Tag: Municipal elections

  • Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও নিবিড় করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে দলের নেতা-কর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দলের সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে দলীয় সংগঠনকে। পাশাপাশি, সংগঠনের (BJP) অন্দরে দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিতিন নবীনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মা কালীর মূর্তি উপহার দেন। সেখান থেকে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে পৌঁছে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনেন তিনি। এরপর দিনভর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা (Nitin Nabin)

    রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও সমান্তরালভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়েও দলের অন্দরে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন নিতিন নবীন।

    দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সংগঠনকে উপেক্ষা করা চলবে না। ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা সংগঠনের গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, তাঁদের আচরণও মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুভেন্দু সরকারের গত কয়েক মাসের উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর বার্তা, সরকার ও সংগঠনকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘উন্নত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে লক্ষ্য বিজেপি নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংগঠনের প্রত্যেক স্তরকে সক্রিয় হতে হবে (Nitin Nabin)।

    সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন নিতিন নবীন। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলাস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। কাউকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যাতে না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নেতাদের।

    আসন্ন দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরশুমে জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তবে কোনও পুজো কমিটির নেতৃত্ব বা পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব জোর করে নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে তবেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (Nitin Nabin)।

    জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

    বৈঠকে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের কার্যালয়ে সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। প্রতিদিন কত মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, কী কী সমস্যা জানাচ্ছেন এবং সেগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব রাখতে বলা হয়েছে।

    নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে কেউ যাতে সেই পরিচয়কে অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভাভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে (BJP)।

    ‘মন কি বাত‘ শুনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরলেন নবীন

    এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৮তম পর্ব শোনেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

    নবীন তাঁর বার্তায় ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণ, যুবসমাজকে নেশামুক্ত করার সংকল্প এবং জনগণনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

    তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উদ্যোগ, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার কাহিনি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘মন কি বাত’। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে (Nitin Nabin)।

    সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য

    পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নিতিন নবীনের বৈঠকগুলিতে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, সরকারের কাজের প্রচার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। দলের রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

    দলীয় নেতৃত্বের কাছে (BJP) নবীনের বার্তা, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়ে তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (Nitin Nabin)।

     

  • TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে (TMC MLA Dilip Mandal) ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হল। আদালতের কড়া নির্দেশের পরই রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল (STF) ওড়িশায় গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। আজ, বুধবারই তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে আলিপুর আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মূল ঘটনা ও আইনি জটিলতা (TMC MLA Dilip Mandal)

    বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক বাসিন্দার দায়ের করা জমি সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। বিধায়কের এই আচরণকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বিচারপতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উল্লেখ্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল বিজয় মিছিল করার সময়ে মাইকে বলেছিলেন, “এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবো। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বা বিজেপির হয়ে কাজ করেছে,তাঁদের বিষ্ণুপুর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না।” তারপর অভিযোগ দায়ের হয় থানায়।

    আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও জনপ্রতিনিধি আইনের ঊর্ধ্বে নন। এর পরেই ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে অবমাননার দায়ে বিধায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি করা হয় এবং রাজ্য পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পুরীর হোটেল থেকে গ্রেফতার

    দিলীপ মণ্ডলের ছেলেকে গ্রেফতার করে  জিজ্ঞাসাবাদ করতেই  একাধিক আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ফোন নম্বর হাতে পান তদন্তকারীরা । সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু হয় । তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে নিশ্চিত হন যে দিলীপ মণ্ডল রাজ্যের বাইরে কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন । প্রথম দিকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন ওড়িশায় রয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ বিধায়কের (TMC MLA Dilip Mandal) অবস্থান চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, তিনি সপরিবারে ওড়িশার পুরীর ব্লুলিলি নামক একটি হোটেলে আত্মগোপন ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল পুরী পৌঁছায় এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    তৃণমূল বিধায়কের এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি ভোটে জিতে প্রকাশ্যে মাইক লাগিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, আইন সবার জন্য সমান—তা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।

  • Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের (Municipal elections) প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রশাসনকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং আসন সংরক্ষণের (রিজার্ভেশন) কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতায় পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের শূন্যতা ও বড় চ্যালেঞ্জ (Municipal elections)

    আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। নতুন রাজ্য সরকারের পক্ষে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রধান কারণ হল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে কার্যত নেতৃত্বহীন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদত্যাগ করার পর থেকে এই পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।

    তাছাড়া, সম্প্রতি এক নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, নির্দেশ মোতাবেক তিনি পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও কর্মরত নেই। এই প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে কীভাবে দ্রুত সীমানা পুনর্গঠন ও ভোটপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে চিন্তাভাবনা চলছে।

    দীর্ঘদিনের বকেয়া ভোট ও হাওড়া প্রসঙ্গ

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় (Municipal elections) কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমেই নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এলাকাটি হলো হাওড়া, যেখানে বিগত ১৩ বছর ধরে কোনও পুর নির্বাচন হয়নি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “হাওড়ার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের সব ক’টি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।”

    বহু পুরসভায় বকেয়া ভোট…

    উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রায় এক দশক ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে। হাওড়া ছাড়াও ২০১৭ সালের পর থেকে রাজ্যের যে সমস্ত পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন (Municipal elections) বকেয়া রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে— দুর্গাপুর পুরনিগম, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি পুরসভা।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও নবান্নের কড়া বার্তা

    অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা পুরবোর্ডগুলিতে (Municipal elections) ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তৃণমূলের ৮ জন কাউন্সিলর। এই ধরনের রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে যে সমস্ত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে বা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

LinkedIn
Share