Tag: Municipal Election 2026

  • Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর এ বার রাজ্যের পুরসভাগুলিকে (Suvendu Adhikari) পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত আয়োজিত বিজয় মিছিলের শেষে জনসভা থেকে আসন্ন পুরভোটের রণকৌশল স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, এ বার পুরসভাগুলিতেও ফুটবে পদ্ম। রাজ্যে উন্নয়নের ‘ত্রিশক্তি’ সরকার গড়তে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে হবে দলীয় কর্মীদের (Municipal Elections)। পুজোর মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমিশনার। হাওড়াতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শহরের পুরসভা দখলের ডাক দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন শুভেন্দু।

    উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা (Suvendu Adhikari)

    ভিক্টোরিয়া হাউসের সভায় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে। তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

    এ দিনের বিজয় মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার, নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানী রথ-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে জয়

    রেজিনগরের মতো প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে বিরোধীদের প্রচারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে বিরোধীরা প্রচার চালিয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, “মানুষ দেখেছেন, মোদিজির নেতৃত্বে জয়ের রথ থামানো যায়নি। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত।”

    তিনি আরও বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝতে পেরেছেন যে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা হয়েছে। তাই আজ তাঁরা তোষণের রাজনীতি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ ও প্রগতির মূলস্রোতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন (Suvendu Adhikari)।”

    পুরভোট ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর বিজেপির নজর এখন রাজ্যের বকেয়া পুরভোটের দিকে। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুরসভা দখলকে সামনে রেখে দলীয় নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে যোগ করেছে (Municipal Elections) নতুন মাত্রা।

    উপনির্বাচনের ফলকে হাতিয়ার করে পুরসভা নির্বাচনেও সাফল্যের আশা করছে গেরুয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কোন দল কতটা সুবিধা পায়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচার, নাগরিক পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের রায়ের উপর (Suvendu Adhikari)।

     

  • Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ মোট সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    কোন সাত পুরসভায় ভোট?

    প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। এই সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০-৬,৪০০ বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় ৬,৩০১টি বুথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ২৭, ২৮ অথবা ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    জেলাশাসকদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক

    ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইভিএম, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও এগোনোর কথা জানানো হয়েছে। সাতটি পুর এলাকায় কয়েক হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। সামগ্রিকভাবে ভোট পরিচালনার জন্য বুথভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলিও এখন কমিশনের অগ্রাধিকারে।

    রাজ্যে এল ২১ হাজারের বেশি ইভিএম

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে ২১ হাজারের বেশি ইভিএম। প্রথম দফায় ২১,১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯,৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এই ইভিএমের একটি অংশ নভেম্বরের সাত পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। বাকি ইভিএম পরবর্তী ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতটি পুর এলাকার জন্য প্রায় ৬,৪০০ ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

    হাওড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোট

    এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে হাওড়া পুরনিগম। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০১৩ সালে শেষবার পুরভোট হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভোটার তালিকা নিয়েও নজর

    এবারের পুরভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকাই পুরভোটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে; মূল পরিবর্তন হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথ বিন্যাসে।

    এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘিরে যেহেতু একাধিক আবেদন ও আপত্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাই পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছে কমিশন। কলকাতা পুর এলাকার এসআইআর-সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হীত

    ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের বক্তব্য আগেই জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে নির্বাচন করার বিষয়েও দলের অবস্থান থাকবে বলে জানান বৈশ্বানর।

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার জানান, তাঁদের দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। পুরভোটকে রাজ্যের নগর প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই ভোটের দিন, মনোনয়ন, প্রচার, ভোটগ্রহণ ও গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

    সব মিলিয়ে, পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ সাত পুর এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে, ইভিএম পাঠানো থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক—একাধিক পদক্ষেপেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

  • Municipal Election: পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোট, প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা?

    Municipal Election: পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোট, প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোট (Municipal Election)। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাগুলোর ভোট (State Election Commission)। পুরভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, বুধবার সমস্ত জেলা শাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হবে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং আর কালিম্পং পুরসভায়। রাজ্য় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ইভিএম-এই হবে পুরভোট। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ওয়েব কাস্টিংয়ের।

    পালাবদলের পর প্রথমবার ভোট রাজ্য়ে

    বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর প্রথমবার কোনও ভোট হতে চলেছে রাজ্য়ে। অর্থাৎ শক্তি পরীক্ষায় নামবে সব দল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভার ভোট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ৬ মাস অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত কর্পোরেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই আমাদের কাজ। ওয়ার্ড পুর্নবিন্য়াসের ফলে এবার একাধিক পুরসভায় বেশি আসনে ভোট হবে। অর্থাৎ লড়াই আরও টানটান।

    প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে ভোটের সম্ভাবনা

    রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হতে পারে,কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং, কালিম্পং পুরসভায়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হবে। রেজাল্ট বেরনো সমেত পুরো ভোট পক্রিয়া হয়ে যাবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্য়ে। ১ জুলাই প্রকাশিত ইলেক্টোরাল রোল অনুযায়ী পুরভোট হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। পুজোর পর ভোট উৎসবের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রস্তুতি শুরু করতে বুধবার রাজ্যের পুরসভা এবং পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যেখানে নির্বাচন হবে সেখানে এই মুহূর্তে কী পরিস্থিতি রয়েছে? ইভিএম থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠক বলেই সূত্রের খবর। অন্যদিকে ইভিএম-সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দ্রুত শুনানি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে।

    ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই ভোট

    বহু পুরসভার নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন পুরভোটের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে ঘিরে। কারণ, দুই পুর এলাকারই প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, আগের তুলনায় ৬৫টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্য দিকে, হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে বেড়েছে ১৮টি ওয়ার্ড। ফলে দুই পুর এলাকার আসন্ন নির্বাচন এবার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই হওয়ার কথা। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের বিন্যাস, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার নির্বাচনী মানচিত্রে এই পুনর্বিন্যাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব

    ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র বাড়বে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব রয়েছে। তাই আগেভাগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সেই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে৷ আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের দাবি, হাইকোর্টে একাধিক ইলেকশন পিটিশন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই সমস্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএম মেশিন, ভিভিপ্যাট-সহ অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে ইভিএমের অভাবে পুরনির্বাচন ঘোষণা করতে দেরি হয়ে যেতে পারে।

    ত্রিস্তরীয় ফর্মুলায় পুরভোটে বিজেপির ছক

    ত্রিস্তরীয় ফর্মুলা মেনেই কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবে বিজেপি— মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিলেন কেএমসি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বঙ্গ বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিন মাস আগে যে ভাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কাজ করে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল বিজেপির প্রদেশ শাখা, ঠিক সেই ভাবেই এ বারও কলকাতা পুরভোটের আগে কাজ শুরু করে দিয়েছে দল, জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত। তাঁর দাবি, ‘আমাদের দলের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে ৷ সেই পদ্ধতি অনুসারে আমরা পর পর কাজ করে যাচ্ছি৷ বিজেপির নিয়ম নীতি মেনে প্রথমে কিছু সাংগঠনিক কাজ করা হচ্ছে। তার পরে রাজনৈতিক কিছু কাজ করব। তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ে নির্বাচনে বা ভোটে লড়াই করার মূল কাজের দিকে যাব। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে৷’

    বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না

    সুকান্তের স্পষ্ট বার্তা, ‘কোনও ভাবেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। বিজেপি বিজেপিই থাকবে৷’ পুরভোটের আগে বিজেপির তরফে সংকল্প পত্রও প্রকাশ করা হবে যেখানে আগামীর রূপরেখা সবিস্তারে উল্লেখ করা হবে। এই মর্মেই কেএমসি ভোটের ইনচার্জ সুকান্তর দাবি, তৃণমূল সরকারের কার্যকালে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলি তুলে ধরে একটি চার্জশিটও পেশ করবে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী বলেন, আগামী পুরসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস অভাবনীয় ফলাফল করবে।

LinkedIn
Share