Tag: Mythological Stories

  • Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026)।এই পবিত্র দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories)। বলা হয়, যেমন জ্যোতিষশাস্ত্রে মকর সংক্রান্তি হল এক বিশেষ দিন যে দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন থেকেই সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণের দিকে ক্রমে ক্রমে সরে যায়। ফলে দিন বড় হতে শুরু করে এবং রাত ছোট হয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, এইদিনে স্নান করলে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। একই ভাবে স্নানের পর জল সূর্য দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করলে দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। এ দিনের মাহাত্ম্যকথা সম্পর্কে একাধিক গল্প পাওয়া যায়। এই দিনটি সূর্য উপাসনা, উপবাস, শ্রীকৃষ্ণ ও মাতা যশোদার সঙ্গে জড়িত। সৌর ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। এদিন বাঙলার ঘরে ঘরে পিঠে পুলি খাওয়ার রীতি রয়েছে। গ্রাম বাংলায় পৌষবুড়িও করে শিশুরা।

    যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পেতে উপবাস করেছিলেন

    মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026) এবং সূর্যদেবের উপাসনার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং যশোদার সঙ্গে জড়িত। পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories) অনুযায়ী, যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন উপবাস করেছিলেন। সাধারণত শ্রীরাম ত্রেতাযুগে বনবাস থেকে ফিরে আসার পর, কৈকেয়ী তাঁকে বলেছিলেন যে, পরবর্তী জীবনে আমার গর্ভে যেন জন্মগ্রহণ করেন। আমি যেন আপনার মা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। সেই সময়ে ভগবান মাতা কৈকেয়ীর সকল মনোবাসনা পূর্ণ করেন। রাণীমার আশীর্বাদে রামচন্দ্র জানিয়েছেন, মা তুমি কষ্ট পেয় না। কৈকেয়ীর অনুরোধে তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করবে। পুত্র হিসেবে তিনি ডাকতে পারবেন। এই কারণেই দ্বাপরে ভগবান রাম, মা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে দেবকির গর্ভে জন্ম নিলেও যশোদার কাছে মানুষ হন কৃষ্ণ। তাই শ্রীকৃষ্ণকে যশোদা নন্দনও বলা হয়।

    সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে

    এই মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) সঙ্গে সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য হল শক্তির প্রতীক। যাদের রাশিতে সূর্যের অবস্থান ঠিক থাকে না তাদের সূর্য নারায়ণকে নমস্কার করে জল তর্পণ করতে হয়। সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করে সকল নিয়ম কানুনকে মেনে চলতে হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সংক্রান্তি মানে সূর্যের রাশি পরিবর্তন। মকর সংক্রান্তিতে, সূর্য দেবতা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধনু রাশি থেকে বের হয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তিতে সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণে যায়। তাই এই দিনটিকে (Makar Sankranti 2026) উত্তরায়ণ বলা হয়। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে দক্ষিণায়ণ হল দেবতাদের রাত এবং উত্তরায়ণ হল দেবতাদের দিন। শাস্ত্রে উত্তরায়ণের দিনটিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়েছে। এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান ও পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। মনে করা হয় উত্তরায়ণে এদিন প্রাণ উৎসর্গ বা দেহ ত্যাগ করলে সরাসরি মোক্ষ লাভ পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

    অন্য পৌরাণিক মতে এদিন পুত্র শনির গৃহে প্রবেশ করেন সূর্য

    পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, শনিদেব কালো তিল দিয়ে সূর্য পুজো করেন। শনির পুজোয় প্রসন্ন সূর্য আশীর্বাদ করেন তাঁকে। আশীর্বাদে তিনি বলেন, শনির অপর ঘর মকরে যখন তিনি প্রবেশ করবেন সেদিন মর্ত্য লোক ধন-ধান্যে ভরে যাবে।

    এদিনই দেহত্যাগ করেন পিতামহ ভীষ্ম

    পুরাণ মতে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে নিজের প্রাণত্যাগ করার জন্য মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) তিথিকেই নির্বাচন করেছিলেন পিতামহ ভীষ্ম।

    কপিল মুনির আশ্রম হয়ে গঙ্গা এদিন সাগরে মিশেছিল

    পুরাণ মতে, এই তিথিতেই ভগীরথের পিছু চলতে চলতে কপিল মুনির আশ্রম হয়ে সাগরে মিশে যান গঙ্গা। তাই এই উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হয়। কপিল মুনির আশ্রমে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের ভিড় দেখা যায় এদিন। মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নান করেন ভক্তরা।

    দেবতা-অসুর যুদ্ধের সমাপ্তি

    দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তিও হয়েছিল মকর সংক্রান্তির দিনে। এই দিনেই অসুরদেরকে বধ করে শুভ শক্তির বিস্তার ঘটেছিল। তাই যেকোনও শুভ কাজ এই দিনে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে।

LinkedIn
Share