Tag: Muridke Base

  • Operation Sindoor: “আমাদের শত্রুদের কাপুরুষতার মূল্য চোকাতে হবে”, সেনা দিবসে অপারেশন সিঁদুরের নয়া ভিডিও

    Operation Sindoor: “আমাদের শত্রুদের কাপুরুষতার মূল্য চোকাতে হবে”, সেনা দিবসে অপারেশন সিঁদুরের নয়া ভিডিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেনা দিবস উপলক্ষে অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) নতুন একটি তিন মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করল ভারতীয় সেনা। ১৫ জানুয়ারি আর্মি ডে ২০২৬-এ প্রকাশিত ওই ভিডিও-তে অপারেশন সিঁদুর-এর বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় চালানো এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গি ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত আঘাত হানার বিরল দৃশ্য প্রথমবার প্রকাশ্যে আনল সেনা। ভারতীয় সেনার ভাষায়, এই অভিযান বাহিনীর “অদম্য সাহস, বীরত্ব ও অটল সংকল্প”-এর প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতির প্রেক্ষাপট

    ভিডিওর শুরুতেই গত দুই দশকে ভারতের উপর সংঘটিত বড় সন্ত্রাসী হামলাগুলির কথা স্মরণ করানো হয়—২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০০২ সালের অক্ষরধাম মন্দিরে আক্রমণ, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের উরি, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা এবং ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলা। প্রতিটি ঘটনাকে “মানবতার উপর আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে রাতে ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের ওপারে নয়টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। অপারেশন সিঁদুরের অধীনে সমন্বিত ও নিখুঁত হামলার মাধ্যমে জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড ও লজিস্টিক হাব ধ্বংসের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। যদিও ভিডিওতে পাকিস্তানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবু লাইন অফ কন্ট্রোল ও জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সীমান্ত-পার অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

    কী কী রয়েছে ভিডিও-য়

    ওই ভিডিও ফুটেজে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণের পরবর্তী পরিস্থিতিও দেখানো হয়েছে, যা ভারতীয় হামলার পর পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বলে দাবি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অসামরিক এলাকার দৃশ্যের পাশাপাশি ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতা—শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিত করা এবং সামনের সারির সামরিক পোস্টে আঘাত হানার চিত্র—তুলে ধরা হয়েছে। আরও এক ধাপ উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে ভিডিওতে সীমান্তের ওপারের এয়ার ডিফেন্স রেডার ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেসে হামলার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী পরিকাঠামোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের নজরদারি দুর্বল করার কৌশলগত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে।

    সেনা দিবসে বিশেষ বার্তা

    আর্মি ডে-র এই ভিডিওর শেষে সেনার তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, “আমাদের শত্রুদের জন্য সতর্কবার্তা। তাদের কাপুরুষতার মূল্য চোকাতে হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়া নীতিই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই অপারেশন সিঁদুরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ৭ মে ২০২৫-এ শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, অভিযানে সন্ত্রাসী পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন অসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে ভারত রাডার স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ভিডিওতে দেখানো এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। সেনা দিবসে অপারেশন সিঁদুরের ভিডিও প্রকাশকে একদিকে যেমন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনই এটিকে ভারতের প্রস্তুতি ও দৃঢ়তার কৌশলগত বার্তা বলেও মনে করা হচ্ছে। এই অভিযানের অংশবিশেষ প্রকাশ্যে এনে সেনা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত নিখুঁত, সমন্বিত ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

  • Lashkar Leader Confession: “পৃথিবীর কোথাও জঙ্গি নিয়োগ পাকিস্তানের মতো সহজ নয়”, লস্কর নেতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি

    Lashkar Leader Confession: “পৃথিবীর কোথাও জঙ্গি নিয়োগ পাকিস্তানের মতো সহজ নয়”, লস্কর নেতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান জিহাদের জন্য খোলাখুলি স্বাধীনতা দিয়েছে। পৃথিবীর কোথাও জঙ্গি নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এত সহজ নয়। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি নিয়ে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar commander) শীর্ষ কমান্ডার হাফিজ আবদুল রউফ (Hafiz Abdul Rauf)-এর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সামনে এল। কোনও গোয়েন্দা রিপোর্ট নয়, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি নয়, স্বয়ং লস্কর কম্যান্ডারের মুখ থেকেই বেরল সত্য-কথন। ভারত বারবার যা দাবি করেছে তা মেনে নিল লস্কর নেতা। ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযান মুরিদকেতে থাকা লস্করের প্রধান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ধাক্কা দিয়েছে (Operation Sindoor), বলেও মেনে নিল রউফ। তার কথায়, “হেডকোয়ার্টার (Muridke HQ) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।”

    মুরিদকে ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার

    বিস্তর অস্বীকার, কূটনৈতিক ধোঁয়াশা আর দ্বিচারিতার পর অবশেষে প্রকাশ্য মঞ্চে মুখ খুলল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) নেতা হাফিজ আবদুল রউফ (Lashkar commander Hafiz Abdul Rauf confession)। স্বীকার করে নিল, অপারেশন সিঁদুরে মারকাজ-ই-তৈবা কমপ্লেক্স কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের ৬-৭ মে রাতের সেই হামলার কথা বলতে গিয়ে রউফ বলেছে, “ভারতের লক্ষ্যবস্তু একদম ঠিক ছিল। এখন আর ওখানে আর কোনও মসজিদ নেই। আমরা সেখানে বসতেও পারি না। সব শেষ হয়ে গিয়েছে। ভারতের হামলায় ভেঙে পড়েছে মুরিদকে ঘাঁটি।”

    কে এই হাফিজ রউফ

    পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তান সেনার সহায়তাপ্রাপ্ত লঞ্চপ্যাড থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতে ঢোকানোর দায়িত্বে বহুদিন ধরেই রয়েছে হাফিজ আবদুল রউফ। শুধু তাই নয়, এর আগে অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারতীয় হামলায় খতম হওয়া লস্কর জঙ্গিদের জানাজায় নেতৃত্ব দিচ্ছে রউফ – সেই ছবিও ভাইরাল হয়েছিল। কয়েক মাস পর এবার তিনিই কার্যত পাকিস্তান ও লস্করের শেষ আড়ালটুকু উন্মুক্ত করে দিল রউফ।

    চিনা অস্ত্রেই চলে হামলা!

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালায় লস্কর-সমর্থিত সংগঠন, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। সেই হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় পর্যটক। তার পরই জঙ্গি দমনে ভারত চালায় অপারেশন সিঁদুর। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এতে ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা মুরিদকের লস্কর-ই-তৈবা এবং বাহাওয়ালপুরের জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি। তদন্তে উঠে আসে, হামলাকারীদের হাতে ছিল চিনের তৈরি অস্ত্র ও সরঞ্জাম, যা পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীর সরঞ্জাম যোগানের ক্রমবর্ধমান পরিকাঠামোর দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এ বার স্বয়ং রউফও স্বীকার করে নিল যে, লস্কর ও পাকিস্তান ওই সংঘর্ষে চিনা অস্ত্র ও সামরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে।

    পাকিস্তানের মদতেই চলে জঙ্গি-নিয়োগ

    ভারতের বহু বছরের দাবি, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো শুধু আশ্রয় নয়, পাক-রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন পায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যা বারবার অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। রউফের কথায়, “পাকিস্তান জিহাদের জন্য খোলাখুলি স্বাধীনতা দিয়েছে। পৃথিবীর কোথাও জঙ্গি নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এত সহজ নয়। রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই আমরা এটা করতে পারছি।” উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মুরিদকের সেই মারকাজ-ই-তৈবা কমপ্লেক্সেই নতুন জঙ্গিদের পাসিং-আউট অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাজির ছিল রউফ, হাফিজ সইদের ছেলে হাফিজ তালহা সইদ, এবং লস্করের ডেপুটি চিফ সাইফুল্লাহ কাজুরি-সহ লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব। অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের পরেও পাকিস্তানের মদতেই জঙ্গি পরিকাঠামো হয় পুনর্গঠিত হচ্ছে, নয়তো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে – এটাই প্রমাণ করে সেই অনুষ্ঠান।

    পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে চিন

    রউফ দাবি করেছে, ‘বুনিয়ান-এ-মারসুস’ নামে যে পর্যায়ে ভারত-পাক উত্তেজনা বাড়ে, সেই সময় পাকিস্তানকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল চিন। তার বক্তব্য, চিনা যুদ্ধবিমান ও সরঞ্জামের এখন বিশ্বে চাহিদা রয়েছে, আর “অনেক দেশের বিমান নাকি এখন স্ক্র্যাপে পরিণত”। রউফের এই মন্তব্য শুধু লস্করের অস্ত্রসজ্জা নয়, বেজিং-ইসলামাবাদ ঘনিষ্ঠতার দিকেও ইঙ্গিত করে। রউফের দাবি, পাকিস্তানের হাতে ছিল ভারত সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য “শেষ খুঁটিনাটি পর্যন্ত”, আর সংঘর্ষের প্রতিধ্বনি “আমেরিকা-ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল” – যা বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে লস্কর কমান্ডার।

    পাকিস্তানের সুদিন!

    সুদিন ফিরছে পাকিস্তানের। ইসলামাবাদের পক্ষে হতে চলেছে বিশ্ব মেরুকরণ। চাঞ্চল্যকর এই দাবিও করেছে, লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) কমান্ডার রউফ। তার কথায়, “গতকাল পর্যন্ত আমরা একা ছিলাম এবং পুরো বিশ্ব ভারতের সঙ্গে ছিল। আজ পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও ইসলামাবাদের পক্ষে। এখন পুরো বিশ্ব পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। মুজাহিদদের একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান জয়ী হচ্ছে।” জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমে গিয়েছে, ভিডিওতে রউফ এই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় দাবি করেছে যে- সংঘাত আরও তীব্র হবে। সে দাবি করেছে যে, কাশ্মীর “যুদ্ধ” শেষ হতে অনেক বাকি এবং যারা অন্যকিছু বিশ্বাস করছে তারা ভুল করছে বলে সতর্ক করেছে। এই বয়ান আসলে উপত্যকায় ক্রমাগত হিংসার জন্য চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    লস্কর-জঙ্গি নেতার স্বীকারোক্তি তাৎপর্যপূর্ণ

    রউফের বক্তব্য পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অস্বীকারকে ভেঙে দিয়েছে। প্রথমবার পাকিস্তানের শীর্ষ জঙ্গি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে স্বীকার করল তারা এখনও রাষ্ট্রের ভেতরেই সুরক্ষিত ও সক্রিয়। মার্কিন নিষিদ্ধ ‘ঘোষিত’ গ্লোবাল টেররিস্টের এই স্বীকারোক্তি, ইসলামাবাদের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন প্রশ্ন তুলে দেবে। দীর্ঘ সময় ধরে রউফ লস্কর-এর সঙ্গে রয়েছে। রউফ একজন ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ এই জঙ্গির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা আছে আমেরিকারও। সে কারণেই তার মুখে এই স্বীকারোক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বারবার বিশ্ব মঞ্চে বলেছে পাকিস্তান জঙ্গি-রাষ্ট্র। এবার কার্যত সেই দাবিকেই মান্যতা দিল লস্কর।

LinkedIn
Share