Tag: Nabadwip

Nabadwip

  • Rash Yatra 2024: নবদ্বীপের রাস মানেই শাক্ত-বৈষ্ণবের মিলন! দেখা মেলে মঙ্গলকাব্যের দেবী কমলে কামিনীর

    Rash Yatra 2024: নবদ্বীপের রাস মানেই শাক্ত-বৈষ্ণবের মিলন! দেখা মেলে মঙ্গলকাব্যের দেবী কমলে কামিনীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাসযাত্রা (Rash Yatra 2024) উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে নবদ্বীপ। নিত্যনতুন থিম আর বাহারি আলোয় জমজমাট তীর্থের এই শহর। রাস উৎসবে সামিল হতে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করা শুরু করেছেন নবদ্বীপে (Nabadwip)। আলোর রোশনাইয়ে নবদ্বীপ শহর এখন জ্বলজ্বল করছে। একে অপরকে টেক্কা দিতে থিমের ছড়াছড়ি।

    রাসযাত্রার ইতিহাস (Rash Yatra 2024)

    ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় আড়াইশো বছর আগে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে নবদ্বীপে শাক্ত মতে রাসযাত্রা (Rash Yatra 2024) শুরু হয়েছিল! এখানে মূলত শক্তির দেবীদের পুজো করা হয়। প্রথম থেকেই শাক্ত এবং বৈষ্ণবদের মধ্যে বিরোধ ছিল চরমে। এই বিরোধ মেটাতেই উদ্যোগী হয়েছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ১৭৫২-৫৬ সালের মাঝামাঝি শঙ্করনাথ তর্কবাগীশ শক্তিমূর্তি গড়ে রাস পূর্ণিমার পুজো শুরু করেন। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের তরফে আসে অর্থসাহায্য। শঙ্করনাথের ওই পুজোর পরের বছরই ব্যাদড়াপাড়ার ব্রাহ্মণরা শবশিবা মায়ের পুজো শুরু করলেন। কালীমূর্তির নীচে পর পর দু’টি শিব। এক দম নীচে শবরূপী শিব। তাঁর ওপরে সপ্রাণ শিব। একই মূর্তির পুজো হয় আমপুলিয়া পাড়াতেও। নবদ্বীপে রাসের দ্বিতীয় প্রাচীন প্রতিমা হল শবশিবা মাতার। স্থানীয় পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, শবশিবা মাতা কৃষ্ণচন্দ্রের গুরুদেব চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্যের ইষ্টদেবী। এখন যেখানে পুজো হয় সেটি ছিল তাঁর ভিটে। কমবেশি দেড়শো বছর আগে তাঁরা এখান থেকে চলে যান। পুজোর ভার নেন অঞ্চলের বর্ধিষ্ণু ব্রাহ্মণেরা। চাঁদা তুলে এই পুজো হয়। নবদ্বীপের রাসের বিশেষত্ব তার মূর্তির বৈচিত্র্যে। মঙ্গলকাব্যের দেবী কমলেকামিনীর দেখা মেলে রাস উৎসবে। নবদ্বীপে স্মৃতিশাস্ত্র পড়তে আসা অশ্বিনী কুমার স্মৃতিরত্ন এই পুজোর সূচনা করেন। তাঁর পরিবারের উত্তরসূরীরা বর্তমানে সেই পুজো করছেন। বর্তমানে পুজো এলাকাবাসীর সাহায্যে হয়। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নবদ্বীপ তরুণ সঙ্ঘ।

    নবদ্বীপে কতদিন রাসযাত্রা?

    মূলত নবদ্বীপে দুই দিন রাস (Rash Yatra 2024) হয়। শুক্রবার থেকে নবদ্বীপের রাসযাত্রা শুরু হয়েছে। আর আজ শনিবার নবদ্বীপে আড়ং চলবে অর্থাৎ যাকে আমরা বিসর্জন বলে থাকি। এবছরও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে শুভ  সূচনা হওয়ার রাসে যে নিয়ম ছিল সেই একই নিয়মে রাস পালিত হচ্ছে। বেশ কিছু বারোয়ারি এবং কিছু প্রাচীন মন্দিরে এই রাস পালিত হচ্ছে। নবদ্বীপে মূলত শক্তির দেবদেবতাকে পুজো করা হয়।

    এবছর কোথায় কী থিম?

    এবছরও মহা ধুমধামে পালিত হচ্ছে নবদ্বীপের রাসযাত্রা। তাদের মধ্যে অন্যতম গৌড় বিষ্ণুপ্রিয়া সঙ্ঘ। প্রতি বছরই সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে চমক দিয়ে থাকে এই বারোয়ারি। এবছর তাদের ভাবনা ভূতের সার্কাস। তাদের এই নতুন থিম (Rash Yatra 2024) সাধারণের মন মাতিয়ে দেবে বলে মত বারোয়ারি কমিটির। অন্যদিকে, প্রাচীন মায়াপুর সাউথমাতা পুজো কমিটির ভাবনা কাঁটাতারের বেড়া। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করেন, সেই চিত্রই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই মণ্ডপের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রী শ্রীকৃষ্ণ কালীমাতা এবার ১০০ বছরে পদার্পণ করল। মূলত এখানে মণ্ডপশয্যা না থাকলেও ঐতিহ্যবাহী এক অঙ্গে কৃষ্ণ এবং এক অঙ্গে কালী থাকে। তবে আরেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা তেঘরি পাড়া বড় শ্যামা মাতা। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার পাঁঠা বলি হয়। তবে এ বছর ট্রাস্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনওরকম বলি দেওয়া যাবে না। তবে নবদ্বীপে আরেক ঐতিহ্যবাহী পরম্পরা রয়েছে। আগামীকাল ছোট-বড় প্রতিটি রাস কমিটি তাদের নিজেদের মণ্ডপে প্রতিমা পুজো দেওয়ার আগে প্রত্যেকে পোড়ামাতলায় যাবেন। সেখানে পুজো দেওয়ার পর নিজেদের মণ্ডপের প্রতিমাদের পুজো দেবেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sri Chaitanya Jamai Sasthi: নবদ্বীপে আজ জামাই রূপে পূজো হয় শ্রী চৈতন্যদেবের! ভোগে কী থাকে জানেন?

    Sri Chaitanya Jamai Sasthi: নবদ্বীপে আজ জামাই রূপে পূজো হয় শ্রী চৈতন্যদেবের! ভোগে কী থাকে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, জামাইষষ্ঠী। বাংলার ঘরে ঘরে আজ পুত্র-তুল্য জামাইকে বরণ করে নেওয়ার দিন। প্রতিবছর এই বিশেষ দিনে নবদ্বীপে (Nabadwip Dham) চলে মহা আয়োজন। এই বিশেষ দিনটায় জামাই হিসেবেই বরণ করা হয় সনাতন মিশ্রের জামাই মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবকে (Sri Chaitanya Jamisasthi)। মা বাবা কিংবা সন্তান রূপে ভগবানের পুজো অনেক জায়গায় হয়ে থাকে। কিন্তু জামাই হিসাবে আপন করে নিয়ে ভগবানকে জামাই আপ্যায়নের এই রীতি বোধহয় নবদ্বীপেই প্রথম। এই দিনে মহাপ্রভুকে অনেকেই নিজের সন্তান তুল্য মনে করে বাটা বা ষাটের বাতাস করেন। প্রচুর মানুষ ভিড় করেন নবদ্বীপের মন্দিরে। 

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

    মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব (Sri Chaitanya Jamisasthi) পূর্বাশ্রমে বিবাহিত ছিলেন। তখন তার নাম ছিল বিশ্বম্ভর মিশ্র। তাঁর গাত্রবর্ণ গৌর ও স্বর্ণালি আভাযুক্ত ছিল বলে তাঁকে ‘গৌরাঙ্গ’ বা ‘গৌরচন্দ্র’ নামে ডাকা হত। অন্যদিকে, নিম্ব বৃক্ষের নিচে জন্ম বলে তাঁর মা তাঁকে ‘নিমাই’ বলে ডাকতেন তাই নবদ্বীপবাসীও নিমাই পণ্ডিত বলে তাঁকে অভিহিত করতেন। সর্প দংশনে প্রথম স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর বিয়ে হয় সনাতন মিশ্রের কন্যা বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে। সংসার ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বিষ্ণুপ্রিয়াকে দিয়ে গিয়েছিলেন নিজের একখানি মূর্তি। বিষ্ণুপ্রিয়া সেবিত মহাপ্রভুর সেই মূর্তিই পূজিত হয় নবদ্বীপ ধামে (Nabadwip Dham)।

    আজও জামাই-রূপে বরণ

    গৃহত্যাগ করে পরে সংসার ধর্ম ত্যাগ করলেও তিনি তার স্ত্রী পরিবারের তরফে ছিলেন জামাই-ই। তার স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পরিবার আজও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে জামাই (Sri Chaitanya Jamisasthi) রূপে পুজো করেন। তার জন্য এই দিন বিশেষ আয়োজন করা হয়ে থাকে। নিমাইকে জামাই আদর করেন বিষ্ণুপ্রিয়ার ভাইদের উত্তর পুরুষ। আজ থেকে কয়েকশো বছর ধরে জামাই ষষ্ঠীতে নবদ্বীপের এই মন্দিরে শ্রী চৈতন্যদেবকে জামাই রূপে আরাধনা করার রীতি পালন করা হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বাবা ছিলেন সনাতন মিশ্র। ভাই ছিলেন যাদব আচার্য। তার ছেলে হলেন মাধব আচার্য এবং মাধব আচার্যের ছেলে হলেন ষষ্ঠী দাস। এই ষষ্ঠী দাসের আমল থেকেই শ্রীচৈতন্য দেবের জন্য জামাই আদর এর আয়োজন করা হয়। এই ভাবে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পরিবার জামাইষষ্ঠীর দিন জামাই আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। 

    জামাই-সাজ

    জামাইষষ্ঠীর দিন বেশবাস, ভোগ সবেই থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। এদিন সকালে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কে পরানো হয় নতুন ধুতি পাঞ্জাবি এবং উত্তরীয়। পরানো হয় রজনীগন্ধা, গোলাপের মালা। এরপর এই বংশের বয়স্ক মাতৃস্থানীয়া মহিলারা ধান দূর্বা দিয়ে ষাটের বাতাস করেন। কপালে হলুদের টিপ পরিয়ে হাতে হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে শুরু হয় জামাইষষ্ঠীর ব্রত। সন্ধেবেলা নাটমন্দিরে বিশেষ কীর্তনের আয়োজন করা হয়।  উজ্জ্বল আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে মন্দির চত্বর।

    আরও পড়ুন: আজও ঊর্ধ্বমুখী পারদ, তাপপ্রবাহের কমলা সতর্কতা! কবে থেকে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে?

    মহাপ্রভুর জামাই-ভোগ

    চৈতন্য মহাপ্রভুর (Sri Chaitanya Jamisasthi) জন্য নবদ্বীপে (Nabadwip Dham) এদিন বিশেষ ভোগেরও আয়োজন করা হয়। সকালে দেওয়া হয় রুপোর রেকাবিতে মরসুমি ফল, রুপোর বাটিতে ক্ষীর, রুপোর গ্লাসে জল। এরপর দেওয়া হয় চিরে, মুড়কি, দই, আম, কাঁঠাল এবং মিষ্টি। মধ্যাহ্নভোজে অন্নের সঙ্গে থাকে কচুর শাক, শুক্তো, মুগ ডাল, ভাজা, মোচার ঘন্ট, থোর, আলু ফুলকপির রসা, বেগুনের পাতুরি, চাল কুমড়োর তরকারি, ছানার ডালনা, ধোকার ডালনা, পোস্ত, পুষ্পান্ন, আমের চাটনি, পরমান্ন, দই এবং রকমারি মিষ্টি। শেষ পাতে থাকে সুগন্ধি মশলা দেওয়া পান। বিকেলে ভোগে দেওয়া হয় ছানা এবং মিষ্টি। রাতে শয়নভোগে দেওয়া হয় ঘিয়ে ভাজা লুচি এবং মালপোয়া। সঙ্গে থাকে রাবড়ি। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে দেওয়া হয় রুপোর গ্লাসে আম ক্ষীর। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Mahaprabhu: মহাপ্রভুর জামাইষষ্ঠী! কী কী ভোগ নিবেদন করেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন?

    Mahaprabhu: মহাপ্রভুর জামাইষষ্ঠী! কী কী ভোগ নিবেদন করেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় জামাইষষ্ঠী। মেয়ে এবং জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় মা-বাবারা নানারকম ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন এদিন। সকালের জলখাবার থেকে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে জামাইয়ের পাত নানা রকম ব্যঞ্জন দিয়ে সাজানো থাকে। সাধারণভাবে এটাই জামাইষষ্ঠীর রীতি। তবে নবদ্বীপে একটু অন্যভাবে এই জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়। সেখানে মহাপ্রভুর (Mahaprabhu) মন্দিরে এদিন নিমাই কোনও অবতার নন, বরং ঘরের জামাই। জানা যায়, এই মন্দিরের সেবায়েতরা হলেন বংশ পরম্পরায় মহাপ্রভুর স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়ার ভাইদের উত্তরসূরী। প্রায় ৩৫০ বছর ধরে মহাপ্রভু এখানে জামাই আদর পেয়ে থাকেন। রেকাবি ভর্তি নানারকম ব্যঞ্জন তো থাকেই, সঙ্গে এদিন নিমাইকে দেওয়া হয় নতুন পোশাক এবং স্থানীয় প্রবীণরা ষাটের পাখায় বাতাসও দেন নিমাইকে (Mahaprabhu)।

    আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার জামাই ষষ্ঠী! কেন পালিত হয় এই তিথি? কীভাবে হল চালু এই প্রথা?

    মহাপ্রভুর ভোগে কী কী পদ থাকে?

    মরসুমি ফল আম, জাম, লিচু এসব তো থাকেই। পাশাপাশি রুপোর বাটিতে ক্ষীর এবং গ্লাসে জল দিয়ে প্রথমে ঘুম ভাঙানো হয় মহাপ্রভুর (Mahaprabhu)। তারপরে চিঁড়ে, মুড়কি, দই, আম, কাঁঠাল এবং মিষ্টির ফলাহার। এটা অবশ্য নিমাইয়ের জলখাবার। মধ্যাহ্ন ভোজনে থাকে নানা রকমের তরকারি, থোর বেগুন পাতুরি, ছানার ডালনা, লাউ, চাল কুমড়ো, পোস্ত দিয়ে রাঁধা সব নিরামিষ পদ। এরপর দুপুরে একটু জিরিয়ে নেওয়ার পালা। দিবানিত্রা সম্পন্ন হলে ভোগ দেওয়া হয় ছানা এবং মিষ্টির। রাতের মেনুতে থাকে গাওয়া ঘি’তে ভাজা লুচি, তার সঙ্গে মালপোয়া এবং রাবড়ি। সবশেষে মুখশুদ্ধি হিসেবে দেওয়া হয় খিলিপান। এই মন্দিরে জামাইষষ্ঠীর ভোগের বিশেষত্ব হল আমক্ষীর, যা আমের রসে ক্ষীর মিশিয়ে তৈরি হয়।

    মহাপ্রভুকে (Mahaprabhu) নতুন পোশাক দেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন

    জামাইকে পোশাক দিতে কোনও কার্পণ্য করেন না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শ্রীচৈতন্যদেবের বিগ্রহকে সাদা সিল্কের ধুতি, পাঞ্জাবি এবং গলায় উত্তরীয় পরিয়ে সাজানো হয়। আদর-কদর চলতে থাকে। জামাইষষ্ঠীর সকালে বিষ্ণুপ্রিয়ার পরিবারের প্রবীণ মহিলারা মহাপ্রভুকে নতুন পাখা দিয়ে ষাটের বাতাস দেন। হলুদের টিপ পরিয়ে দেওয়া হয় নিমাইয়ের কপালে। হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেওয়া হয় হাতে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Nabadwip: নবদ্বীপের রাসে রয়েছে হরেক কাহিনী! জানেন সেই গল্প?

    Nabadwip: নবদ্বীপের রাসে রয়েছে হরেক কাহিনী! জানেন সেই গল্প?

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: ভারতবর্ষের মন্দির নগরী বলা হয়ে থাকে ‘বারাণসী’ কে। নবদ্বীপ ঘুরলে মনে হতেই পারে এ যেন বারাণসীর আরেকটি নতুন সংস্করণ। প্রাচীন বাংলার বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র ছিল নবদ্বীপ। প্রাচীন এই নগরীকে  বলা হতো ‘বাংলার অক্সফোর্ড’। বহুগুণী এবং পন্ডিত মানুষদের পান্ডিত্যে সমৃদ্ধ এই জনপদে জন্ম নিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। বাংলার সেন রাজাদের এই রাজধানী আক্রমণ করেন ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজী। লুন্ঠন, হত্যা ধর্মান্তরকরণের পরেও অক্ষত ছিল ঐতিহ্যবাহী এই নগরীর সাংস্কৃতিক পরিবেশ। হিন্দু ধর্মের শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈবদের পীঠস্থান বলুন বা তীর্থস্থান বলুন, সেটা নবদ্বীপ। পুণ্যতোয়া গঙ্গা নদীর স্রোতের ধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের রীতি দেখলে মনে হতেই পারে যেন ঋক বৈদিক যুগের কোনও নগরীতে আপনি উপস্থিত হয়েছেন।

    নবদ্বীপের  ‘রাস’ অতি জনপ্রিয়। রাস পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে গোটা নবদ্বীপ শহর সেজে ওঠে আলোর মালায়। চোখে পড়ে মণ্ডপের কারুকার্য। নবদ্বীপের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে অগণিত মানুষের সমাবেশ ঘটে। রাজ্য, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও অনেক মানুষ রাস উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপে প্রথম রাসযাত্রার সূচনা করেন। বলা হয়ে থাকে ‘রস’ থেকে ‘রাস’ শব্দটি এসেছে। এর অর্থ আনন্দ বা দিব্য অনুভূতি। গোপিনীরা শ্রী কৃষ্ণের সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নিতেন। পৌরাণিক এই ঘটনার স্মরণেই রাস যাত্রার উদ্ভব বলে বিশ্বাস রয়েছে। মূলত বৈষ্ণবীয় ভাবধারার এই রাস যাত্রা নবদ্বীপে আজ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মৃত্যুর পর রাসযাত্রার ওপরে বৈষ্ণবীয় ভাবধারার প্রভাব ক্ষীণ হতে থাকে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে থাকে ‘শাক্ত’ ভাবধারা। তাই নবদ্বীপে বর্তমান যে রাসযাত্রা সেটার উপর শাক্ত ভাবধারার প্রভাব সব থেকে বেশি। মদ ,মাংস ,আড়ম্বর এগুলি হলো বীরাচার বা শাক্ত ভাবধারার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। নবদ্বীপের রাসযাত্রায় এগুলো বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

    আরও পড়ুন: রাত পোহালেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতবে বাঙালি! জানেন কে এই পুজোর শুরু করেন?

    জনশ্রুতি আছে, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নবদ্বীপে শাক্ত রাসের প্রবর্তন করেন। একাধারে এই রাজার নামের সাথে বাংলায় প্রথম জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস যেমন সম্পর্কিত, একইভাবে রাসযাত্রার ইতিহাসও সম্পর্কিত। শক্তি, বীরাচার এবং রাজসিক গুণের আচরণ রাজা করবেন, একথাই তো স্বাভাবিক। মনে করা হয়, বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাব রাসযাত্রার উপর থেকে ক্ষীণ হতে শুরু করে যখন থেকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এখানে শাক্ত রাসের সূচনা করেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র পোড়ামাতলায় ভবতারণ শিব ও ভবতারিণী শক্তিমূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে, রাসযাত্রায় তিনি নবদ্বীপের পণ্ডিতকে প্রচুর দানধ্যান করতেন। রাসযাত্রার প্রথমদিকে নবদ্বীপে শুধুই পটপুজো হতো। কথিত আছে, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নাটোর থেকে মৃৎশিল্পী নিয়ে আসেন। তারপর থেকেই রাসযাত্রায় মূর্তিপূজা হতে থাকে।

    গোবিন্দদাসের পদাবলীতে উল্লেখিত বৃন্দাবনে গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণ যখন রাসলীলায় মগ্ন, স্বর্গের দেবদেবীরা তখন তা দেখতে বৃন্দাবনে এসেছিলেন। ভক্তদের বিশ্বাস, রাসলীলা দেখার জন্য দেবদেবীরা এসেছিলেন নবদ্বীপেও। চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থানে রাস উপলক্ষে সাড়ে তিনশো দেবদেবীর পুজো হয়। পোড়ামাতলায় মহিষমর্দিনী মাতার পুজো হয়। রাসে কেবলমাত্র এই প্রতিমার পুজোই তিনদিন ব্যাপী দুর্গামন্ত্রে হয়। শতবর্ষ প্রাচীন ওলাদেবীতলার মুক্তকেশীর ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে ইলিশমাছ সহযোগে। খড়েরগোলার বিন্ধ্যবাসিনী অষ্টভুজার আরাধনা বৈষ্ণব মতে হয়ে থাকে। নবদ্বীপের রাসে শাক্তমূর্তি বেশী দেখা যায়। দেবী কালিকা কত বিচিত্র নামে পূজিতা হন এই রাসযাত্রায়—বামকালী, নৃত্যকালী, উড়ন্তকালী, মুক্তকেশীকালী, মহানিশাকালী, তোতাপুরীকালী ইত্যাদি। সাধক রামপ্রসাদের কালী ভাবনার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায় ‘শবশিবার’ রূপকল্পনায়। এখানে ভূমিতে পরে আছে শব তার উপরে শায়িত আছেন শিব এবং সর্বোপরি দেবী মহামায়ার অধিষ্ঠান। দেবীর পাদস্পর্শে শব রূপান্তরিত হয়েছে শিবে। বড় বড় প্রতিমাগুলি নবদ্বীপ শহর পরিক্রমণ করে। রাসযাত্রার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এটি। বিশালাকার গৌরাঙ্গি মাতার শোভাযাত্রা দেখতে গোটা নবদ্বীপ শহরে ভিড় উপচে পড়ে। রাসযাত্রার এই কয়েকটা দিনে হিন্দু ধর্মের প্রধান দেব-দেবীদের একসাথে পুজো নবদ্বীপ শহরেই দেখা যায়।

LinkedIn
Share