ পড়ার পর আমার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করব৷ তার পর যদি মনে হয় এবং আমায় যদি হাজিরা দিতে বলা (Abhishek Banerjee) হয়, তাহলে নিশ্চয়ই হাজিরা দেব৷ আমিও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেব৷ সেই অধিকার আমারও আছে (CID Raid)৷”

     

  • TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দল এবং দলনেত্রী গোহারা হেরে গিয়ে গর্তে সেঁধিয়েছেন! ভয়াল ঘূর্ণিঝড় যেমন শক্তি খুইয়ে ডাঙায় আছড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মিউ মিউ করতে করতে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন ‘ভাতিজা’ও! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর যে ‘বিক্রম’ দেখা গিয়েছিল প্রচার (Kalyan Banerjee) মঞ্চে, নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে তাঁর সেই সব ‘উসকানিমূলক’ (অভিযোগ) ভাষণ এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মন্তব্য (যা নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে) যা শুনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে ফেটে পড়েছিল সভামঞ্চ, যেসব ‘বক্তিমে’ দিয়ে তৃণমূলে তিনি নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লার্জার দ্যান পার্টি’ ইমেজ তুলে (Kakoli Ghosh Dastidar) ধরেছিলেন, নির্বাচনে দলের পাশাপাশি ‘পিসিমণি’ও হেরে যেতে, সেই তিনিই মিইয়ে গিয়েছেন, সস্তা দরে কেনা মুড়ির মতো! ‘বুয়া-ভাতিজা’র প্রবল প্রতাপের জেরে দলের অন্দরে যাঁরা এতদিন ট্যাঁ-ফোঁ করতে পারতেন না, নির্বাচন-উত্তর কালে তাঁরাই ‘খেলছেন’ চালিয়ে।

    স্পিকারকে চিঠি কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar)

    ফেরা যাক খবরে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন আরও একটি খবর নজর কেড়েছে রাজ্যবাসীর। সেটি হল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া মুষলপর্ব। দলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমন একদিকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন নেত্রী এবং তাঁর স্তাবকদের তাক করে, তেমনি কল্যাণ-কাকলির দ্বন্দ্বও (Kalyan vs Kakoli) হেডলাইন হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের। তবে এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কল্যাণের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী সাংসদ কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ

    বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, কল্যাণ লোকসভার ভেতরে তাঁকে বার বার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাবও স্পষ্ট। তাই কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন কাকলি। কাকলি লিখেছেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভেতরে আমায় বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কল্যাণ। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর (Kalyan Banerjee) উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

    কাকলির চাঁদমারি

    রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদে ইস্তফা দেন কাকলি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।’’ নাম না-করলেও, তৃণমূলেরই নেতাদের একটা বড় অংশই মনে করেন কাকলির চাঁদমারি কল্যাণই।

    কী বললেন কল্যাণ

    শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে উত্তর দিয়ে দেব। এটা স্রেফ নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ তো ছুটি! তাহলে কীভাবে তিনি (কাকলি) অভিযোগ করলেন?” কল্যাণ বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? আসলে এই অভিযোগ মিথ্যে। তাছাড়া, এটা আফটারশক (Kakoli Ghosh Dastidar)।” কাকলির অভিযোগ প্রসঙ্গে বুধবারই কল্যাণ বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কীসের এত কথা? নারদকাণ্ডে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’ কল্যাণের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ। যদিও কল্যাণের পাল্টা অভিযোগ, কাকলির মুখেই ছোটে কু-কথার ফুলঝুরি। এই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    প্রশ্ন যেখানে

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রীতি অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে জানাতে হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই অর্থে, কাকলির উচিত ছিল খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো। সেটা না করে কেন তিনি সটান স্পিকারকে চিঠি লিখে বসলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Kalyan Banerjee)।

    আকচাআকচির ‘কহানি’

    যাঁরা দিল্লির রাজনীতির হাঁড়ির খবরাখবর রাখেন, তাঁদেরই কয়েকজন জানান, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এই পরিস্থিতিতে কাকলির চিঠির প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকার কী স্টেপ নেন, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি-কল্যাণের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখনই প্রকাশ্যে চলে এসেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতানেত্রীর আকচাআকচির ‘কহানি’। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধীরা এই লড়াইকে হাতিয়ার করতে পারে ভেবে তৃণমূল নেত্রী এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। দল মুখ থুবড়ে পড়তেই, বল্গাহীন ঘাসফুলের সৈনিকরা। এখন দেখার, এমন আগুনে-পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী (Kakoli Ghosh Dastidar)।

     

  • Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে জোরাজুরি করছিল। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের সেন্ট অ্যালয়সিয়াস স্কুলের কয়েকজন হিন্দু মহিলা কর্মীর অভিযোগ (Conversion Row), ধর্ম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে (Madhya Pradesh)। জবলপুরের ওই ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনার। পুলিশের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে একটি হিন্দু সংগঠন। সদ্য চাকরি খোয়ানো হিন্দু মহিলারা স্থানীয় থানায় স্কুলের ফাদার সোমি জ্যাকব এবং কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, দু’দিন আগে তাঁদের একটি চার্চের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য জোরাজুরি করা হয়। রাজি না হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাঁদের।

    ধর্মান্তরিত হতে জোরাজুরি (Conversion Row)

    অভিযোগকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চাকরি রাখতে হলে তাঁদের ধর্মান্তরিত হতে হবে। নিয়মিত অংশ নিতে হবে চার্চের প্রার্থনায়। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দীপা পটেলও। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই স্কুলে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে অপমান করা হয়, মারধর করা হয়, এবং পরে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। দীপা বলেন, “আমি ঘটনাটি ফাদারকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও সাহায্য পাইনি।” তিনি জানান, তিনি বিধবা। তাঁর ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। আচমকা চাকরি চলে যাওয়ায় তিনি এখন ভয়ঙ্কর আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পথে নামেন হিন্দু ধর্ম সেনার সদস্যরা। পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা (Conversion Row)।

    টার্গেট মহিলারা 

    সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, মিশনারি স্কুলগুলি দরিদ্র ও কর্মজীবী মহিলাদের আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁদের টার্গেট করছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক ও মহিলা কর্মীকে নিজেদের ধর্ম ছেড়ে হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, নয়তো চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে। হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নীরজ রাজপুত। তিনি বলেন, “পাঁচ-ছ’জন হিন্দু মহিলা কর্মীর ওপর চার্চে যাওয়া এবং খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ বহু বছর ধরে স্কুলে কাজ করলেও, তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও ধর্ম বদলাতে না চেয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, বড় ধরনের আন্দোলন করা হবে।”

    পুলিশের বক্তব্য

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সূর্যকান্ত শর্মা জানান, দীপা পটেল, অমন আগরওয়াল এবং স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। অস্বীকার করায় চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (Madhya Pradesh)। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Conversion Row)।

     

  • TMC: মনরেগা প্রকল্পের লেবার বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়নি তৃণমূল সরকার, তাই মজুরি দিতে দেরি, লোকসভায় জানাল কেন্দ্র

    TMC: মনরেগা প্রকল্পের লেবার বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়নি তৃণমূল সরকার, তাই মজুরি দিতে দেরি, লোকসভায় জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র বারংবার মনে করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন বা মনরেগা  (MGNREGA) প্রকল্পের আওতায় লেবার বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়নি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল (TMC) সরকার। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলি তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, এই দেরির ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁদের প্রাপ্য মজুরি থেকে।

    কী জানাল কেন্দ্র (TMC)

    প্রসঙ্গত, এই বিষয়টি গুরুত্ব পেল তখনই, যখন বঙ্গের শাসক দল তৃণমূলেরই (TMC) এক সাংসদ পশ্চিমবঙ্গে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের বকেয়া অর্থ দেওয়ার অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই প্রশ্নেরই জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় বিবৃতি দিয়ে জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লেবার বাজেট প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি এবং তার জন্যই অপেক্ষা করছে কেন্দ্র। আরও বলা হয়েছে, রাজ্যগুলির পক্ষ থেকে লেবার বাজেট জমা দেওয়া মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের আওতায় তহবিল পরিকল্পনা ও অনুমোদনের জন্য একটি বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রস্তাব ছাড়া কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষের জন্য মজুরি দিতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করতে পারে না। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই বকেয়া প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একাধিকবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন

    এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। সমালোচকদের দাবি, এই দেরি রাজ্য সরকারের সেই অভিযোগের সঙ্গে মেলে না, যেখানে তারা বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে (MGNREGA)।মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ভারতের বৃহত্তম সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির একটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের প্রতি অর্থবর্ষে অন্তত ১০০ দিনের কাজ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয় (TMC), যদি তাঁরা অদক্ষ কায়িক শ্রম করতে ইচ্ছুক হন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে কল্যাণমূলক প্রকল্প ও তহবিল বণ্টন নিয়ে দু’পক্ষে যে বিরোধ চলছে, তার প্রেক্ষাপটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বারবার অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন- সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আটকে রেখেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    নির্ধারিত তহবিল বরাদ্দে প্রভাব

    লোকসভায় যে নথি পেশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক এখন ঘুরে গিয়েছে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার দিকে। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যস্তরের প্রক্রিয়াগত দেরিই কি গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত তহবিল বরাদ্দে প্রভাব ফেলছে? বিতর্ক বাড়তে থাকায় এখন দাবি উঠছে, দ্রুত লেবার বাজেট প্রস্তাব জমা দিয়ে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের আওতায় (MGNREGA) ফের মজুরি দেওয়া শুরু করতে সময়সূচি ঘোষণা করা হোক (TMC)।

     

  • Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাঠ পাচারের অর্থ দিয়ে চলত সন্ত্রাস (Terror-Funding Network)। কেনা হত অবৈধ অস্ত্র। মধ্যপ্রদেশের (Bhopal) আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচারের একটি সাধারণ মামলার তদন্তে উঠে এল এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), রাজ্য এটিএস এবং একাধিক রাজ্যের বন দফতর এই জেলায় কাঠ পাচারের তদন্তে নেমেছে। দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও।

    ২০০ কোটি টাকার খৈর কাঠ সাম্রাজ্য

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, গুজরাটের গোধরার বাসিন্দা মোহন তাহির গত তিন বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার খৈর (কাঠা) কাঠ অবৈধভাবে কেটে পাচার করেছেন। বাজারমূল্য অনুযায়ী, খৈরের ব্যাপক ব্যবহার (কাঠা উৎপাদনে) বিবেচনায় এই অঙ্ক ৭০০ কোটি টাকাতেও পৌঁছতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলিরাজপুরের মালওয়াই গ্রামে ব্যক্তিগত জমিতে ‘শালিমার এন্টারপ্রাইজেস’-এর নামে একটি গোপন কাঠের ডিপো চালাতেন তাহির। ডিপোর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আরিফ (আলিফ) আলি মাকরানি, যাঁকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে গুজরাটে একটি ট্রাক অবৈধ খৈর কাঠসহ আটক হওয়ার পর এই চক্রের হদিশ মেলে। জেরায় চালক জানায়, কাঠটি আলিরাজপুরের একটি ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুরাটের মাণ্ডভি ফরেস্ট ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে আলিরাজপুরের ডিপোটি সিল করে তদন্তকারী অফিসাররা।

    বৈধ ব্যবসার আড়ালে চোরাচালান

    বন দফতর পরে জানায়, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ১,৬০০ ঘনমিটার বা ২,০০০ মেট্রিক টনের বেশি খৈর কাঠ উদ্ধার হয়েছে, যা বৈধ ব্যবসার আড়ালে মজুত করা ছিল। মাণ্ডভি (সুরাট) বন বিভাগের আধিকারিক এইচ আর যাদব বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা মামলা দায়ের করি। আলিরাজপুরের শালিমার এন্টারপ্রাইজেসে যাওয়ার পথে একটি ট্রাক আটক করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, এই চক্র গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা হয়ে হরিয়ানা ও দিল্লি পর্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল।”

    কাঠ থেকে সন্ত্রাস: তদন্তের ভয়াবহ মোড়

    তদন্ত আরও ভয়ঙ্কর মোড় নেয়, যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আলিরাজপুর ডিপোর সঙ্গে উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজে পায়। রাজ্য এটিএস-এর এক শীর্ষ কর্তা জানান, “আলিরাজপুরের ডিপো ও খৈর কাঠের মজুতের সঙ্গে আইএসআইএস-প্রভাবিত পদঘা মডিউলের যোগ মিলেছে। অবৈধ কাঠ ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ডিপো পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সাকিব নাচানের যোগসূত্রও সামনে এসেছে।” ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইডি মহারাষ্ট্র, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে মোট ৪০টি জায়গায় অভিযান চালায়। পিএমএলএ আইনের আওতায় চালানো এই অভিযানে উদ্ধার হয় ৯.৭০ কোটি টাকা নগদ, ৬.৬ কোটি টাকার সোনা ও গয়না, ২৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয় এবং হাওয়ালা নথি, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। মেলে উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত নানা নথিও। ইডি জানিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল যে হাওয়ালা, অবৈধ গবাদি পশু পাচার এবং খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে আয় করা অর্থ চরমপন্থী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইডি অভিযানে চিহ্নিত অভিযুক্ত সচিন ফাকলে ও খলিল উসমান মুল্লার নাম আলিরাজপুর খৈর কাঠ মামলাতেও রয়েছে, যা সন্ত্রাস-অর্থায়নের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এনআইএ-র দাবি অবৈধ কাঠ পাচারের টাকা জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহে ব্যবহৃত হতো।

    মূল অভিযুক্ত পলাতক

    আদালতের নির্দেশে ডিপো ডি-সিল করার সময় গুজরাটের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ড. মহেন্দ্র সিং কচ্ছাওয়া জানান, “ডিপোর মালিক মোহন তাহির পলাতক। ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী তিনি হজ করতে দেশ ছেড়েছেন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ফেরেননি। অবৈধ খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ডিপো ম্যানেজারের সঙ্গে যুক্ত হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য ইডি-কে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে।

    একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারীরা জানান, ২০২১ সালের পর মধ্যপ্রদেশে খৈরকে সংরক্ষিত প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে পরিবহণ ও মজুতের নিয়ম শিথিল হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—গুজরাটে কাটা খৈর কাঠ কেন আলিরাজপুরে এনে মজুত করা হলো? শাল ও সেগুনের জন্য পরিচিত একটি ডিপোতে কেন শুধুই খৈর কাঠ ছিল? বন দপ্তরের কেউ কি জড়িত ছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরবতা পালন করা হয়েছিল? ড. কচ্ছাওয়া স্পষ্ট করে বলেন, “যদি কোনো বন কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একাধিক সংস্থা—বন দফতর, পুলিশ, এটিএস, ইডি ও এনআইএ—তদন্তে নেমেছে। আলিরাজপুরের খৈর কাঠ কেলেঙ্কারি এখন আর শুধু অবৈধ লগিংয়ের মামলা নয়; এটি হয়ে উঠেছে এমন এক ভয়াবহ প্রশ্ন, যেখানে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, এবং বছরের পর বছর ধরে কীভাবে একটি ২০০ কোটি টাকার ছায়া অর্থনীতি নীরবতার সুযোগে বেড়ে উঠল—তার উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

  • Madhya Pradesh: গণবিবাহের আসরে বিয়ে করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে! কেন জানেন?

    Madhya Pradesh: গণবিবাহের আসরে বিয়ে করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে! কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পুত্র। আর পাঁচটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর (Madhya Pradesh) ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়েতে যেমন জাঁক হয়, তাঁর বিয়েতে তেমন দেখা গেল কই! শুধু তাই নয়, তাঁর বিয়ে হল গণবিবাহের আসরে। আজ্ঞে, হ্যাঁ। শুনতে অবাক লাগলেও, এমনভাবেই ছেলের (Abhimanyu Yadav) বিয়ে দিয়ে নজির গড়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন যাদব। তাঁরই ছোট ছেলের বিয়ে হয় ৩০ নভেম্বর, রবিবার। আরও ২১ জোড়া যুগলের সঙ্গে নববধূর সঙ্গে এদিন সাত পাকে বাঁধা পড়েন মন্ত্রীপুত্রও।

    গণবিবাহ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রও (Madhya Pradesh)

    মোহন যাদবের ছোট ছেলে অভিমন্যু উজ্জ্বয়িনীতে আয়োজিত গণবিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে ইশিতা যাদবের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর-কনেদের সকলেই জমকালো পোশাকে সেজেছিলেন। বিবাহস্থলে এসেছিলেন ঘোড়া এবং সুসজ্জিত রথে চড়ে। গণবিবাহের আসরে ছেলের বিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময় জোর দেন বিয়ে সরলভাবে হওয়া উচিত। তাই সবাই একসঙ্গে বিয়ে করছে।”

    সমাজে বার্তা

    বিয়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও। তিনি বলেন, “গণবিবাহের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে একটি অত্যন্ত বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে।” নিজের বিবাহ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অভিমন্যু বলেন, “এটি একটি রাজকীয় বিবাহ – অনেক বর আমার সঙ্গে এখানে উপস্থিত আছেন।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যোগগুরু রামদেব এবং বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীও (Madhya Pradesh)।

    জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫ হাজার অতিথি। এঁদের সিংহভাগই বর এবং কনের পরিবারের। শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী নিজের বাসভবন গীতা কলোনিতে পুজোর্চনা করেন। শনিবার তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালন করেন বিয়ের সমস্ত রীতিনীতি। প্রসঙ্গত, গত বছরও বড় ছেলে বৈভবেরও বিয়ের অনুষ্ঠান খুবই সাদামাঠাভাবে করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল (Abhimanyu Yadav) রাজস্থানে। তবে সেটি ছিল নিতান্তই সাদামাঠা একটি অনুষ্ঠান। আর এবার গণবিবাহের আসরে ছোট ছেলের বিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে চমকে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী। সমাজকেও বার্তা দিয়েছেন অপ্রয়োজনীয় খরচ-খরচা থেকে শত হাত দূরে থাকতে।

  • Election Commission: “শুধু ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়”, তৃণমূলকে সাফ জানিয়ে দিল কমিশন

    Election Commission: “শুধু ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়”, তৃণমূলকে সাফ জানিয়ে দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কেবলমাত্র ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়।” ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশন এও জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু এসআইআর (SIR) নিয়ে যাতে কোনও ভুল প্রচার করা না হয়, বিএলওদের কোনও হুমকি না দেওয়া হয়। রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধি দলকে কমিশন এও জানিয়েছে, নির্বাচন আইন মেনে পুরো প্রক্রিয়া হয়। সেই আইন মেনেই যাতে সবটা হয়, সেটা দেখতে হবে সবাইকে।

    এসআইআরের নান্দীমুখ (Election Commission)

    বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে এসআইআরের। কোনও গন্ডগোল ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এই প্রক্রিয়া। এর পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর। আর তার পরেই হইচই পড়ে গিয়েছে বাংলায়। বাকি ১১টি রাজ্যের কোথাও কোনও উচ্চবাচ্য না থাকলেও, চিল-চিৎকার জুড়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বিরোধীদের অভিযোগ, নানা অছিলায় তারা এসআইআর নিয়ে হাওয়া গরম করে চলেছে এই প্রক্রিয়া ঘোষণা হওয়ার দিন থেকেই। শুধু তাই নয়, এসআইআর নিয়ে রাজনীতি করতে (নিন্দকরা বলছেন) পথে নেমে পড়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। দেশে তো নয়ই, স্বাধীন ভারতেও যা বিরলতম ঘটনা বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে তৃণমূল

    শুক্রবার, সটান নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের ১০ জন প্রতিনিধি (Election Commission)। সূত্রের খবর, সেখানেই তাঁদের কার্যত আইনের পাঠ পড়িয়ে দিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিএলওদের ওপর প্রভাব খাটানো যাবে না। কোনওরকম চাপ ছাড়াই মৃত, স্থানান্তরিত এবং একই ভোটারের একাধিক জায়গায় থাকা নাম বাদ দিতে হবে। তৃণমূলের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৯ ডিসেম্বরের পর এসআইআর সংক্রান্ত দাবি এবং আপত্তি জমা দিতে বলা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা তাঁদেরও দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। ততদিন পর্যন্ত বিএলও, ইআরও এবং ডিইওদের কাজে যাতে শাসক দল হস্তক্ষেপ না করে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।

    বিএলওদের চাপ

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে কমিশন। সেই অফিস আরও নিরাপদ জায়গায় (Election Commission) স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে বলা (SIR) হয়েছে, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিএলওদের চাপ বা ভয় দেখানোর বিষয়টি দেখার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে। এদিন দিল্লিতে কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ১০জনের একটি প্রতিনিধি দল। কমিশন তাঁদের জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কোনও বক্তব্য কিংবা মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে যাতে কোনও ভুল কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না হয়, তা দেখতে হবে। সূত্রের খবর, ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে তৃণমূলকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা।

    অতিরিক্ত ভাতা

    যেহেতু বিএলও এবং ইআরও বাড়তি কাজ করছেন, তাই তাঁদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই বিষয়টিও স্মরণ (Election Commission) করিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে। কমিশনের আধিকারিকরা জানান, অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনও টাকা এই ভাতার জন্য (SIR) বরাদ্দ করা হয়নি। দেরি না করে যাতে অবিলম্বে এই ভাতার টাকা বিএলও এবং ইআরওদের দিয়ে দেওয়া হয়, তা-ও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। রাজ্যের শাসক দলের বাধার প্রাচীর ডিঙিয়েও যে এ রাজ্যে এসআইআরের কাজ মসৃণ গতিতে চলছে, তা মনে করিয়ে দিয়েছে বিজেপি। তারা জানিয়েছে, ৮৫ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড করে ফেলেছেন বিএলওরা। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ফর্ম আপলোড হয়েছে সব চেয়ে বেশি। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ফুল বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলকে বলে দিয়েছে যে নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা করুন। তৃণমূলকে লাইনে আসতে বলেছে।”

    এদিকে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে আসছেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। জেলায় জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ খতিয়ে দেখবেন তিনি। অবশ্য (SIR) তিনি একা নন, আরও ১১ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিকও আসবেন তাঁর সঙ্গে। এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠানো হবে বিশেষ পর্যবেক্ষককে (Election Commission)।

  • Al Falah University: ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ আল ফালাহ্! গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

    Al Falah University: ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ আল ফালাহ্! গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের (White-Collar Terrorism Module) সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করা হল আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) প্রতিষ্ঠাতা জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে। মঙ্গলবারই ইডির দীর্ঘ তল্লাশির পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। ‘জঙ্গি’ ডাক্তারদের ‘আস্তানা’ আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা আল-ফালাহ্ গ্রুপের চেয়ারম্যান জওয়াদ সিদ্দিকিকে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)- বা আর্থিক তছরুপ আইনের অপরাধমূলক ধারায় গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে ব্যক্তিগত বা পরিবার-ঘনিষ্ঠ সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

    জঙ্গি তৈরির কারখানা

    দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) এবং ডাক্তারদের জঙ্গি যোগের অভিযোগ উঠে আসার পরে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ হিসেবেও চিহ্নিত করে থাকেন অনেকে। ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনার পরে প্রথম তদন্তকারীদের নজরে আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃতদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও না কোনও যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছিল। এমনকী, দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ‘সুইসাইড বম্বার’ উমর-উন-নবিও আল ফালাহ্-র সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বা অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে ইডি।

    আল-ফালাহ্ ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা

    ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আর্থিক তছরূপ, ভুঁইফোড় সংস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুরো ঘটনায় আল-ফালাহ্ ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত কমপক্ষে নয়টি ভুয়ো কোম্পানি, যাদের সবগুলিই একই ঠিকানায় নিবন্ধিত, ইডির তদন্তের আওতায় রয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিন এই সূত্র ধরে কমপক্ষে ২৫টি জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। দিল্লির ওখলাতেও চালানো হয় অভিযান। নিরাপত্তার জন্য ঘিরে রাখে পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনী। উদ্ধার করা হয় নগদ ৪৮ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে ক্যাটারিং- অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি দেওয়া হয়েছিল জওয়াদের স্ত্রী-সন্তানের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে। এদিন তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। এছাড়া কয়েকটি শেল কোম্পানিরও সন্ধান পেয়েছে সংস্থা, যেগুলিকে অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ।

    আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তার

    আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলার ধৌজ এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে। ফরিদাবাদে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল, চ্যান্সেলর নির্বিচারে অনেক গ্রামীণ রাস্তা দখল করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি ৩০ একর জমিতে নির্মিত হয়েছিল, তবে পরে আশেপাশের জমি কিনে ভবনগুলি প্রসারিত করা হয়েছিল। ৭৬ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১০৯-১৩ নম্বরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডিং, ১৪ নম্বরে একটি ওয়ার্কশপ, ৯ নম্বরে একটি মর্গ এবং ২৫ নম্বরে একটি হাসপাতাল ভবন রয়েছে। গার্লস হস্টেলটি ২৫ এবং ৫ নম্বরে একত্রিত করে নির্মিত হয়েছে, ছেলেদের হস্টেল এবং ডাইনিং হল ২৪-২ নম্বরে অবস্থিত। এছাড়াও, ১২৩-১১ এবং ১২ নম্বরে ডাক্তারদের জন্য একটি বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স, ১৯-১৯ নম্বরে অ্যানাটমি বিল্ডিং এবং ১৮-২ নম্বরে মেডিক্যাল বিল্ডিং রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। ডঃ উমর ও অন্যান্য অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অনেক জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে ডাক্তার মডিউল নিয়ে তদন্তকারী এজেন্সিগুলো পদক্ষেপ শুরু করার পরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।

    জালিয়াতির মামলায় ধৃত আর এক ভাই

    ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের ভাইকে প্রায় ২৫ বছরের পুরনো একটি জালিয়াতির মামলায় হায়দরাবাদ থেকে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির ছোট ভাই, অভিযুক্ত হামুদ আহমেদ সিদ্দিকি (৫০)-কে গ্রেফতারের জন্য ১০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইয়াংচেন দোলকার ভুটিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশের মাহু শহরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় রবিবার হামুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুয়ো বেসরকারি ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করে শত শত বাসিন্দাকে আমানত দ্বিগুণের টোপ দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে হামুদের বিরুদ্ধে। কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই ২০০০ সালে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশ কয়েক দশক ধরে তাঁকে খুঁজছিল। অবশেষ তাঁকেও গ্রেফতার করা হল।

    সিদ্দিকি ভাইদের উত্থান

    জানা গিয়েছে, সিদ্দিকি ভাইদের পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল মধ্যপ্রদেশের মাউ-র (বর্তমান নাম অম্বেডকর নগর) কায়স্থ মহল্লাতে। জাভেদ এবং হামুদের বাবা মহম্মদ হাম্মাদ সিদ্দিকি সেখানে কাজি ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, নয়ের দশকের প্রথমের দিকে সিদ্দিকি পরিবার একটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা বিনিয়োগকারী সংস্থা খুলেছিল। স্থানীয় সেনা কর্মী, সেনার ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ীদের সেই সংস্থায় বিনিয়োগ করার জন্য আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁরা। কাজি মহম্মদ হাম্মাদ সিদ্দিকি এলাকায় সজ্জন ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। আর তাঁর সম্মানের কথা চিন্তা করেই অনেকে সেখানে বিনিয়োগও করেন। কিন্তু সংস্থা ডুবে যাওয়ার পরে জাওয়াদ এবং হামুদ একে অন্যকে দোষারোপ করে মধ্যপ্রদেশ ছেড়ে চলে যায়। দিল্লি বিস্ফোরণের পর ফের তাদের হদিশ মেলে।

  • Sukanta Majumder: “পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি তাদের মতো করে ট্রিটমেন্ট করবে”, নাগরাকাটাকাণ্ডে হুঁশিয়ারি সুকান্তর

    Sukanta Majumder: “পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি তাদের মতো করে ট্রিটমেন্ট করবে”, নাগরাকাটাকাণ্ডে হুঁশিয়ারি সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় (Nagrakata Case) বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপির এক সাংসদ ও বিধায়ক। তার পর কেটে গিয়েছে আস্ত দুটো দিন। তার পরেও গ্রেফতার করা হয়নি কাউকেই। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের ‘স্নেহচ্ছায়া’য় বেড়ে চলায় পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই বাড়ছে ক্ষোভের আগুন। সেই কারণেই এবার পাল্টা মারের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। বুধবার বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন সুকান্ত। শিলিগুড়িতে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে পাল্টা মার হবে। এখনও সময় আছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুন।”

    সুকান্তর হুঁশিয়ারি (Sukanta Majumder)

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত বলেন, “খগেন মুর্মু কেবল সাংসদ নন, তিনি বিভিন্ন সাংবিধানিক পদেও থেকেছেন। শঙ্কর ঘোষ আমাদের বিধায়ক। এঁরা ছাড়াও সেদিন যাঁরা যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁরা রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন।” অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলেও অভিযোগ সুকান্তর। বিজেপির প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতি বলেন, “খগেন মুর্মুর মুখের হাড় ভেঙে গিয়েছে। ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে। কথা বলতে পারবেন না চার সপ্তাহ। যারা ওঁকে আক্রমণ করেছিল, তারা প্রকাশ্যে বলেছে, আমরা দিদির সৈনিক। শঙ্কর ঘোষ নিজে আমায় এ কথা বলেছেন। এখানে বিজেপি কেন আসবে, তা-ই নিয়ে ঝামেলা। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, যাদের নাম ও ছবি দেখা গিয়েছে, পুলিশ যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিজেপি বিজেপির মতো করেই ট্রিটমেন্ট করবে।”

    দুষ্কৃতীদের পোস্টার টাঙানো হবে

    সুকান্ত বলেন, “এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি কেন? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পুলিশের বেতন হবে, আর কেউ গ্রেফতার হবে না! এটা মেনে নেওয়া যায় না। হয় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে, নয়তো পাল্টা মারব আমরা।” তিনি বলেন, “যারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের পোস্টার বড় বড় করে টাঙানো হবে জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ির রাস্তায় রাস্তায়। আমাদের ক্ষমতা আছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। আমরা চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকাতে পারি। পাঁচ হাজার লোক দিয়ে ঘেরাও-ও করতে পারি। কিন্তু আমরা এসব করি না (Nagrakata Case)।” ত্রিপুরায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের দায় চাপানো হয় বিজেপির ঘাড়ে। এদিন সে প্রসঙ্গেরও অবতারণা করেন সুকান্ত। বলেন, “ত্রিপুরায় তৃণমূল আছে নাকি? কংগ্রেস থেকে কয়েকজন টিকিট না পেয়ে তৃণমূল সেজে রয়েছে। আমরা কোথাও দলীয় অফিস ভাঙচুর করি না। এটা আমাদের স্বভাব নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “ত্রিপুরায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল গিয়ে কী হবে? ওখানে ওদের তো কেউ নেই।”

    নিশানা মমতাকেও

    জখম সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন (Sukanta Majumder) তাঁকেও নিশানা করেন সুকান্ত। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসে নাটক করছেন, উনি এখানে থাকা সত্ত্বেও এমন হবে কেন? আদিবাসী সমাজের মানুষকে এমন আক্রমণ করা হবে কেন?” সুকান্ত বলেন, “৮জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ক্যামেরায় হামলাকারীদের মুখও দেখা গিয়েছে। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কী করছে তারা?” মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “এমন পুলিশমন্ত্রী থাকার চেয়ে তাঁকে বন্যার জলে ফেলে দিলে ভালো হয়!” এর পরেই তিনি বলেন, “পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি তাদের মতো করে ট্রিটমেন্ট করবে।”

    ডিজিপিকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

    এদিকে, মঙ্গলবারই শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (Nagrakata Case) খগেন মুর্মুকে দেখতে গিয়েছিলেন (Sukanta Majumder) রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ডিজিপিকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “ছাব্বিশে এই রক্তের বদলা হবে সুদ সমেত। উশুল করবে বাংলা। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা হবে। জলপাইগুড়ির এসপি, ডিজিপি রাজীব কুমার দিল্লি যাওয়ার জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন। স্পিকারের কল আসবে।” নন্দীগ্রামের বিধায়কের দাবি, খগেন মুর্মুকে দেখতে এলেও, আর এক আহত বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে দেখা করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, খগেন মুর্মুর চোট প্রসঙ্গে মিথ্যেও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর বক্তব্য, “বিজেপি সাংসদকে দেখতে এসে মমতা জিজ্ঞেস করেছেন, লাগল কীভাবে? তাঁর প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, মারল কীভাবে, মারলই বা কারা?” তিনি বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক (Nagrakata Case)।”

    প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই (Sukanta Majumder) এই ঘটনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য সরকারের। রাজ্যকে অবিলম্বে রিপোর্ট দিতে হবে, তা না হলে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

  • BJP: ‘‘মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, তোপ শুভেন্দুর, ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’, প্রতিক্রিয়া শমীকের

    BJP: ‘‘মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, তোপ শুভেন্দুর, ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’, প্রতিক্রিয়া শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ যখন বানের জলে ভাসছে, তখন কলকাতায় পুজোর কার্নিভালে গানের তালে কোমর দোলাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী! এই উত্তরবঙ্গেরই নাগরাকাটার (Nagrakata) বামনডাঙা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপির (BJP) দুই নেতা। এঁদের মধ্যে একজন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, অন্যজন সাংসদ খগেন মুর্মু। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পরপরই বিজেপির এই দুই নেতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি হয়। ইটের ঘায়ে জখম হন শিলিগুড়ির বিধায়ক। তাঁর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ইটের ঘায়ে গুরুতর জখম হন মালদা উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মুও। তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, রক্তে ভেসে যাচ্ছে সাংসদের শরীর। তছনছ করা হয়েছে শংকরের গাড়িও। তাঁকে জুতোও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁদের। বিজেপির দাবি, বিধায়ক এবং সাংসদের ওপর এই হামলার ঘটনায় রয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত।

    ‘দিদি দিদি’ করে চিৎকার (BJP)

    শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতকও। দুপুরের দিকে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, “শিলিগুড়ির দিকে রওনা দিয়েছি আমরা। খগেনদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। আমাদের আগের গাড়ির একটাও কাচ নেই। আমার সারা শরীর কাচে ভর্তি। খগেনদার অবস্থা দেখুন। ত্রাণ দেওয়ার জন্য খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম আমরা। আমি, খগেনদা লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেই সময় কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ করে আমার কাছে আসেন। কেন আমরা এসেছি, কী করব এখানে – এ সব জিজ্ঞেস করে তারা হঠাৎই গালাগালি দিতে শুরু করে। তার পরেই পিছন থেকে শুরু করে মারধর। রিলিফ দিতে এসে দেখুন আমাদের সাংসদের কী অবস্থা করেছে।”

    ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’: শমীক

    এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বঙ্গ পদ্ম শিবির। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আজ নাগরাকাটায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত সাংসদ খগেন মুর্মু। এ রাজ্যে আইনের শাসন নয়, দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে। গতকাল উত্তরবঙ্গের এতবড় ক্ষয়ক্ষতির পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আর আজ তাঁদের দলের দুষ্কৃতীরা এভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে।”

    “মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা পরিকল্পিতভাবে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর হামলা চালিয়েছে।” এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন আতঙ্ক গ্রাস করেছে। উত্তরবঙ্গ যখন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধ্বসের কবলে, যখন বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ও হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন, সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন, সেই সময়ে তিনি সেলিব্রিটিদের সঙ্গে কার্নিভালে নাচানাচি করছিলেন। তাঁর এই অমানবিক আচরণে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে ক্ষুব্ধ ও বীতশ্রদ্ধ এই বাস্তবটা দেরিতে হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে উপলব্ধি করেছেন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ও ক্রমবর্ধমান জনরোষে হতচকিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অস্ত্রটিকে বেছে নিয়েছেন – তাঁর তথাকথিত বিশেষ সম্প্রদায়ের গুন্ডাদের বিজেপি (Nagrakata) নেতাদের ওপর হামলা করতে উসকানি দিয়েছেন, যাতে তাঁরা ত্রাণ কাজে বা অন্যান্য সাহায্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে না পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপিকে এভাবে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। আপনার ভয় ও তোষণের রাজনীতি বাংলার জনগণের ঐক্য ও সাহসের কাছে পরাস্ত হবে।”

    “বাংলায় তৃণমূলের জঙ্গলরাজ’’, অমিত মালব্যর প্রতিক্রিয়া

    এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি (BJP) নেতা অমিত মালব্য লিখেছেন, “বাংলায় তৃণমূলের জঙ্গলরাজ! উত্তর মালদার দুবারের সাংসদ ও সম্মানিত আদিবাসী নেতা বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সাহায্য করতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে।” প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির (Nagrakata) নেতা নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের পাশে দাঁড়ানোর সময় এটা। দলমত নির্বিশেষে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। এই সময়ও রাজনীতি করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। সাংসদকে প্রাণে মেরে ফেলার মতো করে আক্রমণ করা হল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ‘‘বাংলার মানুষ এই কাপুরুষতা ভুলবে না’’, তোপ সুকান্তর

    বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি গতকাল উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং বহু মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর পাওয়ার পরেও রেড রোডের কার্নিভাল মঞ্চে উদযাপনে মেতেছিলেন, তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছেন — বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের কর্মী ও নেতাদের প্রতি তিনি কতটা ভীত হয়ে পড়েছেন, যাঁরা গতকাল থেকেই নিরলসভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষ এই কাপুরুষতা ও নির্লজ্জতা কখনও ভুলবে না (Nagrakata)।”

    ‘‘ক্ষমার অযোগ্য’’: সম্বিত পাত্র

    বিজেপি (BJP) নেতা সম্বিত পাত্র বলেন, আজ বাংলায় যখন মানুষ মরছিল এবং গ্রামগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল, তখন বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করতে নাগরাকাটার পথে যাচ্ছিলেন সম্মানিত আদিবাসী নেতা ও দুবারের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু সেই সময় তাঁর ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করতে যাওয়া একজন সাংসদের ওপর এই ধরনের হামলা ক্ষমার অযোগ্য।”

LinkedIn
Share