Tag: Nadia

Nadia

  • Durga Puja 2024: ৫০০ বছরের প্রাচীন রানাঘাটের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় সাবেকিয়ানার ছোঁয়া

    Durga Puja 2024: ৫০০ বছরের প্রাচীন রানাঘাটের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় সাবেকিয়ানার ছোঁয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রানাঘাট শুধু নয়, নদিয়ার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে চৈতন্যচরণ ঘোষ হুগলি জেলার আকনা থেকে আসেন ব্রহ্মডাঙ্গায়, যা পরে রানাঘাট নামে পরিচিত হয়। এখানে তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সূচনা করেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর ছোট ভাই মকারন্ধ ঘোষের বংশধররা দুর্গাপুজো করে আসছেন। বর্তমানে ২৯ তম বংশপরম্পরায় এই পুজো হচ্ছে। এই বংশের ২৯ তম পুরুষ রণজিৎ ঘোষ বলেন, দুর্গাপুজো প্রথম শুরুর যে মাটি দিয়ে পাটা তৈরি হয়েছিল, সেই মাটি দিয়ে আজও পাটা তৈরি হয়ে আসছে। তুলে রাখা হয় কিছু মাটি। সেই মাটি দিয়েই পাটা তৈরি হয় বছরের পর বছর। এই ভাবে হয়ে আসছে দেবীমূর্তি।

    ১৯৩৪ সালে পাঁঠাবলি বন্ধ (Durga Puja 2024)

    ৫০৪ বছর ধরে হয়ে আসছে এই পুজো। এ বছর পড়ল ৫০৫ তম বছরে। একটা সময় ৫১টি পাঁঠা ও মোষ বলি হত। ১৯৩৪ সালে পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নাদেশে এবং ঘোষ বংশের রামগোপাল ঘোষ মারা যান, ক্ষয়ক্ষতিও হয়। তার পর থেকে আর বলি হয়নি। পঞ্চমীতে বোধন শুরু হয়, ষষ্ঠীতে নয়। তার পর অধিবাসের সময় রক্ষা প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রদীপ জ্বালান এই বংশের পুরুষ, যে প্রদীপ নেভে না। বিসর্জন হয়ে গেলে পাঠ ভেঙে সেই রক্ষা প্রদীপের থেকে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই প্রদীপের আলোতে ১০৮বার দুর্গা নাম লেখা হয় কলাপাতার ওপর। তার পর চূর্ণী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়, নয়তো তুলসী তলায় দেওয়া হয়। এরপর মুড়ি-মুড়কি, পকান্ন দেওয়া হয় (Ranaghat)।

    দশমীর দিন শুক্ত, মাছ, ভাত খাইয়ে বরণ

    নবমীর দিন (Durga Puja 2024) থোর ও মোচার ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাদা খেলা হয়। রান্না করা ভোগ অষ্টমী দিন দেওয়া হয়। আর অন্য দিনগুলিতে মশলা, চাল ইত্যাদি কাঁচা ভোগ দেওয়া হয়। দশমীর দিন শুক্ত, মাছ, ভাত খাইয়ে বরণ করা হয়। ওই দিন টাটকা ফুলে পুজো হয় না, বাসি ফুলে পুজো হয়। এই প্রাচীন পুজো দেখতে  দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন, পাশাপাশি এখানে পুজো ও অঞ্জলি দেন অনেকে। রানাঘাটের ঘোষবাড়ির পুজো আজও তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে (Ranaghat)। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মৃৎশিল্পী না হয়েও সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে নজির গড়লেন এক কলেজ পড়ুয়া!

    Durga Puja 2024: মৃৎশিল্পী না হয়েও সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে নজির গড়লেন এক কলেজ পড়ুয়া!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রাজুয়েশন করার পর নিজের শিল্পসত্ত্বাকে ধরে রাখতে চান নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩ বছর বয়সি যুবক সৌম্যদীপ মণ্ডল। এ বছর দু’ফুট উচ্চতার সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি। বাবা সন্দীপ মণ্ডল, পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। সংসারের হাল ধরতে একমাত্র ছেলে সৌম্যদীপ। চার বছর আগে তিনি বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রথমে দু’ফুট উচ্চতা, পরে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার প্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরি করেছিলেন। এরপর সেই প্রতিমা পাড়ি দিয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এ বছর আবারও তিনি প্রতিমা তৈরির বরাত পান, কলকাতা নিবাসী এক বাঙালি দুর্গাপ্রতিমা তৈরির বরাত দেন সৌম্যদীপকে। সেইমতো দু’ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি প্রায় শেষ করেছেন সৌম্যদীপ।

    সাজসজ্জার পুরোটাই মাটির (Durga Puja 2024)

    প্রতিমাতে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। দেবী দুর্গা মহিষাসুর এবং সিংহের সাজসজ্জা, পুরোটাই মাটির তৈরি। পিছনের সুদর্শন চালি, দেবীর দশ হাতের অস্ত্র থেকে শুরু করে পুরোটাই তৈরি করা হয়েছে, মাটির সাজে। সৌম্যদীপের কথায়, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন আর্ট-এর ওপর ঝোঁক ছিল। স্কুল জীবনে যখন বাড়ি ফিরতেন, কুমোরপাড়ায় গিয়ে প্রতিমা তৈরি করা দেখতেন। এরপর কলেজে পড়াশোনা শুরু করেও সেই নেশা কাটেনি। কুমোরপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের তৈরি কাজ নিজের (College Student) চোখে দেখে সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতিমা তৈরি করার ইচ্ছে।

    লক্ষ্য শিল্পকে ধরে রাখা

    চার বছর আগে শুরু করেন বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরি। এর আগেও অতি ক্ষুদ্র কালীপ্রতিমা তৈরি করে নজর কেড়েছিলেন। এ বছরও একটি ক্ষুদ্র কালীপ্রতিমা তৈরি প্রায়ই করে ফেলেছেন। আর সেই প্রতিমা পাড়ি দেবে আবারও কলকাতার উদ্দেশে। সৌম্যদীপের বাড়িতে রয়েছে তাঁর মা ও বাবা। একমাত্র সন্তান হিসেবে পরিবারের হাল ধরে রাখতে বিকল্প সৌম্যদীপ ছাড়া আর কেউ নেই। ইতিমধ্যে গ্রাজুয়েশন পাশ করে তাঁর আগামী দিনের লক্ষ্য শিল্পকে ধরে রাখা। আগামীতে তাঁর হাতের ক্ষুদ্র কাজ যাতে বিশ্বের দরবারে পৌঁছায়, সেই চেষ্টাই চালাবেন সৌম্যদীপ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: আট হাতে নেই কোনও অস্ত্র, দুটি হাতেই অসুর দমন করেন দেবী কাত্যায়নী!

    Durga Puja 2024: আট হাতে নেই কোনও অস্ত্র, দুটি হাতেই অসুর দমন করেন দেবী কাত্যায়নী!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার অদ্বৈত আচার্যের বংশধর বড় গোস্বামী বাড়ি শান্তিপুরের এক অন্যতম তীর্থস্থান। এই বাড়িতেই প্রায় ৩৫০ বছর ধরে চিরাচরিত নিয়ম মেনে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী কাত্যায়নী। বর্তমানে চতুর্থতম বংশধর আদ্রিপ গোস্বামীর কথায় জানা যায় দেবী (Durga Puja 2024) আরাধনার ইতিকথা। জানা গিয়েছে, এখন থেকে ৩৫০ বছর আগে তাঁদের বাড়ির রাধারমন বিগ্রহ হঠাৎ চুরি হয়ে যায়। তার পর থেকেই প্রত্যেক সদস্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কীভাবে রাধারমনকে খুঁজে পাওয়া যাবে, এই চিন্তায় তখন সবার দিশাহারা অবস্থা। অবশেষে তাঁরা জানতে পারেন, ভাগবত পুরাণে রয়েছে, দেবী কাত্যায়নীর ব্রত করলে ইষ্ট দেবতাকে পাওয়া যাবে। সেই মতো বড় গোস্বামী বাড়ির গৃহবধূরা দেবী কাত্যায়নীর ব্রত করতে শুরু করেন।

    কার্তিক এবং গণেশ উল্টো দিকে (Durga Puja 2024)

    পরবর্তীতে বাড়ির জেষ্ঠা গৃহবধূ স্বপ্নাদেশ পান, তাঁদের রাধারমন নদিয়ার দিগনগরের একটি দিঘিতে পড়ে রয়েছে। তৎক্ষণাৎ বাড়ির সদস্যরা সেই স্থানে ছুটে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তাঁদের বিগ্রহ দেবতা রাধারমনকে। তার পর থেকে প্রত্যেক বছরই মহা সমারোহে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী কাত্যায়নী। যদিও দেবী আরাধনায় রয়েছে বিশেষ নিয়ম। দেবীর ৮টি হাতে কোনও অস্ত্র থাকে না, দুটি হাতে থাকে অসুর দমনে অস্ত্র। দেবীর দুই সন্তান কার্তিক এবং গণেশ থাকেন উল্টো দিকে। দেবীর ভোগ নিবেদনেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। বৈষ্ণব মতে পূজিত হন দেবী কাত্যায়নী। মহাভোগ তৈরি হয় বাড়ির দীক্ষিত গৃহবধূদের দিয়ে। সকালে হয় বাল্য ভোগ, সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী-এই তিন দিন বিশেষ মহাভোগ হয় ৩৩ ব্যঞ্জনে। নবমীর দিন সকালে দেবীর কাছে সকলের মঙ্গল কামনা করা হয়, বিশেষভাবে দশমীতে (Durga Puja 2024) সারা বাড়িতে শান্তির জল ছেটানো হয়। বাড়ির প্রত্যেক সদস্য শুদ্ধ পোশাকে থাকেন।

    বিসর্জনেও বিশেষত্ব

    তবে দেবী বিসর্জনে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। দশমীর দিন সকালে দেবী (Durga Puja 2024) বিসর্জন করে সকলে তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর রাধারমন অর্থাৎ বাড়ির বিগ্রহ দেবতাকে ভোগ নিবেদন করেন। জানা গিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেবী বিসর্জন না হয়, ততক্ষণ রাধারমনকে ভোগ নিবেদন করা হয় না। তবে ৩৫০ বছর ধরে নিষ্ঠা সহকারে দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে শান্তিপুরের এই বড় গোস্বামী বাড়িতে। এখন থেকেই চলছে দেবীমূর্তি তৈরির কাজ। ব্যস্ত রয়েছেন অদ্বৈতাচার্যের বংশধারেরাও (Nadia)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই! ঐতিহ্যকে আঁকড়ে পটচিত্র এঁকে চলেছেন কৃষ্ণনগরের রেবা পাল

    Durga Puja 2024: বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই! ঐতিহ্যকে আঁকড়ে পটচিত্র এঁকে চলেছেন কৃষ্ণনগরের রেবা পাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, নারী মানে অসীম ধৈর্যের এক অন্যতম নাম। মহিষাসুরকে বধ করার জন্য যেমন মা দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল, এখনও যুগ যুগ ধরে দেবী দুর্গা রয়েছেন বিরাজমান। হ্যাঁ, এমনই এক নারীশক্তির (Durga Puja 2024) কথা না বললেই নয়। বয়স প্রায় ৭৫ বছরের অনেক বেশি হলেও মনের শক্তি এবং অদম্য ইচ্ছেতে সূক্ষ্ম-নিপুণ কাজের সঙ্গে এখনও পটচিত্র এঁকে চলেছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বক্সিপাড়ার বাসিন্দা রেবা পাল। করেন ভাঙা ঘরে বসবাস। বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই,, স্বামীর কাছ থেকে পটচিত্রের কাজ শেখা, এরপর স্বামী পরলোক গমন করলে সম্পন্ন সংসারের দায়ভার তার কাঁধে এসে পড়ে। আর অন্য কোনও কাজ জানা ছিল না তাঁর। তাই স্বামীর শিল্পকেই ধরে রেখেছেন তিনি।

    হাল ছাড়তে নারাজ (Durga Puja 2024)

    এরপর সংসারের অনেকটাই হাল ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজো আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কাজের বরাত আসত। আর দিনরাত এক করে পটচিত্রর কাজ করতে হত তাঁকে। যত দিন গিয়েছে, ততই তাঁর হাতের কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। এখন বার্ধক্যজনিত কারণে কমেছে দৃষ্টিশক্তি। কিন্তু হাল ছাড়তে নাড়াজ তিনি। তাঁর নিপুণ কাজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছেন শংসাপত্র। এখনও কলকাতা সহ জেলার (Krishnanagar) বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজো উদ্যোক্তারা ছুটে আসেন তাঁর কাছে, পটচিত্রর জন্য। এক কথা বলা যেতেই পারে, এই বয়সেও এখনও তাঁর লড়াইটা থেমে থাকেনি।

    মন ভার রেবা দেবীর (Krishnanagar)

    শিল্পী রেবা পালের কথায়, তিনি যতদিন বাঁচবেন, এই শিল্পকে বজায় রাখবেন। কিন্তু এবছর ঠিকঠাক কাজের বরাত না পাওয়ায় অনেকটাই মন ভার রেবাদেবীর। কারণ বলে মনে করছেন, আরজি করেন ঘটনা। বলাই বাহুল্য,, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির মোড় মাটির প্রতিমা এবং পুতুল তৈরিতে এক খ্যাতনামা জায়গা। মৃৎশিল্পীদের অতুলনীয় প্রতিভা ফুটে ওঠে সূক্ষ্ম কাজে, কম যান না রেবাদেবীও। দিনরাত এক করে পটচিত্র এঁকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। রেবাদেবী আক্ষেপের সুরে বলেন, বয়স তো অনেক হল, কমেছে দৃষ্টিশক্তি কমছে মনবল। আর পেশির শক্তিও দিন দিন কমতে থাকছে। জানি না ভবিষ্যতে কী হবে (Durga Puja 2024)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো একজন দয়ালু, সরকারিভাবে যদি কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেতেন তাহলে হয়তো যেমন বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন তাঁর এই শিল্পকে, তেমনি হতে পারতেন আরও হয়তো স্বাবলম্বী।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ

  • Enforcement Directorate: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে সক্রিয় ইডি, কলকাতা ও জেলায় বালু-ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে তল্লাশি!

    Enforcement Directorate: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে সক্রিয় ইডি, কলকাতা ও জেলায় বালু-ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে তল্লাশি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রেশন দুর্নীতি (Enforcement Directorate) মামলায় ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। আরজি কর হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, হাসপাতালে আর্থিক বেনিয়মের একাধিক মামলার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক এই আবহের মধ্যেই কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ফের রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ময়দানে নেমে পড়েছে ইডি। উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমানকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন যাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ওরফে বালু-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাই এই অভিযানে শোরগোল পড়েছে।

    বাকিবুর ঘনিষ্ঠের বাড়িতে হানা (Enforcement Directorate)

    জানা গিয়েছে, কলকাতা, কল্যাণী, জয়নগর, মেদিনীপুর সহ মোট ৭ জায়গায় ইডি শুক্রবার তল্লাশি চালিয়েছে। কলকাতার এক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালায় তদন্তকারী সংস্থা। একই ভাবে ভবানীপুর থানা এলাকার চক্রবেড়িয়া সাউথ এলাকার বাসিন্দা লোহা সাউ নামে এক রেশন ডিলারের বাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। এদিকে নদিয়ার কল্যাণী-এ ব্লকে এক ফুড ইন্সপেক্টরের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি বাকিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

    আরও পড়ুনঃ আরজি কর-কাণ্ডে রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ, ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান ফেরাচ্ছেন মুর্শিদাবাদের শিক্ষক

    দেগঙ্গাতে একটি সমবায় সমিতিতে হানা

    আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বহড়ুবাজারে একটি চালের গোডাউনে হানা দেয় ইডি (Enforcement Directorate)। বাইরে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ি ঘিরে রাখে, এরপর ভিতরে চলে তল্লাশি। একই ভাবে দেগঙ্গাতে একটি সমবায় সমিতিতে হানা দেয় ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় বাকিবুরকে। এরপর তাঁকে জেরা করায় উঠে আসে প্রাক্তন মন্ত্রী বালুর নাম। একই ভাবে রেশনের গম, চাল, আটা পাচার করে প্রচুর পরিমাণে কালো টাকা সাদা করার গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সঙ্গে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের নাম উঠে এসেছে। এরপর সন্দেশখালিতে তল্লাশি করতে গেলে তদন্তকারী অফিসারদের উপর আক্রমণ করে দুষ্কৃতীরা। একে একে বিরাট কুকীর্তি ফাঁস হওয়ায় চরম চাপের মুখে তৃণমূল।   

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: স্বপ্নদীপের মৃত্যুই অনুপ্রেরণা, ফেলে দেওয়া পেন-পেন্সিল দিয়ে অভিনব দুর্গাপ্রতিমা

    Durga Puja 2024: স্বপ্নদীপের মৃত্যুই অনুপ্রেরণা, ফেলে দেওয়া পেন-পেন্সিল দিয়ে অভিনব দুর্গাপ্রতিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, কোনও কিছুই ফেলে দিতে নেই। ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েই গড়ে উঠতে পারে অনেক কিছু। এবার হাজার হাজার কালি ফুরানো পেন ও পেন্সিল দিয়ে দৃষ্টিনন্দন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করলেন নদিয়ার এক গৃহবধূ। প্রায় ৯ মাসের প্রচেষ্টায় এখন পুরোপুরি সম্পূর্ণ দুর্গাপ্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরির কাজ। হ্যাঁ, এমনই এক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিলেন নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সত্যনগর পাড়ার গৃহবধূ পাপিয়া কর। তিনি একজন পেশায় হস্তশিল্পী। যদিও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে তাঁর অনেক। সমাজের পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা করেন তিনি এবং নির্দিষ্ট সময় বের করে শিক্ষা প্রদান করে। এই নিয়েই বর্তমানে দিন কাটে পাপিয়ার।

    স্বপ্নদীপের মৃত্যুই নাড়িয়ে দিয়েছিল (Durga Puja 2024)

    প্রায় এক বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল নদিয়ার যুবক স্বপ্নদ্বীপের। তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার কারণে তাঁর মনে উঠে এসেছিল প্রতিবাদের ভাবনা। তিনি মনে মনে ভেবেছিলেন, এমন কিছু করে দেখাবেন যেখানে দুর্গামূর্তির মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ তুলে ধরতে পারেন। এরপর থেকেই সংগ্রহ করতে থাকেন কালি ফুরিয়ে যাওয়া পেন ও পেন্সিল। তার পর থেকেই শুরু করেন দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ।

    লক্ষ্য, শিক্ষিত অসুরদের বিনাশ

    প্রায় ৩০ হাজার পেন ও পেন্সিল দিয়ে তৈরি করে ফেলেন দুর্গাপ্রতিমা (Durga Puja 2024), সঙ্গে রয়েছে মা দুর্গার চার সন্তান। কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী ও  লক্ষ্মী-প্রত্যেকটি মূর্তি পেন ও পেন্সিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নাম দিয়েছেন অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, শুভ শক্তির আগমন হোক, অর্থাৎ কলমকারী দুর্গা। এ প্রসঙ্গে গৃহবধূ পাপিয়ার কথায়,, স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যুতে তিনি খুবই ভেঙে পড়েছিলেন, ভেবেছিলেন হয়তো সবাই ঝাঁপিয়ে প্রতিবাদে নামবে। তার পরও ঘটে গেল আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গে নৃশংস ঘটনা। তাই শিক্ষিত অসুরদের বিনাশ করতে তিনি প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে দুর্গাপ্রতিমার নাম দিয়েছেন কলমকারী দুর্গা (Durga Puja 2024)। তাঁর তৈরি দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দেবে নদিয়ার রানাঘাট পাইকপাড়া ব্রতী সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপে। জানা গিয়েছে, ওই মণ্ডপের থিম তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে, এখন শুধু পুজো আসার অপেক্ষা। একটা সময় কাজের প্রতিভার মধ্যে দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন দিদি নম্বর ওয়ান এবং দাদাগিরির মঞ্চ জি বাংলার রান্নাঘরের মতো জায়গায়। তাঁর পরিচিতি এখন গোটা বাংলা জুড়ে, কারণ তিনি শুধু হস্তশিল্পী নন, প্রতিদিনই অনেক দুঃস্থ পরিবারের ৩০ থেকে ৪০টি বাচ্চার দেখাশোনা করেন। হাতে-কলমে শেখানো হয় পড়াশুনো, পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shibnibas: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের শিব লিঙ্গ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম, এর ইতিহাস জানেন?

    Shibnibas: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের শিব লিঙ্গ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম, এর ইতিহাস জানেন?

    হরিহর ঘোষাল

    এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় কষ্টি পাথরের শিব লিঙ্গ দেখেছেন? নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের শিবনিবাস (Shibnibas) গ্রামে রয়েছে এই শিবের মন্দির। সেখানে মোট তিনটি মন্দির রয়েছে। রাজরাজেশ্বর, রাগনীশ্বর এবং রাম-সীতার মন্দির। নবাবি আমলে গড়ে ওঠা এই শিব মন্দিরে এখনও বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে পুজো দিতে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয়। কলকাতা থেকে এই মন্দিরে সহজে যাওয়া যায়। শিয়ালদা থেকে গেদে লোকালে মাজদিয়া পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে টুকটুকি করে শিবনিবাস যাওয়া যায়। আর শিয়ালদা থেকে কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে কৃষ্ণনগরে (Nadia) পৌঁছে, সেখানে থেকে টুকটুকিতে বাসস্ট্যান্ড আসতে হবে। তারপর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাজদিয়ার বাসে করে শিবনিবাস মোড়ে নেমে কিছুটা গেলেই এই মন্দিরের দর্শন মিলবে।

    শিবনিবাসের নামকরণের ইতিহাস (Shibnibas)

    শিবনিবাস (Shibnibas) গ্রামের নামকরণ এবং মন্দির তৈরি নিয়ে নানা মত রয়েছে। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বাবা কার্তিকেয় চন্দ্র রায় লিখেছেন, “বর্গির আক্রমণ থেকে অত্মরক্ষার জন্যে কৃষ্ণচন্দ্র এ জায়গাটা কৃষ্ণনগর অপেক্ষা নিরাপদ মনে করে এখানে রাজপ্রাসাদ ও শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এই জায়গার নতুন নাম রাখেন ‘শিবনিবাস”। অন্যমতে, নসরত খাঁ নামে এক কুখ্যাত ডাকাত এই এলাকায় বাস করতেন। কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে দমন করার জন্যে এখানে শিবির স্থাপন করেছিলেন। একদিন সকালে নদীতে স্নান করার সময় একটি রুই মাছ কৃষ্ণচন্দ্রের সামনে এলে তাঁর এক জ্ঞাতি আনুলিয়ানিবাসী কৃপারাম রায় বলেন, এই জায়গাটি মহারাজার বাসযোগ্য। কারণ, রাজভোগ্য দ্রব্য আপনা থেকেই হাজির হয়েছে। মহারাজা বর্গির আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্যে এই স্থান নিরাপদ মনে করলেন এবং দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে এখানে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করে নাম রাখলেন ‘শিবনিবাস’। কেউ কেউ বলেন, এ জায়গা আগে অরণ্যময় ও জলবেষ্টিত ছিল। নসরত খাঁ নামে এক ফকির এখানে বাস করতেন। লোকে এই জায়গাকে ‘নসরত খাঁর বেড়’ বলত। কৃষ্ণচন্দ্র ফকির সাহেবের অনুমতি নিয়ে এখানে রাজধানী স্থাপন করেন। নদিয়া রাজ্যের মধ্যে বর্গির উপদ্রব হয়েছিল ১৭৪২ সালের মে-জুন মাসে। নিশ্চয়ই এর আগে তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। তিনি আত্মীয়-স্বজন ও ধনরত্ন নিয়ে উক্ত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে চলে আসেন। তখনও কিন্তু এই মন্দিরগুলি তৈরি সম্পূর্ণ হয়নি। দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে তিনি এখানে রাজধানী ও মন্দির তৈরি করেছিলেন। ১৭৫৪ সালে মন্দির তৈরি করে থাকতে পারেন। দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে, চূর্ণী নদীর দ্বারা ‘কঙ্কনের আকারে পরিবেষ্টিত’ (মতান্তরে ওই ভাবে পরিখা খনন ক’রে) এই স্থানে তিনি রাজপ্রাসাদ ও শিবমন্দির তৈরি করেন। শিবের আলয় হিসেবে এই নতুন বসতির নাম হয় শিবনিবাস। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজধানী মাজদিয়াকে সুরক্ষা বলয়ে নিয়ে আসার জন্য খাল কেটে ইচ্ছামতী ও চূর্ণী নদীকে একত্রে জুড়ে দিয়ে একটি জনপদ গঠন করেছিলেন। যেই খালটি আজও কঙ্কণা নদী নামে পরিচিত।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়

    মন্দিরের (Shibnibas) চূড়া সমেত মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট। আটকোনা মন্দির, প্রতিটি কোনায় মিনার ধরনের সরু থাম আছে। মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয় এখানে। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। মন্দিরের ছাদ ঢালু ও গম্বুজ। মন্দিরে পোড়ামাটির কাজ ও গথিক স্থাপ্যশৈলীর কাজ দেখার মতো। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ জুন, কলকাতার বিশপ রেভারেন্ড হেবার জলপথে ঢাকা যাবার সময় শিবনিবাসের মন্দির ও রাজপ্রাসাদাদি দেখে মুগ্ধ হন। ১৮২৮ খ্রীষ্ঠাব্দে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথায় তিনি শিবনিবাসের হিন্দু মন্দিরগুলিকে সুরম্য ও অতি উত্তম স্থাপত্যের নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছেন। এগুলির নির্মাণে ‘গথিক’ খিলানের ব্যবহার তাঁকে বিস্মিত করে। শিবনিবাসে সারা বছরই ভক্ত সমাগম ঘটলেও শ্রাবণ মাসে শিব-ভক্তদের এখানে ভিড় হয় বেশি। শ্রাবনের প্রতি সোমবার নবদ্বীপের গঙ্গা থেকে জল নিয়ে ভক্তরা পায়ে হেঁটে শিবনিবাসে এসে শিবের মাথায় জল ঢালেন। সারারাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর থেকে জল ঢালেন ভক্তরা। জল ঢালা চলে সারাদিন ধরে। সারা শ্রাবণ মাস ধরে মেলা চলে।  

    শিবনিবাসকে কেন ‘বাংলার কাশী’ বলা হয়?

    জনশ্রুতি আছে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কাশীর শিবের স্বপ্নাদেশ পান যে, তিনি কাশী ছেড়ে কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে পূজা পেতে চান। সেই আদেশ পালনার্থেই কৃষ্ণচন্দ্র শিবমন্দির (Shibnibas) স্থাপন করেন। যদিও ১০৮টি শিব মন্দির তৈরির কথা বলা হলেও সেটা সঠিক নয়। কারণ, তার কোনও কিছুই অবশিষ্ট নেই। তবে, শ্রী শশিভূষণ বিদ্যালঙ্কার সঙ্কলিত “জীবনীকোষ” (ভারতীয় ঐতিহাসিক) পুস্তকের দ্বিতীয় খন্ডে উল্লেখ আছে, শিবনিবাস প্রতিষ্ঠার পর কাশী ও কাঞ্চী থেকে আগত ব্রাহ্মণগণের উপস্থিতিতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। মহারাজ “অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী” উপাধি পান। তাই শিবনিবাস কাশী তুল্য। ভারতচন্দ্র রায়ের ‘অন্নদামঙ্গলে’ আছে:”……কৃষ্ণচন্দ্র মতিমান। কাশীতে করিবে জ্ঞানবাপীর সমান। বিগ্রহ ব্রহ্মণ্যদেব মূর্তি প্রকাশিয়া। নিবাস করিবে শিবনিবাস করিয়া।” অতএব, শিবনিবাস মাহাত্ম্যে কাশীতুল্য। প্রচলিত ছড়ায় আছে: “শিবানিবাসী তুল্য কাশীধন্যনদী কঙ্কনা। ওপরে বাজে দেবঘড়ি নীচে বাজে ঠণ্ঠনা।”

    মন্দির চত্বরে মেলা

    বিড়লা জনকল্যাণ ট্রাস্ট ষাট হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৬৫-৬৬ সালে এই মন্দির তিনটির সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু, মন্দিরগুলির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। মন্দিরগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিত্যপুজোর জন্যে বাৎসরিক যাট হাজার টাকা দেবোত্তর ছিল। কিন্তু, সে সম্পত্তি বেহাত হয়ে গিয়েছে। বারো মাসে তেরো পার্বন নিয়েই বাঙালির জীবন। চূর্ণি নদী তীরে কৃষ্ণচন্দ্র রাজরাজেশ্বর ও রামসীতার মন্দির প্রাঙ্গণে একটি মেলার প্রচলন করেছিলেন। এ মেলা খুবই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। শিবচতুর্দশী উপলক্ষ্যে মেলা হত বলে এই মেলা শিবচতুর্দশীর মেলা বলে পরিচিত। জনশ্রুতি, মহাদেব নাকি একবার কৃষ্ণচন্দ্রকে স্বপ্নাদেশ দেন, তিনি কাশী ছেড়ে শিবনিবাসে (Shibnibas) এসেছেন। কৃষ্ণচন্দ্র যেন তাঁকে এখানে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণচন্দ্র কোনও এক মাঘ মাসের ভীম একাদশীতে এখানে শিব প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে এই মেলা আজও চলে আসছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: শান্তিপুরের মৃৎশিল্পীর হাতে তৈরি হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র দুর্গাপ্রতিমা, পুজোর আগে ব্যস্ততা চরমে 

    Durga Puja 2024: শান্তিপুরের মৃৎশিল্পীর হাতে তৈরি হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র দুর্গাপ্রতিমা, পুজোর আগে ব্যস্ততা চরমে 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। এখন থেকেই প্রহর গোনা শুরু করেছে বাঙালি। দেবী দুর্গার পুজোর জন্য চলছে মণ্ডপ এবং প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। তাই এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই পটুয়াপাড়ার শিল্পীদের। তাঁরা ব্যস্ত ঠাকুর তৈরিতে। নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুর মৃৎশিল্পের জন্যও বিখ্যাত। তাই এখানকার তৈরি ছোট দুর্গা এখন পাড়ি দিচ্ছে কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গার কুমোরটুলির উদ্দেশে। গাড়ি করে তৈরি হওয়া ছোট দুর্গা দিচ্ছে পাড়ি। শান্তিপুরের ছোট দুর্গা প্রতিমার উচ্চতাও দেখার মতো। এক ফুট থেকে শুরু হচ্ছে প্রতিমার উচ্চতা। সর্বাধিক ৪ ফুট পর্যন্ত তৈরি হয়েছে এই ছোট দুর্গা। এখন কাগজের পেটিতে বিচালি দিয়ে বিশেষ ভাবে প্যাকেট করে পাঠানো হচ্ছে এই ছোট ছোট দুর্গাপ্রতিমা। সঙ্গে যাচ্ছেন তাঁর সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশও।

    বরাত আসে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে (Durga Puja 2024)

    এই বিষয়ে শান্তিপুরের ছোট দুর্গা প্রস্তুতকারী মৃৎশিল্পী গৌর পাল জানাচ্ছেন, এই দুর্গা মূর্তি তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে তৈরি করছেন। এই প্রতিমা তৈরির বরাত আসে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে। এই প্রতিমার চাহিদা ব্যাপক কলকাতায়। দামেও কম বলে গৃহস্থ পরিবারের সদস্যরাও বেশি পছন্দ করেন এই প্রতিমা। ৩ মাস আগে থেকে এই প্রতিমা তৈরি করছেন মৃৎশিল্পী গৌরবাবু। তবে করোনা আবহের পর এই প্রতিমার চাহিদা বেড়েছে। এখন এই প্রতিমা তৈরি করে অনেকটাই স্বাছন্দ ফিরেছে পরিবারে, এমনটাই বললেন গৌরবাবু। তবে সরকারের কাছেও বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন গৌরবাবু। তিনি বলছেন, রাজ্য সরকার যদি একটু সাহায্য করে, তাহলে শান্তিপুরের এই মৃৎশিল্পের আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ঝুঁকছে না নব প্রজন্ম

    তিনি এও বলেন, এখন নতুন করে এই মৃৎশিল্পের কাজে ঝুঁকছে না নব প্রজন্ম। কারণ একটাই, অতি ধৈর্যের কাজ বলে। এক একটি প্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরি করা যেমন সময় সাপেক্ষ, তেমনি নিপুণ ক্ষুদ্র কাজ করতে হয়। সেই কারণে এই কাজের প্রতি আর নতুন করে ঝোঁক নেই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Janmashtami 2024: মায়াপুর ইসকনে জন্মাষ্টমী উৎসব, সামিল হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভক্ত

    Janmashtami 2024: মায়াপুর ইসকনে জন্মাষ্টমী উৎসব, সামিল হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভক্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে নদিয়ার মায়াপুর ইসকনে (ISKCON) জাঁকজমকভাবে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী উৎসব। আর এই উৎসবে (Janmashtami 2024) সামিল হতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ইসকনের প্রধান কেন্দ্র মায়াপুরে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই ভক্তরা উৎসবে মেতে উঠেছেন।

    জন্মাষ্টমীতে দেশি-বিদেশি ভক্ত সমাগম (Janmashtami 2024)

    জানা গিয়েছে, সোমবার ইসকন মায়াপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পালন করা হবে নন্দ উৎসব। ইসকন মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম মন্দির। মন্দিরের চূড়াই রয়েছে সোনায় মোড়ানো চক্র। বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল এই তিনচক্র। তারপর বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মন্দিরের মূল চূড়ায় সেই চক্র স্থাপন করা হয়। শুধু জন্মাষ্টমী নয়, সারা বছরই বিভিন্ন তিথিতে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে ইসকন মন্দির। শ্রীকৃষ্ণের ভোগ নিবেদনে থাকে বিপুল আয়োজন। আর প্রত্যেকটি তিথিতেই লক্ষ লক্ষ দেশি-বিদেশি ভক্তদের সমাগম লেগেই থাকে। বিশেষ করে ঝুলন যাত্রা এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তারপরে জন্মাষ্টমী (Janmashtami 2024) তিথি শুরু হয়।

    সোমবার সকাল থেকেই সাজো সাজো রব মায়াপুর ইসকন মন্দির চত্বর। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ এসে পৌঁছেছেন। নদী ঘাটগুলিতে রয়েছে প্রশাসনিক বিশেষ তৎপরতা। কারণ, মায়াপুর ইসকন মন্দিরে পৌঁছাতে গেলে নদীপথ পার করতে হয় ভক্তদের। তবে, সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মায়াপুর ইসকনের নিজস্ব নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয় মন্দির চত্বর। আজ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।

    আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনাচ্ছে নিম্নচাপ, জন্মাষ্টমীতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গে

    ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক কী বললেন?

    মঙ্গলবার নন্দ উৎসবে সকাল থেকেই চলবে হরিনাম সংকীর্তন। কীর্তনের ছন্দে নাচে-গানে মেতে উঠবেন দেশি-বিদেশি ভক্তরা। জানা গিয়েছে, যত দিন যাচ্ছে ততই বিদেশি ভক্তদের আনাগোনা বাড়ছে। মায়াপুর ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন,  ‘‘জন্মাষ্টমীকে (Janmashtami 2024) কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে অনুষ্ঠান চলছে। প্রথমদিন অধিবাস ছিল। সোমবার ভোর সাড়ে চারটে থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার নন্দ উৎসবেও দেশ-বিদেশের ভক্তরা সামিল হবেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Protest: আরজি করকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল, পা মেলালেন গৃহবধূ, মা-বোনেরা

    RG Kar Protest: আরজি করকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল, পা মেলালেন গৃহবধূ, মা-বোনেরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করে ডাক্তারি পড়ুয়াকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নামলেন মহিলারা। মিছিল (RG Kar Protest) থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানানো হয়। কোনও দলীয় পতাকা নয়। বাড়ির সাধারণ গৃহবধূ, মা-বোনেরা মিছিলে সামিল হলেন। এছাড়া এদিন কলেজ ছাত্রীরাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

    দোষীদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল (RG Kar Protest)

    এর আগে, ১৪ অগাস্ট রাতে রাস্তা দখল নিয়েছিলেন মেয়েরা। রাস্তায় নেমে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন। এবার একেবারে অরাজনৈতিকভাবে শুধু মেয়েদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল হল। শনিবার নদিয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া এলাকা থেকে এই মিছিল বের হয়। মিছিলে আশাপাশের গ্রামের বাড়ির বধূরা পা মেলান। গোটা এলাকাজুড়ে মিছিল হয়। পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে ফুলিয়ার রঙ্গমঞ্চের সামনে মিছিল শেষ হয়। মিছিল (RG Kar Protest) থেকে স্লোগান উঠল, ‘দোষীদের ফাঁসি চাই’। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ‘‘আরজি করে যে ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা কিছুতেই মেনে নেব না। এরই তীব্র প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় নেমেছি। যতদিন না পর্যন্ত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’’

    আরও পড়ুন: নেপালের বাস দুর্ঘটনায় মৃত ৪১ ভারতীয়, শোকবার্তা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

    দোষীদের শাস্তির দাবিতে কলেজ ছাত্রীরা

    আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Protest) দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে নামলেন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরাও। এদিন হাতে প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদ যাত্রা শুরু করেন কলেজের ছাত্রীরা। এদিন কৃষ্ণনগরের সমস্ত কলেজের মেয়েরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব হন। তাঁরা বলেন, ‘‘আমরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। আর ধর্ষণ নামক ব্যাধি যেন চিরতরে নির্মূল হয় এবং সুস্থ সমাজ তৈরি হয় তার জন্যই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।’’

    মৌন মিছিলে তিনটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা

    এবার নদিয়ার (Nadia) ফুলিয়ার তিনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা একত্রিত হয়ে মৌন মিছিল করে প্রতিবাদে নামলেন। তাঁরা প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, ‘আমরা বিচার চাই, যারা দোষী তারা যেন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি পায়’। তাঁরা জানান, একজন নারী সংসারের সবকিছু কাজ করেও নিজের ভবিষ্যৎকে তৈরি করার জন্য লড়াই চালিয়ে যান। আরজি করের ডাক্তারি (RG Kar Protest) পড়ুয়া সেই লড়াইটাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, শেষ রক্ষার হল না। নারকীয় নৃশংস ঘটনা যা আগে কখনও এ রাজ্যে ঘটেনি। তাই, নারীদের সুরক্ষা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুরক্ষার দাবিতে এই প্রতিবাদ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share